মেক্সিকোতে স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে এলেন দেশটির বিখ্যাত অভিনেত্রী সালমা হায়েক। নিজের ক্রাউডরাইজ কর্মসূচির মাধ্যমে ইউনিসেফকে ১ লাখ ডলার দান করেছেন তিনি।


শুধু নিজে নন, অন্যদেরকেও সাধ্যমতো অর্থ সহায়তা দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আহ্বান জানিয়েছেন সালমা। অস্কার মনোনীত মেক্সিকান এই তারকা বলেছেন, ‘আমাদের দেশে টানা তিনটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিকম্পে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য শিশু ও পরিবারের এখন সাহায্য প্রয়োজন। তাদের জন্য আমি ১ লাখ ডলার দিয়েছি। আমার মতো আপনারাও এগিয়ে আসুন। যার যতটুকু সাধ্য আছে সাহায্য দিন। সহায়সম্বল হারানো মানুষগুলোকে অর্থদান ও সহানুভূতির জন্য আপনাদের উদার মানসিকতার কাছে মিনতি করছি। আপনারা যাই দেবেন তা অনেক।’

সালমা হায়েক
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সালমার ওই কর্মসূচি থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা গেছে। ইনস্টাগ্রামে স্প্যানিশ ভাষায় ভিডিও বার্তাটি পোস্ট করেন তিনি। ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীকে সবশেষ “দ্য হিটম্যান’স বডিগার্ড” ও ‘বিট্রিস অ্যাট ডিনার’ ছবিতে দেখা গেছে।
 

১৯৮৫ সালের পর মেক্সিকোতে এত ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় আর ঘটেনি। সালমা মনে করিয়ে দিয়েছেন সেই ঘটনা। স্মৃতি হাতড়ে ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘মেক্সিকো সিটিতে ওই ভূমিকম্পে বাসায় আটকে পড়েছিলাম। পরে আমাকে উদ্ধার করা হয়। আমার চাচাসহ অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু হয়েছিল ওই ঘটনায়। এমন বিপর্যয়ে পড়ার দুঃসহ ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা নিয়ে বেঁচে আছি। এ ঘটনা ছিল ভয়ঙ্কর।’
চলতি মাসে মেক্সিকোতে দুটি ভূমিকম্প হয়েছে। কাকতালীয় হলো, এর মধ্যে দ্বিতীয়টি হয়েছে ১৯৮৫ সালের ভূমিকম্পের ৩২ বছর পূর্ণ হওয়ার দিন (১৯ সেপ্টেম্বর)। মেক্সিকো সিটির প্রাণকেন্দ্রে ৭.১ মাত্রার এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০০। ৫১ কিলোমিটার পর্যন্ত ধসে গেছে বেশকিছু ভবন। এ মাসেই ঘূর্ণিঝড় কাটিয়া আঘাত করে দেশটিতে।

Anant-Jalil-stood-beside-the-director 

চলচ্চিত্র পরিচালক এফ আই মানিকের দিকে সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দিলেন চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। একইসঙ্গে দেশের প্রতিষ্ঠিত তারকা ও চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্যসহ সবাইকে তার সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার কথায়, ‘এটা আমাদের কর্তব্য।’


বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক মহাসচিব ও বহু জনপ্রিয় ছবির নির্মাতা এফ আই মানিকের সমস্যার কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনন্ত। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ৫৮ বছর বয়সী গুণী এই পরিচালকের অর্থকষ্টের কথা কিভাবে জানতে পেরেছেন সেই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

অনন্ত লিখেছেন, ‘অতি কষ্টের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমাদের চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্য এফ আই মানিক ভাই, যিনি এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্প, দর্শকসহ সবার জন্য এত কিছু করেছেন, তাকেই আজ অর্থকষ্টে ভুগতে হচ্ছে। অর্থের অভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পারছেন না তিনি। গতকাল (২০ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ তিনি আমার অফিসে আসেন। তার সামনে যেতেই চোখে পড়লো মলিন চেহারা। তিনি নিজের কষ্টের কথার পাশাপাশি অর্থের অভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে না পারার কথা জানান। তার কথা শুনে দুঃখ পেয়েছি এই ভেবে, যার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক তারকা, তাকেই কিনা অর্থের অভাবে ঘুরতে হচ্ছে দ্বারে দ্বারে।’

