যে কথাগুলো ইন্টারভিউতে বলা উচিত না


যে কোন পেশায় আবেদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ হল ‘হয় ভাঙো নয়ত মচকাও’ অংশ। আপনার জীবন-বৃত্তান্ত বা সিভি আপনাকে ইন্টারভিউ অবধি নিয়ে যেতে পারে, আর ইন্টারভিউ আপনাকে চাকুরী পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। আপনার সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাকে আপনার‌ এমনভাবে খুশি করতে হবে যেন এই পদে আপনার চাইতে বেশি অন্য কাউকে  উপযুক্ত বলে মনে না নয়।
প্রায়ই দেখা যায়, ভালো রেজাল্ট, ভালো ব্যক্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও ইন্টারভিউতেই বার বার বাদ হয়ে যাচ্ছেন অনেকে। আসলে ইন্টারভিউ চলাকালীন এমন কিছু কথা রয়েছে, যেটা বললে যিনি ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তাদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যে কারণে অনেক সময় হওয়া চাকরি হাত ফস্কে বেরিয়ে যায়। জেনে নিন ইন্টারভিউতে কোন কোন কথা বলা যাবে না।

ভুল করে কিছু বলা
এই ভুলগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও মানুষ প্রায়ই এগুলো করে থাকে। মানুষ দুর্ঘটনাক্রমে ভুল জিনিস বা ভুল ধারণা করে থাকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে ছোট দেখানো অথবা হেয় প্রতিপন্ন করার মতো ভুলগুলো করে থাকে। এই ধরনের যেকোনো একটি ভুল আপনাকে নিক্ষেপ করতে পারে ইন্টারভিউ এর বাইরে। সুতরাং যথাসম্ভব বুদ্ধিমত্তার এবং বিবেচনার সঙ্গে সঙ্গে আপনি যা বলছেন তার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।
কোনো ব্যক্তিগত প্রশ্ন করবেন না
এটা ধরে নিতে হবে, যিনি আপনার ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তাকে আপনি চেনেন না। চাকরি দেয়ার আগে আপনার সম্পর্কে নানা তথ্য জানতেই তিনি আপনাকে প্রশ্ন করবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিছু প্রশ্ন হয়তো খানিকটা ব্যক্তিগত হতে পারে। তাই বলে আপনি সরাসরি ইন্টারভিউয়ারকে এটা কখনই বলতে পারেন না যে আপনি কোনো ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন না। এটা বলার অর্থ, প্রথমেই আপনার বলা কথার উপর অবিশ্বাস তৈরি করা। এটাও হতে পারে, স্রেফ সন্দেহের বশেই আপনার চাকরি ‘নট’ হয়ে যেতে পারে।
স্যালারি প্যাকেজ কত হবে
এটা বলার অর্থ, আপনার কাজের ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই, শুধু স্যালারি নিয়েই ভাবছেন। যদি অন্য কোথাও বেশি মাইনে পান চলে যেতে পারেন। যেকোনো সংস্থা চায়, যাকে চাকরি দেয়া হচ্ছে তিনি যেন দীর্ঘদিন কাজ করেন। এটা হতে পারে আপনি চাকরি পাল্টাতে ভীষণ ব্যগ্র। বর্তমান সংস্থার কাজ করতে কোনো উৎসাহ পাচ্ছেন না, এমনকী এ বছর হয়তো আপনার বেতনও তেমন একটা বাড়েনি। এ সব ব্যাপার মাথায় রেখেও বুঝতে হবে, ইন্টারভিউতে কখনও স্যালারি প্যাকেজ নিয়ে আপনি কথা বলবেন না। যিনি ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, তাকে প্রথমে কথাটি বলতে দিন। জিজ্ঞাসা করলে তার পর আপনি বলতে পারেন। কিন্তু তার আগে নয়।
আমায় এই কলটা রিসিভ করতেই হবে
ইন্টারভিউ-র সময় যত দরকারি কল হোক রিসিভ করবেন না। যদি তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাকে, তবে আগে থেকে ফোন করে ইন্টারভিউয়ারকে জানান যে আজ আপনার আসতে অসুবিধা হবে। কিন্তু ইন্টারভিউ দিতে আসার পর সেখানে এমন ভুল করবেন না। আপনি তাকে ‘সরি’ বলে কল রিসিভ করতে পারেন ঠিকই, কিন্তু এটা আপনার ওপর খারাপ ধারণার জন্ম দেবে। এটা করা মানে তাকে সরাসরি অপমান করা।
একটু তাড়াতাড়ি করবেন, আমার আরো একটা ইন্টারভিউ আছে
আপনার চাকরির যতই দরকার থাক, কোনো ইন্টারভিউতে ঢুকে এটা বলার অর্থ সেখানেই আপনার চাকরি নাকচ হয়ে গেল। যেকোনো ইন্টারভিউ নিজের ১০০ শতাংশ দেয়ার চেষ্টা করুন। একটি জায়গায় বসে অন্য জায়গার কথা ভাবলে ‘শ্যাম-কুল’ দুই হারাতে পারেন। এটা বলার আরো একটা অর্থ হবে, আপনি এটা বুঝিয়ে দেবেন আপনার ওই সংস্থায় চাকরি করার তেমন একটা আগ্রহ নেই। এটা বুঝলে আপনাকে তারা চাকরি কেন দেবে?
চাকরিটা কি আমি পেয়েছি
কথাটি বলার আগে সাবধান হোন। ইন্টারভিউতে শুধুমাত্র আপনি একাই আসেননি। আপনার আগেও কেউ এসেছেন, হয়তো আপনার পরেও আসবেন। আপনার ইন্টারভিউ হওয়ার পরই যদি আপনি ইন্টারভিউয়ারকে এটা জিজ্ঞাসা করেন চাকরিটা হল কি না, সেটা ঠিক নয়। হ্যাঁ বা না শুনতে গিয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘না’ই শুনতে হতে পারে। তাই পজিটিভ নোটে ইন্টারভিউ শেষ করুন। যিনি ইন্টারভিউ নিয়েছেন তাকে একটু সময় দিন।
- See more at: http://www.somoyerkonthosor.com/archives/361885#sthash.Pcr8VV4u.dpuf