হলিউড টপ চার্ট ঃ

ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান : ডন অব জাস্টিস 
অভিনয় : বেন অ্যাফ্লেক, হেনরি ক্যাভিল   
জুটোপিয়া 
কণ্ঠ : জেনিফার গুডউইন, জেসন ব্যাটম্যান 
মাই বিগ ফ্যাট গ্রিক ওয়েডিং ২ 
অভিনয় : নিয়া ভারডালোস, জন করবেট 
মিরাকলস ফ্রম হ্যাভেন 
অভিনয় : জেনিফার গার্নার কেলি রজারস 
অ্যালিজেন্ট 
অভিনয় : শায়লিন উডলি, নাওমি ওয়াটস 

বলিউড  টপ চার্ট ঃ 

রকি হ্যান্ডসাম 
অভিনয় : জন আব্রাহাম, শ্রুতি হাসান 
কাপুর অ্যান্ড সন্স 
অভিনয় : সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, আলিয়া ভাট 
তেরা সুরুর 
অভিনয় : হিমেশ রেশামিয়া, ফারাহ কারিমি 
জয় গঙ্গাজল 
অভিনয় : প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, প্রকাশ ঝা 
তেরে বিন লাদেন : ডেড অর অ্যালাইভ 
অভিনয় : মনীশ পাল, কুনাল গুপ্ত 


মোবাইল ব্রাউজার অপেরা মিনি ইন্টারনেট ডাটা সাশ্রয় করে বছরে প্রায় তিন দশমিক তিন বিলিয়ন টাকা খরচ কমায় বলে একটি জরিপে দেখিয়েছে অপেরা মিনি বাংলাদেশ।
কমপ্রেশন টেকনোলজির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯০ ভাগ ডাটার ব্যবহার কমিয়ে বিপুল এই অর্থের অপচয় রোধ করা হয়েছে বলে একপেশে ওই প্রতিবেদনে দেখিয়েছে অপেরা মিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের ডাটা ব্যবহার সাশ্রয় করেছে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ ৮৯ হাজার ২৬৩ গিগাবাইট বা ১০ টেরাবাইটের সমতুল্য।
প্রতি জিবি ৩০০ টাকা হিসাব ধরে অপেরা মিনি সেই সাশ্রয়ী ডাটার দাম নির্ধারণ করেছে তিন দশমিক তিন বিলিয়ন টাকা।
প্রতিবেদনটিতে দেখানো হয়েছে, মোবাইলে অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের গড়ে প্রতি দশটি ওয়েবপেইজ দেখার মধ্যে আটটিই ফেইসবুক। ফেইসবুকে যে ডাটা খরচ হচ্ছে তা মোট ডাটার ৬৫ ভাগ। এর পরেই আছে গুগল এবং ক্রিকবাজডটকম।
এছাড়াও অপেরার মাধ্যমে শীর্ষ দশ ভিজিট করা ওয়েবসাইট ফেইসবুক, গুগল, ইউটিউব, প্রথম আলো, ক্রিকবাজ, উইকিপিডিয়া, বিডিনিউজ, ওয়ার্ডপ্রেস, এনটিভি এবং ওক্সিমিটি বলে দেখিয়েছে অপেরা মিনি।


আমাদের চারপাশের সম্পর্কগুলো আমাদের জন্য অনেক দামী। সম্পর্কই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়। আমরা যে কোন মূল্যেই ভালবাসার এই সম্পর্কগুলোর মাঝে দূরত্ব তৈরি হতে দিতে চাই না। অথচ হয়ত নিজেদের ছোটখাট ভুলেই আমরা আঘাত করে সামনের মানুষটিকে।
মনোবিজ্ঞানী এমি মরিন তুলে ধরেছেন ৯ টি ভুল, যা আমরা শোনার সময় করি। তর্কে জড়িয়ে গেলে নিজেকে বাঁচাতে এমন ভুল করি, যা কষ্ট দেয় প্রিয় মানুষটিকে।
১। Mind reading
প্রশ্ন করার পরিবর্তে অনেক সময়ই আমরা নিজে নিজে বুঝে নিই পাশের মানুষটি কি চাইছে! মানুষের আচরণ অনেক জটিল। নিজে নিজে বুঝে নিতে গেলে ভুল বোঝা সবচেয়ে স্বাভাবিক। অনেক মানুষই আবার নিজেকে প্রকাশ করে না, নিজের আবেগ মুখে চোখে ফুটিয়ে তুলতে পারে না। আপনি যদি মুখ দেখেই আন্দাজ করে নিতে চান তাহলে হয়ত আপনি জানবেন ও না দিনের পর দিন আপনি নিজেকে ভুল জানার মধ্যে রাখছেন, একই সাথে ভুল ব্যবহার করছেন সঙ্গীর সাথে।
২। না শোনা
সংগীর সাথে কোন সমস্যা হলে আপনি কি তার কথা শুনছেন না? তার দৃষ্টিভঙ্গি জানার বদলে শুরুতেই তর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন। আপনার বলার ভঙ্গী, রেগে যাওয়া হয়ত অন্যের বক্তব্যকে ধোঁয়াশা করে দিচ্ছে। এভাবে নিজের কথা বলতে না পারা খুব দ্রুতই দূরত্ব তৈরি করে।
৩। ফিল্টারিং
আপনি হয়তো সেই কথাগুলো কখনোই গুরুত্ব দিয়ে শুনছেন না যেগুলো আপনি শুনতে চান না। আপনার সঙ্গীর বক্তব্যের শুধু সেগুলোই আপনি গ্রহণ করছে যা আপনার ভাল লাগে। এতে শুধু ঘনিষ্ঠতাই কমে না, জমে অনেক মনোকষ্ট।
৪।অন্যমনস্কতা
আলোচনার সময় আপনি হয়ত অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে আলোচনা যখন দীর্ঘ সময় চলে। কিন্তু এই অমনোযোগ আপনার সঙ্গীকে এই অনুভূতি দিতে পারে যে, আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
৫। বিচার করা
আপনি কি মানুষকে অযথা বিচার করেন? আপনি হয়ত একটা মানুষ সম্পর্কে মতামত দিয়ে ফেলেন সহজেই, তাকে বোঝার বা জানার চেষ্টা না করে। যে কোন ঘটনা বা মানুষের ক্ষেত্রে আপনি যখন সম্পূর্ণ ঘটনা শুনবেন এবং বোঝার চেষ্টা করবেন তখন আপনি একটি নিরপেক্ষ মতামত দিতে পারবেন। আগেই মন্তব্য করে ফেলাটা মুক্তমনের পরিচায়ক নয়।
৬। উপদেশ দেওয়া
আপনার সঙ্গী আপনার সমতুল্য, তা সে যেই বয়সেরই হোক না কেন! আপনি যদি নিজেকে তার শিক্ষকের ভূমিকায় নিয়ে যান তা আপনার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। খেয়াল করুন, আপনি কি সারাক্ষণ উপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন? এতে আপনি এক প্রকারে তার যোগ্যতাকে হেয় করছেন।
৭। যুক্তি-তর্ক
কোন বিষয়ে তর্ক হলে যুক্তির মধ্য দিয়ে যদি এগিয়ে যান তাহলে তার ফল কাউকে আঘাত করে না। কিন্তু আমরা অনেক সময়ই হেরে যাওয়াটা নিতে পারি না। ক্ষিপ্ত হয়ে যাই। এটা আমাদের ব্যক্তিত্বের জন্য ক্ষতিকারক।
৮। মেনে নেওয়া
অনেক সময় এমন হয় যে, তর্ক থামাতে আমরা বলি, 'আচ্ছা, তুমিই ঠিক আছ"। এটা এক প্রকার অযত্ন প্রকাশ করে। কথা বলুন, শান্ত হোন। সমাধান না করে থামিয়ে দিলে ক্ষত পূরণ হয় না, বরং বাড়ে। তাই কথা বলুন।
৯। দোষারোপ করা
সবচেয়ে বাজে কাজ আমরা যেটা করি, তা হল পাল্টা দোষারোপ করা। কখনো নিজেদের ভুল থাকলেও মানতে না চেয়ে আমরা অন্যের দোষ খুঁড়ে খুঁড়ে বের করি। এবং পাল্টা দোষারোপ করি। এটি এক মূহুর্তে একটা সম্পর্ককে ভেঙ্গে দিতে পারে। নিজের দোষ মেনে নিয়ে একটা ছোট্ট "sorry" অনেক সুন্দর রাখবে আপনার সম্পর্কগুলোকে।


ডেস্কটপ হোক কিংবা মোবাইল ফোন, অবসরে বা পথ চলতে ফেসবুক এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী৷ এমন এক দুনিয়া এই সোশ্যাল মিডিয়া তৈরি করে দিয়েছে, যা আমাদের সাধারণ দুনিয়া থেকে আলাদা এবং কৃত্তিম৷ সে দুনিয়ার মোহে জড়িয়ে আছেন বিশ্বের বহু মানুষ৷ জড়িয়ে থাকতে থাকতে তাঁরা টেরও পাননি, কবে থেকে যেন ফেসবুক ব্যবহার করাটাই নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এ নেশাও আবার যেমন তেমন নেশা নয়৷ সম্প্রতি এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ফেসবুকের নেশা প্রায় কোকেনের নেশার মতোই৷
 নরওয়ের বারগন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এ সমীক্ষা করেন৷ ২০ জন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ছাত্রের উপর বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হয়৷ দু’ভাগে এই পরীক্ষা হয়৷ প্রথমে তাদের কিছু প্রশ্ন করেন গবেষকরা৷ যা থেকে নেশার নানা লক্ষণ পরিষ্কার হয়ে যায়৷ যেমন তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়, ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই কি ফেসবুক ব্যবহার করে তারা? কিংবা, ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করলে কি তারা অস্থির হয়ে ওঠে? গবেষকদলের প্রধান ডঃ সিসিলি অ্যান্ডারসনের মতে, যাঁরা এ ধরনের অন্তত ৪-৬টি প্রশ্নের উত্তর ‘পজিটিভ’ দিচ্ছেন তাঁরা আসক্ত৷ কেননা অনুরূপ প্রশ্ন যে কোনও নেশায় আসক্ত মানুষদেরই করা হয়৷
 এর পরে তাদের কিছু ছবি দেখানো হয়৷ তাদের সামনে ‘পুশ’, এবং ‘নট পুশ’ নামে দুটো বাটন দিয়ে দেওয়া হয়৷  দেখা যায় ফেসবুক সংক্রান্ত ছবি, যেমন ফেসবুক লোগে ইত্যাদি দেখামাত্র কোনও ছাত্র পুশ বাটনে চাপ দিয়ে ফেলছে৷ দুই পরীক্ষার ফলাফল মিলিয়ে দেখা হয়, ফেসবুকের ছবি দেখেই যারা বাটন পুশ করেছে, নেশাসংক্রান্ত প্রশ্নত্তোর পর্বে তারাই সবথেকে বেশি নম্বর পেয়েছে৷ অর্থাৎ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে নেশার লক্ষণ যাদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট, তারাই বেশি পুশ বাটনে চাপ দিয়েছে৷ এ থেকে ফেসবুকের ব্যবহারও যে একরকম নেশা তা পরিষ্কার হয়ে ওঠে৷
পরীক্ষা অবশ্য এখানেই থেমে থাকেনি৷ ছবি দেখে বাটন পুশ করার সময় ওই ছাত্রদের ব্রেন ইমেজও নেওয়া হয়৷ সেই ইমেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, কোকেনের নেশাগ্রস্তদের ক্ষেত্রে ছবিটি যেমন হয়, ফেসবুকে আসক্তদের ক্ষেত্রেও ছবিটি একইরকম৷
 প্রশ্ন করে এই পরীক্ষা যে কেউ নিজেদের উপরও করে দেখ পারেন৷ বাকিটা ব্যক্তিগত৷


স্যামসাং মোবাইল বাংলাদেশ সম্প্রতি বাজারে নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের গ্যালাক্সি এ৫ এবং এ৭ ডিভাইস। এই নতুন গ্যালাক্সি এ৫ এবং এ৭ ডিভাইসগুলো গ্যালাক্সি এ সিরিজের ২০১৬ এডিশন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। মেটাল এবং গ্লাসের তৈরি এ ডিভাইসগুলোতে রয়েছে মাত্র ২.৭ মি.মি বেজেল। নতুন গ্যালাক্সি এ৫ এবং এ৭ ২০১৬ এডিশনে রয়েছে যথাক্রমে ৫.২” এবং ৫.৫” ডিসপ্লে এবং ডিভাইসগুলোর পুরুত্ব মাত্র ৭.৩ মি.মি।
ডিভাইসগুলোর অক্টা কোর প্রসেসর দিবে আগের চেয়েও বেশি কার্যক্ষমতা। শুধু তাই নয়, ডিভাইসগুলো ৪জি এলটিই ক্যাট ৬ সমৃদ্ধ। গ্যালাক্সি এ৫ এবং এ৭ ডিভাইসে রয়েছে এফ ১.৯ অ্যাপারচারসহ (১৩ মেগাপিক্সেল সামনের এবং ৫ মেগাপিক্সেল পেছনের ক্যামেরা) কুইক লঞ্চ, উজ্ঝল ফটোগ্রাফি, ওয়াইড সেলফি, পাম সেলফি, ওআইএস এবং বিউটিফাইং ইফেক্টসহ ক্যামেরা। ডিভাইসগুলোর ফিংগার প্রিন্ট স্ক্যানার এবং নক্স নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহারকারীকে দিচ্ছে সুরক্ষিত যোগাযোগের নিশ্চয়তা।
স্মার্টফোন দুটিতে ২,৯০০ অ্যাম্পিয়ার (এ৫) এবং ৩,৩০০ অ্যাম্পিয়ার (এ৭) ব্যাটারি থাকছে। একই সঙ্গে ডিভাইস দুটিতে আরও থাকছে দ্রুত চার্জিং সুবিধা।
এ ২০১৬ এডিশনের ডিভাইসগুলোতে থাকছে ২,৯০০ অ্যাম্পিয়ার (এ৫) এবং ৩,৩০০ অ্যাম্পিয়ার (এ৭) ব্যাটারি।
এ৫ ২০১৬ এডিশনের দাম ৩৯,৯০০ টাকা এবং এ৭ এর দাম পড়বে ৪৪,৯০০ টাকা মাত্র। বাজারে এখন কালো এবং সোনালী এ দুটি রঙে এ৫ এবং এ৭ ডিভাইস পাওয়া যাচ্ছে। সম্মানিত গ্রাহকরা এখন স্যামসাং-এর অনুমোদিত স্টোরগুলো থেকে ৬টি সহজ কিস্তিতে (ইএমআই) ডিভাইসগুলো কেনার সুবিধাও উপভোগ করতে পারবেন।


রং আমাদের কার না প্রিয়? রঙ্গীন পোশাক, রঙের উৎসব, রঙ্গীন ঋতু সবই আমাদের মনকে টানে। উচ্ছল করে তোলে, আনন্দিত করে তোলে। আমরা ভালবাসি রংকে এর বৈচিত্রের জন্য, একটা চমৎকার রংধনু দেখতে আমরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে পারি। এই যে মানুষের রং এর প্রতি এত ভালবাসা, সেই ভালবাসার প্রকাশ ঘটে তার শিল্পে, সৃষ্টিতে। রংপ্রিয় মানুষেরা তাই কোথাও কোথাও রাঙিয়ে দিয়েছেন গোটা শহরকে, কোথাও বা সারি সারি নৌকাকে, কোথাও বা পীচ ঢালা পথকে। আসুন জেনে নিই বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন কয়েকটি শহরের কথা।
ইযামাল, ম্যাক্সিকো
ইযামালকে বলা হয় যাদুর শহর। তবে নানান রঙে রঙিন নয়, বরং এক রঙেই আভিজাত্যপূর্ণ শহর এটি। সূর্য রঙা হলুদে আঁকা এখানকার বাড়িগুলো। একটা উষ্ণ অনুভূতি তৈরি করে এখানকার পথঘাট, যা আলাদাভাবে আপনার মনোযোগ কাড়বে। এখানকার পাথুরে রাস্তাগুলোর পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লাইমস্টোন চার্চ এবং সরকারি ভবন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ১৬ শতকের সান এন্তোনিও দি পাদুয়ার বাসিলিকা ভবনটি। এটি শহরের মধ্যমণি আর একই সাথে ইতিহাস এবং মিথলজির জন্য খ্যাত।
সেন্ট জোনস, নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং লাব্রাডর, কানাডা
সেন্ট জোনস নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং লাব্রাডর এর রাজধানী। এটি কানাডার সবচেয়ে পুরাতন শহর যার রয়েছে ১৪০০ বছরের ঐতিহ্যের ইতিহাস। শহরটি খুবই সুন্দর এবং ভ্রমণের জন্য চমৎকার। এখানে একটি অঞ্চলের নাম জেলিবিন রোও, যেখানে প্রত্যেক জাহাজের ক্যাপ্টেনের উপর নির্দেশনা দেওয়া আছে যে তাদের প্রত্যেকের বাড়ি আলাদা আলদা ঝলমলে রং এর হতে হবে। ফলে যেটা হয়েছে, দূর সমূদ্র থেকেই বাড়িগুলো চেনা যায় এবং একটা দারুণ রঙিন দৃশ্যের অবতারনা করে। এভাবে পুরো অঞ্চলটিই একটি রঙিন নগরীতে পরিণত হয়েছে।
রিও ডি জেনেরিও, ব্রাজিল
২০১০ সালে ব্রাজিলের সরকার রিও ডি জেনেরিও এর বস্তিগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করার প্রয়াসে কিছু পরিকল্পনা হাতে নেন। ডাচ চিত্রশিল্পী হাছ এবং হান পুরো এলাকাকে তাদের ক্যানভাস হিসেবে নেন। এখন এই এলাকা রঙে রঙে রঙিন। এর স্ট্রীট আর্ট, রাঙানো দেয়াল যেন রংধনুর মত ছড়িয়ে পড়েছে শহরের বুকে। এই অঞ্চল এখন পর্যটক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এখানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এলাকা হল ফাভেলা সান্তা মারিয়া।
রকলো, পোল্যান্ড
পোল্যান্ডের একটি চমৎকার শহর রকলো। শত শত ব্রীজ, দারুণ সব রেস্তোরা, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যের মেলবন্ধন এই শহর এখন প্রচুর পর্যটকের আকর্ষণ কেন্দ্র। রঙিন বাড়ির সারিগুলো এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পুরো শহরটি প্রাচীন স্থাপত্যের আদলে নকশা করা, উজ্জ্বল রাস্তাগুলো যেন শহরকে দেয় নতুন জীবন, নতুন আলো।
বুনোস এয়ার্স, আর্জেন্টিনা
বুনোস এয়ার্স এর দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত লা বকা, যা মুক্ত বায়ু যাদুঘর হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এখানে পথে পথে ঘুরে বেড়ালে দেখতে পাবেন আরও মজার অনেক কিছু। স্থানীয় চিত্রশিল্পীদের করা ম্যুরাল এবং গ্রাফিতি আর্ট চমতকৃত করবে আপনাকে। রাইচিউলো নদীর মুখে যেখানে শ্রমিকদের ছিটমহলগুলো অবস্থিত, সেগুলো বানানো হয়েছে স্ক্রেপ ম্যাটারিয়াল দিয়ে এবং শৈল্পিকভাবে রং করা হয়েছে। শহরের রূপটাই বদলে দিয়েছে এই বাড়িগুলো। দূর থেকে মনে হয় যেন এক বক্স ক্রেয়ন দাঁড়িয়ে আছে।
ভালপারাইজো, চিলি
বন্দর নগরীটি এর ইতিহাস এবং সংস্কৃতির জন্যেও বিখ্যাত। এখানে আছে বিশাল বিস্তৃত যাদুঘর, ক্যাথেড্রাল, চার্চ এবং কলোনিয়াল দালানের সারি। উপকূলীয় এলাকায় রং বেরঙের নৌকার সারি আর পানিতে তাদের প্রতিচ্ছবি যেন শিল্পীর হাতে আঁকা কোন চিত্র কর্ম। বাড়িগুলো আর বোহেমিয়ান ম্যুরালগুলো এখানকার নাগরিকদের শিল্পবোধের পরিচয় বহন করে।


চীনের ফ্লাগশিপ স্মার্টফোন কিলার ওয়ান প্লাস। প্রতিষ্ঠানটি এই প্রর্যন্ত দুইটি ফোন বাজারে ছেড়েছে। এবার তৃতীয় ফোন বাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে। ফোনটির মডেল ওয়ান প্লাস থ্রি। সম্প্রতি চীনের চীনের অনটুটু বেঞ্চ মার্ক লিস্টে ফোনটির স্পেশিফিকেশন তালিকা বদ্ধ হয়েছে।  
গিজমো চায়না জানিয়েছে, ওয়ান প্লাস থ্রির মডেল নম্বর এ ৩০০০। এতে ফুল এইচডি ডিসপ্লে থাকছে। এতে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর ব্যবহার করা হচ্ছে। র‌্যাম থাকবে ৪ জিবি। 
৩২ জিবি বিল্টইন মেমোরির এই ফোনটির রিয়ার ক্যামেরা হবে ১৩ মেগাপিক্সেলের। ফ্রন্ট ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেলের। 
এই জুনে ফোনটি বাজারে আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে এটি বাজারে আসছে না।


আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মাত্র পাঁচ দিনেই এক লাখ ২৫ হাজার গ্রাহক জিপি মিউজিক মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন করেছে। 
২০ মার্চ ডিজিটাল মিউজিক মোবাইল অ্যাপ উন্মোচনের পর এত কম সময়ে রেকর্ড পরিমাণ নিবন্ধন হওয়াকে বিস্ময়কর বলে মনে করছে গ্রামীণফোন। ২৫ হাজারের বেশি স্থানীয় গান নিয়ে চালু হওয়া জিপি মিউজিক বাংলা ভাষায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল মিউজিক লাইব্রেরি। 
দেশীয় সঙ্গীতপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে বাংলা গানের লাইব্রেরিসমৃদ্ধ জিপি মিউজিক অ্যাপ চালু করে ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করল গ্রামীণফোন। 
শীর্ষস্থানীয় সঙ্গীতশিল্পীদের অ্যালবাম ও গান জিপি মিউজিক অ্যাপে পাওয়া যাবে। দেশের সবধরনের সঙ্গীতশিল্পীরা নিজেদের গান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরবরাহের সুযোগ করে দেয়াই অ্যাপটির মূল উদ্দেশ্য। 
এছাড়া মিউজিক পাইরেসি কমানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্ম সঙ্গীতাঙ্গণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।          
গ্রামীণফোনের প্রধান বিপনণ কর্মকর্তা (সিএমও) ইয়াসির আজমান জিপি মিউজিক সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা সবার ডিজিটাল জীবনের সঙ্গী হতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি মিউজিকপ্রেমীদের জন্য জিপি মিউজিক বাংলাদেশে সেরা ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্ম সেবা দিতে পারবে।’ 
আইফোনের আইওএস এবং অ্যানন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমেচালিত সকল ডিভাইসে ব্যবহার করা যাচ জিপি মিউজিক অ্যাপ। অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্ম জিপি মিউজিক।
এছাড়াও www.gpmusic.co ওয়েবসাইটে গিয়েও অনায়াসে ব্যবহার করা যাবে জিপি মিউজিক সেবা।


ডিএসএলআরের ভিড়ে সাধারণ ক্যামেরার জনপ্রিয়তা কমেছে অনেকখানি। তার ওপর রয়েছে স্মার্টফোন। ছবি তোলার সব ফিচার মোবাইলে পাওয়া গেলে পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট ক্যামেরার কি দরকার? তবে ক্যামেরা বিশেষজ্ঞরার বলছে ভিন্ন কথা। আপনি যদি আপনার ছবি তোলার উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করতে পারেন, একটি পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট ক্যামেরার মেটাতে পারে আপনার ক্যামেরার চাহিদা।   
জাপানের বিখ্যাত প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্যানাসনিক ক্যামেরা বাজারে নিয়ে এলো নতুন পয়েন্ট অ্যান্ড শ্যুট ক্যামেরা প্যানাসনিক লুমিক্স এফজেড৩০০। পানি নিরোধক এই ক্যামেরাটির রয়েছে ২৪ এক্স জুম এবং ২৫-৬০০ মিলিমিটার লেন্স। 
ক্যামেরাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ক্যামেরাটি পানি এবং ধুলো নিরোধক। যেকোনো প্রতিকুল আবহাওয়াতেও ক্যামেরাটি ব্যবহার করা যাবে। এতে আছে ওয়েদার গার্ড। ক্যামেরাটি দিয়ে ৪কে মানের ভিডিও ধারণ করা যাবে। এটি প্রতি সেকেন্ড ৬০টি ফ্রেম ধারণ করতে সক্ষম। এতে ১/২.৩ ইঞ্চির সেন্সর রয়েছে। ক্যামেরাটির জুম লেন্স এফ২.৮ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
১২.১ মেগা পিক্সেলের এই ক্যামেরাতে এমওএস সেন্সরের সঙ্গে ভেনাস ইঞ্জিন ইমেজ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। লুমিক্স এফজেড৩০০ এ ইলেকট্রনিক ভিউ ফাইন্ডারে একটি আই সেন্সর রয়েছে। যেখানে চোখ লাগার সাথে সাথে ক্যামেরার এলসিডি স্ক্রিনটি বন্ধ হয়ে ইলেকট্রনিক ভিউ ফাইন্ডার চালু হবে। দুটি উপায়ে ক্যামেরাটির জুম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একটি শ্যুট পয়েন্টের সাথে এবং অন্যটি লেন্সের পাশে। ক্যামেরাটিতে বিল্ট ইন ফ্ল্যাশ রয়েছে। অতিরিক্ত ফ্ল্যাশগান যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
৩ ইঞ্চির ডিসপ্লে প্যানেলটি টাচ স্ক্রিন। এইচডিএমআই পোর্ট রয়েছে নতুন মডেলের এই ক্যামেরাতে। 
ক্যামেরাটির সর্বোচ্চ আইএসও ১২৬০০। কম আলোতে দারুণ ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে ক্যামেরাটি দিয়ে। খুব ক্ষুদ্র বিষয়ের ছবি তোলার জন্য ক্যামেরাটিতে বিল্ট ইন ম্যাক্রো ল্যান্স রয়েছে।
জেপিইজি এবং র দুই ফরম্যাটে ছবি তোলা যায় ক্যামেরাটি দিয়ে। ছবি শেয়ার করার জন্য এতে রয়েছে ওয়াইফাই সুবিধা। 
ক্যামেরাটির মূল্য ৪৬৫ ডলার। ভ্যাট ও ট্যাক্স বাদে বাংলাদেশি টাকায় ৩৭ হাজার ২০০ টাকা। 


যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে হাজারেরও বেশি লোক চলতি পথে তাদের ডিভাইসগুলো ব্যবহার করেন গান শুনতে অথবা টেক্সট আদান প্রদানে। রাস্তায় হেঁটে হেঁটে সামাজিক যোগাযোগ সাইটের নটিফিকেশন দেখে নেন অনেকে। এবার থামতে হবে। চলতি পথে মোবাইল ফোনে বার্তা আদান প্রদান আইন করে নিষিদ্ধ করা হবে এই অঙ্গরাজ্যে। আদেশ অমান্যে অর্থদন্ডের সাথে সাথে কারাদন্ড হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। 
২০ বছরের এক যুবক অঙ্গরাজ্যের রাজধানীর একটি হাঁটা পথে চলার সময় বলছিলেন চলতি পথে তিনি গান শোনেন, ফোনে কথা বলেন অথবা বার্তা আদান প্রদানও করেন। তিনি নিজের কোন ক্ষতি চান না কিন্তু তিনি দেখেছেন অনেক সময় বার্তা আদান প্রদান করতে গিয়ে অনেকেই হোঁচট খেয়েছেন। 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভ্রান্তভাবে হাঁটা লোকের সংখ্যা পৃথিবীতে প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব বয়সের লোকের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে ব্যক্তিগত এবং অফিসের কাজ সম্পাদনের জন্য। 
নতুন প্রস্তাব করা এই আইনের প্রস্তাবক রাজ্য কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক সদস্য পামেলা ল্যামপিট হাঁটার সময় বার্তা আদান প্রদানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চান। এই আইন অনুসারে কেউ যদি কোন জনবহুল রাস্তায় চলাচলের সময় হ্যান্ডস ফ্রি ডিভাইস ব্যতীত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাহলে আইন লঙ্ঘনকারী ৫০ ডলার জরিমানা, ১৫ দিনের কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে।
ল্যামপিট বলেন, ‘জরিমানা থেকে আদায়কৃত অর্থের অর্ধেক ব্যয় হবে চলতি পথে বার্তা আদান প্রদান করলে কি ধরণের সমস্যা হতে পারে, সে ব্যাপারে জনসচেতনতামূলক শিক্ষার জন্য।’ 
অনেকে আবার এই আইনকে একটি প্রহসন মনে করছেন। ল্যামপিটের পক্ষেও রয়েছেন অনেকে। কিন্তু সবাই আইনের চেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেই জোড় দিতে বলেন। ল্যামপিট এই ধরণের যাতায়াতকে ‘রিস্কি বিহেভিয়র’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 
দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের তথ্য অনুসারে, ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিভ্রান্ত হেঁটে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছে ১১ হাজার ১০১ জন। এর বেশিরভাগ ই মহিলা এবং তাদের বয়স ৪০ বছরের নিচে। এই দুর্ঘটনাগুলোর ৮০ শতাংশ ঘটেছে মোবাইলে বার্তা আদান প্রদানের সময়। আঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তির হাড় ভেঙ্গে যাওয়া খুব সাধারণ ব্যাপার। 
তবে এখন পর্যন্ত এই আইন প্রণয়নের ওপর কোন শুনানির দিন ধার্য করা হয়নি।


এতদিন শোনা গেছে, হলিউড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমা নির্মাণ করেছে বলিউড। কিন্তু হলিউডেও এমন বহু সিনেমা রয়েছে যেগুলি বলিউডের কোনও না কোনও সিনেমাকে নকল করেই করা হয়েছে। বিশ্বাস না হলেও এটাই সত্যি। আজকের প্রতিবেদনে থাকছে তেমন আটটি সিনেমা, যা বলিউডের কাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে হলিউডে-
dtrtসঙ্গম
পার্ল হারবার’-এর মতো বিখ্যাত ত্রিকোণ প্রেমের হলিউডি সিনেমাটিতে রাজ কাপুর, রাজেন্দ্র কুমার এবং বৈজয়ন্তীমালা অভিনীত ১৯৬৪ সালের ছবি ‘সঙ্গম’ সিনেমার ছায়া দেখতে পাওয়া যায়। 
ডর
‘ডর’ ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেও সুন্দরীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন কিং খান শাহরুখ। এই ছবিটি নকল করেও হলিউডে ১৯৯৬ সালে ‘ফিয়ার’ ছবিটি মুক্তি পায়।
রঙ্গিলা
ত্রিকোণ প্রেম নিয়ে তৈরি উর্মিলা মাতণ্ডকর, আমির খান ও জ্যাকি শ্রফ অভিনীত ছবি ‘রঙ্গিলা’ সে সময়ের সুপারহিট ছবি। কিন্তু জানেন কি, এই ছবির কাহিনী নকল করে ২০০৪ সালে ‘উইন আ ডেট উইথ টেড হ্যামিল্টন’ মু্ক্তি পায় হলিউডে।
ভিকি ডোনার
২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অন্যধারার হিন্দি ছবি ‘ভিকি ডোনার’কে নকল করেও হলিউডে বানানো হয় একটি সিনেমা। ‘ডেলিভারি ম্যান’ নামে হলিউডে ছবিটি মু্ক্তি পায়।
পার্টনার
সালমান খান এবং গোবিন্দ অভিনীত ‘পার্টনার’ ছবিটি উইল স্মিথ অভিনীত হলিউডের ‘হিচ’ ছবি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়। কিন্তু ‘হিচ’ ছবিটিও নাকি ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতীয় সিনেমা ‘ছোটি সি বাত’ খেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছিল।
ম্যায়নে পেয়ার কিউ কিয়া 
২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ম্যায়নে পেয়ার কিউ কিয়া’ হুবহু নকল করে ২০১১ সালে ‘জাস্ট গো উইথ ইট’ মু্ক্তি পায় হলিউডে। এই ছবিতে সালমন অভিনীত চরিত্রটিতে অভিনয় করেন অ্যাডাম স্যান্ডলার।
জাব উই মেট
শহীদ কাপুর ও কারিনা কাপুর অভিনীত বক্স অফিস কাঁপানো ছবি ‘জাব উই মেট’ কে নকল করে হলিউডে ২০১০ সালে ‘লিপ ইয়ার’ মুক্তি পায়।
অ্যা ওয়েডনেস ডে
২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যা ওয়েডনেস ডে’ ছবিটিকেও নকল করে হলিউডে তৈরি হয়েছিল ‘অ্যা কমন ম্যান’ ছবিটি। নাসিরুদ্দিন শাহ’র করা অসাধারণ চরিত্রটিতে অভিনয় করেন বেন কিঙ্গসলে।


রাইস ডিশ ছাড়া আসলে বাঙালির চলেই না। সাদা ভা থেকে শুরু করে পোলাও, বিরিয়ানি, ফ্রাইড রাইস ইত্যাদি কত কিছুই না খেয়ে থাকি আমরা। চলুন, আজ  আফরোজা নাজনীন সুমির হেঁসেল থেকে জেনে নিই ভিন্নধর্মী একটি রাইস ডিশের রেসিপি "জাপানি রাইস"।
উপকরণ:
আধা সিদ্ধ ভাত: ৪ কাপ
মুরগির মাংস: ১ কাপ
রসুন কুচি: ১ চা চামচ
তেল: ২ টে: চামচ
সাদা গোলমরিচ গুঁড়া: ১ টে: চামচ
লবণ: স্বাদমত
টমেটো চিলিসস: ৪ টে: চামচ
সিদ্ধ গাজর: ১টা
ডিম: ২টা
আদা বাটা : আধা চা চামচ
সয়াসস : আধা চা চামচ

প্রনালী: 
  • -প্রথমেই মাংস লবন, গোলমরিচ দিয়ে ম্যারিনেট করে নিন। 
  • -এরপর গরম তেলে রসুন কুচি ভেজে তাতে মুরগীর মাংস ভেজে সিদ্ধ ভাত ও গাজর দিয়ে দিন।
  • -ভাল করে নেড়ে ভেজে এতে সস আর গরম মসলা গুঁড়া ও লবন দিন। 
  • -উপরে ডিম ভাজা দিয়ে পরিবেশন করুন হট টমেটো সস দিয়ে মজাদার জাপানি রাইস।


ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের(আইপিএল) এবারের আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের শ্লোগান ‘আমি কেকেআর’। দুইবারের শিরোপাজয়ী দলটি এরই মধ্যে শুরু করেছে প্রচার-প্রচারণা। প্রকাশিত নতুন প্রচ্ছদে জায়গা হয়েছে দলের অন্যতম ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানেরও।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের নতুন শ্লোগান সম্বলিত ছবি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভারতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে স্থান পেয়েছেন সাকিব আল হাসান ও ইউসুফ পাঠান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষেই শুরু হবে ভারতের জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্টটি। যেখানে অন্যতম দল শহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই দলেই খেলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ও বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
শুরু থেকেই কলকাতার হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করে চলেছেন সাকিব। শিরোপাজয়ী দুইটি আসরেও সাকিব ছিলেন ঝলমলে। এই মূহুর্তে বাংলাদেশে থাকলেও, আইপিএল খেলতে বিশ্বকাপের পরপরই কেকেআর শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মি:অলরাউন্ডারের।


জহির খানকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে সোজা ছক্কা মারা ১৭ বছরের বাংলাদেশি তরুণকে নিয়ে যখন উন্মাতাল ক্রিকেট বিশ্ব, তখন দিল্লির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটার বিরাট কোহলি। ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ত্রিনিদাদে বিস্ফোরক ইনিংস খেলা সেই তামিম ইকবাল পরশু রাতে বিছানায় গা এলিয়ে বিরাটের ইনিংস দেখে একটা বিশেষণই ব্যবহার করলেন, ‘ওয়ান অ্যান্ড ওনলি!’
বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটি করে জানা গেল ত্রিনিদাদে ভারতকে বিশ্বকাপে ছিটকে দেওয়ার পরপরই ট্রান্স ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস টিভি চ্যানেল দিল্লিতে ইন্টারভিউ করেছিল এক ভারতীয় তরুণের। না, ভারতের বিশ্বকাপ থেকে সম্ভাব্য ছিটকে পড়ার প্রতিক্রিয়া নিতে নয়, টিভি রিপোর্টারের কৌতূহল ছিল ভারতীয় যুবদলের অধিনায়কের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য জানার। কোহলি সেদিন বলেছিলেন, ‘আমি মূলত আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। বোলারকে তেড়েফুঁড়ে মাঠের বাইরে তুলে মারাই আমার পছন্দ।’ তখনো রাজ্য দলেই ঘোরাঘুরি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একদমই অচেনা বিরাট। তবু সেদিনই ঠিক করেছিলেন, ‘কাজটা কঠিন, প্রতিনিয়ত আপনাকে বড় বড় ইনিংস খেলতে হবে। অন্যদের চেয়ে নিজেকে আলাদা প্রমাণ করতে হবে। হয়তো তাতেও সবার মন ভরবে না, তবে আমি চেষ্টা করব মন ভরাতে।’ কোটি ভক্তের মন ভরিয়ে শত্রুশিবিরের তামিমের প্রশংসাও পাচ্ছেন আজকের কোহলি, ‘টি-টোয়েন্টি যে স্রেফ ব্যাটসম্যানশিপ দিয়েও জেতা যায়, সেটা কাল ও দেখিয়ে দিল। শেষদিকে দুটি টি-টোয়েন্টির শট খেলতে গিয়ে পারেনি। সঙ্গে সঙ্গে নিজের খেলাটাই খেলেছে। একটা ছেলে বারবার দলকে ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছে, দারুণ ব্যাপার! এমনটা আমি দেখিনি।’
দেখেননি বলে ঠিক যতটা মুগ্ধ, মুহূর্তেই ততটা বিষণ্নতায় আক্রান্ত তামিম, ‘ভারতের সঙ্গে ৩৫ রান করে ওভাবে আউট না হয়ে আমার উচিত ছিল ম্যাচটা শেষ করে আসা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেভাবে না হলেও ইদানীং বিভিন্ন টুর্নামেন্টে লম্বা ইনিংস খেলেছি। বিরাটের ইনিংসটা দেখতে দেখতে তাই খুব অনুতাপ হচ্ছিল। আমিও তো...।’
শুধু তিনি কেন, কোহলির বছর তিনেক আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত মুশফিকুর রহিম কিংবা ত্রিনিদাদের অবিস্মরণীয় ম্যাচে ফিফটি করা সাকিব আল হাসানের যে কেউই বাংলাদেশের ‘বিরাট’ হয়ে উঠতে পারতেন। ম্যাচসংখ্যায় তো কেউই ভারতীয় ব্যাটিং সুপারস্টারের চেয়ে পিছিয়ে নেই। ওয়ানডেতে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে বিরাট, তবে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি তাঁর চেয়ে বেশিই খেলেছেন বাংলাদেশের তিন তারকা। অথচ এ ত্রিভুজের সব ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি যেখানে ৩০টি, সেখানে বিরাট কোহলির ৩৬টি। এগুলো তো নিছকই পরিসংখ্যান, প্রচণ্ড চাপের মুখে কোহলির নিয়মিত বিরাট হয়ে ওঠাটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধান মনে করেন তামিম, ‘আত্মবিশ্বাস। টেকনিকে ওর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো ব্যাটসম্যান বিশ্বে অভাব নেই। কিন্তু কজন পারছে ওরকম চাপের মধ্যেও পারফর্ম করতে? ওর সঙ্গে হাই হ্যালো ছাড়া ওভাবে কথা হয়নি। দূর থেকে দেখে যেটুকু বুঝি তাতে ওর আত্মবিশ্বাসই চোখে পড়ে বেশি, যেন মন থেকে বিশ্বাস করে ওর পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। হয়তো এ জায়গাটাতেই আমি কিংবা আমরা পিছিয়ে।’
এই আত্মবিশ্বাসের ‘রেসিপি’ খুঁজতে গিয়ে শুকনো একটা রসিকতাই মনে এসেছে তামিমের, ‘ওটা তো আর কোথাও কিনতে পাওয়া যায় না!’ আত্মবিশ্বাসের উৎসটা কি তাহলে দীর্ঘ ক্রিকেট সংস্কৃতির উৎস? যুব ক্রিকেটে নাম লেখানোর আগেই শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়ের মতো গ্রেটদের দেখেছেন, তাঁদের সঙ্গে খেলেছেনও কোহলি। সফল একটি ড্রেসিংরুমে অভিষেকই কি তাঁকে বিরাট হওয়ার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে? এমন প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর নেই তামিমের কাছেও, ‘এটা ঠিক যে যত ভালো দলে আপনি খেলবেন, তত ভালো করার সম্ভাবনাও বাড়ে। কোহলিকে ছোট একটা দলে ঠেলে দিলে হয়তো তার প্রমাণও পাওয়া যেত। তার মানে এই না যে ছোট দলে বড় তারকা হয় না। আমাদের একজন (সাকিব আল হাসান) বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়েছে। একজন ডাবল সেঞ্চুরি করার পর আরেকজন ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছে। আসলে সত্যি বলতে কি, ওর আত্মবিশ্বাসের রহস্যটা আমার জানা নেই। আর একটা কথা মনে রাখবেন, কোহলি একজনই। রোনালদো কিংবা মেসি যেমন।’
তেমন একজনকে কি বাংলাদেশ কখনো পাবে? এবার মুগ্ধতা আর বিষণ্নতার মোড ফেলে চনমনে তামিম, ‘কেন নয়? একজন ক্রিকেটারের শেষ চার-পাঁচ বছর সেরা ক্রিকেটটা খেলে। আমাদের দলের কয়েকজন সে জায়গায় আছে। নতুন কেউও সেরকম হয়ে উঠতে পারে। অপেক্ষা করুন!’
তবে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আর অপেক্ষা করার দরকার মনে করছেন না তামিম ইকবাল। এশিয়া কাপ এবং ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিরাট কোহলির ম্যাচ জেতানো ইনিংসের পর বিশেষজ্ঞরা পরোক্ষে টেন্ডুলকারের চেয়েও উঁচুতে বসিয়ে দিচ্ছেন তাঁকে। বরাবরের টেন্ডুলকারভক্ত হওয়া সত্ত্বেও এ নিয়ে বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই তামিমের, ‘আপত্তি করব কেন? এটা তো শুধু পরিসংখ্যানের ব্যাপার না, যে পরিস্থিতিতে এসব করছে, সে বিবেচনায় আমার কাছে কোহলি ওয়ান অ্যান্ড ওনলি!’


