প্রযুক্তির সাহায্যে যাওয়া যাবে ভবিষ্যৎ তে তবে অতীতে নয় !

ডেমোক্রিটাসের রচনাগুলো পুড়িয়ে না ফেললে আর্কিমিডিসের হাতে কি ক্যালকুলাসের জন্ম হতো; নিউটনেরও দু'হাজার বছর আগে! কোনোদিনই তা জানা হবে না যদি প্রাচীন গ্রিসের ডেমোক্রিটাসের সময়ে যাওয়া না হয়। বজ্রযোগিনী গ্রাম থেকে অতীশ যখন বেরিয়ে পড়েছিলেন বাংলার পথে, তার প্রারম্ভিক অভিযাত্রায় তিনি কী ভেবেছিলেন? মুন্সীগঞ্জের রঘুরামপুরে প্রত্নতাত্তি্বক খননে পাওয়া অষ্টম শতকের বৌদ্ধবিহারের


সঙ্গে তার কি কোনো যোগসূত্র ছিল? আহ্, যদি সময়ের পেছন দিকে যাওয়া যেত!
সম্প্রতি ইরানি এক বিজ্ঞানী হঠাৎ এ রকম দাবি করেছেন। নাম আল রাজেকি, বয়স ২৭। তিনি নাকি একটা টাইম মেশিন তৈরি করেছেন। তার নির্মিত টাইম মেশিনে শুধু আঙুলের ছাপ প্রয়োজন। এর পর জটিল অঙ্ক কষে আমাদের জীবনের ভবিষ্যৎ ঘটনাবলির একটা তালিকা প্রিন্ট করে দেবে মুহূর্তেই! টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'এটা আপনাকে ভবিষ্যতে নিয়ে যাবে না; ভবিষ্যৎকেই আপনার সামনে এনে দেবে! পার্সোনাল কম্পিটার আকৃতির এ টাইম মেশিন আগামী ৫ থেকে ৮ বছরের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেবে।' অন্তত তারা তাই বলেছে। বিস্ময়করই বটে! কিন্তু রাজেকির এ দাবির সত্যতা জানতে মার্কিন বিজ্ঞানী থমাস রোমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, 'বলা মুশকিল, কারণ এতে তত্ত্ব ও বাস্তবতার মাথামুণ্ডু নেই।' যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কানেকটিকাট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনারত তাত্তি্বক এই পদার্থবিজ্ঞানী টাইম মেশিন নিয়ে মানুষের এত আগ্রহ প্রসঙ্গে বলেন, 'টাইম মেশিনে চড়ে অতীতের যে কোনো সময়ে চলে যাওয়া যাবে। আবার ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে। তাই এটা মানুষকে ভীষণভাবে টানে। ইচ্ছে তো করে অভিজ্ঞতার আলোয় আবার শৈশবের পথে হাঁটতে। দুপুরে রোদে বয়ে যাওয়া অদ্ভুত সব নদীকে দেখতে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এ ধরনের পরিভ্রমণে কতগুলো গেরো তৈরি হয়। যেমন ধরুন অতীতে গিয়ে দাদাকে মেরে ফেললে নিজেরই অস্তিত্ব আর রইবে না।'
ব্যাক টু দ্য ফিউচার ফিল্মটা থেকে এভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়_ ১৯৮৫ সালে নির্মিত ওই কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্রের নায়ক (অভিনেতা মাইকেল জে ফক্স) এক তরুণ। যে বছরে জীবনাবসান ঘটেছিল আইনস্টাইনের, টাইম মেশিনে চড়ে সেই ১৯৫৫ সালে পেঁৗছে যায় ওই তরুণ। ওখানে নায়কের সঙ্গে দেখা হয় এক কুমারীর। নায়ককে দেখে তো মুগ্ধ সে তরুণী। এতই ভালো লাগল, নায়ককে প্রেম নিবেদনে ব্যস্ত হয়ে পড়ল যেন। কিন্তু এর আগে আরেক যুবকের সঙ্গে প্রেম-প্রেম ভাব তৈরি হয়েছে কুমারীর। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ১৯৮৫ থেকে ৩০ বছর আগে ফিরে গিয়ে নায়ক দেখছে, ওই কুমারী নারী আর কেউ নন, তারই জন্মদাত্রী মা। ১৯৫৫ সালে তখন তার বাবার প্রেমিকা, ক'দিন বাদেই বিয়ে হবে। নায়ক চিন্তা করছে, গেরোটা বড়ই সাংঘাতিক_ 'বাবার সঙ্গে মায়ের বিয়েটা যদি ভেঙে যায়, তা হলে যে জন্মই হবে না আমার!' বহু কষ্টে নায়ক অতীত ভ্রমণের রোমাঞ্চকে বিদায় জানিয়ে ফিরে আসে ১৯৮৫ সালে। এ জন্যই ছবিটার নাম ব্যাক টু দ্য ফিউচার। বিজ্ঞানী থমাস রোমান বলেন, পদার্থবিজ্ঞানে এর নাম 'গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স' বা দাদা হত্যা দ্বন্দ্ব। কারণ অতীতে পেঁৗছে যদি খুন করি দাদাকে, তাহলে আমার জন্মই হবে না! জন্মই যদি না হয় তবে টাইম মেশিনে অতীত ভ্রমণ করব কী করে! 'অতএব' রোমান বলছেন, 'অতীত ভ্রমণ অসম্ভব।' আইনস্টাইন এ কথাটি ১০০ বছর আগেই তার আপেক্ষিক তত্ত্বের মাধ্যমে দেখিয়ে বললেন, ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে কিন্তু পেছনে ফেরা যাবে না। - See more at: http://bangla.samakal.net/2016/01/08/184805#sthash.iovTQ01R.dpuf