বাংলালিংকের বায়োমেট্রিক ব্যবহার শুরু

মোবাইল ফোনের সিমের নিবন্ধনে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুল ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতির ব্যবহার শুরু করেছে বাংলালিংক।
দ্বিতীয় গ্রাহক সেরা অপারেটর গত বুধবার থেকে সবার আগে এ পদ্ধতি চালু করেছে। তবে রোববার থেকে সব অপারেটরকে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করতে হবে।
নতুন এ নিয়ম অনুয়ায়ী, এখন থেকে কোনো গ্রাহক সিম কিনতে গেলে তাকে আঙ্গুলের ছাপ দিতে হবে। সেটি জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলে গেলেই কেবল সিমটি তিনি কিনতে পারবেন।
sim-techshohor
সিম নিবন্ধনে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের ব্যবহারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতির প্রচলন করা বাধ্যতামূলক করেছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
এক মাস পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ধতিটি চালু করা হবে। জানা গেছে, সব অপারেটর ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে।
এদিকে নতুন সিম বিক্রির ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো আঙ্গুলের ছাপ নেওয়ার পদ্ধতির ব্যবহার কিভাবে করছে সেটি দেখতে রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাবেন টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
এদিকে গত ৩ নভেম্বর জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজ ব্যবহার করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।
এর ফলে প্রতিটি সিম নিবন্ধনের সময় অপারেটরগুলো গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরীক্ষা করতে নির্বাচন কমিশনকে দুই টাকা করে দেবে।
এর আগে ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় টেলিটকের একটি সিম নিবন্ধনের মাধ্যমে এ পদ্ধতির উদ্বোধন করেন।
অপারেটর সূত্র জানিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে একই সঙ্গে পুন:নিবন্ধন এবং যাচাই-বাছাইয়ের কাজও করবে তারা। পুননিবন্ধ:নের জন্য তাদেরকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছেন বর্তমানে কার্যকর দেশের ১৩ কোটি সিমের সবগুলোরই আবার পুন:নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনবিহীন ও ভুয়া পরিচয়ে সিমকার্ড ব্যবহার করে অপরাধ বন্ধে মূলত এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিম বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ডিলার ও বিক্রেতাদেরও তালিকাও প্রথমবারের মতো করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে ২০০৮ সালেও একবার সব সিমের পুন:নিবন্ধন হয়েছিল। তবে তখন জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো গ্রহণযোগ্য কোনো পরিচয়পত্র নাথাকায় ওই প্রক্রিয়া তেমন কাজে লাগেনি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের নীতিনির্ধারকরা বেশ কিছু দিন থেকেই নতুন করে নিবন্ধনের কথা ভাবতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা