ঢাকায় তারকার রেস্তোরাঁ !



খুব কাছাকাছি সময়ে ঢাকায় ছয়জন তারকা যুক্ত হয়েছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে। এরই মধ্যে নিশ্চয়ই আপনি খবরটি জেনে গেছেন পত্রিকা বা ফেসবুক থেকে। তাঁরা নাটক, চলচ্চিত্র আর সংগীতজগতের তারকা। কে কে? রিয়াজ, শাফিন আহমেদ, ঈশিতা, অপূর্ব, মিলন মাহমুদ ও এলিটা। জানতে চাইছেন, তাঁদের রেস্তোরাঁগুলোতে কী ধরনের খাবার আছে? কেনই বা এ ব্যবসায় এলেন তারকারা? সরেজমিনে দেখা গেল, তাঁদের রেস্তোরাঁগুলোতে আছে দেশি–বিদেশি নানা ধরনের খাবার। আর এখানে ভিড় লেগেই আছে। তারকার রেস্তোরাঁ বলে কথা।শুধু এই ছয়জন তারকাই নয়, গত কয়েক বছরে খাবারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আরও অনেকেই। কেন? সবাই কেন এদিকেই ছুটছেন?

৯ জানুয়ারি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় রেস্তোরাঁ চালু করেছেন রিয়াজ। নাম ‘ফুড টোয়েন্টিফোর ইনটু সেভেন’। এই নামের অর্থ কী? রিয়াজ বললেন, ‘আমাদের এই খাবারের দোকানটি খোলা থাকবে সপ্তাহের প্রতিদিন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা। এখানে যেমন বসে খাওয়ার ব্যবস্থা আছে, তেমনি কেউ ইচ্ছা করলে অর্ডার দিয়ে বাসায় বসেও আমাদের খাবার খেতে পারবেন। কেউ ইচ্ছা করলে খাবার নিয়ে যেতে পারবেন কিংবা আমরাও পৌঁছে দিতে পারব।’
‘ফুড টোয়েন্টিফোর ইনটু সেভেন’ রেস্তোরাঁয় খাবার তৈরির দিকটি দেখাশোনা করছেন টনি খান।
রিয়াজ কি হঠাৎ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? ‘একদম তা-ই।’ বললেন রিয়াজ। ‘অসুস্থ হওয়ার পর পরিবার আর নিজেকে নিয়ে একটু ভাবনার মধ্যে ছিলাম। অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দিকটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। নিয়মিত আয়ের একটা উপায় খুঁজছিলাম। এ সময় বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা হয়। শেষে তাদের সঙ্গে নিয়েই যুক্ত হয়েছি এই ব্যবসার সঙ্গে।’

শাফিন আহমেদ রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অনেক আগেই। জানালেন ‘ক্লাব হুইলস’ নামের সেই রেস্তোরাঁ এখন আর নেই। তবে ইদানীং বনানীতে তিনি শুরু করেছেন ‘এজ ওয়াটার’ নামে আরেকটি রেস্তোরাঁ। বললেন, ‘পুরোপুরি ব্যবসার চিন্তা মাথায় ছিল না। শুরুতে নিজে বসব, ভক্তদের সঙ্গে দেখা হবে, বন্ধু আর তাদের পরিবারের সঙ্গে আড্ডা দেব—এমনই ভাবনা থেকে রেস্তোরাঁ করার পরিকল্পনা করেছিলাম। এখন অবশ্য ব্যবসার দিকটিই মুখ্য।’ 

বন্ধুদের উৎসাহে ‘টামি টাইম’ খুলেছেন অপূর্ব। ‘টামি টাইম’ কফি শপ হিসেবে বেশি পরিচিত। কিন্তু অন্য খাবারও আছে এখানে। এই যেমন বিভিন্ন দেশের ডিশ। বললেন, ‘বন্ধুরা ব্যবসায়িক দিকে বেশ অভিজ্ঞ। তারা আমাকে নানাভাবে পরামর্শ দিচ্ছে।’

ঈশিতা তাঁর ‘হোয়াই নট’ রেস্তোরাঁ নিয়ে বললেন, ‘জায়গা ছোট, তবে আমার এখানে খাবার অনেক ভালো।’
জানালেন, তাঁর এখানে দেশি-বিদেশি দুই ধরনের খাবারই আছে। বনানীর যেখানে রেস্তোরাঁটি, তার আশপাশে রয়েছে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আছে অনেকগুলো অফিস। সাত মাসের অভিজ্ঞতা থেকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঈশিতা আরও কিছু দেশি নতুন খাবার যুক্ত করছেন।
ঈশিতা নিজে কি খুব ভালো রাঁধেন? বললেন, ‘মোটামুটি। নিজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই। তবে দেশি খাবার বেশি রান্না করি।’

এটিএন বাংলায় রান্নার অনুষ্ঠান ‘গোল্ডেন রেসিপি’ উপস্থাপনা করেন মিলন মাহমুদ। ওই সময় খাবারের ব্যবসার ব্যাপারে আগ্রহ তৈরি হয় এই সংগীতশিল্পীর। উত্তরায় ৪ নম্বর সেক্টরে শুরু করেন ‘হ্যান্ডশেক’। জানালেন, গানের বাইরে পুরো সময়টা তিনি এই রেস্তোরাঁয় দিচ্ছেন। এখানে আছে থাই, চায়নিজ, ভারতীয় আর কন্টিনেন্টাল ডিশ।

চট্টগ্রামের মেয়ে এলিটার ‘নবাব চাটগাঁ’য় আছে ঐতিহ্যবাহী সব খাবার। আর তা সবই চট্টগ্রামের। খাবারে চট্টগ্রামের স্বাদ পুরোপুরি ঠিক রাখার জন্য বাবুর্চি এনেছেন সেখান থেকেই। সাংবাদিকতা আর গান গাওয়ার পাশাপাশি এখানেও নিয়মিত সময় দিচ্ছেন তিনি।
এই তারকাদের রেস্তোরাঁয় যাঁরা খেতে আসেন, তাঁদের সঙ্গে বেশির ভাগ সময়ই দেখা হয় তারকাদের। অনেকেই মিস করতে চান না সেলফি তোলার সুযোগ। আর তাতে তারকারাও রাজি হন হাসিমুখে। তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো