যে ১০ বদভ্যাস আপনার বুদ্ধির ধার কমায়

কারোও বুদ্ধি ক্ষুরধার, কারও বা ভোঁতা। মানুষের বুদ্ধিমত্তা কী যে কোনও পরিস্থিতিতে তফাৎ গড়ে দিতে পারে। বুদ্ধি যদি সঙ্গী থাকে তাহলে যে কোনও পরিস্থিতিতে শুরু বুদ্ধির জোরেই বাজিমাত করাও সম্ভব। কিন্তু বুদ্ধি এমন একটি জিনিস যাকে প্রতিনিয়ত ঘষামাজা করতে হয়। মাথাকে যদি কাজ না করানো যায়, তাহলে সেই ত্বেজী বুদ্ধি নিজের ত্বেজ হারাতেও সময় নেয় না।  আচ্ছা ধ্যান, যোগাভ্যাস কী বুদ্ধি তীক্ষ্ন করতে সাহায্য করে? উত্তর হবে, কিছু ক্ষেত্রে হ্যাঁ।
আচ্ছা এমন কোনও বিশেষ অভ্যাসের জন্য কী আপনার বুদ্ধির ধার কমতে পারে? উত্তর, অবশ্যই। এটুকু শুনেই বেশি ঘাবড়ে যাবেন না। সবসময় একটি জিনিস মাথায় রাখবেন, সুস্থ বুদ্ধি, সুস্থ শরীরেই বসবাস করে। সুস্থ বলতে এখানে শুধু শরীর নয়, মনও বটে। অর্থাৎ শরীরের পাশাপাশি মনকেও সুস্থ রাখতে হবে।  আর সেক্ষেত্রে অবশ্যই জানা দরকার কোন কোন বদভ্যাস থেকে আপনার বুদ্ধি খর্ব হতে পারে।

অতিরিক্ত ঘুম : কোনও কিছুই মাত্রাতিরিক্ত করা ভাল নয়। ঘুমও নয়। অতিরিক্ত ঘুম মানসির স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই উপকারি নয়। অতিরিক্ত ঘুমের ফলে ক্রমে মস্তিষ্ক অলস হতে শুরু করে। এর ফলে মন খারপ অসুখেও পরিণত হতে পারে।
ধূমপান : ধূমপান মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজে বাধা প্রদান করে। ফলে মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না। ধীরে ধীরে বুদ্ধির ধার কমতে থাকে। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তিতেও প্রভাব পড়ে।

অপুষ্টি : অপুষ্টির জেরেও বুদ্ধি লোপ পেতে শুরু করে। কারণ মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য যে পুষ্টিগুন আমাদের প্রয়োজন তা সঠিক পরিমান আমাদের শরীরে ঢুকছে না। এই জন্য রোগা হওয়ার জন্য না খেয়ে থাকা, ক্র্যাশ ডায়েট করা একেবারেই উচিত নয়।
মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ নেওয়া : আজকালকার প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় মানসিক চাপ ক্রমশই বেড়ে চলেছে। কিন্তু অকারণে মানসিক চাপ নেওয়া অনেকের চারিত্রিক বৈশিষ্টর মধ্যে পড়ে। এর ফলে মস্তিষ্কে চাপ পড়ে, আর এর ফলে আপনার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজের গতিবিধি ব্যহত হয়।

জীবনযাপন : আপনার জীবন যদি গতানুগতিক হয়, সেক্ষেত্রেও আপনার মানসিক স্বাস্থ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে। সচল জীবনযাপন আপনার মাথাকে অতিরিক্ত অক্সিজেন জোগায়। যা আপনার বুদ্ধিকে ঘষে মেজে তৈরি করতে সাহায্য করে।

অপর্যাপ্ত ঘুম : বেশি ঘুমও যেমন শরীরের পক্ষে ভাল না, তেমনই ৭-৮ ঘন্টার কম ঘুমও শরীরের পক্ষে ভাল না। অনেকেই আছেন, সকাল তাড়াতাড়ি কাজে বেরনো সত্ত্বেও দেরি করে ঘুমতো যান। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেরি করে ঘুমলে গভীর ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ কম থাকে। তার উপর ৭-৮ ঘন্টা ঘুম না হলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। যা আপনার বুদ্ধিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

অ্যালকোহল অতিরিক্ত পরিমানে অ্যালকোহল সেবন করলে তার ফলে ডিপ্রেশন বা সারাক্ষণ উদ্বিগ্ন থাকার সমস্যা দেখা যেতে পারে। এর ফলে আপনার মানসিক শক্তিতে প্রভাব পড়তে পারে।

মাথার ব্যায়াম: যে কোনও যন্ত্রপাতি বহুদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকলে তাতে জং পড়ে যায় কাজ করতে পারে না যন্ত্রপাতিগুলি। আমাদের মাথার মধ্যেও এরকম একাধিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। কিন্তু আমরা যদি নতুন কিছু শেখার মা জানার চেষ্টা না করি, মাথা যদি না খাটাই তাহলে মাথার ভিতরেরে যন্ত্রপাতিগুলোও অচল হয়ে পড়ে। ফলে ধীরে ধীরে বুদ্ধি লোপ পেতে থাকে।

একাকীত্ব :  সবসময় চেষ্টা করুন একার সঙ্গে সময় না কাটিয়ে, ভারচুয়াল লাইফের বাইরে বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করুন। একার সঙ্গে সময় কাটাতে থাকলে সামাজিক জীবনের অভাব আপনার মস্তিষ্কে ও বুদ্ধিমত্তায় পড়তে পারে।