মিষ্টিমুখে আফগানি ‘মালিদা’ 

মিষ্টি জাতীয় খাবার যারা পছলদ করেন তারা কতো কিছু দিয়ে না মিষ্টি খাবার তৈরি করে থাকেন। আর নতুন নতুন ডিস পেলেই তারা ঝাঁপিয়ে পরেন। দেশ বিদেশের কতো রকমের মিষ্টিই তো খেয়েছেন তো আপনার লিস্ট থেকে আফগানিস্তানের ট্র্যাডিশনাল মিষ্টি ‘মালিদা’ কেনো বাদ যাবে। ঘরে তৈরি রুটি দিয়েই তৈরি করা হয় এই রুটি। তাহলে বুঝতেই পারছেন কতো সহজে আর কম খরচেই তৈরি করে ফেলতে পারবেন এই রুটি। আসুন তাহলে জেনে নেই আফগানিস্তানের ট্র্যাডিশনাল মিষ্টি ‘মালিদা’ মালিদা তৈরির রেসেপি।


উপকরণ:


মাঝারি আকারের আটার রুটি ৮ টি,
গুঁড় (কুচি করে কাটা) ১/৪ কাপ,
এলাচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ,
বাদাম ১/২ কাপ,
খেজুর কুচি করে কাটা ১/৪ কাপ,
ঘি ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি:


প্রথমে রুটিগুলো ভালো করে হাতে ছিঁড়ে ছোটো ছোটো পিস করে নিন।

এরপর একটি গ্রাইন্ডার বা ফুড প্রসেসরে দিয়ে রুটি আরও ছোটো করে গুঁড়ো ধরণের করে নিন। এতে প্রায় ৩ কাপ পরিমাণ রুটি হবে।

এরপর বাদাম গ্রাইন্ডারে দিয়ে ভেঙে নিন। চাইলে হামান দিস্তায় পিসে গুঁড়ো করে নিতে পারেন। খুব বড় হবে না আবার মিহি করেও ভেঙে নিতে হবে না।

একটি বড় বাটিতে বাদামগুঁড়ো, খেজুর কুচি, এলাচ গুঁড়ো এবং গুঁড় খুব ভালো করে নেড়ে মিশিয়ে নিন এবং আলাদা করে রাখুন।

এবার একটি প্যানে অল্প আঁচে ঘি গলিয়ে নিন এবং অল্প গরম হলেই প্রসেস করে রাখা রুটি দিয়ে ভালো করে ভাজতে থাকুন। রুটিগুলো প্রায় ৫-৭ মিনিট ভাজুন। এতে করে রুটির গুঁড়ো একটু মুচমুচে হবে।

ভাজা হয়ে গেলে এবার বড় বাটিতে রাখা বাদাম গুঁড়ের মিশ্রণে রুটির মিশ্রণ দিয়ে দিন এবং হাত দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। যখন মিশ্রণ একটু ভেজা ভেজা হয়ে যাবে গুঁড়ের কারণে এবং আঠালো নরম ডো এর মতো তৈরি হবে তখন ছোটো ছোটো ভাগে ভাগ করে লাড্ডুর মতো বল তৈরি করুন।

একটির পর একটি বল তৈরি করে রেখে দিন। কিছুক্ষণ পড়েই নরম ভাব কেটে দিয়ে একটু শক্ত লাড্ডুর মতো তৈরি হয়ে যাবে। উপরে কাজু বাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

আমিরের সাবেক ও বর্তমান স্ত্রী মুখোমুখি! 

কোনও লোকের সাবেক ও বর্তমান স্ত্রী সাধারণত একজন অন্যজনের ছায়াও মাড়ান না। বলিউড সুপারস্টার আমির খানের সাবেক স্ত্রী রিনা দত্ত ও বর্তমান স্ত্রী কিরণ রাওকে নিয়েও হয়তো অনেকের এমন ধারণা। কিন্তু সব ভুল প্রমাণ করলেন তারা।


ঝগড়া নয়। মনোমালিন্যও নয়। বরং হাস্যোজ্জ্বল সময় কাটালেন রিনা ও কিরণ। আমিরের ‘সত্যমেভ জয়তে’ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ভারতের পানি ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে জমিয়ে আড্ডা দিয়েছেন তারা।

অনুষ্ঠানে যে দেখা হবে তা আগে থেকেই জানতেন রিনা ও কিরণ। দেখা হতেই তারা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। কুশল বিনিময় করেন। আলোকচিত্রীদের সামনেও দাঁড়িয়েছেন মুখে হাসি রেখে। ফাঁকে ফাঁকে চলছিল তাদের খোশগল্প।
এ সময় আমিরের সাবেক ও বর্তমান স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য দেখে খুশি হন উপস্থিত সবাই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাদের একে অপরের প্রতি বিন্দুমাত্র অসম্মান চোখে পড়েনি কারও। রিনা ও কিরণকে নিয়ে একই বাসনে একসঙ্গে খেয়েছেন আমির! তখন তিন জনকেই দারুণ লেগেছে।

‘লগান’ ছবির শুটিংয়ে কিরণ রাওয়ের সঙ্গে আমিরের সখ্য গড়ে ওঠে। এ কারণে রিনা দত্ত ও তার বিয়েবিচ্ছেদ হয়। এরপর কিরণের সঙ্গে ঘর বাঁধেন তিনি।

 

আমির ও রিনার সংসারে আছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। তারা হলো ইরা ও জুনায়েদ। কিরণকে বিয়ের পর এক ছেলের বাবা হন আমির। তার নাম আজাদ রাও।