অনন্ত আরও লিখেছেন, ‘এফ আই মানিক ভাইয়ের সঙ্গে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়নি। আশা করি, তার মতো কোনও গুণীজনকে যেন দ্বারে দ্বারে যেতে না হয়। আমরাই যেন প্রয়োজনে তাদের কাছে পৌঁছে যাই।’

এফ আই মানিক পরিচালিত ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় রয়েছে ‘স্বপ্নের বাসর’ (২০০১), ‘দাদীমা’ (২০০৬), ‘কোটি টাকার কাবিন’ (২০০৬), ‘চাচ্চু’ (২০০৬), ‘পিতার আসন’ (২০০৬), ‘আমাদের ছোট সাহেব’ (২০০৮), ‘মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি’ (২০০৯), ‘মাই নেম ইজ সুলতান’ (২০১২) প্রভৃতি।

এদিকে অনন্তকে সবশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘মোস্ট ওয়েলকাম ২’ (২০১৪) ছবিতে। তার অভিনীত অন্য ছবিগুলো হলো ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ (২০১০), ‘হৃদয় ভাঙা ঢেউ’ (২০১১), ‘দ্য স্পিড’ (২০১২), ‘মোস্ট ওয়েলকাম’ (২০১২) ও ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ (২০১৩)।

Why-are-people-introvert-as-friends-as-nice 


সাধারণত যে মানুষগুলো খুব চুপচাপ ধরণের হয়ে থাকে, তাদেরকে আমরা অহংকারী মানুষ ভেবে বসে থাকি। কিন্তু এই মানুষগুলো চুপচাপ থাকতে পছন্দ করলেও তারা মোটেও অহংকারী নন। বরং বন্ধু হিসেবে তারা  চমৎকার এবং দারুণ! আপনার যে কোন সমস্যা আপনি তাদের কাছে নির্দ্বিধায় বলতে পারবেন, তিনই তার অভিজ্ঞতা থেকে আপনার জন্য কোন কাজটি ভালো হবে সেটি বলে দেবেন এবং প্রতিটা মুহূর্তে তারা আপনার কাছে বিশ্বস্ত থাকবেন।


মনে হতে পারে বাড়িয়ে বলছি। কিন্তু প্রতিটা কথাই খুব সত্যি। জেনে নিন কেন একজন অন্তর্মুখী মানুষ বন্ধু হিসেবে চমৎকার হোন।

১/ তারা শ্রোতা হিসেবে চমৎকার হয়ে থাকেন

অন্তর্মুখী মানুষেরা শ্রোতা হিসেবে খুব চমৎকার। তারা আপনার সকল সমস্যার কথা শুনবেন এবং প্রয়োজনে আপনাকে উপদেশ দেবেন। কিন্তু আপনার কথা বলার মাঝে তারা কখনো বাধা দেবেন না এমনকি তারা আপনাকে থামিয়ে দিয়ে নিজেরা কথা বলতে শুরু করবেন না। অন্তর্মুখী যারা, তারা সাধারণত চুপচাপ ধরণের মানুষ হলেও বন্ধু হিসেবে খুবই চমৎকার। সারাদিনে আপনি হাজারো বন্ধুর সাথে মিশে, হাজারজনের সাথে চলাফেরা করলেও দিনশেষে মনের সকল কথা, আপনার জীবনের সকল সমস্যা নির্দ্বিধায় তাদের কাছে উগরে দিতে পারবেন কোন চিন্তা ছাড়াই। জীবনে চলার পথে এমন কাওকে খুঁজে পাওয়াটা খুবই কষ্টকর, যিনি কিনা আপনার ভালো এবং খারাপ নিয়ে চিন্তা করেন এবং আপনার জন্যে যেটা ভালো হবে সেটা উপদেশ দিয়ে থাকেন।