ইঞ্জিন ভেদে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ফি ও সড়ক কর কমিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান পদ্ধতিতে প্রতিটি ১০০ সিসি মোটর সাইকেলের ওজন ৯০ কেজি (জ্বালানি ছাড়া) পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ফি ১৩ হাজার ৯১৩ টাকা। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ও অন্যান্য বাবদ ৮ হাজার ১৬৩ টাকা এবং সড়ক কর ৫ হাজার ৭৫০ টাকা।
পরবর্তীত পদ্ধতিতে তা কমিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি ও অন্যান্য বাবদ ( এককালিন) নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ১৬৩ টাকা। সড়ক কর ( প্রথম কিস্তি) ১ হাজার ১৫০ টাকা। রেজিস্ট্রেশনকালিন মোট দিতে হবে ৯ হাজার ৩১৩ টাকা।
এছাড়া বর্তমানে প্রতিটি ১০০ সিসির বেশি মোটর সাইকেলের ওজন ৯০ কেজির (জ্বালানি ছাড়া) বেশি হলে রেজিস্ট্রেশন ফি ও অন্যান্য বাবদ দিতে হয় ৯ হাজার ৭৭৩ টাকা এবং সড়ক কর দিতে হয় ১১ হাজার ৫০০ টাকাসহ মোট রেজিস্ট্রেশনকালিন জমা দিতে হয় ২১ হাজার ২৭৩ টাকা।
কিন্তু পরবর্তীত পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য বাবদ দিতে হবে (এককালিন) ৯ হাজার ৭৭৩ টাকা এবং সড়ক কর (প্রথম কিস্তি) ২ হাজার ৩০০ টাকা প্রতি কিস্তি হিসেবে রেজিস্ট্রেশনকালিন মোট দিতে হবে ১২ হাজার ৭৩ টাকা।

২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ফি ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এরপর চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে যানবাহনে রেট্রো-রিফ্লেকটিভ নম্বরপ্লেট এবং বেতার তরঙ্গ শনাক্ত করার (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন) ট্যাগ বাধ্যতামূলক করা হয়।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ১২ লাখ ৫১ হাজারের বেশি। আর মোটরসাইকেল চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৫ জনকে।


১০১ বছরে পা দিয়েছে এডগার রাইজ ব্যারোজের সৃষ্টি করা চরিত্র ‘টারজান’। কিন্তু তার ভক্ত সংখ্যা কমার যেন কোন লক্ষণ নেই। আগামী জুলাই মাসে মুক্তি পেতে যাচ্ছে নতুন ছবি ‘দ্য লেজেন্ড অব টারজান’। ছবিটির ট্রেলারও মুক্তি পেয়েছে। আর তারপর থেকেই ছবিটি নিয়ে উন্মাদনা বেড়েই চলেছে।
নতুন এই ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গলের নানা জন্তু জানোয়ারের সঙ্গেই নয়, এবার মানুষ ও সভ্যতার ভয়ঙ্কর থাবার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে টারজানকে। ট্রেলারটি দেখে অনেকেই বলছেন, টারজানের গল্পকে এত কঠিন ভাবে এর আগে কখনও দেখানো হয় নি পর্দায়।
সব মিলিয়ে ৫০টিরর বেশি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে ‘টারজান’কে নিয়ে। ‘হ্যারি পটার’ খ্যাত পরিচালক ডেভিড ইয়েটস পরিচালনা করছেন ছবিটি। তিনি বলেন, প্রথম থেকেই তিনি চেষ্টা করেছেন টারজানকে আরও বাস্তবসম্মত করে তোলার। আর সেই সাথে ছবির শেষে অ্যাকশনের অংশটি আরও বাস্তব করে তুলতে চেয়েছেন তিনি।
ছবিতে টারজানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আলেকজান্ডার স্কারসগার্ড। আর নায়িকা জেন পোর্টার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মার্গো রবি। টারজানের সব গল্পেই জেনকে যৌনতার প্রতিমূর্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে এবার হতে চলেছে কিছুটা ভিন্ন। নির্মাতা বলছেন, জেনকে যৌনতার প্রতিমূর্তি হিসেবে ছাড়াও তাকে এমন রূপে দেখবে দর্শক, অনেকের মনে হবে ছবিটি টারজানকে কেন্দ্র করে হলেও জেনই নাকি ছবির প্রধান চরিত্র।
00


স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর একটি অভ্যাস হলো ধূমপান। কিন্তু এই হানিকারক অভ্যাস দূর করাটা বেশিরভাগ মানুষের জন্যেই ভীষণ কষ্টকর। ধূমপান ত্যাগ করতে গেলে সবচাইতে বেশি কষ্টের হলো উইথড্রয়াল সিনড্রোম। এতে অনেকখানি শারীরিক এবং মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যান ধূমপানে আসক্ত ব্যক্তিটি। কিন্তু এমন কিছু বৈজ্ঞানিক উপায় আছে যাতে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগের প্রক্রিয়াটি যেতে পারে নির্বিঘ্নে। দেখে নিন কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে ধূমপান ত্যাগের ১০টি কৌশল।


১) নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট
ধূমপানের কারণে শরীরে তৈরি হয় নিকোটিনের ওপরে নির্ভরশীলতা। আর তাই ধূমপান হঠাৎ করে ছেড়ে দিলে শরীর নিকোটিন থেকে বঞ্চিত হয় এবং দেখা যায় বিভিন্ন লক্ষণ। শরীরে যদি অন্য কোনও উপায়ে নিকোটিনের সরবরাহ দেওয়া যায় তবে ধূমপানের ওপরে নির্ভরশীলতা কমে আসে। এর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে নিকোটিন প্যাচ বা নিকোটিন চুইং গাম।
২) একটা দিন ঠিক করে ফেলা
ভাবুন আপনার একটা পরীক্ষা আছে, তাহলে আপনি সেই পরীক্ষার জন্য আগে থেকেই পড়াশোনা করবেন অনেক, তাই না? ঠিক সেভাবে একটা দিন ঠিক করুন যার মাঝে ধূমপান ছারতে হবে আপনার। তাহলে আপনার মাঝে একটা তাগিদ থাকবে। তবে দিনটা বেশি প্রলম্বিত করবেন না। ঠিক করে রাখুন আপনি ছয় মাস বা এক বছরে পরের কোনও একটি দিনের মাঝে ধূমপানের অভ্যাস পুরোপুরিভাবে ছেড়ে দেবেন।
৩) কখন কখন ধূমপান করছেন তা লিখে রাখুন
একটা নোটবই নিন। যতবার ধূমপান করছেন ততবার লিখে রাখুন। এরপর সেই লেখাটা দেখলেই নিজের ওপরে রাগ হবে আপনার। মনে হবে, এতবার ধূমপান করলাম? এর থেকে আপনি নিজের অজান্তেই কমিয়ে ফেলবেন ধূমপান। শুধু তাই নয়, কোন কোন কাজের পড়ে আপনি ধূমপান করছেন তার ব্যাপারেও আপনি সতর্ক হবেন।
৪) কাউন্সেলিং
কাউন্সেলিং শুধুমাত্র মানসিক সমস্যার জন্যেই নয় বরং এমন ক্ষতিকর সব অভ্যাস দূর করার ক্ষেত্রেও কাজে আসে।
৫) প্রিয়জনের সাহায্য নিন
শুধুমাত্র পেশাদার সাহায্য নয়, আপনার কাছের মানুষেরাও কিন্তু আপনার এই অভ্যাস দূর করতে সাহায্য করতে পারে অনেক। তাদের সাহায্য নিন। তারা আপনার অনেক কাছে থেকে আপনার উপকার করতে পারে।
৬) খালি হাতের ব্যায়াম
ধূমপান ছাড়া থাকতে থাকতে যখন খুব ধূমপানের ইচ্ছে করবে এবং শারীরিক কষ্ট হবে, তখন ৫-১০ মিনিট ব্যায়াম করুন। এতে আপনার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাবে এবং এই সময়ের মাঝে ধূমপানের ইচ্ছেটা চলে যাবে।
৭) ওয়েট লিফটিং
শুধু খালি হাতে ব্যায়াম নয়, ছোটখাটো ভারোত্তোলন যে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে উপকারি হতে পারে তা দেখা গেছে বেশ কিছু গবেষণায়। এর জন্য অফিসের ডেস্কে রাখতে পারেন অজন্দার কিছু এবং ধূমপানের ইচ্ছে হলে তাকে ব্যবহার করতে পারেন।
৮) টেক্সট মেসেজিং
এটা আমাদের দেশের জন্য খুব একটা প্রযোজ্য নয় বটে। পাশ্চাত্যের কিছু দেশে এমন সুবিধে আছে যে যারা ধূমপান ছাড়তে আগ্রহী তাদের ফোনে একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর ধূমপান ছাড়ার উপকারিতা এবং ধূমপানের অপকারিতা সম্বলিত টেক্সট মেসেজ আসবে। আপনি যা করতে পারেন তা হলো, পরিচিত মানুষদের বলতে পারেন আপনাকে নিয়মিত আমন মেসেজ পাঠাতে। তবে আপনার মনে সব সময়েই ধূমপান থেকে দূরে থাকার তাগিদ থাকবে।
৯) স্মার্টফোন অ্যাপ
অনেকেই এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন এবং এগুলোতে ব্যবহার্য অনেক অ্যাপ আছে যা ধূমপান ছাড়তে আপনার উপকারে আসতে পারে। এমন কোনো একটি অ্যাপ নামিয়ে নিতে পারেন আপনি।
১০) ই-সিগারেট
এত কিছুর পরেও আপনার ঠোঁটের মাঝে যদি একটি ক্যান্সার স্টিকের অভাব অনুভব করেন, তাহলে একটি ই-সিগারেট নিয়ে নিন। অনেকে দাবি করেন যে তাদের ধূমপান ছাড়তে এটা সাহায্য করেছে।


মুঠোফোন থেকে খুদে বার্তা পাঠানোয় নতুন একটি স্তর যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর ফলে খুদে বার্তা পাঠানোর খরচ বাড়তে যাচ্ছে। বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, মুঠোফোন অপারেটরদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক বা অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্কে খুদে বার্তা বা এসএমএস (শর্ট মেসেজ সার্ভিস) পাঠাতে এত দিন অন্য কোনো পক্ষ ছিল না। ফলে খুদে বার্তা এক অপারেটর থেকে আরেক অপারেটরের গ্রাহকের কাছে সরাসরি চলে যেত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে অন্য অপারেটরে এসএমএস পাঠাতে হলে তা ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) অপারেটরের কাছে যাবে। এরপর তা মুঠোফোন অপারেটরের কাছে যাবে।
বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে (অফ নেট) এখন প্রতিদিন গড়ে দুই কোটি খুদে বার্তা আদান-প্রদান হয়ে থাকে। আর সব মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে চার কোটি খুদে বার্তা দেশের ভেতরে আদান-প্রদান হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন ১০ লাখ খুদে বার্তা পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক এসএমএসের জন্যও আইসিএক্স হয়ে বার্তা পাঠানোর নিয়মটি প্রযোজ্য হবে।
দেশের ভেতরে মুঠোফোন থেকে গ্রাহক পর্যায়ে একটি এসএমএস পাঠানোর খরচ বর্তমানে ৫০ পয়সা। আর আন্তর্জাতিক এসএমএস পাঠানোর খরচ দুই টাকা। এসএমএসের এই খরচ থেকেই অপারেটররা নিজেদের মধ্যে আয় ভাগাভাগি করে নেয়। আইসিএক্স এ ব্যবস্থায় এলে তাদেরও এখান থেকেই আয়ের ভাগ দিতে হবে।
বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আইসিএক্স অপারেটরদের মাধ্যমে ফোনকলের পাশাপাশি এসএমএস যেতে পারার বিষয়টি আইনে বলা আছে। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সেটি এখন কার্যকর করা হচ্ছে।
রবি আজিয়াটার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুখপাত্র ইকরাম কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে ফোনকল ও এসএমএস পাঠাতে আইসিএক্সের মতো মধ্যবর্তী স্তরগুলো যেখানে কমিয়ে আনা হচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশে উল্টো তা বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে গ্রাহকের খরচ যেমন বাড়বে, একই সঙ্গে সরকারের প্রচারণামূলক বার্তা পাঠানোর খরচও বাড়বে। সিদ্ধান্তটি তাই পুনর্বিবেচনার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আমরা অনুরোধ করব।’


ব্লাউজের সঙ্গে মিলিয়ে দেশীয় শাড়ির পাড়েও একই কাপড়ের ব্যবহার

শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে ব্লাউজ নয়, বরং এখন ব্লাউজের সঙ্গে মিলিয়ে শাড়ি বাছাই করছেন অনেক তরুণী। হাল সময়ে ব্লাউজের নকশায় বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যেন এক ব্লাউজ কয়েকটি শাড়ির সঙ্গে পরা যায়। সেই গতানুগতিক গোল গলা ও চোলি কাট নয়, ব্লাউজের কাটে এখন চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নকশায়ও এসেছে ভিন্নতা। ফিউশন ধরনের ব্লাউজই বেশি নজর কাড়ছে। এমনকি ব্লাউজের ওপর কটি পরার চলও দেখা যাচ্ছে, যেটা কটি ব্লাউজ নামেই পরিচিত।
ছাপছোপ
ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হক জানালেন, পয়লা বৈশাখে এবার ব্লক, বাটিক, শিবুরি ও টাইডাইয়ের ব্লাউজ খুব বেশি চলবে। প্রচুর গরম থাকে; তাই ব্লাউজের জন্য সুতি, খাদি বা ভয়েল কাপড়ই সেরা। এ ছাড়া চলবে বড় বড় ফুলেল প্রিন্টের ব্লাউজ। এক রঙের বা প্লেইন পাড়ের শাড়ির সঙ্গে এ ধরনের ব্লাউজ দারুণ ফুটবে। আর এখন তো শাড়ির সঙ্গে রং না মিলিয়ে বিপরীত রঙের ব্লাউজ পরার চল।
ব্লাউজের কাট কেমন হবে সেটি নির্ভর করে নিজের পছন্দের ওপর। অনেকে সব সময় একই কাটের ব্লাউজ পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সে ক্ষেত্রে ভিন্নতা আনা যেতে পারে ব্লাউজের কাপড় ও নকশায়। এক রঙা ব্লাউজের বদলে প্রিন্টের ব্লাউজ পরে নিলে অনেকটা স্টাইলিশ লুক চলে আসে। ছাপা নকশার মধ্যে এখন ফুলেল প্রিন্ট সবচেয়ে ট্রেন্ডি। এ ছাড়া চলছে চেক, ব্লক, বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট ও পলকা ডট।
ডিজাইনার রামীম রাজের মতে, গরমের এই সময়টায় ব্লাউজের জন্য আরামদায়ক কাপড় বেছে নিতে হবে। সামনে আসছে বৈশাখ। পয়লা বৈশাখে ঐতিহ্যবাহী সাজেই বের হন মেয়েরা। সুতি শাড়ির সঙ্গে ব্লক, বাটিকের ব্লাউজ ভালো লাগবে। তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে কোটা বা খাদি কাপড়ের ব্লাউজ। লেস, কড়ি, ইয়কের ব্যবহারে নকশায় নতুনত্ব আনা যায়। পাতলা গড়নের মেয়েদের বড় প্রিন্টের ব্লাউজ পরার পরামর্শ দেন তিনি। যাঁদের স্বাস্থ্য একটু ভারীর দিকে তাঁরা প্রিন্টের কাপড় এড়িয়ে গেলেই ভালো। সে ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের কাপড় মিলিয়ে একটি ব্লাউজ বানানো যেতে পারে। হাতায় অন্য রকম কাপড় ব্যবহার করে পাইপিং ও বর্ডারের মাধ্যমে ভিন্নতা আনা যেতে পারে এক রঙের ব্লাউজের নকশায়। এক রঙের চিকেন কাপড়ের ব্লাউজও বেশ স্টাইলিশ। জমকালো ভাব আনতে শুধু হাতায় অ্যান্ডি সিল্ক, মসলিন বা নেট ব্যবহার করা যেতে পারে। চাইলে ব্লাউজের সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য দেশীয় শাড়ির দোকান থেকে পছন্দমতো শাড়ি কিনে নিতে পারেন। একটু ভিন্নতা আনতে ব্লাউজের সঙ্গে মিলিয়ে শাড়িটিতে পাড় লাগিয়ে নিন।
কটি ব্লাউজ
বর্তমানে ব্লাউজের ফ্যাশনে একেবারে নতুন সংযোজন হলো, কটি ব্লাউজ। কোমর পর্যন্ত উচ্চতার কটির মতো ব্লাউজ পরতে দেখা যাচ্ছে আজকাল। আবার একটি ব্লাউজের ওপর ছোট কটি পরার চলও চলছে। এ ধরনের ব্লাউেজর সঙ্গে শাড়ির আঁচল পেছন থেকে সামনে নিয়ে এসে পরলে ভালো দেখাবে। চাইলে অাঁচল পেছনে নিয়েও পরতে পারেন।
কাটে বৈচিত্র্য