আমির এখন ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’ ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত। এতে তার বিপরীতে থাকছেন ক্যাটরিনা কাইফ ও ফাতিমা সানা শেখ। এছাড়াও আছেন অমিতাভ বচ্চন।

 

হলিউডের ক্লাসিক্যাল এই নায়িকাকে চেনেন অনেকেই। ২০১১ সালে মৃত্যুবরণ করা এই আইকন তার চোখ ধাঁধানো রূপ এবং অনন্য অভিনয় প্রতিভার বলে স্থান করে নেন অগণিত ভক্তের হৃদয়ে।


লন্ডনে জন্ম নেওয়া এলিজাবেথ টেইলরের ক্যারিয়ারের শুরু হয় ১৯৪০ দশকের দিকে। তরুণ বয়সেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে কিছু সিনেমায় এমন সব চরিত্রে তাকে কাজ করতে হয় যার কারণে অভিনয়ের ওপরে তার বিতৃষ্ণা চলে আসে। ১৯৫০ সালের দিকে তিনি অভিনয় জগতকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন।

তবে ১৯৫০ দশকের মাঝামাঝি দিকে তিনি নিজের পছন্দের কিছু চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পান। কখনোই অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি তিনি। তার প্রতিভা ছিল পুরোপুরিই নিজস্ব। চরিত্রের সাথে মিশে গিয়ে অভিনয়ে তা তুলে ধরতেন তিনি।

তার এই অভিনয়ের প্রতিভা এবং রূপ- দুটোই তাকে বিখ্যাত করে তোলায় কাজ করে। অনেকেই বলেন, অন্যদের চাইতে তিনি আলাদা ছিলেন তার অসাধারণ চোখ জোড়ার কারণে। কিন্তু তার চোখ অন্যদের চাইতে আলাদা হবার কারণ ছিল দুর্লভ একটি জেনেটিক মিউটেশন। এর কারণে তার চোখে এক জোড়ার পরিবর্তে দুই জোড়া পাপড়ি ছিল বলে মনে হয়। এতে মনে হয় ঘন পাপড়িতে ঢেকে আছে চোখজোড়া। এটা আসলে একটি জেনেটিক মিউটেশন যার নাম হলো ‘ডাইস্টিকিয়া’। এতে অস্বাভাবিক একটি অবস্থান থেকে চোখের পাপড়ি গজায়। 


এই পাপড়ির কারণে তাকে দেখে মনে হত তিনি চোখে মাশকারা দিয়ে আছেন। নয় বছর বয়সে ‘ল্যাসি কাম হোম’ সিনেমায় অভিনয় করার সময় সবাই ভেবেছিলেন তার চোখে মেকআপ করা। সেট থেকে তাকে সরিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে তার মুখ মুছে দেওয়া হয়। এর পর আবিষ্কার করা হয় আসলে মাশকারা ছাড়াই তার চোখের পাপড়ি এমন অস্বাভাবিক সুন্দর।

শুধু এই একটি নয়, আপনি শুনলে অবাক হবেন এই অভিনেত্রীর ছিল আরো অনেকগুলো শারীরিক সমস্যা। জন্ম থেকেই স্কোলিওসিসের সমস্যা ছিল তার। ‘ন্যাশনাল ভেলভেট’ সিনেমাটি শুট করার সময়ে এর কারণে তার ঘাড় ভেঙে যায়। এ সময়েই আবার তিনি প্রবল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। পিঠের সমস্যার কারণ একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে যান তিনি। ফলে একটা সময়ে তিনি অ্যালকোহল এবং ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। একটা সময়ে প্রচুর ধূমপান করলেও নিউমোনিয়ার পর তা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি।

অনেক তারকাই নিজের অসুস্থতা বা আসক্তির ব্যাপারে মুখ খুলতে চান না, বরং সবার থেকে আড়াল করে রাখতে চান এসব ব্যাপার। কিন্তু  টেইলর এসব ব্যাপার সবার সামনেই খুলে বলেন এবং ক্লিনিকাল থেরাপি নিতেও পিছ-পা হন না। ১৯৮৪ সালে আসক্তির চিকিৎসা শুরু করেন তিনি এবং বছর চারেক পর রিহ্যাবিলিটেশন শুরু করেন।

বিভিন্ন অসুস্থতার পাশাপাশি নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়েও তিনি বেশ কঠিন সময় পার করেন। পরবর্তীতে তিনি  ‘এলিজাবেথ টেকস অফ’ নামের একটি বইতে তার অভিজ্ঞতার কথা জানান। এইচআইভি এইডসের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। ১৯৯১ সালে তিনি এলিজাবেথ টেইলর এইডস ফাউণ্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

২০০০ সালের পর তাকে জনসম্মুখে কমই আসতে দেখা যায়। কনজেসটিভ হার্ট ফেইলিওরের কারণে ২০১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। যার জীবন ছিল এতটাই বর্ণীল, মৃত্যুর পরেও তিনি কিছুটা চমক রেখে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তার ব্যাপারে একটি দুর্নাম ছিল, তিনি কখনোই সময়ানুবর্তী ছিলেন না, সব কাজেই দেরি করে দেখা দিতেন তিনি। মৃত্যুর আগে তিনি এই একই ধারা বজায় রাখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। আর তাই নিজের অন্ত্যস্টিক্রিয়াও শুরু হয় ১৫ মিনিট দেরি করে, অর্থাৎ নিজের ফিউনারেলেও দেরি করে এসেছিলেন এলিজাবেথ টেইলর।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.