চ্যার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে


বাংলাদেশে হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাগত এই ডিগ্রি দেয় দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সির সংক্ষিপ্ত রূপ ‘সিএ’ কোর্সে আছে হিসাবরক্ষণ, হিসাব নিরীক্ষা হাতে-কলমে শেখার সুযোগ। বলা যেতে পারে এটি একটি প্রায়োগিক শিক্ষা বা জীবনমুখী শিক্ষা। যার ফলে পাসের পর ক্যারিয়ার নিয়ে শিক্ষার্থীকে ভাবতে হয় না। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বেশিরভাগ বড় প্রতিষ্ঠানে সিএ ডিগ্রিধারীদের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। লিখেছেন রবি হাসান
শুরুতে যা করতে হবে
আইসিএবি নিবন্ধিত সিএ ফার্ম রয়েছে প্রায় ২০০টি। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটেও কিছু ফার্ম রয়েছে। পছন্দমতো একটি সিএ ফার্মে যুক্ত হতে হবে। অধিকাংশ ফার্ম নতুন শিক্ষার্থী নেওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিয়ে থাকে। পরীক্ষায় মূলত অ্যাকাউন্টিং ও ইংরেজির ওপর দক্ষতা যাচাই করা হয়। পরবর্তী সময়ে এসব সিএ ফার্ম থেকে আইসিএবিতে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়।
ভর্তি যোগ্যতা
২০০৭ সালের আগে গ্র্যাজুয়েশন করা না থাকলে সিএ কোর্সে ভর্তি হওয়া যেত না। কিন্তু ২০০৭ সালে আইসিএবি’র কাউন্সিলের সদস্যদের অনুমতিক্রমে এইচএসসি বা এ-লেভেল পাস করার পরও এই কোর্সে আসা যায়। বর্তমানে এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার নিয়ম
ক. এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য এসএসসি আর এইচএসসি মিলিয়ে ১০-এর মধ্যে জিপিএ ৯ পয়েন্ট পেতে হবে। সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগ আর বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদেরই এখানে ভর্তি করা হয়।
খ. এ-লেভেল শিক্ষার্থীদের জন্য
এ-লেভেলে কমপক্ষে ২টি বি আর ১টি সি গ্রেড থাকতে হবে।
কোর্সের মেয়াদ
গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ৩ বছরের কোর্স, রেজিস্ট্রেশনের দিন থেকে ৩ বছর ধরা হয়। আর যারা গ্র্যাজুয়েশন করা নেই, তাদের জন্য এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ৪ বছর এবং এ-লেভেল শিক্ষার্থীদের যদি ৩টি বিষয়ে এ থাকে তাহলে তাদের জন্য সাড়ে ৩ বছরের কোর্স। তবে ৩টি বিষয়ে এ না থাকলে তখন আবার ৪ বছরের কোর্স করতে হয়।
কোর্স ফি
সিএ করতে চাইলে রেজিস্ট্রেশন করার সময় ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। এই ফির মধ্যে শিক্ষার্থীর প্রথম লেভেলের বই এবং কোচিং ক্লাসের ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর পরীক্ষা দেওয়ার সময় পরীক্ষার ফি হিসেবে প্রতি বিষয়ের জন্য লাগবে ১,৩০০ টাকা। কিন্তু ৭টি বিষয় একবারে দিতে চাইলে তখন মোট পরীক্ষার ফি হবে ৮,৫০০ টাকা। এরপর নলেজ লেভেল পাস করে অ্যাপ্লিকেশন লেভেলে গেলে আবার ১৫ হাজার টাকা দিয়ে কোচিং ক্লাসের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, আর বই কিনতে হবে ৪,৫০০ টাকার। এবারে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রতি বিষয়ে ৩ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। এবারেও সব বিষয়ের পরীক্ষা একসাথে দিতে চাইলে পরীক্ষার মোট ফি হবে ১৮ হাজার টাকা। একইভাবে অ্যাডভান্স লেভেলের জন্যও ক্লাস ফি ১৮ হাজার টাকা; প্রতি বিষয়ের জন্য পরীক্ষা ফি ৫ হাজার টাকা এবং সব বিষয় একসাথে দিলে সর্বমোট ফি ১০ হাজার টাকা।
নিজ খরচে ডিগ্রি লাভ
এই কোর্স করতে গেলে পুরো কোর্সের মধ্যে পাওয়া যাবে ৩,০০০*১২ + ৩,৫০০*১২ + ৪,০০০* ১২ = ১২৬,০০০ টাকা। আর যদি প্রতি দুইবার পরীক্ষা দিয়ে দুইটি লেভেল পাস করা যায়, তাহলে খরচ হবেÑ
৩০,০০০+৮,৫০০+৮,৫০০+১৫,০০০+১৮,০০০+১৮,০০০= ৯৮,০০০ টাকা
অর্থাৎ এক্ষেত্রে সঞ্চয় হবে ২৮ হাজার টাকা। আর ২টি লেভেল পাস করার পরই বেশ ভালো চাকরি পাওয়া যায় এখন।
যোগাযোগ :সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ফোন :৯১১৭৫২১।
চট্টগ্রামেও রয়েছে এর আঞ্চলিক কার্যালয় যার ঠিকানাÑহাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন, তৃতীয় তলা, ১/বি আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে www.icab.org.bd গিয়ে নিবন্ধিত ফার্মগুলোর নাম-ঠিকানা ও ভর্তি-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জানা যাবে।