বেশ কয়েক বছর ধরেই ইউটিউবের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে এমন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে কাজ করছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফেসবুক গত কয়েক মাস ধরে তাদের লাইভ ভিডিও অপশনটি ব্যবহারকারীদের কাছে ধাপে ধাপে জনপ্রিয় করতে কাজ করছে। পাশাপাশি ভিডিও সম্পাদনার বেশি কিছু সুবিধাও রয়েছে সেখানে।

শুধু তাই নয়, জাকারবার্গ এবং তার দল সম্প্রতি ফেসবুক অ্যাপে একটি নতুন ট্যাব চালু করার ঘোষণা দিয়েছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও প্লাটফর্ম তৈরির লক্ষণ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ‘ওয়াচ’ নামের নতুন এই ট্যাবটির মাধ্যমে এখন থেকে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্মটিতে নতুন টিভি অনুষ্ঠানগুলো রিলিজ দিতে পারবে, যা গুগলের ইউটিউব, অ্যামাজন প্রাইম এবং নেটফ্লিক্সের মতো ভিডিও প্লাটফর্মগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ফেসবুকের এ পদক্ষেপকে টেলিভিশনের জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

ফেসবুক-এর পণ্য বিভাগের পরিচালক ড্যানিয়েল ড্যাঙ্কার এক অফিসিয়াল ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন, আপাতত ফেসবুকের এই নতুন ‘ওয়াচ’ ট্যাব শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক অ্যাপে উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে খুব শিগগির অন্যান্য দেশের ফেসবুক অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্যও এই ফিচার উন্মুক্ত করা হবে।

‘ওয়াচ’ এর শোগুলো এপিসড আকারে তৈরি করা হচ্ছে যা লাইভ এবং রেকর্ড- দুইভাবে প্রচারিত হবে। এই ভিডিওগুলোতে একটি থিম বা কাহিনি অনুসরণ করা হবে। ভিডিওগুলো প্লে লিস্ট আকারে সাজানো থাকবে যাতে দর্শকদের সর্বশেষ পর্বগুলো মিস না হয়। এছাড়া ফেসবুকে থাকা বিভিন্ন ভিডিও দেখার জন্য শ্রেণিবিভাগ করে সাজানো হয়েছে ‘ওয়াচ’। যেমন ফেসবুকের আলোচিত ভিডিওগুলো দেখার জন্য ‘মোস্ট টকড অ্যাবাউট’ নামে একটি বিভাগ থাকবে। এ ছাড়া ব্যবহারকারীর বন্ধুরা কি দেখছেন, তা জানানোর জন্য থাকবে ‘হোয়াট ফ্রেন্ডস আর ওয়াচিং’ বিভাগ। এ ছাড়া কোন ভিডিওটি দেখে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি হাস্যকর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তা জানার জন্য ‘হোয়াটস মেকিং পিপল লাফ’ বিভাগ থাকবে। প্রতিটি ভিডিওর নিচে ব্যবহারকারীদের মন্তব্যগুলো প্রদর্শন করা হবে। এছাড়াও প্রতিটি শো-এর আলাদা ফেসবুক পেজও থাকবে যাতে করে শোগুলো সম্পর্কে দর্শকরা আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে পারে।

ইউটিউবের মতো ফেসবুকের ‘ওয়াচ’ এর কন্টেন্ট নির্মাতা এবং প্রকাশকরা তাদের কাজের জন্য অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। নির্মাতারা তাদের শো-এর ভিতরে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবে।


কিছুদিন আগে আমি একটি শপিংমলে গিয়েছিলাম একজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে। আমি বরাবরের মতো আগেই পৌঁছে গেছিলাম। সময় কাটানোর জন্য বই কিনে পড়তে শুরু করলাম।

আমার বন্ধু যথা সময়ের পরেই এলেন এবং আমার বই পড়া বন্ধ হল। সেই বইটি কয়েক সপ্তাহ ধরে আমার বইয়ের তাঁকেই পড়ে আছে কিন্তু আর পড়া হচ্ছে না।

তবে ভুল ভাববেন না, আমি বই পড়তে অনেক পছন্দ করি। সময় এবং সুযোগ পেলেই বই পড়ি। কিন্তু সমস্যা হল আমি অনেক বই পড়তে পড়তে অর্ধেক পড়ে রেখে দেই আর পড়া হয় না। কখনো কখনো এটাও ভুলে যাই যে, আগে যতটুকু পরেছিলাম তার বিষয়বস্তু কি ছিল।

