বিশ্বের ৭ অবিশ্বাস্য সুন্দর স্থান

জীবনের ব্যস্ততা থেকে কোথায় গেলে মিলবে অবসর? কোথায় গেলে পাওয়া যাবে স্বর্গীয় শান্তি? মানুষ সব সময়ই খুঁজেছে এমন প্রশ্নের উত্তর। ভারতের প্রশ্ন-উত্তর ভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘কিউরার’ কাছেও ছিল এসব প্রশ্ন। এর উত্তরে কিউরার ব্যবহারকারীরা এমন সাতটি স্থানের সন্ধান দিয়েছেন, যা দেখতে রূপকথার গল্পের মতো হলেও আসলে বাস্তব।
জাদুকরী সৌন্দর্যের এই স্থানগুলো হতে পারে ভ্রমণ পিপাসুদের শ্রেষ্ঠ গন্তব্য। স্থানগুলোর বর্ণনা তুলে ধরেছে বিবিসি।  
নেদারল্যান্ডসের চোখ ধাধানো টিউলিপ বাগান
 
নেদারল্যান্ডসের চোখ ধাধানো টিউলিপ বাগান
ছবিই বলে দেয় কতটা অসাধারণ আর মনমুগ্ধকর নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ ফুলের এই বাগানটি। এখানে রয়েছে নীল, লাল, গোলাপি আর হলুদের সমাহার। বিচিত্র রঙের সব ফুল। কিউরার এক ব্যবহারকারী একে বলেছেন, ‘মনে হয় বাচ্চাদের বইয়ে আঁকা কোনো চিত্রকর্ম’।  
সাহিত্যে নোবেলজয়ী বিখ্যাত ইংরেজ কবি টি এস ইলিয়টের প্রিয় ফুল ছিল এই টিউলিপ। তবে নেদারল্যান্ডসে টিউলিপ আসার পেছনে রয়েছে একটি ইতিহাস। ১৬ শতকে বাইরের কোনো দেশ থেকে এখানে নিয়ে আসা হয় এই টিউলিপ গাছগুলো। এখানকার সবচেয়ে বেশি টিউলিপের বাগান রয়েছে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের লেইডেন এবং ডেন হেল্ডার শহরের মধ্যবর্তী স্থানে। 
প্রতি বছর ৩০ কোটি টিউলিপ ফোটে নেদারল্যান্ডসে। বছরে ১০ হাজারেরও বেশি পর্যটক আসে এগুলো দেখতে। মার্চ থেকে আগস্ট থেকে ধরা হয় টিউলিপ ফোটার সময়। 
স্পেনের বার্সেলোনা গির্জা
 বার্সেলোনা গির্জা
দেশটির সবচেয়ে নামকরা স্থপতি অ্যান্টনি গোদি নকশা করেছিলেন এই গির্জাটির। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটি একটি। অসাধারণ কারুকার্য খচিত এই স্থাপনাটি নিয়ে আছে অনেক গল্প আর রহস্য।  
১৮৮২ সালে শুরু হয় এটির নির্মাণ কাজ। ১৯২৬ সালে গোদি যখন মারা যায় তখন এটির এক-চতুর্থাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরপর স্পেনের গৃহযুদ্ধের কারণে থেমে থাকে এর কাজ। এখনো শেষ হয়নি একে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া। স্থাপত্যবিদরা ২০২৬ সালে গোদির মৃত্যুর শততম বার্ষিকীতে এর কাজ শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০ লাখ পর্যটক আসে এই স্থাপনাটি দেখতে। 
ইংল্যান্ডের লাস লেক জেলা
ইংল্যান্ডের লাস লেক
ইংরেজি লাস (lush) শব্দটির অর্থ মাতাল। সত্যিই এখানকার হ্রদগলোর নিখুত সৌন্দর্য যে কাউকে মাতাল করে দেবে। ইংল্যান্ডের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এই স্থানটি মূলত হ্রদে ঘেরা জাদুকরী একটি উপত্যকা। দেখতে পটে আঁকা কোনো শিল্পীর শিল্পকর্মের মতো। আসলেই মাতাল করে দেয়। 
প্রতি বছর ১ কোটি ৬০ লাখ পর্যটক আসে এর সৌন্দর্যে মাতাল হতে। এই পুরো এলাকাটি একটি পার্ক। এখানকার সবচেয়ে সুন্দর হ্রদ হচ্ছে লেক ক্রুজ। শহরের বাসিন্দাদের জন্য স্থানটি স্বর্গীয় পরশ বুলিয়ে দিতে পারে।
লেটিসভাটন হ্রদ
লেটিসভাটন হ্রদ
দেখতে বিভ্রান্তিপূর্ণ মনে হলেও প্রকৃতি এটি এমন করেই সাজিয়েছে। নরওয়ের ফারো দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ৬ কিলোমিটার লম্বা এই স্থানটি পরিচিত বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বীপ হ্রদ হিসেবে। এখানকার সবচেয়ে বড় হ্রদ এটি। 
দেখতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশ মিটার উঁচু মনে হলেও এটি আসলে ৩০ মিটারের বেশি উঁচু হবে না। তবে সাগরের পানি প্রবেশ করে এই হ্রদটিতে। একটি মধ্যমে একটি আগ্নেয়গিরির সাথে সংযুক্ত এই হ্রদটি। এছাড়াও অনেক কারণেই এই দ্বীপটি আকর্ষণের কেন্দ্র। এখানে আছে অসাধারণ সুন্দর সব পাখি, মনমুগ্ধকরভাবে তৈরি উপকূলীয় বাঁধ আর নানা রঙের ঘাসে সাজানো মাঠ।
নরওয়ের পালপিট রক
পালপিট রক
এটি নরওয়ের আরো একটি মনোহর স্থান। স্থানটি দেখতে অনেকটা ভাষণ দেয়ার ডেস্কের মতো। নিচে স্বচ্ছ পানি আর তার থেকে প্রায় ৬০৪ মিটর উঁচু এই স্থানটি। এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ ২৫ মিটার করে। 
প্রত্নতাত্বিকদের ধারণা এই স্থানটি প্রায় ১০ হাজার বছর আগে বরফযুগে তৈরি হয়েছিল। এখানে গেলে যেকোনো দর্শণার্থী পেতে পারে হলিউডের কোনো অ্যাডভেঞ্চার সিনেমার স্বাদ। তবে পর্যটকদের কিছুটা হতাশ করেছেন ভূতাত্বিকরা। তারা জানিয়েছেন, আর খুব বেশিদিন টিকে থাকবে না নরওয়ের পালপিট রক।
জার্মানির নিউসোয়ানস্টেইন প্রাসাদ
নিউসোয়ানস্টেইন প্রাসাদ
এই প্রাসাদটি দেখে আপনার মনে হতেই পারে, ‘আমি যদি রাজকুমার হতাম, তবে আমার জন্য এমন একটি প্রাসাদ তৈরি করতাম।’
নিউসোয়ানস্টেইনের এই প্রাসাদটি দেখলে সত্যিই মনে হবে, এখানে রূপকথার কোনো রাজা-রানী বাস করে। সিনড্রেলার রাজপ্রাসাদের মতোও মনে হতে পারে এটিকে। এর রোমাঞ্চকর নির্মাণশৈলী দেখে মনে হতে পারে, সুন্দরী কোনো রাজকুমারী এর ভেতর অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।  

