ফেসবুকে চাকরি পেতে চান ? কি লাগবে জেনে নিন ।

 
বিগত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোশাল মিডিয়া ফেসবুক বিস্ময়কর হারে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। সোশাল নেটওয়ার্ক থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে ফেসবুক এখন আধুনিক প্রযুক্তিবিদদের স্বপ্নের কর্মক্ষেত্র।
বর্তমানে গোটা বিশ্বের প্রযুক্তিবিদ চাকরিপ্রার্থীদের কাছে সেরা স্থানটি হলো ফেসবুক। তবে এখানে চাকরি পাওয়াটা সহজ কথা নয়। তবে ফেসবুকের প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও সফল উদ্যোক্তা এরিক বান ৫টি পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো মাথায় রাখলে ফেসবুক ইন্টারভিউয়ে টিকে যেতে পারেন অনেক সহজে। নিন সেই পরামর্শ।
১. পণ্য সম্পর্কে ধারণা : প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে আপনার। একটি পণ্য কেন সফল বা ব্যর্থ হয় সে সম্পর্কে জানতে অপরিসীম আগ্রহ রাখতে হবে মনে। এর সঙ্গে প্রচণ্ড টান থাকতে হবে প্রযুক্তির প্রতি। এর প্রতি ভালোবাসা থাকবে আপনার। প্রযুক্তি পণ্য নির্মাণ আপনাকে সত্যিকার অর্থেই রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেবে। এমনটাই হতে হবে।
২. কার্য সম্পাদনে সামর্থবান হতে হবে : ফেসবুক তার কর্মীদের মাঝে একটি গুণ দেখতে চায়। আপনি যে কাজে এখানে এসেছেন তা করার সামর্থ্য ও ইচ্ছা থাকতে হবে। প্রতিটি বিভাগের প্রত্যের কর্মীর কাজের চাপ প্রচুর। প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রত্যেক কর্মীর পারফরমেন্স মূল্যায়ন করা হয়। সেরা কর্মী তিনিই, যিনি ক্রমাগত একের পর এক দারুণ সব আইডিয়া ও কাজের সরবরাহ দিতে থাকেন। এখানে প্রত্যেকেই সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রোডাক্ট ম্যানেজারের ভূমিকায় থাকেন।
৩. নেতৃত্ব : কোন কোন স্থানে ফেসবুক কাজ করতে পারে সে সম্পর্কে নতুন নতুন ধারণা আসতে হবে মস্তিষ্কে। দৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে কর্মীকে। অর্থাৎ একজন নেতার মতো চিন্তা কাজ করবে তার মাথায়। একটি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে নিজের নির্দিষ্ট ভূমিকা ছাড়াও গোটা দায়িত্ব পালনের মানসিকতা থাকতে হবে। দলের প্রত্যেক সদস্যের চাহিদা, মানসিকতা ও চিন্তাধারা বুঝতে হবে। এদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজেকে সুষ্ঠু উপায়ে উপস্থাপনের গুণ থাকা বাঞ্ছনীয়।
অনেকেই মনে করেন, ফেসবুক চাকরি করতে হলে প্রযুক্তি বিষয়ে বহু দিনের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। মোটেও তা নয় বলে জানান এরিক বান। তিনি এমন দুটি বিষয়ের কথা বলেছেন যা ফেসবুকে চাকরি পেতে প্রয়োজন নেই।
১. কাজের অভিজ্ঞতা : প্রযুক্তি নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা নিষ্প্রয়োজন। এই সোশাল মিডিয়ায় চাকরি পেতে এর প্রয়োজন নেই। প্রোডাক্ট ম্যানেজারের কাজের কোনো কোড নেই। কর্মীরা তার সৃষ্টিশীলতা নিয়ে কাজ করছে কিনা তাই দেখতে চায় ফেসবুক।
২. নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লেখাপড়া করা : কর্মজীবনে সফলতার অন্যতম শর্ত হিসাবে মনে করা হয় একে। ভালো স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করলেই ভালো চাকরি মেলে। কিন্তু ফেসবুক এতে বিশ্বাসী নয়। এখানে আপনার কাজের মানই দেখা হবে। বিশ্বের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে এসে ফেসবুকের চাহিদা মেটাতে না পারলে কোনো লাভ নেই। আবার লেখাপড়া কম জানা মানুষও বড় বড় কাজ করতে পারে। এটাই মূল চাহিদা ফেসবুকের।