‘ব্লাউজের কাটে এখন বোট নেক খুব চলছে। চোলি কাটের ব্লাউজ বিদায় নিয়েছে, এখন চলছে প্রিন্সেস কাট ব্লাউজ। অর্থাৎ গাউনের সামনের অংশ ও হাতায় যেমনটি দেখা যায় সে ধরনের ব্লাউজই এখন সবচেয়ে ফ্যাশনেবল। পুরোনো দিনের ঢঙে হাইনেক ও লেইসের ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের ব্লাউজে পেছনের দিকটা বেশির ভাগ সময় খোলা রাখা হচ্ছে। পিঠের কাছে নানা রকম বোতাম বা ফিতা দিয়ে চাকচিক্য আনা যায় এতে’—বললেন রামীম রাজ।
সন্ধ্যার দাওয়াতের জন্য জমকালো ব্লাউজ বানিয়ে নিতে পারেন। আজকাল বাজারে সেকুইন, ডলার বসানো ও নানা রকম এমব্রয়ডারি করা কাপড় কিনতে পাওয়া যায়। গজ কাপড় কিনে ব্লাউজ বানিয়ে নিতে পারেন। আবার নকশাহীন কাপড়ের ওপর কারিগর দিয়ে কাজও করিয়ে নেওয়া যায়। হাইনেকের ব্লাউজে গলায় ভারী কাজ থাকতে পারে। পেছনেও নকশা করা যায়।হুর ফ্যাশন হাউসের ডিজাইনার সৌমিন আফরিন বলেন, ‘পেছনে গোল মোটিফের এমব্রয়ডারি করানো যেতে পারে। পিঠ খোলা হলে বো থাকতে পারে পেছনে। বেবি কলার এবং বন্ধ গলার ব্লাউজও চলছে এখন। এ ধরনের কাটে চুলটা পিঠের ওপর ছেড়ে না দিয়ে উঁচু করে কোনো স্টাইলিশ ঢঙে বেঁধে নিতে পারেন। আর শাড়ির আঁচলটা তখন গুছিয়ে রাখা চাই।’
 
ব্লাউজের পেছনে ছোট বা বড় আকারের বো এনে দেবে ফিউশন লুকব্লাউজের হাতা
লো-কাটের হাতাকাটা আর কনুই পর্যন্ত হাতার ব্লাউজ এবার বেশি পরতে দেখা যাবে বলেও জানিয়েছেন ডিজাইনাররা। হাইনেক, বা পেছনে লো-কাট দুটোই এখন ট্রেন্ডি। একটু ফোলানো ঘটিহাতা ব্লাউজ ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সঙ্গে দারুণ মানাবে। ফিউশন আনতে চাইলে জর্জেট বা সিফনের সঙ্গেও এটি মন্দ লাগবে না। ফুলহাতা হলে চুড়িদারও ভালো লাগবে। স্লিভলেস হলে শুধু কাঁধের কাছে নকশা থাকতে পারে। হাইনেকে থ্রি কোয়ার্টার বা ফুলহাতা দুটোই মানাবে। যদি কনুইয়ের ওপর পর্যন্ত লম্বা হয় তাহলে হাতার শেষে পাড় না লাগিয়ে মাঝ বরাবর পাড়টি বসাতে পারেন। জমকালো অনুষ্ঠানের জন্য ব্লাউজের হাতায় সামান্য উঁচু করে কয়েকটা কুচি দিলেও দেখতে মন্দ লাগবে না।


লক্ষ লক্ষ বাঙালির আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা, মুক্তি, মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়-উল্লাস আর আত্মা-উন্মাদনার নাম বাংলাদেশ; যেখানে প্রতিনিয়তই ইতিহাসে শক্তিশালী অবদান রেখে চলেছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য কিংবা প্রামাণ্যচিত্র। এখানে উঠে এসেছে বাঙালির দেশপ্রেম আর দেশাত্ববোধ, যা ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজ, জাতি আর রাষ্ট্রকে গৌরবের শিখরে অধিষ্ঠিত করে। একই সাথে বিশ্ব দরবারে নিজেদের পরিচয় করিয়ে দেয়, আমরা বাঙালি বীরের জাতি।
যদিও চলচ্চিত্র গবেষকরা বলে থাকেন, শুধু রাজনৈতিক মতবিরোধ আর সঠিক ইতিহাসসমৃদ্ধ কাহিনী না থাকায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যেভাবে চলচ্চিত্রে নির্মিত হয়েছে, সে তুলনায় সমৃদ্ধ হতে পারেনি বাংলা চলচ্চিত্র। তবে এমন অনেক আলোচনা আছে যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখন পর্যন্ত যে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে সেটাকে ছোট আকারে ভাবার অবকাশ কম।
জানা গেছে, যুদ্ধবস্থায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিছু পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতাই এগিয়ে আসেন মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র নির্মাণে। ১৯৭২, ১৯৭৩ এবং ১৯৭৪ সালে মোট দশটি মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র তৈরি হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি, মূলত রাজনৈতিক কারণে।
তবে এক্ষেত্রে পঞ্চাশের দশকের ভাষা আন্দোলনই ৭১ সালে এসে এক ধরনের শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। সেসময় ভাষা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত হয় কয়েকটি ছবি। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৮-৬৯’র গণআন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে বিক্ষোভে ফেটে পড়া রাজপথে দাবি আদায়ে প্রতিবাদী মানুষের জীবনচিত্র চলচ্চিত্রের রূপালি পর্দায় তুলে ধরেছিলেন জহির রায়হান। মুক্তিযুদ্ধ নির্মাণ করেন ‘জীবন থেকে নেয়া’।
জহির রায়হান স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালের দলিলপত্র ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নির্মাণ চলাকালীন সময়ে স্বাধীনতার দেড় মাস পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর আর এ ছবিটি  আলোর মুখ দেখেনি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং প্রামাণ্যচিত্রের তালিকাও বেশ বড় বলা চলে। ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’, ‘সেই রাতের কথা বলতে এসেছি’, ‘শরৎ ৭১’, ‘দি কান্ট্রি অব ডিজাস্টার’, ‘জয় বাংলা ও বহমান ‘একাত্তরের যিশু’, ‘আগামী’, ‘হুলিয়া’, ‘সূচনা’, ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘ওরা আসছে’, ‘ধূসরযাত্রা’,  ‘আমি স্বাধীনতা এনেছি’, ‘অনেক কথার একটি কথা’, ‘অন্যযোদ্ধা’, ‘কাল রাত্রি’, ‘অস্তিত্বে আমাদের দেশ’, ‘শিলালিপি’, ‘রিফুইজি ৭১’, ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা’, ‘দুরন্ত’, ‘বখাটে’সহ আরও অনেক।
এছাড়া ৬৮-৬৯’ সালে নির্মিত ফখরুল আলম পরিচালিত ‘জয়বাংলা’ নামের ছবিটি পাকিস্তানি সেন্সর বোর্ড আটকে রাখে। তবে পরে তার মুক্তি মিলে ১৯৭২ সালে। স্বাধীনতা অর্জনের পর মুক্তি পায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ওরা ১১ জন’। ছবিটি প্রযোজনা করেছিলেন মাসুদ পারভেজ। জাগ্রত কথাচিত্রের ব্যানারে। এটিই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র যার কাহিনীকার আল মাসুদ, চিত্রনাট্যকার কাজী আজিজ, সংলাপ লিখেছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। আর অভিনয় করেছিলেন খসরু, শাবানা, রাজ্জাক, নূতন, সুমিতা দেবী, রওশন জামিল, এটিএম শামসুজ্জামানসহ আরও অনেকে। এই এগারোজনের দশজনই বাস্তবের মুক্তিযোদ্ধা, সিনেমা নির্মাণে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র ও বুলেটের সবকটিই আসল। ১১ই আগস্ট ১৯৭২ এ মুক্তি পায় এই চলচ্চিত্রটি। ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় সুভাষ দত্ত নির্মিত ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, আনন্দ পরিচালিত ‘বাঘা বাঙালি’, মমতাজ আলী পরিচালিত ‘রক্তাক্ত বাংলা’ প্রভৃতি।
এরপর প্রয়াত চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবির ১৯৭৩ সলে নির্মাণ করেন ‘ধীরে বহে মেঘনা’। খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’, কবীর আনোয়ারের ‘স্লোগান’, আলমগীর কুমকুমের ‘আমার জন্মভূমি’ প্রভৃতি। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিশৃংঙ্খল পরিস্থিতি ফুটে ওঠে ১৯৭৪ সালে নির্মিত নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’ ছবিতে। একই বছর মুক্তি পায় চাষী নজরুল ইসলামের ‘সংগ্রাম’ ও এস আলীর ‘বাংলার ২৪ বছর’।
১৯৭৪-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে আবার ধীরগতি লক্ষণীয়। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় হারুন-অর-রশীদের ‘মেঘের অনেক রং’। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া আবদুস সামাদের ‘সূর্যগ্রহণ’ ছবিতেও এসেছে মুক্তিযুদ্ধের কথা। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি নির্মাণ কমে যায়। ১৯৮১ সালে মুক্তি পায় শহীদুল হক পরিচালিত ‘কলমীলতা’ ছবিটি। প্রায় একই সময়ে মুক্তি পায় এ জে মিন্টুর ‘বাঁধন হারা’ আর মতিন রহমানের ‘চিৎকার’।
নব্বইয়ের দশকে এসে মোরশেদুল ইসলামের ‘আগামী, তানভীর মোকম্মেলের ‘হুলিয়া’ ও ‘নদীর নাম মধুমতি’, নাসিরউদ্দিন ইউসুফের ‘একাত্তরের যীশু’, মোস্তফা কামালের ‘প্রত্যাবর্তন’, আবু সাইয়ীদের ‘ধূসর যাত্রা’ প্রভৃতি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘের আলোচিত ছবি। একাত্তরে মার্কিন সাংবাদিক লিয়ার লেভিনের ধারণ করা ফুটেজ নিয়ে প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ নির্মাণ করেন প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘মুক্তির গান’।
প্রায় কাছাকাছি সময়ে কয়েকটি শিশুতোষ মুক্তিযুদ্ধের ছবি নির্মিত হয়। যার মধ্যে দেবাশীষ সরকারের ‘শোভনের একাত্তর’, রফিকুল বারী চৌধুরীর ‘বাংলা মায়ের দামাল ছেলে’, জাঁ-নেসার ওসমানের ‘দুর্জয়’, হারুনুর রশীদের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’, বাদল রহমানের ‘ছানা ও মুক্তিযুদ্ধ’, ছটকু আহমেদের ‘মুক্তিযুদ্ধ ও জীবন’, মান্নান হীরার ‘একাত্তরের রঙপেন্সিল’ উল্লেখযোগ্য।
১৯৯৪ সালে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত প্রথম ছবি ‘আগুনের পরশমণি’। ১৯৯৮ সালে নির্মিত হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় ছবি ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’। কথাশিল্পী সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে চাষী নজরুল ইসলাম ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করেন আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ নির্মিত ‘মাটির ময়না’ছবিটিও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নির্মিত।
পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ২০০৪ সালে কথা সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি করেন ছবি ‘মেঘের পর মেঘ’। হুমায়ুন আহমেদ তৈরি করেন ‘শ্যামলছায়া’ এবং অভিনেতা তৌকির  আহমেদ নির্মাণ করেন ‘জয়যাত্রা’। মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম নির্মাণ করেন ‘আমার বন্ধু রাশেদ’। এছাড়া ২০০৯ সালে মুক্তি পায় তানভীর মোকাম্মেলের ‘রাবেয়া’। এরপর একটা সময় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণে নবযুগের সূচনা করেন মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেন ‘গেরিলা’ ছবিটি।


ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাবশত নারীদের হিজাবের ব্যবহার। তবে কি ফ্যাশন সচেতন কিংবা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা নারীরা হিজাব ব্যবহার করেন না? তা নয়। আজকাল অনেক অাধুনিক নারীদের হিজাব ব্যবহার করতে দেখা যায়। একদিকে ধর্মীয় গাম্ভীর্য এবং অন্যদিকে ত্বক ও চুলের সুরক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে নানা রং ও ডিজাইনের হিজাব- যা ফ্যাশনের অনুসঙ্গ হিসেবেও অনন্য।
সময় এবং জীবন জীবীকার প্রয়োজনে ঘরের বাইরে সমানতালে এগিয়ে চলেছে নারী। তবুও পর্দার করার তাগিদে নারীদের সঙ্গী হিজাব। ধর্মীয় অনুশাসন কিংবা যুগের ফ্যাশন- যেকোন একটি বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত এবং দ্বিধার সমাধান দেয় ফ্যাশনেবল হিজাব। দিন দিন এমন হিজাবের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারীদের মাঝেও দেখা গেছে অভিজাত, রং বাহারী, ভিন্ন ভিন্ন কাপড়, আরাম ও ফ্যাশনেবল হিজাবের বহুল ব্যবহার। ধর্মের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই নিজেকে ফ্যাশন সচেতন হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যেই এমন হিজাবের ব্যবহার করেন নারীরা।

