পণ্য নিয়ে অভিযোগ করে পেলেন সোয়া ৫ লাখ টাকা



ভোগ্যপণ্যের মান, মেয়াদ ও দাম নিয়ে অভিযোগ করে গত তিন বছরে ৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা পেয়েছেন ২৫১ জন অভিযোগকারী। ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এসব অভিযোগ করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কাল ১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জরিমানা হিসেবে আদায় করা টাকার ২৫ শতাংশ ভোক্তা পাচ্ছেন। তাৎক্ষণিক ১২৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন অভিযোগকারী ভোক্তারা।
ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নিজের অধিকার সম্পর্কে ভোক্তাকে সচেতন করার পাশাপাশি সঠিক দামে গুণগত মান সম্পন্ন পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই আইন ও অধিদপ্তরের কাজকর্ম সম্পর্কে মানুষ এখন পর্যন্ত ততটা সচেতন নয়।
ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আবার ২৫০ টাকা জরিমানা আদায়েরও নজির আছে। তবে অধিদপ্তর আরও বেশি জরিমানা আদায় করতে পারে।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হোসেন মিঞা প্রথম আলোকে জানান, ‘জরিমানা আরোপ ও আদায় করে ওই টাকার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে দেওয়া হচ্ছে। ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এই বিধান রয়েছে।’ তিনি বলেন, ওই আইন অনুযায়ী যে কেউ লিখিত অভিযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তা অনুসন্ধান বা তদন্ত করা হয়। এরপর তা প্রমাণ হলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঙ্কে আর্থিক জরিমানা আদায় করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে ভোক্তারা পণ্যের মানের ব্যাপারে আরও বেশি সচেতন হচ্ছেন এবং অভিযোগ করতে উৎসাহী হচ্ছেন। তবে অভিযোগকারী অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী হলে আদায় করা অর্থের ২৫ শতাংশ পাবেন না।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দোকান থেকে নেওয়া যে কোনো পণ্য সম্পর্কে ক্রেতার অভিযোগ থাকতে পারে। ওষুধের মেয়াদ, হোটেল মোটেলের পরিবেশ নিয়েও অনেকের অভিযোগ থাকে। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।
অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বিস্কুটের ভেতর আঁশ জাতীয় নোংরা বস্তু থাকায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর ২৫ শতাংশ পেয়েছেন অরুণ সাহা নামে ঢাকার এক ব্যক্তি।
বিস্কুটের ভেতর পলিথিন জাতীয় নোংরা বস্তু থাকায় একটি কোম্পানিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, এর ২৫ শতাংশ ১০ হাজার টাকা পেয়ে যান ঢাকার মো. দুলাল মিয়া নামে এক অভিযোগকারী।
কারখানা নোংরা পরিবেশের কারণে ময়মনসিংহের একটি বেকারিকেও ২০ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়। জ্বালানি তেল ওজনে কম দেওয়ায় ঝালকাঠির একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একটি কেকের মোড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ এবং মূল্য না থাকায় একটি বেকারীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বড়ি স্প্রের গায়ে মূল্য অস্পষ্ট ও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখায় একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর এক চতুর্থাংশ পেয়ে যান শুভ নামে অভিযোগকারী।
ইংলিশ কেকের মোড়কে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও মূল্য না লেখা থাকায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর ২৫ শতাংশ হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছেন ঢাকার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী। ওষুধের দাম বেশি রাখায় রাজধানীর কলাবাগানের একটি ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানাকৃত অপরাধের মধ্যে আরও ছিল নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রি, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, নির্ধারিত খুচরা মূল্যের অধিক দামে পণ্য বিক্রি, অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাবার তৈরি, মোড়কে দাম লেখা না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, খাদ্যে রং মেশানো ইত্যাদি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, অনেক ভোক্তাই পণ্য কিনতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন। কেউ ওজনে কম পান, কারও কাছ থেকে এমআরপির চেয়ে দাম বেশি রাখা হয়। আবার ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যও গছিয়ে দেওয়া হয় ক্রেতাদের।
তাঁদের মতে, মানুষের মধ্যে অভিযোগ করার প্রবণতা কম। এ ক্ষেত্রে যে একটি শক্ত আইন রয়েছে সে সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। এমনকি দোকানে পণ্য কিনতে গিয়ে কেউ অবহেলার শিকার হলে সে ক্ষেত্রেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রযোজ্য।