১৭ বছর পর বিশ্বসুন্দরীর মুকুট এলো ভারতে। হরিয়ানা রাজ্যের মেয়ে মানুষী চিল্লার বয়ে এনেছেন এই গৌরব। এই অর্জনে গর্বিত গোটা ভারতবাসী। দেশটির প্রখ্যাত বালি শিল্পী সুদর্শন পাটনায়েকও দারুণভাবে সম্মান জানালেন ২০ বছর বয়সী এই তরুণীকে।


মানুষীর জন্য ওড়িশার পুরি সমুদ্র সৈকতের বালিতে চমৎকার ভাস্কর্য তৈরি করেছেন সুদর্শন। রবিবার (১৯ নভেম্বর) টুইটারে ওই শিল্পকর্মের ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জেতার জন্য মানুষী চিল্লারকে অভিনন্দন। আপনি ভারতকে গর্বিত করেছেন। তাই আপনার জন্য আমার বালি শিল্প।’

তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্মদিনে এরকম শ্রদ্ধা জানান সুদর্শন পাটনায়েক। লতা মঙ্গেশকর, অমিতাভ বচ্চন, এপিজে আবদুল কালাম, নরেন্দ্র মোদি, শচীন টেন্ডুলকারসহ অনেকের বালুর ভাস্কর্য তৈরি করেছেন তিনি।

দুই কুস্তিগীর গীতা ফোগাট ও ববিতা ফোগাটের পর হরিয়ানা রাজ্যের আরেক মেয়ে বিশ্বজয় করলো। এবার কুস্তি নয়, সৌন্দর্য আর মেধার সম্মিলনে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার বীরেন্দ্র শেহবাগ টুইটারে লিখেছেন, ‘অভিনন্দন মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭ মানুষী চিল্লারকে। বিশ্বমঞ্চে হরিয়ানার মেয়েরা মাতিয়ে দিচ্ছে। একেই বলে হরিয়ানার শক্তি, ভারতীয় শক্তি।’

গীতা-ববিতা ও তাদের বাবা মহাবীর সিং ফোগাটের জীবনের সত্যি ঘটনা নিয়ে সাজানো হয় বলিউড সুপারস্টার আমির খানের ‘দঙ্গল’। এটাই এখন ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি। মানুষী বলিউডে পা রাখলে এমন বড়সড় সাফল্য পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। 


গত ১৮ নভেম্বর চীনের সানাইয়া সিটি এরেনায় নতুন বিশ্বসুন্দরী নির্বাচিত হন মানুষী চিল্লার। তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড পুয়ের্তোরিকোর স্টেফানি দেল ভালে। ১১৭ জন সুন্দরীকে হটিয়ে এই খেতাব জিতেছেন মানুষী। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের জেসিয়া ইসলামও।

তুরস্কেও যাচ্ছে ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল’ 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল’ এবার নির্বাচিত হলো তুরস্কের ছবি মেলায়। দেশটির আনকারায় হাক-ইস স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পেয়েছে ছবিটি। তুরস্ক সরকারের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এ আয়োজন শুরু হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর।


উৎসবের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, ১২৪টি দেশ থেকে ৫৪০৪টি ছবি জমা পড়েছে। এর মধ্য থেকে নির্বাচিত হলো চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার ছবিগুলো। ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল’ সেগুলোরই একটি।

ছবিটির পরিচালক জসিম আহমেদ  বলেছেন, “কোনও ধারাবর্ণনা ও সাক্ষাৎকার ছাড়াই সাজানো ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল’-এ ইংরেজি, ইতালিয়ান, ফরাসি, স্প্যানিশ ও তুর্কি ভাষার ওপেন ক্যাপশন রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট ও তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরতে ছবিটি তৈরি করেছি।”

এ ছবির সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে— ওপরের দিকে তুলে ধরা একজোড়া স্যান্ডেল কাকে দেখাচ্ছে একটি রোহিঙ্গা শিশু? মিয়ানমার সরকার ও সামরিক বাহিনীকে? নাকি রাশিয়া, চীন ও ভারতসহ পরাশক্তিদের, যারা ব্যবসায়িক স্বার্থে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গণহত্যাকে অন্ধভাবে সমর্থন করছে? নাকি গোটা পৃথিবীর সবাইকে যারা নৃশংস গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ দেখেও চুপ করে বসে আছে?