১৮৬৯ সাল থেকে এখানে বাস করতেন দেশটির বাভারিয়ার রাজা দ্বিতীয় লুডউইগ। ১৮৮৬ সালে তার মৃত্যুর পর এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। প্রতি বছর প্রায় ১৩ লাখ দর্শণার্থী আসে এর সৌন্দর্য দেখতে। 
পোল্যান্ডের আয়না ভবন
আয়না ভবন
দেখতে আয়নার ভেতরে দেখা কোনো দৃশ্যের মতো মনে হলেও এটি আসলে বাস্তব। ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে এমনভাবেই। দেখতে আঁকাবাঁকা বা উলট পালট কোনো বাড়ির মতো মনে হতে পারে ৪ হাজার বর্গমিটারের এই ভবনটি। 
এটাও রূপকথার কোনো গল্পের প্রাসাদের মতো। এর নকশাটা এমন যে, যে কেউ হঠাৎ দেখলে ভড়কে যেতে পারেন। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আসেন এটি দেখতে।  জীবনের ব্যস্ততা থেকে কোথায় গেলে মিলবে অবসর? কোথায় গেলে পাওয়া যাবে স্বর্গীয় শান্তি? মানুষ সব সময়ই খুঁজেছে এমন প্রশ্নের উত্তর। ভারতের প্রশ্ন-উত্তর ভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘কিউরার’ কাছেও ছিল এসব প্রশ্ন। এর উত্তরে কিউরার ব্যবহারকারীরা এমন সাতটি স্থানের সন্ধান দিয়েছেন, যা দেখতে রূপকথার গল্পের মতো হলেও আসলে বাস্তব।