বিশ্বের সেরা ১০ সাইকোলজিক্যাল সিনেমা


অনুভূতি প্রকাশের সেরা মাধ্যম বলা হয় চলচ্চিত্রকে। মানুষের বিরতিহীন কৌতূহল এবং আবেগের অজানা ও অদ্ভুত রাজ্যকে জানার একমাত্র ক্ষেত্র সিনেমার সহজ সাবলীল ভাষা।
যখন আমরা সিনেমা দেখি, মনের অজান্তেই আমরা এর গভীরে চলে যাই। ছবির চরিত্র ও কাহিনীর সঙ্গে এমনভাবে মিশে যাই যে তখন সিনেমা শুধু বিনোদন ও উপভোগের ব্যাপার থাকে না। এর সঙ্গে জুড়ে যায় সীমাহীন আবেগ, ভালোবাসা। সিনেমার পরিচালক তাঁর দৃষ্টিকোন থেকে আমাদের যা দেখান, তার সঙ্গে মিশে যায় আমাদের ভেতরের সত্তাটিও।
সবার আলাদা নিজস্ব সহজাত ভাবনা থাকে। সব ভাবনা মিলিয়ে যা সৃষ্টি হয়, সেটিই মানুষের আকর্ষণ কেড়ে নেয়। একমাত্র সিনেমাই পারে জগতের দুঃখ-দুর্দশা ও বাস্তবতার কঠিন সত্যের সঙ্গে আমাদের মুখোমুখি করতে। আবার মাঝে মাঝে নিষ্ঠুর সময়কে ভুলতেও সহায়তা করে সিনেমা।
কোন সিনেমা বানানোর সময়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও খেয়াল রাখেন নির্মাতারা। এই ব্যাপারগুলোর সঙ্গে দর্শকদের যোগাযোগ স্থাপনের জন্য, এবং দৃশ্যটি বাস্তব বোঝানোর জন্য মাঝে মাঝে পরিচালক অনেক কঠিন দৃশ্যের অবতারনা করেন।
সিনেমাকে উপভোগ্য বানাতে যে উন্মাদনা এবং নিষ্ঠুরতা দেখান নির্মাতারা, তা দেখে অনেক সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেন না দর্শকরা। এবং এতেই একজন পরিচালক তার কাজের সার্থকতা খুঁজে পান।
বেইজ মোয়া
ফরাসি ভাষায় নির্মিত এই ছবিটি মুক্তি পায় ২০০০ সালে। ইংরেজীতে ভাষান্তর করলে এই সিনেমার নাম হয় ‘রেইপ মি’। ভার্জিনি ডাসপেন্টেসের মূল উপন্যাস থেকে একই শিরোনামে সিনেমাটি পরিচালনার ভার নেন কোরাইলি ট্রিন থি।
এই ছবির কাহিনীতে দুজন পর্ণ অভিনেত্রীর গল্প বলা হয়েছে। জীবনের তাগিদে এই পেশায় নামতে বাধ্য হয় তাঁরা। দুজনের পৃথিবীতে কঠিন জীবন যাপনের কাহিনী বলা হয়েছে ‘বেইজ মোয়া’ ছবিতে। সিনেমার লেখক ও পরিচালক দুজনই গল্পের চরিত্রদের বেদনার অংশটুকু বোঝাতে চেয়েছেন দর্শকদের।
অ্যামোর
মাইকেল হেনেকা পরিচালিত ‘অ্যামোর’ ছবিটি ২০১২ সালে মুক্তি পায়। জীবনের শেষ সীমানায় থাকা মানুষের জীবনযাপন নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। পরিচালকের মা বাবার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি তৈরি করেছেন তিনি। অবসরপ্রাপ্ত মিউজিক শিক্ষক দম্পতি জর্জ এবং অ্যান জীবনের দ্বারপ্রান্তে এসে দেখতে পান, পেশাগত কারণে তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত সময় হারিয়েছেন। নিজেদের কাজে এতো বেশি ডুবে ছিলেন যে একজন আরেকজনের জন্য কোন সময় ব্যয় করেন নি। একদিন অ্যানের কথিন অসুখ হয়। জর্জ নিজেও বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করে স্ত্রীর সেবায় মন দেন।
নির্মাতা এই ছবির মাধ্যমে আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, জীবনে সুখ দুঃখ, খ্যাতি, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির সঙ্গে বাস্তব জীবনের একটি অংশ বার্ধক্য। সত্য ও ভালবাসার অপূর্ব সমন্বয়ে নির্মিত হয়েছে ‘অ্যামোর’ ছবিটি। সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী প্রচুর আলোচিত ও প্রশংসনীয় হয়। কান সিনেমা উৎসবে এবং অস্কারে সেরা বিদেশি ভাষার সিনেমা হিসেবে ৭০টিরও বেশি পুরস্কার পায় সিনেমাটি।
শেম
২০১১ সালের সিনেমা ‘শেম’। নিউইয়র্কের একজন সুদর্শন ও সফল পুরুষের গল্প বলা হয়েছে এই সিনেমায়। ব্র্যান্ডন খুবই স্বাভাবিক ও সাধারণ জীবনযাপন করলেও নিজের ভেতর একটি ভয়ঙ্কর সত্য চাপা দিয়ে ভালো মানুষের মুখোশ পরে চলাফেরা করে। সে ভয়াবহ যৌন আসক্তিতে আক্রান্ত। যে কোন কিছুর থেকে তার কাছে প্রাধান্য পায় শারীরিক চাহিদা মেটানোর পরিতৃপ্তি। কিন্তু একসময় তাকে এই কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে হয়। শহরের এক সমস্যায় পরে ব্র্যান্ডনের বোন। সে ভাইয়ের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকা শুরু করে। যার ফলে ব্র্যান্ডনের গোপনীয়তা ও এতো সতর্কতা ব্যাহত হয়। অবশেষে তাকে এই ভয়ানক আসক্তির মোকাবেলা করতে হয়। এমনই এক মানসিক দ্বন্দ্বের সিনেমা ‘শেম’।
অ্যান্টিখ্রাইস্ট
অত্যন্ত চমৎকারভাবে ছবিটির নির্মাণ ও দৃশ্যায়নের উপস্থাপনা করেছেন পরিচালক লারস ভন ট্রেয়ার।২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটির কাহিনী স্বামী স্ত্রীর জীবনের মানসিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।