২/ তারা মানুষকে অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারেন

আমরা অনেকেই মানুষের চেহারা দেখেই আন্দাজ করে নেই যে সে কেমন হবেন বা কেমন হতে পারেন। কিন্তু যারা অন্তর্মুখী হয়ে থাকেন, তারা এই কাজটা কখনোই করেন না। কারণ তারা নিজেরা চুপচাপ থাকলে অনেক বেশী চিন্তাভাবনা করেন, জীবনকে তারা অনেক ভাবে দেখে থাকেন এবং তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতার ঝুলি অনেক ভারী হয়ে থাকে। শুধুমাত্র কারোর চেহারা দেখে, কিংবা, কারোর সাথে দুই-তিন লাইন কথা বলেই তিনি মানুষকে চিনে ফেলেছেন এমন ভাব করেন না। বরং তারা সময় নিয়ে, কারোর সাথে মিশে, তাদের জীবনের গল্প শুনে, তাদের সাথে চলাফেরা করে এরপর মানুষ হিসেবে সে কেমন সেটা বিবেচনা করেন।

৩/ অনেকের চাইতে জ্ঞানী এবং অধিক বোধসম্পন্ন মানুষ তারা

যেহেতু তারা চুপচাপ থাকেন নিজের মতো করে, তারা নিজেরা নিজেদের মতো করেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে থাকেন চারপাশ থেকে। একটা ঘটনাকে আপনি হয়তো দেখেও না দেখার মতো করে পাশ কাটিয়ে চলে যাবেন কিন্তু একজন অন্তর্মুখী মানুষ সেটা করেন না। তারা তাদের চারপাশে ঘটা প্রতিটি ঘটনা দেখেন এবং সেটা থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেন। যে কারণে আপনার অথবা আপনার চারপাশের অন্য সকলের চাইতে যে মানুষটা কিছুটা অন্তর্মুখী ঘরানার তার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, বোধ এবং বিবেচনা শক্তি বেশী হয়ে থাকে। একটা পরিস্থিতিতে আপনি যা ভাববেন, তিনি ভাববেন তার চাইতে একেবারেই অন্যরকম করে। অথবা আপনি যেভাবে একটা ঘটনার ব্যাখ্যা দাঁড় করাবেন, তিনি সেটার ব্যাখ্যা দেবেন একদম ভিন্নভাবে। কারণ, সকল ঘটনার ভেতরে অবস্থা তিনি বোঝার চেষ্টা করেন ও বোঝেন।

৪/ প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে আনন্দ করতে পছন্দ করেন তারা

বন্ধুদের সাথে আপনি সাধারণত কী করেন? কোন অনুষ্ঠানে একসাথে যান অথবা একসাথে কোন রেস্টুরেন্টে খেতে যান কিংবা রাতভর একে অন্যের বাসাতে লেইট নাইট পার্টি করেন। কিন্তু আপনার কোন অন্তর্মুখী বন্ধু থাকলে সে করতো একবারেই ভিন্ন কিছু। মজা করা কিংবা আনন্দের সংজ্ঞা তাদের কাছে একেবারেই ভিন্ন মাত্রা পায়। তারা জানে এই সকল প্রচলিত ধারার অথবা একেবারেই গতানুগতিক কাজের বাইরে গিয়েও জীবনকে অন্যভাবে অন্য রূপে উপভোগ করা যায়, আবিষ্কার করা যায়। তারা হয়তো একেবারে উদ্দেশ্যহীনভাবে রাতের বেলা খোলা রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে কিংবা অচেনা অদেখা কোন স্থানে ঘুরতে যাওয়ার জন্যে নিমিষেই তৈরি হয়ে যাবে। তাদের কাছে কোন কিছুর কোন সীমা অথবা নিয়ম থাকে না।

৫/ বন্ধু হিসেবে তারা চমৎকার বিশ্বস্ত

আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি যেখানে একজন বিশ্বস্ত মানুষ খুঁজে পাওয়াটাই কষ্টকর ব্যাপার। তবে যারা খুব অন্তর্মুখী, তাদের কথা ভিন্ন! ভিন্ন এই কারণেই, প্রথমত তারা বন্ধু নির্বাচনে খুবই সতর্ক থাকেন। সকলকে পর্যবেক্ষন করে, সকলকে বুঝেশুনে এরপর তারা নিজেদের জীবনের জন্য বন্ধু নির্বাচন করে থাকেন। যে কারণে, তারা তাদের বন্ধুদের এবং সকল কাছে মানুষদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকেন, সৎ থাকেন। আপনার খুব জরুরি কোন কথা গোপন রাখতে চাইলে আপনি নিশ্চিন্তে আপনার অন্তর্মুখী বন্ধুর কাছে বলতে পারেন, সে কখনোই আপনার বিশ্বাস ভাঙবেন না।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.