পুরোনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ভীষণ সুস্বাদু ৭ খাবার


ঢাকায় রয়েছে অনেক অনেক পর্যটনস্থল। রয়েছে ঢাকাই কাপড়, সংস্কৃতি আর ঢাকাইয়া ভাষা। তবে এ সবকিছুর পাশাপাশি ঢাকায় সবাইকে আকর্ষণ করবার মতন আর যে জিনিসটি রয়েছে সেটা হল এখানকার ঐতিহ্যকে বহন করে আসা নানা রকমের উপাদেয় খাবার। ভোজনবিলাসী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষদের একটা আলাদা পরিচিতি থাকলেও ঢাকার, বিশেষ করে পুরোন ঢাকার মানুষদের খ্যাতি এ ব্যাপারে অনেকটাই বেশি। কিন্তু দৃঃখজনক হলেও সত্যি যে, ঢাকায় বসবাসের অনেক দিন পেরিয়ে গেলেও এ শহরে এমন অনেকে আছেন যারা ঢাকার, বিশেষ করে পুরোন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোকে এখনো অব্দি চেখেই দেখেননি পুরোপুরি। চেখে দেখা তো দূরে থাকুক, অনেকে কখনো নামই শোনেন নি অনেক বিখ্যাত খাবারের। আর সেসব ঢাকাবাসীদের জন্যেই আজকে দেওয়া হল প্রিয়তে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবারের নাম। যেগুলো না খেলে হয়তো জীবনে বড় একটা ব্যাপার হারাবেন আপনি! আর তাই চটজলদি জেনে নিন খাবারগুলোকে আর নিয়ে আসুন তাদের স্বাদ।

১. কাচ্চি বিরিয়ানী
ঢাকায় এসেছেন অথচ নান্না, হাজি কিংবা হানিফের বিরিয়ানীর নাম শোনেন নি এমন মানুষ হাতে গুনে হয়তো দু-পাঁচজনও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। অনেক আগে থেকেই সবার মুখের স্বাদকে আরো অনেকটা বাড়িয়ে দিয়ে চালু করা হয়েছিল এই নানান মশলার উপাদেয় খাবার। আর তারপর থেকে এখনো অব্দি বাঙালীর রসনা পুরোপুরিভাবে তৃপ্ত করে দিয়ে আসছে এই খাবারটি। ঢাকার বিখ্যাত কাচ্চি বিরিয়ানীর খোঁজ পেতে হলে আপনাকে ঢুঁ মারতে হবে কাজী আলাউদ্দীন রোড, নারিন্দা, নাজিমুদ্দীন রোড, মালিটোলা, সুরিটোলা, নবাবপুর কিংবা মৌলবীবাজার রোডে। সেখানে গেলেই গন্ধে গন্ধেই আপনাকে টেনে নেবে নান্না, হানিফ, হাজী, ভুলু, মামুন, রহিম, রয়েল কিংবা ঝুনার কাচ্চি বিরিয়ানী।

২. বাকরখানি
আগা বাকেরের নামে নামাঙ্কিত এই বাকরখানি তৈরি হয় দুধ, ময়দা, মেওয়ার খামির আর ঘি থেকে। ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় এই উপাদেয় খাবারটির নাম অনেকেই জানেন না কিংবা খেয়ে দেখেন নি। প্রথম দেখাতে হয়তো অতটা জাঁকজমকপূর্ণও মনে হবেনা এই খাবারটিকে। কিন্তু একবার মুখে তুলে নিলেই বুঝবেন কি স্বাদকে এতদিন দূরে রেখেছিলেন।

৩. তেহারী
ছোট ছোট টুকরো মাংস পোলাও চালের ওপর ছড়িয়ে দিয়ে শক্ত করে ঢাকনি আটকে দিয়ে তৈরি করা হয় তেহারী নামের এই উপাদেয় খাবার। আর এর স্বাদ কিংবা গন্ধ? এক ঝটকাতেই আপনাকে টেবিলে বসিয়ে দেওয়ার মতন। চকবাজার কিংআ নীলক্ষেতের পাশ দিয়ে হাটবার সময় আপনাআপনিই পাশের দোকানগুলো থেকে এর গন্ধ কেড়ে নেবে আপনার মন। এছাড়াও বিখ্যাত বিরিয়ানীর দোকানগুলোতেও পাওয়া যায় ভালো মানের তেহারী।

৪. লাবাং
মিষ্টিদই, গরম মশলা, চিনি, লবন এবং মাঠা দিয়ে তৈরি করা এই অসাধারন পানীয়টির দেখা সাধারনত রমজানেই মেলে বেশি। লালবাগ, চকাজার ও নাজিমউদ্দীন রোডে সহজেই মিলে যাবে আপনার লাবাং এর দেখা। দুধের মতন দেখতে ঝাঁঝালো স্বাদের এই পানীয়টিকে আজকাল দেখতে পাওয়া যায় আড়ংসহ নানারকম দোকানেও। পুরোন ঢাকার ঐতিহ্য হলেও আজকাল অনেক উন্নত রেষ্টুরেন্টেও পাওয়া যায় লাবাং।

৫. কাবাব
শিক কাবাব, বটি কাবাব, খিড়ি কাবাব, সুতি কাবাব, শর্মা কাবাব, কবুতরের কাবাব, ডোনা কাবাব, বিফ জালি, শামি কাবাব, লাহরি কাবাব, রেশমি কাবাব- কত রকমের কাবাব চাই আপনার? সাধারনত এর সবগুলো পাওয়া গেলেও কাবাবের জন্যে বিখ্যাত পুরোন ঢাকায় রমজানে আপনি খোঁজ পাবেন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ পদের কাবাবের। মাংসের সাথে সাথে ইদানিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাছের কাবাবও। ঢাকার চকবাজার, লালবাগ, জনসন রোড ও নবাবপুরে পাবেন আপনি অত্যন্ত মুখোরোচক এই কাবাবগুলোকে।

৬. জাফরান মিষ্টি
ঢাকার সবচাইতে সুস্বাদু কোন মিষ্টি যদি খেতে চান তাহলে তালিকার প্রথমেই রাখুন জাফরান মিষ্টিকে। অসাধারন এই মিষ্টিগুলোর ব্যাপারে একটা কথাই বলা চলে- না খেলে পস্তাবেন! রসমালাই এর মতন কিন্তু আকারে অনেক বড় এই মুষ্টিগুলো সত্যিই এক কথায় অমৃত।

৭. পুরি
ঢাকায় আছেন অথচ পুরি খাননি? ভাবছেন পুরি তো সেই ডাল আর আলু পুরিই। কিন্তু না! পুরির ভেতরে বৈচিত্র্য এনে কিমা পুরি, খ্যাতা পুরির মতন আরো অনেক রকমের পুরি বানিয়ে আর স্বাদেও সেগুলোকে অসাধারন একটা মাত্রা এনে দিয়েছে ঢাকাবাসীরা। ইচ্ছে হলে চেখে দেখতে পারেন!