দুই জায়ান্টের লড়াই : ফাঁকতালে লাভ আম জনতার

মোবাইল ফোন বাজারে স্যামসাং ও অ্যাপলের প্রতিযোগিতা অনেক আগে থেকেই। নতুন কিছু এনে প্রতি বছর গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণেও পিছিয়ে নেই এ দুই জায়ান্ট। উভয় কোম্পানির প্রতিদ্বন্দীতার সুযোগে আমরা পাচ্ছি দারুণ কিছু স্মার্টফোন।
গত বছরের সেরা দুটি ফোন আইফোন ৬ প্লাস ও গ্যালাক্সি নোট ৫। এ দুটি মডেল নিয়ে বেশ আগ্রহ ছিল ফোনপ্রেমীদের মধ্যে। অনেকেই পুরনো মডেলকে বিদায় করে নতুন হ্যান্ডসেট বেছে নিয়েছেন। গত বছর বাজেটের কারণে যারা কিনতে পারেননি, তারা নতুন বছরে যাচাই বাছাই শুরু করেছেন।
এমন ক্রেতাদের জন্য এ দুটি ফোনের খুঁটিনাটি জেনে নেওয়ার ফাঁকে, তুলনাটাও দেখা যাবে। আপনার জন্য কোনটি হবে সেরা স্মার্টফোন, আশা করছি সেটার উত্তর আজই পেয়ে যাবেন।
ডিজাইন
দুটো ফোনেরই বিল্ড কোয়ালিটি অসম্বব ভালো। এতদিন এ বিষয়ে সবাই শুধু অ্যাপলের জয়গান গেয়েছে। গত বছর স্যামসাংও মেটাল বডি নিয়ে আসায় দুটি ফোনের সোন্দর্য চলে এসেছে সমান কাতারে।

Screenshot_1

স্যামসাংয়ের মেটাল বডির জন্য কিছু ফিচার হারাতেও হয়েছে। এক্সপ্যান্ডেবেল স্টোরেজ ও ব্যাটারি রিপ্লেইসমেন্ট কোনটিই এখন করা যাবে না এ ফোনে। আইফোনে যদিও দুটোর একটাও কখনই ছিল না।
ডিসপ্লে
দুটি স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় পার্থক্য বোধহয় ডিসপ্লে। প্রথমে প্রযুক্তির কথায় আসা যাক। আইফোনে ব্যবহার হয়েছে আইপিএস ডিসপ্লে, যেটিতে রয়েছে ৪০১ পিক্সেল ডেন্সিটি। অন্যদিকে নোট ৫-এ ব্যবহার হয়েছে অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যেটি ৫১৪ পিক্সেল ডেন্সিটির।
কোন ডিসপ্লে বেছে নেবেন তা একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করছে। দুটোরই আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আইপিএস ডিসপ্লে মূলত আপনাকে দেখাবে ন্যাচারাল ও নিখুঁত কালার।
অ্যামোলেড ডিসপ্লে তা নয়, এটিতে একটা কালো পর্দার ওপরে ভেসে ওঠে সব রঙ। তাই স্ক্রিনে সবসময় একটা অন্ধকার ভাব থাকে ও সেটা ন্যাচারাল থাকবে না। এটা অবশ্যই খারাপ কিছু নয়, কারণ এই অন্ধকারই সব রঙকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলবে। তার সৌন্দর্য হবে আইপিএস ডিসপ্লে থেকে দ্বিগুণ।

iphon 6+ and note

পারফরম্যান্স
আইফোনে রয়েছে ডুয়াল কোর এ৯ প্রসেসর ও ২ জিবি র‍্যাম। এর বিপরীতে নোট ৫-এর কনফিগারেশন হলো ২.১ গিগাহার্জ অক্টাকোর প্রসেসর ও ৪ জিবি র‍্যাম।
স্পেসিফিকেশনের দিক থেকে দুটোকে কখনই বিচার করা যাবে না। কারণ আইফোনের প্রসেসর প্রযুক্তিগত দিক থেকে সেরা না হলেও বাজারে অর্জন করেছে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের খেতাব।
এমনিতে, দুটো ফোনের একটা থেকেও কম পারফরম্যান্স আশা করা যাবে না। আইফোনে যেমন সব ভারি অ্যাপ ও হাই গ্রাফিক্স গেইমে মসৃণতা পাওয়া যাবে, তেমনি নোট ৫-এর গতি ধীর করে দিতে পারে এমন অ্যাপ পাওয়া যাবে না প্লে স্টোরে।
তবে নোট ৫-এর একটা বড় সুবিধা হল এস-পেন। আকর্ষণীয় সব ফিচারে ভর্তি এ ছোট্ট কলম আপনার ডিভাইস ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বদলে দেবে।
ক্যামেরা
ক্যামেরার দিক থেকে বড় কোনো ফারাক পাওয়া খুবই দুষ্কর। নোট ৫-এর ১৬ মেগাপিক্সেল ও আইফোনের ১২ মেগাপিক্সেল, দুটো ক্যামেরাই আপনাকে তুলে দেবে দারুণ কোয়ালিটির কালারফুল সব ফটো।
ফিচারের কথা বলতে গেলে নোট ৫-ই এখানে বিজয়ী। আইফোনে টাইম ল্যাপস, হাইপার ল্যাপস ও স্লো মোশনসহ অল্প কিছু ফিচার রয়েছে।
img_2644

অন্যদিকে নোট ৫-এ রয়েছে ফিচারের বিশাল দোকান। অনেকগুলো মোডের মধ্যে থাকছে স্লো মোশন, প্যানারোমা, জিআইএফ ক্রিয়েটর। প্রো মোড নামে আরেকটি কাজের ফিচার রয়েছে, যেখানে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির মত প্রতিটি ছবির হোয়াইট ব্যালান্স, আইএসও, ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
ব্যাটারি
দুটো স্মার্টফোনের ব্যাটারিই বেশ ভালো। দুটোতেই পুরো একদিন কাটিয়ে দিতে পারবেন এক চার্জে। তবে নোট ৫-এ ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে , যা আইফোনে পাওয়া যাবে না।