বাড়ছে সিম ও ইন্টারনেট সংযোগ

 
মাঝখানে এক বছরের ধাক্কা সামলে দেশে সচল মোবাইল সিম বৃদ্ধি আবার গতিতে ফিরেছে।
সোমবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন প্রকাশিত হিসেবে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার সিম আগের বছরের সঙ্গে যোগ হয়েছে।
প্রকাশিত হিসাব অনুসারে শেষ হওয়া বছরটিতে সিম বৃদ্ধির হার ছিল ১১ দশমিক ১২ শতাংশ। আর তাতে বছর শেষে কার্যকর থাকা সিমের সংখ্যা হয়েছে ১৩ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার।
এর আগের বছর সিম বিক্রি হয়েছিল ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার। ওই বছর প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে দুটি বছরেই বৃদ্ধি পাওয়া সিমের তুলনায় ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধিতে বাড়তি গতি পেয়েছে।

২০১৫ সালে দেশে ইন্টারনেটের নতুন ১ কোটি ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩৯৬টি সংযোগ যুক্ত হয়েছে। এই বছর তথ্যপ্রযুক্তির এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। আর সব মিলে বছর শেষ হয়েছে ৫ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার।
এর আগের বছর নতুন ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছিল ৭৮ লাখ ৫২ হাজার। সে বছর প্রবৃদ্ধি ছিল ২১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
বিটিআরসির এক বছরের হিসেবে থেকে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোন এই বছরটিতে ৫১ লাখ ৭৫ হাজার সিম তাদের নেটওয়ার্কে বাড়াতে পেরেছে। তাতে বছর শেষে অপারেটরটির সচল গ্রাহক হয়েছে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৭৯ হাজার।
একীভূতিকরণের অপেক্ষায় থাকা দুটি অপারেটর এয়ারটেল এবং রবি যথাক্রমে ৩২ লাখ ৫ হাজার এবং ৩০ লাখ ২৮ হাজার গ্রাহক যোগ করতে পেরেছে নিজ নিজ নেটওয়ার্কে। আর তাতে করে রবি ২ কোটি ৮৩ লাখে এবং এয়ারটেল এক কোটি ৭ লাখে বছর শেষ করেছে।
বাংলালিংক ১৯ লাখ ৬৫ হাজার গ্রাহক পেয়েছে ২০১৫ সালে। তাদের বছর শেষে হয়েছে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৫ হাজার গ্রাহকে।
বছরটি সবচেয়ে খারাপ গেছে সিটিসেলের। তারা দুই লাখ ৮৬ হাজার গ্রাহক হারিয়েছে। আর সরকারি অপারেটর টেলিটক এক বছরে দুই লাখ ৮৩ হাজার গ্রাহক বাড়াতে পেরেছে।
মোবাইল ফোন অপারেটররা ইন্টারনেটেও নিজেদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিতে পেরেছে। মোট বৃদ্ধি পাওয়া ইন্টারনেট গ্রাহককের মধ্যে ৯২ লাখ ৭৯ হাজার নিজেদের নেটওয়ার্কে নিয়ে এসেছে তারা।
বছরটা ভালো গেছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের জন্যেও। কিন্তু ওয়াইম্যাক্স অপারেটররা দুই লাখ ৩৩ হাজার গ্রাহক নিয়ে বছর শুরু করে বছর শেষ করেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার গ্রাহকে এসে।
বিভিন্ন বছরে মোবাইল সংযোগ বৃদ্ধি :
২০১৫   ১.৩৪ কোটি
২০১৪   ৬৫.৬৬ লাখ
২০১৩  ১.৬৬ কোটি
২০১২   ১.১৭ কোটি
২০১১   ১.৬৮ কোটি
২০১০   ১.৬২ কোটি
২০০৯   ৭৮ লাখ
২০০৮  ১.৩০ কোটি