কোয়ান্টাম কম্পিউটারের উদ্দেশ্যে


নোবেল পুরস্কার বিজয়ী স্যার অ্যান্থনি জেমস লেগেটের সঙ্গে সাদ্দাত হাসান
কোয়ান্টাম কম্পিউটার হয়তো মানবমস্তিষ্কের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে—মত দিয়েছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক রজার পেনরোজ। এই কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে কতই না গবেষণা চলছে উন্নত বিশ্বে। কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কবে দেখা মিলবে এমন কম্পিউটারের। যদি সম্ভব হয় তবে এটা যে শতাব্দীর সেরা আবিষ্কার হবে, তাতে কারও দ্বিধা নেই। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে এত দিন ধরে চলা গবেষণার কত দূর অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে আয়োজন করা হয় ‘স্কুল অন কোয়ান্টাম ইনফরমেশন প্রসেসিং’ শিরোনামের কর্মশালার। এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সব মিলিয়ে ১০০ জন। অংশগ্রহণকারী হিসেবে এ তালিকায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ মিলেছিল বাংলাদেশের সাদ্দাত হাসানের। সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে আসার পর ১১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো কার্যালয়ে কথা হয় সাদ্দাত হাসানের সঙ্গে। তিনি পড়ছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণিতে। পড়াশোনার বিষয় কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং গবেষণাগারে সাদ্দাত হাসান। ছবি: সংগৃহীত
গত ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কর্মশালা চলে সিঙ্গাপুরে। আয়োজন করেছিল আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিকস এবং ন্যাংইয়াং টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ। সেখানে সবার মধ্যে সাদ্দাত ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সী। ‘স্কুল অন কোয়ান্টাম ইনফরমেশন প্রসেসিং’-এ বক্তৃতা করতে সিঙ্গাপুরে এসেছিলেন ১০টি দেশের ১৪ জন পদার্থবিদ। যার মধ্যে ছিলেন পদার্থবিদ্যায় নোবেল বিজয়ী স্যার অ্যান্থনি জেমস লেগেট, জেরার্ড টি হুফট এবং সার্জ হ্যারোশ।
সাদ্দাত হাসান জানান, অ্যান্থনি জেমস লেগেট আলোচনা করেছেন টপোলজিক্যাল কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে। বিষয়টি খোলাসাও করলেন তিনি। এটি একটি তাত্ত্বিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার-ব্যবস্থা, যা অ্যানিয়ন নামের দ্বিমাত্রিক কোয়াসিপার্টিকলের ধারণা দেয়। সাধারণ কম্পিউটার যেখানে শূন্য কিংবা একের মধ্যে যেকোনো একটি অবস্থায় থাকতে পারে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার-ব্যবস্থায় সেখানে একসঙ্গে দুটি অবস্থাই নির্দেশ করতে পারে। এ কারণেই কোয়ান্টাম কম্পিউটার সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটারে তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের একক কিউবিটে তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে কথা বলেছেন জেরার্ড টি হুফট। সার্জে হ্যারোশ আলোচনা করেছেন হাই প্রিসিশন অ্যান্ড একুরেটের নিয়ে।
কর্মশালাটিতে অংশ নিয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন বলে জানান সাদ্দাত হাসান। ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়েই কাজ করে যেতে চান তিনি।