বই পড়া অবশ্যই একটি শখের ব্যাপার। আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে আমি নিজেও আমার শখের তালিকাতে বই উল্লেখ করব। কিন্তু বাস্তবে আমি মনে করতে পানি না যে, শেষ কবে আমি একটি বই পুরো পড়ে শেষ করেছি।

জাপানিজ ভাষাতে এটা নিয়ে একটি শব্দ আছে ‘সান্ডোকু’, এর অর্থ হল, ‘পড়ার সামগ্রী সংগ্রহ করা এবং সেগুলো না পড়ে বাড়িতে স্তুপ বানিয়ে রাখা।’

এর মানে এই নয় যে, কেউ মানুষকে দেখানোর জন্য বইয়ের তাক সাজাচ্ছেন বরং কোনো একদিন পড়া হবে এই আশায় বইগুলো জমছে। তবে সেই একদিন আর আসে না।

সমস্যাটা আসলে কোথায়? আমরা প্রমাণিক ভাবে যেটা করতে পছন্দ করি এমন কি আছে যেটা আমাদেরকে তা করতে বাধা দিচ্ছে। আমার মনে হয় নিজের একটু চেষ্টা আমাদেরকে আমাদের ভালো লাগার কাজে উৎসাহিত করতে পারে।

বই পড়ার ব্যাপারটা আসলেই অন্য রকম। মনে হয় চোখ দিয়ে দেখছি কিন্তু মস্তিষ্ক তার পুরো ছবি এঁকে ফেলেছে। অনেকে আজকাল মোবাইল ফোন অথবা ল্যাপটপে বসে পড়েন। কিন্তু বইয়ের ভাঁজের গন্ধ এবং মুখ লুকিয়ে হাসার স্বাদ কি তাতে মেটে?

ইন্টারনেটের বদৌলতে অনেকেরই কিছু না কিছু পড়া হয় কিন্তু তাতে বই পড়ার মজা পাওয়া যায় বলে মনে হয় না। অন্তত আমি তো মজা পাই না। একটি বই হাতে নিয়ে প্রতিটা পৃষ্ঠা উল্টানোর মজাই আলাদা। একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করে তাতে।

তবে যাই বলি না কেন, ওই একটি দিন কিন্তু আর আসে না। কোনো এক ছুটির দিনে বিকেল বেলা গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে বইয়ের গন্ধ নেওয়া ততদিন পর্যন্ত হয়ে উঠবে না যতদিন না আপনি নিজে সেই পরিবেশ তৈরি করবেন।

বই পড়ার জন্য একটি নিয়ম করে ফেলুন। প্রতি মাসে একটি বই পড়ে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিন অথবা প্রতি দুই সপ্তাহে একটি বই শেষ করুন। এরপরও যদি সময় পান এবং প্রবল ইচ্ছা কাজ করে তাহলে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে বই পড়তে পারেন।

হতে পারে সেটা দুই থেকে চার পৃষ্ঠা। তবুও পড়ুন। তাহলে কোনো একদিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। নতুন কিছু জানার জন্য, নতুন অভিজ্ঞতা ধারণ করার জন্য সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে না। সময়টা নিজেই তৈরি করে ফেলুন।


তারকাদের প্রতি সাধারণ মানুষের এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে। ফলে প্রায়ই দেখা যায়, যখন কোনো তারকা যুগল বা দম্পতির বিচ্ছেদ হয় তখন আমরা কষ্ট পাই। সাধারণ মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সৃষ্টি হয় তারকাদের বিচ্ছেদে। কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবনে সম্পূর্ণ অপরিচিত এসব তারকাদের বিচ্ছেদে আমরা কেন কষ্ট পাই?

