২০২০ সালের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে জিপি


১৯ বছর ধরে মোবাইল ফোন খাতে আধিপত্য বজায় রেখেছে গ্রামীণফোন। গ্রাহক সংখ্যার বিচারে শীর্ষ অপারেটরটি আগামীতেও শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে চায়। এর অংশ হিসেবে পরবর্তী চার বছরের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে অপারেটরটি।

প্রায় দু’দশক ধরে দাপটের সঙ্গে মোবাইল ফোন সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে আগামী দিনগুলোতে অপারেটরটি নিজেদেরেকে কোথায় নিয়ে যেতে চায় সেটির পরিকল্পনা করছে।

ইতিমধ্যে শুধু মোবাইল ফোন অপারেটরের পরিচিতির বদলে ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে ঘোষণাও করেছে গ্রামীণফোন।


অপারেটরটি সামনের চার বছরে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন ও মান বদলে দিতে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সোমবার অপারেটরটির ২০১৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব শেঠি বলেন, আগামী চার বছরে তারা এ দেশের কৃষি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিনোদন খাতে ডিজিটাল সেবা প্রদানের বড় অংশ নিজেদের অধিকারে নিতে চান।

সিইও জানান, সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিটি জায়গায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে চান তারা। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সবার জীবনমান বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

রাজীব শেঠি আরও বলেন, ‘সামনের সময়টা হবে বড় চ্যালেঞ্জের। তবে এ জন্য প্রস্তুত তার কোম্পানি।

আগামী চার বছর অর্থ্যাৎ ২০২০ সালের এ পরিকল্পনার মধ্যে ওই সময়ে নিজেদের ভয়েস এবং ডেটা সার্ভিসের মান আরও উন্নত করা, সেবাগুলোকে আরও গ্রাহকের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অপারেটরটি।

একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সেবাকে আরও বেশি মানুষের কাছে নিয়ে যেতে বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

তিন বছর আগে থ্রিজির লাইসেন্স পাওয়ার পর দেশ সেরা অপারেটরটি ‘ইন্টারনেট ফর অল’ কর্মসূচী ঘোষণা করে। ইতিমধ্যে সেই কর্মসূচীর অনেক সাফল্যও তাদের ঘরে এসেছে।

ইতিমধ্যে তারা তাদের ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৫৭ লাখে নিয়ে গেছে, এর মধ্যে বড় অংশ থ্রিজি ব্যবহার করেছে।

বর্তমানে ডেটা থেকে অপারেটরটির আয় মাসে একশ কোটি টাকার কাছাকাছি। গত বছর এ খাত থেকে তারা সাড়ে আটশ কোটি টাকা আয় করেছে, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেশি।

সামগ্রিকভাবে এখন অপারেটরটির মোট আয়ের নয় দশমিক দুই শতাংশ আসছে ডেটা থেকে।

এর মধ্যে গত বছরের ১৮ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ফেইসবুকসহ আরও কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাইট বন্ধ থাকায় আয় খানিকটা কমে বলেও সোমবার স্বীকার করেছে গ্রামীণফোন।

অপারেটরটি বলছে, এরপরেও গ্রাহক প্রতি ডেটার ব্যবহার এক বছরে শতভাগ বেড়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের ব্যবহারও অনেক বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস থেকে ২০১৫ সালে গ্রামীণফোনের আয় বেড়েছে ৩১ শতাংশ।

ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কৃষিসহ অন্যান্য সেবাও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।