ঢাকায় হিজাবের সবচেয়ে বড় মার্কেট হচ্ছে বসুন্ধরা সিটির লেভেল ফোর। এই ফ্লোরে প্রায় দেড়শো দোকান রয়েছে হিজাব ও বোরকার। শুধুমাত্র হিজাব বিক্রি করে এমন দোকানও অনেক রয়েছে। মার্কেটের নিচতলাতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেকগুলো হিজাব ও বোরকার দোকান। এছাড়াও ঢাকার প্রতিটি মার্কেট ও শপিং প্লাজায় রয়েছে হিজাব ও বোরকার দোকান।
সময়টা এখন ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা, তাই বোরকাও আর আগের মতো নেই। গাউন, ওভারকোট ও ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের বোরকা পাওয়া যায় বাজারে। রয়েছে প্রায় ৪-৫ ধরনের হাজারো রঙের হিজাব। মাথা থেকে কোমড় পর্যন্ত ঢেকে রাখে মাদানী হিজাব। সাধারণত হজ্বের সময় এই হিজাব পরেন নারীরা। নামাযের সময়ও এই হিজাব ব্যবহার করা যায়। মাদানী হিজাবের চেয়ে একটু ছোট হিজাবকে কুচি হিজাব বলে। এই হিজাব দিয়ে গলা ও বুক ঢেকে রাখা যায় খুব সহজেই।

কিন্তু ফ্যাশনেবল তরুণীরা হিজাবকে আরো ছোট ও সহজে পরার জন্য বেছে নেন শর্ট হিজাব বা ফিক্সড হিজাব। এতে পিনের কোন ঝামেলা নেই। অবশ্য এ হিজাবের উপর ওড়নাও পরেন অনেকে। ওড়না হিজাবও বেশ জনপ্রিয়। ওড়নার মাঝখানে একটি ক্যাপ যুক্ত থাকে, সেটি মাথায় পরে নিলেই সম্পন্ন হয় হিজাব পরা। তবে ওড়নাটি পেঁচিয়ে পিন দিয়ে আটকে রাখতে হয়। এই হিজাবের প্রচলনই এখন সবচেয়ে বেশি। হিজাবের পাশাপাশি অনেক তরুণী পিন দিয়ে আটকে স্কার্ফ ব্যবহার করেন। আর পার্টি, অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ দিনে পোশাকের রঙের সঙ্গে রঙ মিলিয়ে হিজাব পরাও বেশ জনপ্রিয়।
হিজাব পরিহিত মাহমুদা বেগম ঈদের কেনকাটা করতে এসেছেন স্বামী এবং দুই মেয়েকে নিয়ে। মায়ের সঙ্গে হিজাব পরেই মার্কেটে ঘুরছে দুই কিশোরী। হিজবের ব্যবহার নিয়ে মাহমুদা বেগম বলেন, 'আগে এতো হিজাব কিংবা বোরকার ব্যবহার ছিল না। আমরা যখন স্কুল কলেজের জন্য বের হতাম, তখন হিজাব বা বোরকা পরতাম না। কারণ এতোটা নিরাপত্তাহীনতা ছিল না। কিন্তু এখন হিজাব ছাড়াই মেয়েদের কোথাও পাঠাবার কথা ভাবতে পারি না।'

ভাইবোন এবং বন্ধুদের নিয়ে শপিং করতে এসেছেন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী ফারহীন জাহান। বেশ ফ্যাশনেবল হিজাব ব্যবহার করেন তিনি। রং এবং ডিজাইনে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। হিজাবের প্রান্তে রয়েছে সুতার তৈরি ঝুলন্ত বুটি। ব্যবহৃত পিনটিও বেশ বাহারী পাথরের তৈরি। 'ফ্যাশন হিসেবে হিজাব এখন একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে। তাই আমিও হিজাব পরি। ধর্মীয় কারণ ছাড়াও রাস্তাঘাটে অযথা কথাবার্তা এড়াতে হিজাব বেশ কাজে দেয়।'- বললেন ফারহীন।
কাপড়, ডিজাইন ও প্রাপ্তির স্থানভেদে হিজাবের দামে রয়েছে তারতম্য। বসুন্ধরা সিটি শপিংমল এবং ঢাকার অন্যান্য মার্কেটগুলোতে শর্ট হিজাবগুলো ২০০টাকা থেকে ৯৫০ টাকায় পাওয়া যাবে। হিজাবের ওড়না পাওয়া যাবে ৪০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায়। মাদানী হিজাবের দাম ৩০০ থেকে ৭৫০ টাকা। আর ৩০০টাকার মধ্যেই কেনা যাবে খোপা হিজাব।

Code: Tamanna 301
Price: 2350 Taka
বর্তমান ফ্যাশনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সালোয়ার কামিজ। ফ্যাশন প্রিয় নারীদের পছন্দের তালিকায় সালোয়ার কামিজ বেশ ভালোভাবেই জায়গা দখল করে নিয়েছে। বিভিন্ন উপলক্ষ কিমবা অকেসন ছারাই আকর্ষনীয় ও বাহারি ডিজাইনের স্টাইলিশ ও গর্জিয়াস সালোয়ার কামিজ গুলো পাচ্ছেন সেভিংস ডট কমে।
ফ্যাশন প্রিয় নারীরা তাদের পছন্দের ড্রেস বা আকর্ষণীয় শাড়ি পাচ্ছেন এখন saviings.com-এ। আপনার পছন্দের ড্রেস বা শাড়িটি অর্ডার দিতে ভিজিট করতে পারেন তাদের ফেসবুক পেইজ ।  প্রকাক্ট অডার করতে ইনবক্স করুন কিংবা কল করুন হটলাইন নাম্বারে।
 থাকছে ঢাকা শহরে ফ্রি হোম ডেলিভারি এর মাধ্যমে এবং ঢাকার বাইরে কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে আমরা পণ্য গ্রহন করার সুভিদা ।

Code: LTR 81006
Price: 2350 Taka (High Quality)

Dress Code: SAV-999 B
Price: 2290 Taka

Dress Code: Prachi 3128
Price: 1750 Taka




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশে শিগগিরই ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ ব্যাপারে বিশেজ্ঞরা প্রকল্প তৈরি করছেন। ই-পাসপোর্ট বহনকারীদের ইমিগ্রেশনে খুবই সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও মাহফুজুর রহমান, আনোয়ারুল আবেদীন খান, পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরণ এবং পাসপোর্ট অফিসের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোট গ্রহনের দিন দু-একটি জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারাদেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সব সময় কিছুটা হলেও অনাকাংক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আগামী দফায় ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় উগ্রপন্থী সংগঠন হেযবুত তাওহীদের কার্যকলাপ গোয়েন্দা নজরদারীর মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি নোয়াখালীতে গ্রামবাসীর সাথে হেযবুত তাওহীদের যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল তা আইনশৃংখলা বাহিনী ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করেন।
পরে বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন।


সম্প্রতি চীনভিত্তিক ডিভাইস নির্মাতা অপ্পো এনেছে ১৬ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরানির্ভর নতুন দুই স্মার্টফোন। আর৯ ও আর৯ প্লাস নামে এ দুই ডিভাইস স্থানীয় বাজারে উন্মোচন করা হয়েছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা এখন সেলফি প্রবণতায় ধুঁকছে। সেলফিপ্রেমীদের মধ্যে নতুন দুই ডিভাইস ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। বর্তমানে স্মার্টফোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ক্যামেরা ফিচারের ওপর। অর্থাৎ রিয়ার ও ফ্রন্ট ক্যামেরা কত মেগাপিক্সেলের, তার ওপর নির্ভর করছে ডিভাইসের বিক্রি। নির্মাতারাও গ্রাহক চাহিদার কথা বিবেচনা করে নতুন ডিভাইস আনছে।
অপ্পোর আর৯ ও আর৯ প্লাস স্মার্টফোন দু’টির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- এগুলোর ফ্রন্ট ক্যামেরা। ডিভাইস দু’টির ফ্রন্ট ক্যামেরায় ৭৮.১ ডিগ্রি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স আছে। পাশাপাশি আর৯ স্মার্টফোনটিতে আছে এলইডি ফ্ল্যাশসহ ১৩ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা এবং আর৯ প্লাস ডিভাইসটিতে আছে ১৬ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা। উভয় ডিভাইস ফেস ডিটেকশন অটো ফোকাস এবং ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং ফিচার সমর্থন করে। এই ডিভাইস দু’টি নকশার দিক থেকে প্রায় একই রকম। মূল পার্থক্য শুধু ডিসপ্লে সাইজে। আর৯ স্মার্টফোনটিতে ৫.৫ ইঞ্চি ফুল এইচডি অ্যামোলেড ডিসপ্লে আছে।
এতে দুই গিগাহার্টজের অক্টা-কোর মিডিয়াটেক প্রসেসর রয়েছে। অন্য দিকে আর৯ প্লাসে ৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি অ্যামোলেড ডিসপ্লে আছে। স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১.৮ গিগাহার্টজের কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর। অ্যান্ড্রয়েড ৫.১.১ ললিপপ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি কালার ওএস ৩.০ অপারেটিং সিস্টেমে চলবে এ দুই ডিভাইস। উভয় ডিভাইসে ৪ গিগাবাইটের র‌্যাম রয়েছে। আর৯ ও আর৯ প্লাস ডিভাইস দুটির মূল্য যথাক্রমে ৪৩৮ ও ৫১২ ডলার। আর৯ স্মার্টফোনটি ইতোমধ্যে চীনের বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে চীনের বাজারে পাওয়া যাবে অপ্পো আর৯ প্লাস।


মুসলমান হিসেবে আমরা কমেবেশি সবাই দোয়া করি। এটা অনেকটা স্বভাবজাত বিষয়। তবে দোয়া করার সময় বেশ কয়েকটি বিষয়ের প্রতি গভীরভাবে খেয়াল রাখা দরকার। এগুলোকে আলেমরা দোয়া কবুলের শর্ত ও আদব বলে অভিহিত করেছেন।

পবিত্রতা অর্জন: পবিত্রতা অর্জনের পর দোয়া করলে আল্লাহতায়ালা সেই দোয়া কবুল করবেন।

বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করা: বিনয়ের সঙ্গে দু’হাত তুলে দোয়া করা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালার নিকট হাত তুলে হাতের তালু সামনে রেখে দোয়া কর। হাত উল্টো করো না। দোয়ার শেষে উত্তোলিত হাত মুখমন্ডলে বুলিয়ে নাও।’ -আবু দাউদ

মিনতিভরা কন্ঠে দোয়া করা: মিনতি ও নম্রতার সঙ্গে দোয়া করলে তা ইবাদত হিসেবে গন্য হয়। রাসূলে মকবুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া সব ইবাদতের মজ্জা ও সারাংশ।’ দাসত্বের পরিচয় প্রদানই ইবাদতের উদ্দেশ্য। বান্দার নিজের দীনতা ও অক্ষমতা বুঝতে পারা এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও অপার মহিমা উপলব্দি করার মধ্যেই দাসত্বের প্রকাশ ঘটে। দোয়ার মাধ্যমে এ দু’টি বিষয়ের পরিচয় পাওয়া যায়। অর্থাৎ নিজের অক্ষমতা ও অসহায়ত্ব এবং আল্লাহর অপ্রতিহত ক্ষমতা, অপার মহিমা ও প্রতাপ অন্তরে স্থান পাওয়া আবশ্যক। দীনতা ও নম্রতা দোয়ার মধ্যে যত অধিক হবে ততই মঙ্গল।

দু’হাত তুলে দোয়া করা: বিনয়, নম্রতা ও দাসত্ব প্রকাশ করার জন্য দোয়ার সময় দু’হাতের তালু আসমানের দিকে রাখতে হবে এবং হাত সম্পূর্ণ সম্প্রসারিত করে দু’হাতের মধ্যে ২/১ আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রাখতে হবে। হাত কচলানো, রশি পাকানোর মতো হাতের তালু ঘষাঘষি করা দোয়ার আদবের খেলাপ। মনে রাখবেন, আপনি শাহানশাহেরর দরবারে হাত তুলেছেন, তাই এখানে কোনো ধরনের অমনোযোগিতা কাম্য নয়। এছাড়া দোয়া শেষে দু’হাত তুলে দোয়া করে দোয়া শেষে হাত দু’টি মুখমন্ডলে মুছে নিবে। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, ‘যে হাত আল্লাহর দরবারে উত্তোলিত হয়, তা একেবারে শূণ্য অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।’

আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরীফসহ দোয়া করা : আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরীফসহ দোয়া করা। আল্লাহর প্রশংসা যেমন, ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন’ দোয়ার শুরুতে বলা। এছাড়া ইসমে আজমের সহিত দোয়া করা উত্তম। হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইসমে আজম এই আয়াতদ্বয়ে রয়েছে-

১. ‘ওয়া ইলাহুকুম ইলাহু ওয়াহিদুন লা ইলাহা ইল্লা হুয়ার রাহমানুর রাহিম।’ -সূরা বাক্বারা : ১৬৩
২. ‘আলীফ লাম মীম। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।’ -সূরা আল ইমরান : ১

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন রাসূলে কারিম (সা.)-এর নিকট বসেছিলাম। একজন লোক সেখানে নামাজ পড়ছিল। সে তার দোয়ার মধ্যে আরজ করল, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার প্রয়োজন প্রার্থনা করছি এই ওসিলায় যে, প্রশংসা ও গুনকীর্তণ আপনার জন্যই উপযুক্ত। আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনি পরম দয়ালু ও অসীম অনুগ্রহদাতা এবং পৃথিবী ও আকাশ মন্ডলীর স্রষ্টা। আমি আপনার কাছেই আপনার অনুগ্রহ চাই। ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যু! ইয়া জালজালালী ওয়াল ইকরাম! রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, এ বান্দা আল্লাহর ইসমে আজমের ওসিলায় দোয়া করেছে। এ ওসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইলে, আল্লাহ তা দান করেন। -তিরমিজি

