মুভি রিভিউঃ যে ১০টি বিরক্তিকর সিনেমা আপনি পুরোটা দেখতে পারবেন না !


কোনও সিনেমা হিট হয়। কোনওটা বা ফ্লপ। আবার কোনওটা সুপারহিট। কিন্তু কিছু সিনেমা থাকে যেগুলো টিভি বা সিডিতে চালালে সত্যি পুরোটা দেখার আগে বন্ধ করে দিতে হয়। এমনই দশটা ব্যর্থতম বলিউড সিনেমার কথা-

হিম্মতওয়ালা (২০১৩)–১৯৮৩ সালে জীতেন্দ্র-শ্রীদেবির হিট সিনেমা দারুণ পছন্দ ছিল সাজিদ খানের তাই শখ করে ২০১৩ সালে সাজিদ বানালেন নতুন হিম্মতওয়ালা। অজয় দেবগন, তামান্নাকে নিয়ে যা হিম্মতওয়ালা বানালেন সাজিদ তা বলিউডের সর্বকালের সেরা ফ্লপের তালিকায় জায়গা করে নিল। সাজিদের হিম্মত দেখে তাজ্জব সবাই। টিভিতে অনেক বিজ্ঞাপন বিরতির মধ্যে এই স্টুপিড গোত্রের সিনেমাটা ঘণ্টাখানেক দেখার পরই বন্ধ করে দিতে হয়। অতি বড় সিনেপ্রেমীও এই ছবিকে এড়িয়ে চলেন।

আপ কা সুরুর (২০০৭), কর্জ (২০০৮)–টুপি পরে বেশ নাম কামিয়েছিলেন গায়ক হিমেশ রেশমিয়া। শখ করে নামলেন সিনেমার হিরো হয়ে। হিমেশের Aap Kaa Surroor বলিউডে তৈরি হওয়া সবচেয়ে খারাপ সিনেমার তকমা পেল। এই সিনেমাটা পুরো দেখার সাহস দেখানো উচিত নয়। এখানেই গল্পের শেষ নয় হিমেশ আবার এক বছর পর ঋষি কাপুরের KARZ সিনেমাটা নতুন করে তৈরি হওয়া সিনেমায় নায়ক হয়ে নামলেন। সেটাও বড় ফ্লপ হল। হিমেশের কর্জ দেখাটা খুব কষ্টের ব্যাপার।

রামগোপাল ভার্মা কি আগ (২০০৭)– ‘শোলে’ সিনেমার সবচেয়ে বড় দর্শক হিসেবে নিজেকে দাবি করেন রামগোপাল ভর্মা। রমেশ সিপ্পির কালজয়ী সিনেমাকে রামু বানালেন নিজস্ব স্টাইলে। যেখানে অমিতাভ বচ্চন গব্বর সিং, নীশা কোঠারি বাসন্তির ভূমিকায়, আরও অনেকে। বলিউডের সবচেয়ে বড় ফ্লপ ছবি। এক সপ্তাহেরও কম সময় চলেছে। টিভিতেও বিশেষ দেওয়ার সাহস দেখানো হয় না। কারও খেয়ে দেয় কাজ নেই এই সিনেমাটা পুরোটা দেখবে।

তিস মার খান (২০১০)– ফারহা খানের এই সিনেমাটা বেশিরভাগ সমালোচক একেবারে শূন্য রেটিং দিয়েছিলেন। বোকা বোকা ডায়লগ, গল্প বলে কিছু না থাকা, খারাপ গান। একেবারে সব খারাপ ঠাসা। ক্যাটরিনার যে নাচটা ছিল সেটা যতটা বেশি ভালগার, ততটা দৃষ্টিনন্দন নয়। টিভিতে মানুষ ক্যাটরিনার নাচটা দেখেই বন্ধ করে দেয়।

রুদ্রাক্ষ (২০০৪)–অন্য দুনিয়া, জাদু মন্ত্র, শয়তান। সব আছে এই সিনেমায়। আছে বিপাশা বসুর খোলা শরীর। কিন্তু এখন প্রশ্ন কারা বানায় এসব সিনেমা? বানানোর আগে কী পরিচালক দেখননি এটা কী হল। মণি শঙ্করের Rudraksh নিয়ে যত কমা চলা যায় ততই ভাল, যত কম দেখা যায় ততই ভাল।

মিশন ইস্তানবুল -ডর কে আগে জিত হ্যায় (২০০৮)—বিবেক ওবেরয়ের ঠান্ডা কেরিয়ারে সবচেয়ে ঠান্ডা সিনেমা। অ্যাকশন থ্রিলার বানাতে গিয়ে পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া বানিয়ে ফেলেছেন এক হাইতোলা যুক্তিহীন সিনেমা। কোনও কাজ না থাকা মানুষেরও দুবার ভাবা উচিত পুরোটা দেখবেন নাকি।

দ্রোণা (২০০৮)- অভিষেক বচ্চন-প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সুপারহিরো দ্রোণা দেখলে হাসি পাবেই। কিন্তু এটা হাসির সিনেমা নয়। অদ্ভূত কস্টিউম, যুক্তিহীন গল্প, গান-আবহ সঙ্গীত খুব খারাপ। টিভিতে সেভাবে দেয় না। চেষ্টা করুন যদি পুরোটা দেখতে পারেন।

জোকার (২০১২)– ফারাহা খানের স্বামী শিরিশ কুন্দ্রা পরিচালিত এই সিনেমা হল অন্য গ্রহের প্রাণী এ গ্রহে আসা নিয়ে। গোটা বিশ্বে এই বিষয়ে যত সিনেমা তৈরি হয়েছে তার মধ্যে দাবি করা খারাপ বানানো সিনেমা। অক্ষয় কুমারের সবচেয়ে খারাপ সিনেমা। দর্শকদের বোকা বানাতে বানাতে সিনেমাটা এমন একটা জায়গায় পৌঁছয় যেখানে আর নেওয়া যায় না।

জানি দুশমন-এক আনোখি কাহানি (২০০২)–অবাস্তব, অসম্ভব এক রূপকথার গল্প। সানি দেওল থেকে সোনু নিগম। অনেক তারকাই আছেন। কিন্তু ভয়ের এই সিনেমা দেখতে এতটাই হাস্যকর লাগবে যে বলবেন অনেক হয়েছে আর নয়।

লাভ স্টোরি ২০৫০- প্রেমিকা মরে যাওয়ার পর অবসাদে ভোগা এক প্রেমিকের টাইম ট্র্যাভেলের গল্প। ভবিষ্যতে যাওয়ার গাড়িতে উঠে নায়ক হারমান বাহেজা ২০৫০ সালে পৌঁছে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে। খুব খারাপভাবে ভবিষ্যতকে দেখান হয়েছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে খুব খারাপ দেখিয়েছে। পাল্লা দিয়ে খারাপ অভিনয় হৃতিক রোশনকে নকল করা হারমানের। যারা টাইম ট্র্যাভেল সিনেমা দেখতে ভালবাসেন তাদের কাছে এই সিনেমা অনেকটা মিষ্টির পাতে উচ্ছে সিদ্ধ পড়ে যাওয়ার মত মনে হবে।