এর আগে ইতালির নেপলস মানবাধিকার চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয় ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল’। ন্যাপোলিতে ৬ থেকে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। এখানে প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পেয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক ছবিটি।

৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ড ব্যাপ্তির ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল’ পুরোটাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন নির্মাতা জসিম আহমেদ। একটি শরণার্থী দলের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়াকে ঘিরে গল্প শুরু হয়। শেষে দেখা যাবে শরণার্থীদের আরেকটি দল আসছে ক্যাম্পে। ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও শব্দ সজ্জা করেছেন রিপন নাথ। পাণ্ডুলিপি লিখেছেন ফরিদ আহমেদ।

জসিম আহমেদের আগের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘দাগ’ অংশ নিয়েছে ৭০তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের শর্ট ফিল্ম কর্নারে। এটি এখন যুক্তরাজ্যভিত্তিক শর্ট ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে আমেরিকার মূলধারার টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে। শিগগিরই ইউরোপের টেলিভিশনেও ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিটি প্রচারের কথা রয়েছে।

সময়ের সাথে সাথে কীভাবে বদলে যায় মানুষ! (দেখুন ছবিতে)  

 সময় কত দ্রুত পার হয়ে যায়! চোখের পলক ফেলতেই যেন কয়েকটি বছর পার হয়ে যায় অনায়াসে। স্কুল লাইফের বন্ধুর সাথে কাটানো সময় গুলোর কথা মনে করতে করতেই একদিন হুট করে খেয়াল হয়, স্কুল লাইফের সেই দুরন্ত সময়গুলো পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। অতীত সময়ের স্মৃতিগুলো সেখানে প্রতিচ্ছবির মতো খেলা করতে থাকে চোখ মনের পর্দায়। সময় হলো এমন একটি শক্তি যাকে কখনোই আটকে রাখা সম্ভব নয়। ফটোগ্রাফার জোসেফিন সিটেনফিল্ড (Josephine Sittenfeld) ২০০০ সালে তার কলেজের ক্লাসমেটদের কিছু ছবি তুলেছিলেন, যা সম্প্রতি তিনি খুঁজে পান।


আর এই ছবিইগুলোই আপনাকে দেখিয়ে দেবে যে সময়ের সাথে সাথে নিজের অজান্তেই কি দারুণ ভাবে বদলে যাই আমরা!

২০০০ সালে জোসেফিন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির একজন জুনিয়র ছাত্রী ছিলেন। সেই সময়ে তিনি তার সকল বন্ধুবান্ধবদের ছবি তুলে তার বাবা-মায়ের ক্লজেটে তুলে রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু এই বছরের বসন্তে তার কলেজের পনের বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পুনর্মিলনি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে জোসেফিন দারুণ একটি সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সতের বছর আগে তোলা সকল বন্ধুর ছবি আবারো একইভাবে তুলবেন!


তার এই সিদ্ধান্তের ফলাফল হলো “রিইউনিয়ন।” তার তোলা বিফোর-আফটার ছবিগুলো যেন, এক মুহুর্তেই তার পুরনো দিনের মাঝে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। জোসেফিনের তোলা তার বন্ধুদের এই সকল বিফোর-আফটার ছবিগুলো জানিয়ে দেয়, সময় কত দ্রুত চলে যায়। আর এই সময়ের মাঝেই প্রতিটি ব্যক্তির মাঝে কি অসাধারণ পরিবর্তন তৈরি করে দেয়!

জোসেফিন জানান,“বিশ বছর বয়সে আমি অদৃশ্য ও বর্ণনার অতীত এক ধরণের অনুভূতি অনুভব করতে পারতাম। যেটা তখন বুঝতে না পারলেও এখন আমি বুঝতে ও অনুভব করতে পারছি। আমার সামনে পুরো একটা জীবন পরে রয়েছে এখন।“ বিফোর-আফটার এই ফটোশ্যূটে সকলেই ছিল খুব আত্মবিশ্বাসপুর্ন, নতুন একজন মানুষ।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.