হজরত ফুজালা ইবনে উবায়দা (রা.) বর্ননা করেন, রাসূলে কারিম (সা.) এক ব্যক্তিকে দোয়া করতে শুনলেন। সে দোয়ায় আল্লাহপাকের প্রশংসা করল না এবং রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদও পাঠ করল না। এতে রাসূলে আকরাম (সা.) বললেন, লোকটি তড়িঘড়ি করে দোয়া করেছে। তিনি লোকটিকে ডেকে আনলেন এবং তাকে অথবা উপস্থিত লোকদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নামাজ পড়ে তখন দোয়া করার পূর্বে তার উচিত আল্লাহতায়ালার প্রশংসা করে নেয়া ও রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠ করা। এরপর যা ইচ্ছা তা চাওয়া। -তিরমিজি ও আবু দাউদ

এক হাদিসে এসেছে হজরত রাসূলে মাকবুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দোয়া করার পূর্বে দরুদ শরীফ পড়ে, তার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। মহান আল্লাহতায়ালা অসীম দয়ালু; দোয়ার কিয়দাংশ কবুল করে অপর অংশ কবুল না করা তার স্বভাব নয়। এই হাদিসের সারমর্ম এই যে, দরুদ তিনি অবশ্যই কবুল করে থাকেন, সুতরাং তিনি দরুদ কবুল করে দোয়ার অবশিষ্টাংশ অর্থাৎ প্রার্থনীয় বিষয় অগ্রাহ্য করেন না। শেষ পর্যন্ত উভয় অংশই কবুল করেন।

হজরত আবু সোলায়মান দারানী (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করে, তার উচিত, প্রথমে দরুদ পড়া এবং দরুদ পড়ে দোয়া শেষ করা। কেননা আল্লাহ উভয় দরুদ কবুল করেন। -কিমিয়ায়ে সাআদাত


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সমীকরণের কাঠগড়ায় ঝুলছে পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়া। হারলেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায়-এমন সমীকরণ সামনে রেখে আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় পাঞ্জাবের মোহালিতে সুপার টেনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান।
অবশ্য জিতলেও যে সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত সেটাও বলা যাচ্ছে না। কারণ নিজেদের হার জিতের হিসাব ছাড়াও তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের দিকে।
পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে আজকের ম্যাচটি মাঠে গড়াবে দুপুর সাড়ে ৩টায়। দুই নম্বর গ্রুপ থেকে তিন ম্যাচে তিনটি জয় নিয়ে শীর্ষে আছে নিউজিল্যান্ড। সমান ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত। একটি করে জয় আছে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের। অবশ্য একটি ম্যাচ কম খেলেছে অস্ট্রেলিয়া।
তাই আজকের ম্যাচটি হেরে গেলেও কাগজ-কলমের হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা টিকে থাকবে। অন্য দিকে কাগজ কলমে পাকিস্তানের জ্য যে সম্ভাবনা আছে আজকের ম্যাচ হারলে সেটাও থাকবে না।
সুপার টেনে বাংলাদেশকে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু পরের দুই ম্যাচ হারার ফলে সেমিফাইনালে যাওয়ার রাস্তাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে পাকিস্তানের জন্য।
ইডেন গার্ডেনে পরের ম্যাচেই ভারতের সঙ্গে হেরে যায় আফ্রিদিরা। আর মোহালিতে এসে নিউজিল্যান্ডের কাছেও হারলো। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচে হেরে গেলেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে পাকিস্তানের।
আর উল্টোটা হলে অর্থাৎ পাকিস্তান যদি অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেয় আর ভারত শেষ ম্যাচে অজিদের কাছে হার মানে, তা হলে পাকিস্তানের শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়াই ছিল ফেভারিট। কিন্তু প্রথম ম্যাচে কিউইদের কাছে হেরে বেশ বড় ধাক্কা খায় অজিরা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জেতে স্টিভেন স্মিথের দল।
পাকিস্তান সম্ভাব্য একাদশ: শারজিল খান, আহমেদ শেহজাদ, মোহাম্মদ হাফিজ, উমর আকমল, শোয়েব মালিক, শহিদ আফ্রিদি (অধিনায়ক), সরফরাজ আহমেদ (উইকেটরক্ষ), মোহাম্মদ সামি, মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ ইরফান।
অস্ট্রেলিয়া সম্ভাব্য একাদশ: শেন ওয়াটসন, উসমান খাজা, স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মিশেল মার্শ, জেমস ফকনার, পিটার নেভিল (উইকেটরক্ষ), নাথান কুল্টার নিল, অ্যাডাম জাম্পা ও জোস হ্যাজেলউড।

 
ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা ঠিক ঠিক বলে দেয়া আর যথারীতি সেসব সংঘটিত হওয়া ভবিষ্যদ্বাণীর আওতাভুক্ত। আবার বহু শ্রেণীভুক্ত হতে পারে ভবিষ্যদ্বাণী। যুগে যুগে বিজ্ঞাননির্ভর ভবিষ্যদ্বাণী, জ্যোতিষী, রাশিফল ও হস্তরেখা বিশারদদের ভবিষ্যদ্বাণী, বিভিন্ন যুগে মহাপুরুষ, নবী-রাসূল সা:দের ভবিষ্যদ্বাণী। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করলে এটা খুব সহজেই ধরা পড়বে, আজকের সভ্যতা যত বেশি অত্যাধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে তত বেশি হারে ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। আজকাল ভোরে ঘুম থেকে উঠলেই শুরুর আগেভাগে জেনে নিতে হয়, দিনটি কেমন যাবে। মানুষের সার্বিক কর্মব্যস্ততা এবং জীবনযাত্রা পাল্টে যাওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত ছুটতে হচ্ছে শহর থেকে শহরে এবং দেশ থেকে দেশে। হরেক রকমের আবহাওয়ার মোকাবেলা করতে হয়। তুষারপাত, শূন্যের নিচে তাপমাত্রা, প্রচণ্ড গরম বা তাপদাহ, প্রবল বৃষ্টি, ঝড়, অর্থাৎ যে রকম আবহাওয়ায় ভবিষ্যদ্বাণী থাকুক, আগেভাগে জেনে সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে ঘর থেকে বের হত হবে। ভবিষ্যদ্বাণীর কারণে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মানুষকে রক্ষা করা সহজ হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উপদ্রুত অঞ্চলের লোকদের আগেভাগেই নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়া যাচ্ছে। ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জানমালের ক্ষতি অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপে এল নিনো ও লা নিনার গতিবিধি পরীক্ষা করে বাংলাদেশী রাশেদ চৌধুরী বন্যা পূর্বাভাসের এক নতুন পদ্ধতি বা মডেল উদ্ভাবন করেছেন। তার এই উদ্ভাবিত ‘এনসো ভিত্তিক পূর্বাভাস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্ভরযোগ্য। এই পদ্ধতিতে ছয় মাস আগেই ঝড় ওজলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব। আট বছর ধরে এই সাফল্য বজায় রেখেছে রাশেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত পদ্ধতি। [প্রথম আলো, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৩] সমগ্র বিশ্বের কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের বার্ষিক পঞ্জিকা বা
ভবিষ্যদ্বাণী এখন অনায়াসে পাওয়া যায়। নামাজ, রোজার চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার বলে দেয় প্রাত্যহিক জীবনে আমরা কত বেশি ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছরই প্রকাশিত হচ্ছে অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যালম্যানাক (জ্যোতির্বিদ্যার বর্ষপঞ্জি) যার সাহায্যে পৃথিবীর যে স্থানে আপনি থাকুন না কেন, সেই স্থান থেকে কখন কোন মুহূর্তে কোন কোন নক্ষত্র, ছায়াপথ গ্রহ ও নক্ষত্ররাজি ইত্যাদি দেখা যাবে তা জানতে পারবেন এবং অনায়াসে সেগুলো দেখতে পাবেন। জ্যোতির্বিদ্যার বর্ষপঞ্জিতে পৃথিবীর সব জায়গার বছরব্যাপী নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ রয়েছে, যে সময়ে ওই স্থান থেকে কোন কোন নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্রহ-উপগ্রহ ইত্যাদি দৃষ্টিগোচর হবে। তার অর্থ কোটি কোটি ছায়াপথ ও নক্ষত্ররাজি একটি পরিকল্পিত নিয়মেই মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছে; শুধু সে কারণেই এ ধরনের চুলচেরা হিসাব করে ঠিক ঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব হচ্ছে। এর একটি উজ্জ্বল প্রমাণ ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ নাসার ভবিষ্যদ্বাণী : ১৬ মার্চ ২৮৮০ সালে একটি গ্রহাণু (উঅ-১৯৬০) মহাকাশ থেকে আছড়ে পড়বে। এটা প্রতি সেকেন্ডে ৯ মাইল (১৫ কিমি) বেগে ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। এই সংঘর্ষের সম্ভাবনার অনুপাত ৩০ শতাংশ বলা হয়েছে। বাস্তবে বিজ্ঞানীরা এসব ভবিষ্যদ্বাণী করেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং তাত্ত্বিক চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে। অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলে এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী দেয়া যায় না। বাস্তব দুনিয়ায় আমরা তখনই কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, বিষয় বা ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম, যদি মূল ঘটনা বা বিষয়টি সুপরিকল্পিত ও সুনিয়ন্ত্রিত হয়। এ ছাড়া ভবিষ্যদ্বাণী করার প্রশ্ন ওঠে না। উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক একটি মহাশূন্য যানকে মঙ্গল গ্রহের মাটি, আবহাওয়া, গঠন প্রকৃতি ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহের জন্য পৃথিবী থেকে পাঠানো হলো। যানটির সব যন্ত্রপাতি সেভাবেই তৈরি, সন্নিবেশিত ও নিয়ন্ত্রিত করা হবে যাতে এটি পূর্বপরিকল্পিত সব কাজ ঠিক ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। যানটি যেহেতু পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত তাই সহজেই এর মিশনের প্রতিটি মুহূর্তের সব খবরাখবর যেমন এটি কোথায়, কখন থাকবে এবং কী করবে তা আগেই বলে দেয়া যায়। ওপরের উদাহরণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, শুধু পরিকল্পিত ঘটনার ক্ষেত্রেই ভবিষ্যদ্বাণী দেয়া বাস্তব এবং যুক্তিসম্মত। একই যুক্তিতে আমাদের মহাবিশ্ব যদি সুপরিকল্পিত ও সুনিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে শুধু সে ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান বা যুক্তিসম্মতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী সম্ভব হবে। অতএব, মহাবিশ্বের যেকোনো ব্যাপারে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী ফলপ্রসূ হওয়ার অর্থ দাঁড়ায়, মহাবিশ্ব নিছক দুর্ঘটনার ফসল নয় বা স্বয়ংক্রিয়ভাবেও এটা সৃষ্ট নয়। ‘নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে এক অকল্পনীয় মহাজ্ঞানী সত্তার এক রহস্যময় অভিপ্রেত। বিজ্ঞানীর দূরভিসারী জিজ্ঞাসা সেখানে বিমূঢ় হয়ে যায়। বিজ্ঞানের চূড়ান্ত অগ্রগতিও সেখান থেকে স্তব্ধ হয়ে ফিরে আসবে। কিন্তু সেই অনন্ত মহাজাগতিক রহস্যের প্রতিভাস বিজ্ঞানীর মনকে এই নিশ্চিত প্রত্যয়ে উদ্বেল করে তোলে যে, এই মহাবিশ্বের একজন নিয়ন্তা রয়েছেন। তিনি অলৌকিক জ্ঞানময়, তাঁর সৃষ্টিকে অনুভব করা যায়, কিন্তু তাকে কল্পনা করা যায় না।’ সাম্প্রতিক বিশ্বে বিজ্ঞান পরিমণ্ডলে সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী তোলপাড় সৃষ্টি করা সংবাদ হলো, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ বিজ্ঞানীদের মহাকর্ষ তরঙ্গের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলার ঘোষণা। মহাকর্ষ তরঙ্গের অস্তিত্বের ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আইনস্টাইন আজ থেকে ১০০ বছর আগে। লাইগো শনাক্তকরণ যন্ত্র এই সঙ্কেত পায়। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এটা পৃথিবীর কোনো নিজস্ব তরঙ্গ সঙ্কেত নয়, এটি হচ্ছে ১৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে দু’টি কৃষ্ণ গহ্বরের মিলনের ফলে সৃষ্ট মহাকর্ষ তরঙ্গেরই সঙ্কেত।

বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যদ্বাণী : যুগে যুগে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এবং পরে বর্তমান সময় পর্যন্ত সেসব ফলপ্রসূ হয়েছে; তার কিছু বর্ণনা এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।

১. বৈজ্ঞানিক মেন্ডেলিফ ১৮৬৯ সালে বিজ্ঞানের সূক্ষ্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে পিরিয়ডিক টেবিলে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের অস্তিত্ব, ধর্ম, আণবিক ওজন ইত্যাদির বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, যেগুলোর অস্তিত্বের কোনো রকম ধারণাই ওই সময় পর্যন্ত কারো বিন্দুমাত্র ছিল না। বর্তমান সময় পর্যন্ত সেসব মৌলিক পদার্থ ঠিকই আবিষ্কৃত হয়েছে আর সবাই হতবাক এবং বিস্ময়াভিভূত হয়েছে এটা দেখে যে, এই মৌলিক পদার্থগুলোর ধর্ম, গুণাবলি এবং আণবিক ওজন হুবহু মিলে যায় মেন্ডেলিফের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় একটা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মেন্ডেলিফ রাসায়নিক পদার্থের আণবিক ওজন বৃদ্ধির জন্য শতাধিক বছরেরও বহু আগে যে পদ্ধতি তৈরি করেছেন, তার জন্য একই প্রকার ধর্মের অধিকারী মৌলিক পদার্থের সংগঠনের পর্যায়বৃত্তি বা পিরিয়ডিক টেবিলকে কেউ কি যুক্তিসম্মতভাবে শুধু আকস্মিক ব্যাপার অথবা নিছক অপরিকল্পিত বিগ ব্যাং অর্থাৎ সেই মহাবিস্ফোরণ নামে দুর্ঘটনার মতো কিছু বলে মেনে নিতে পারে?

২. জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাঙ্ক ১৯০০ সালে প্রস্তাব করেন যে, আলো বিকিরিত হতে পারে শুধু বিশেষ প্যাকেটে (Packet)। এর নাম দিয়েছিলেন তিনি কোয়ান্টা। ১৯২৬ সালে ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ তার বিখ্যাত অনিশ্চয়তাবাদে (Uncertainty Principle) প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বপ্রথম এর যথার্থতা প্রমাণ করেন।

৩. আইনস্টাইন ১৯১৫ সালে আলোর বিচ্যুতি সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এর চার বছর পর ১৯১৯ সালে এক ব্রিটিশ অভিযাত্রী দল একটি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখিয়েছেন, আলো সত্যি সত্যি সূর্য দ্বারা বিচ্যুত হয়।

৪. আইনস্টাইনের ব্যাপক আপেক্ষিকতাবাদের (১৯১৫) একটি ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে, পৃথিবীর মতো ভরসম্পন্ন কোনো বস্তুপিণ্ডের সন্নিকটে সময়ের গতি শ্লথ বলে মনে হবে; খুব উঁচুতে অবস্থিত কোনো ব্যক্তির মনে হবে নিচের সব ঘটনাই একটু দেরিতে ঘটছে। ৪৭ বছর পর ১৯৬২-তে এই ভবিষ্যদ্বাণীটি পরীক্ষা করা হয়। একটি জলধারের স্তম্ভের ওপরে ও নিচে এক জোড়া নির্ভুল ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছিল। যে ঘড়িটা নিচে ছিল অর্থাৎ পৃথিবীর নিকটতর; দেখা গেলো এর গতি ধীরতর। এ তথ্যের সাথে ব্যাপক আপেক্ষিকতাবাদের নির্ভুল মিল রয়েছে। আধুনিককালে পৃথিবীর ওপরে বিভিন্ন উচ্চতায় স্থাপিত বিভিন্ন ঘড়ির দ্রুতির পার্থক্যের যথেষ্ট ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে আগত সঙ্কেতের ভিত্তিতে নির্ভুল নৌ এবং বিমান চালনা ব্যবস্থার প্রচলনের সাথে সাথে এর গুরুত্বও বেড়েছে। ব্যাপক আপেক্ষিকতাবাদের ভবিষ্যদ্বাণী অগ্রাহ্য করা হলে অবস্থানের হিসাবে কয়েক মাইল পর্যন্ত ভুল হতে পারে।

৫. ফরাসি পদার্থবিদ ডি ব্রোগলি ১৯২৪ সালে বিশ্বের বিজ্ঞানী সমাজের কাছে সনির্বন্ধ আবেদন জানিয়েছিলেন : আলোক রশ্মি হচ্ছে তরঙ্গ কিন্তু এটা যখন পদার্থের শক্তি এবং ভরবেগ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে একই যুক্তিতে আলোক রশ্মির মতো পদার্থ রশ্মিও কেন এই একই ধরনের আচরণ দেখাবে না? ওই সময় এটি ছিল ব্রোগলির এক যুগান্তকারী ভবিষ্যদ্বাণী : আলোক তরঙ্গ, জল তরঙ্গ অর্থাৎ অন্যসব তরঙ্গের মতোই পদার্থও একই ধর্ম প্রদর্শন করবে। তিন বছর পর ১৯২৭ সালে পদার্থের তরঙ্গায়িত রূপটি সর্বপ্রথম চোখে পড়ে ডেডিসন এবং গারমানের পরীক্ষায়। বর্তমান সময় পর্যন্ত সব পদার্থের অণু-পরমাণুর তরঙ্গ ধর্ম আবিষ্কৃত হয়েছে। আজকের কোয়ান্টাম বিজ্ঞান বলছে : কণিকা ও তরঙ্গের মধ্যে দ্বিত্ব রয়েছে। পদার্থ কার্যত তরঙ্গের স্বচ্ছ রূপ মাত্র। ওদিকে হাজার বছরেরও অনেক আগে সূরা আন নূরের আয়াত ৩৫ বলছে, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল তথা মহাবিশ্বের সব কিছুই তরঙ্গ বা নূর অথবা আলো।

৬. বিজ্ঞানী ডিরাক ১৯৩০ সালে প্রোটনের অস্তিত্ব সম্পর্কে বর্ণনা করে এক বিস্ময়কর ফল পেয়েছেন। এই গণনায় ক্ষুদ্র একদল কণিকার অস্তিত্বের সন্ধান মিলল। কোনো রকম পরীক্ষার সাহায্য না নিয়েই শুধু খাতা-কলমের সাহায্যে ডিরাক নতুন এই কণিকার অস্তিত্ব সম্পর্কে এক মতবাদ প্রকাশ করেন। দুই বছর পর এন্ডারসন ডিরাকের কল্পিত এই কণিকার অস্তিত্ব প্রমাণ করলেন। মূলত এই কণিকাটি আর কিছু নয়, পজিটিভ চার্জবিশিষ্ট ইলেকট্রন যার নামকরণ হয়েছে পজিট্রন।

৭. জাপানি বিজ্ঞানী ইউকাওয়া ১৯৩৬ সালে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন যে, এক নতুন মৌল কণিকা রয়েছে যা নিউক্লিয়াসে নিউট্রন ও প্রোটনের মধ্যে শক্তির আদান-প্রদান ঘটাচ্ছে। কণিকাটির নাম রাখা হলো মেসন। পরে নভোরশ্মি নিয়ে গবেষণা করাকালে এই কণিকাটির অস্তিত্ব পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

৮. নিউট্রিনো কণিকার অস্তিত্বের ঘোষণা দিলেন বৈজ্ঞানিক পাউলি। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে বিটা কণিকা নির্গমনের বিষয় নিয়ে পরীক্ষা করতে কতগুলো সমস্যার উদয় হলো, যার সমাধান কোনো প্রকারেই হচ্ছিল না। এ কারণে পাউলি প্রস্তাব করলেন, বিটা নির্গমন প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের সাথে নিউক্লিয়াস থেকে আরো একটি তড়িৎবিহীন ক্ষুদ্র কণিকার নির্গমন যদি ধরে নেয়া হয় তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হতে পারে। তিনি ১৯৩০ সালে ওই কণিকার নাম দিলেন নিউট্রিনো। তবে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় ১৯৫০ সালে, যখন পারমাণবিক চুল্লিগুলো নানা ধরনের কণা উৎপাদন শুরু করেছিল। এতদিন ধারণা করা হতো, নিউট্রিনো ভারবিহীন একটি কণা। কিন্তু ২০১৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী দুই বিজ্ঞানী নিউট্রিনোর রহস্য ভেদ করে প্রমাণ করেন নিউট্রিনোর ভর আছে। নোবেল কমিটি ঘোষণা দিয়েছে- কণা সম্পর্কিত পদার্থবিজ্ঞান ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে এই তাকাকি ও আর্থারের গবেষণায় বড় ধরনের সাফল্য এসেছে।

৯. জর্জ গ্যামো এবং ব্যালয় আলফার ১৯৪৮ সালে তাদের একটি বিখ্যাত গবেষণাপত্রে মহাবিশ্বের উত্তপ্ত প্রাথমিক অবস্থার একটি চিত্র প্রকাশ করেন যেখানে তারা একটি উল্লেখযোগ্য ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন- মহাবিশ্বের আদি পর্বের অতি উত্তপ্ত অবস্থার বিকিরণ (ফোটনরূপে) এখনও থাকা উচিত। তবে তার তাপমাত্রা হ্রাস পেয়ে চরম শূন্যের (২৭৩ ডিগ্রি) কয়েক ডিগ্রি বেশি হতে পারে। ১৯৬৫ সালে এই বিকিরণই পেঞ্জিয়াস ও উইলসন আবিষ্কার করেন।

১০. মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী মারে গেলমান ১৯৬১ সালে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, এক বিশেষ ধরনের কণিকার অস্তিত্বের, যার নাম ওমেগা মাইনাস। এর তিন বছর পর সত্যি সত্যি একটি কণিকার সন্ধান মিলে যায়, যার ধর্ম ও গুণাবলি গেলমানের দেয়া বর্ণনার অনুরূপ।

১১. রহস্যময় ঈশ্বর কণার ভবিষ্যদ্বাণী : বিজ্ঞানী হিগস ও ইংলাতসহ একদল কণাতত্ত্ববিদ ১৯৬০ সালে অতিপারমাণবিক কণার (সাব অ্যাটমিক পার্টিকেল) ভরের উৎস খুঁজতে যেয়ে একটি মডেল প্রস্তাব করেছিলেন। মডেলটিতে অনুপস্থিত একটি কণিকার কথা বলা হয়, যার নাম দেয়া হলো হিগস বোসন; দু’জন বিজ্ঞানীর নাম অনুসরণে। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান অনুসারে, আমাদের এই মহাবিশ্বের সব কিছুই ভর পেয়েছে এই হিগস বোসন কণার কাছ থেকে। তাই এই কণাটির সন্ধান পাওয়া মানে, এক হিসেবে মহাবিশ্বের সৃষ্টির রহস্য উন্মোচন করা। এ কারণেই কণাটি পরিচিতি পেয়ে যায় ঈশ্বর কণা নামে। ষাটের দশকে এই কণার অস্তিত্ব আবিষ্কারে বিস্তর গবেষণা চলতে থাকে। ১৯৫২ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার কাছে মহাবিশ্বের সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনে স্থাপিত, সুবিশাল যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারের মাধ্যমে অর্ধশতাব্দী পর অবশেষে আবিষ্কৃত হয়েছে কাক্সিক্ষত ওই কণার অস্তিত্ব। বলা হয়, বিজ্ঞানের গবেষণায় গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন এটি।

১২. ভারহীন কণা ‘ভাইল ফার্মিয়ন’ এর অস্তিত্বের ভবিষ্যদ্বাণীর ৮৫ বছর পর ২০১৫-তে আবিষ্কার হলো। ১৯২৯ সালে হারম্যান ভাইল নামের এক বিজ্ঞানী এমন একটি কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। এরপর পরীক্ষাগারে চলে ব্যাপক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা। অবশেষে, ৮৫ বছরের মাথায় বাংলাদেশী বিজ্ঞানী জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একদল পদার্থবিজ্ঞানীর নিরন্তর প্রচেষ্টায় সেই কণা বাস্তবে পরীক্ষাগারে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ভাইল ফার্মিয়ন কণার ভর নেই। এটি ইলেকট্রনের মতো পথ চলতে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে না। এই আবিষ্কারের পর শুধু তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানই পাল্টে যাবে না, ইলেক্ট্রনিক ও কম্পিউটার দুনিয়ায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৩. দেশনন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার এক গ্রন্থে আলোচনার প্রসঙ্গক্রমে সূরা আয-যারিয়াতের ৪৭ আয়াতটি এভাবে উল্লেখ করেছেন- ‘We created the heaven with a twist of the (divine) hand. And surely we are expanding it.’ বইটির ৬৩ ও ৬৪ নম্বর পৃষ্ঠায় তিনি আরো লিখেছেন, ‘মহাবিশ্ব সৃষ্টি হলো বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে এবং তারপর থেকে মহাবিশ্ব ছড়িয়ে পড়ছে (Expanding Universe). বাস্তবে আমরা দেখছি ঐতিহাসিকভাবে আমাদের বিজ্ঞান তখন একেবারে তিমির অন্ধকারে ছিল। এর এক হাজার বছরেরও অনেক পরে ১৯৯২ সালে এক যুগান্তকারী ভবিষ্যদ্বাণী ছিল আলেকজান্ডার ফ্রিডম্যানের। মহাবিশ্ব সম্পর্কে তিনি দু’টি সহজ সরল অনুমান করেছিলেন- আমরা যে দিকেই দৃষ্টিপাত করি না কেন; মহাবিশ্বের রূপ একই রকম দেখায় এবং আমরা যদি মহাবিশ্বের কোনো স্থান থেকে পর্যবেক্ষণ করি, তাহলে মহাবিশ্বকে একই রকম দেখাবে। শুধু এ দুটো অনুমান থেকে ফ্রিডম্যান দেখিয়েছিলেন, মহাবিশ্বকে স্থির মনে করা আমাদের উচিত নয়। মূলত এটি ছিল যুগান্তকারী ভবিষ্যদ্বাণী। সাত বছর পর ১৯৯৯ সালে এডউইন হাবল প্রকাশ করেন যে, মহাবিশ্ব স্থিতাবস্থায় নেই। যে ছায়াপথটি যতদূরে অবস্থিত তার দূরাপসারণের গতিও তত বেশি। হাবলের এই যুগনির্দেশক পর্যবেক্ষণের অর্থ হলো, অতীত যুগে মহাবিশ্বের সব বস্তুপিণ্ড পরস্পরের নিকটবর্তী ছিল। দশ কিংবা কুড়ি হাজার মিলিয়ন বছর আগে সব নীহারিকা একই জায়গায় ছিল। সুতরাং সে সময় মহাবিশ্বের ঘনত্ব ছিল অসীম। হাবলের এই আবিষ্কারই শেষ পর্যন্ত মহাবিশ্বের সূচনার প্রশ্নকে বিজ্ঞানের অঙ্গনে নিয়ে আসে। যুগান্তকারী এই পর্যবেক্ষণ থেকে মনে হয়, একটা কালের অস্তিত্ব ছিল যার নাম দেয়া হয়েছে বৃহৎ বিস্ফোরণ (ইরম ইধহম)। তখন ছিল অসীম ক্ষুদ্র মহাবিশ্ব এবং এর ঘনত্ব ছিল অসীম। এরকম পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানের সব জানা বিধিই ভেঙে পড়ে। সুতরাং স্বভাবতই ভেঙে পড়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণই বিপরীত। মহাবিশ্বের বৃহৎ বিস্ফোরণ এবং দূরাপসারণ গতির সব ব্যাপারই শুধু সুপরিকল্পিত এবং সুনিয়ন্ত্রিত হলেই যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানীদের সব ভবিষ্যদ্বাণী ফলপ্রসূ হতে পারে এটি আমরা ধারাবাহিকভাবে দেখতে পারছি। অন্য দিকে, তাপ গতিবিদ্যার প্রথম সূত্র বলছে : এরূপ যন্ত্র তৈরি করা একেবারেই অসম্ভব, যেটি শূন্য থেকে শক্তি বানাতে পারবে এবং অবিরাম চলবে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতেই থাকবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ঘুরে ফিরে যে বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে : মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও বিকাশ পরিকল্পিত বিধায় এর যেকোনো ব্যাপারেই যৌক্তিক বিজ্ঞানসম্মত ভবিষ্যদ্বাণী সব সময় ফলপ্রসূ হতে দেখা যায়। বিশিষ্ট প্রাণপ-দার্থবিজ্ঞানী পাল ক্লায়েন্স ইবারসোল্ডের মতো : ‘এই মহাবিশ্বের জন্ম সম্পর্কে বিজ্ঞান আপাত দৃষ্টিতে খুবই মহাপ্লাবনিক একটি তত্ত্ব দাঁড় করাতে পারে। তারই ফলে ছায়াপথ ও নক্ষত্র সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করতে পারে। কিন্তু কোথা থেকে এই সৃষ্টির জন্য জড়পদার্থ ও শক্তি এসেছে এবং কেনই বা এই মহাবিশ্বটি এমনিভাবে গঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যাই বিজ্ঞানে জুটবে না’।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.