লিন্ডসে হেন্ডারসন সাইয়িদ নামের এক মনোবিজ্ঞানীর মতে, একজন তারকার বিচ্ছেদে সাধারণ মানুষের এই হতাশা অনুভব করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ড. হেন্ডারসন ‘লাইভ হেলথ অনলাইন’ নামক একটি অ্যাপ এর মাধ্যমে ভার্চুয়ালি টেলি হেলথ সেবা দিয়ে থাকেন।

ড. হেন্ডারসন বলেন, সাধারণভাবে বলতে গেলে, সাধারণ জনগণ সর্বদা তারকাদের জীবনধারার চিত্তাকর্ষক অংশটিই দেখতে চান এবং তাদেরকে সব সময় সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবেই দেখতে চান। সাধারণ জনগণ সফল হওয়ার ক্ষেত্রে তারকাদের কাজগুলোকেই অনুকরণ করে। যে কারণে যখন সে কোনো তারকার বিচ্ছেদের কথা শুনতে পায় তখন তার মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা হলিউড তারকা দম্পতি ক্রিস প্র্যাট এবং আনা ফারিস এর বিচ্ছেদের ঘটনাটিই এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা যায়। এই সপ্তাহের শুরুতে যখন তারা তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণাটি দেন এবং ব্যাখ্যা করে বলেন যে, তারা একটি দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেছেন একসঙ্গে থাকার জন্য এবং অবশেষে তা করতে না পেরে তারা সত্যিই হতাশ, তখন হাজার হাজার মানুষ সামাজিক মিডিয়াগুলোতে তাদের কষ্টের কথা ব্যক্ত করেন। যেমন একজন লিখেছেন, ‘আন্তরিকভাবে বলতে গেলে ক্রিস প্র্যাট এবং আনা ফারিসের বিচ্ছেদে আমি এত কষ্ট পেয়েছি যে নিজের বাবা-মার বিচ্ছেদেও এতটা কষ্ট পাইনি।’ হলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে ভক্তদের হৃদয়ভাঙা আরো কিছু বিচ্ছেদের ঘটনার মধ্যে রয়েছে ব্র্যাড পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, বেন আফ্লেক এবং জেনিফার গার্নার এবং ব্ল্যাক শেলেটন এবং মিরান্ডা ল্যাম্বার্ট।

এ বিষয়ে ড. হেন্ডারসন এক ব্যাখ্যায় বলেন, যখন একজন তারকা দম্পতির মাঝে বিচ্ছেদ হয় তখন আমরা তারকাদেরকে মডেল হিসেবে ধরি এবং সচেতনভাবেই হোক বা অচেতনভাবেই হোক প্রশ্নবাণে জর্জরিত করার মাধ্যমে নিজেদের কষ্টকে আরো বাড়িয়ে তুলি। তারকাদের নিয়ে আমাদের এই ভাবনাই শেষ পর্যন্ত গিয়ে ব্যক্তিগত অস্বস্তিতে পরিণত হয়। তাদের ব্যর্থতা কখনো কখনো আমাদের জীবনে অনেক বেশি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যদিও বাস্তবিক জীবনে এসব তারকাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

আমরা তারকাদের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র বা কনসার্টে দেখার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও দৈনন্দিন জীবনকে অনেক বেশি অনুসরণ করি। ডা. হেন্ডারসন বলেন, বিশেষ করে অ্যানা ফারিস এবং ক্রিস প্র্যাটের ভক্তরা এই অভিনেতা দম্পতিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের একে অপরের প্রতি স্নেহ-ভালবাসা প্রকাশ করাটা দেখতেই পছন্দ করেন। এই যেমন গত গ্রীষ্মের কোনো এক সপ্তাহে, প্র্যাট মা দিবসে তার স্ত্রীকে তার প্রেম এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য ইন্সটাগ্রামে একটি পোষ্ট করেন। এটিকেই ভক্তরা কল্পনাপ্রসূত তাদের জন্য তারকাদের কাছ থেকে একটি উপহার হিসেবে ধরে নেয়। তখন তারা ধরেই নেয় যে তারকাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব বা ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে না।

বস্তুত তারকাদের বিচ্ছেদে আমরা আমাদের জীবনের বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে পারি যে, তাদের জীবনে ভাঙনের সুর বাজা মানে আমাদের জীবনেও তা ঘটতে পারে।

ডা. হেন্ডারসন বলেন, এটা মনে করাই ভালো যে তারকাদের জীবন সাধারণ মানুষের মতোই একই মৌলিক মানবিক আবেগ এবং সংগ্রামে পরিপূর্ণ। আর আমাদের উচিত তারকাদের জীবনযাপনকে অনুকরণের চেষ্টা না করে, আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চালিয়ে যাওয়া।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.