বায়োমেট্রিক নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে তারানার বৈঠক বুধবার

আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিম নিবন্ধনে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক জটিলতা নিয়ে অপারেটরদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
বুধবার সকাল ১০টায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ওই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা।
বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বিটিআরসির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্মকর্তা, মোবাইল অপারেটরদের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
আঙুলের ছাপ নিয়ে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম কেন অবৈধ নয়- এই মর্মে সোমবার হাইকোর্টের দুজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
tarana-halim-techshohor
এছাড়ও এর আগে ২ মার্চ খায়রুল আলম নামের সেগুনবাগিচার এক ব্যক্তি বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন কেনো অবৈধ নয় তা জানাতে একটি উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।
এছাড়াও কয়েকটি অপারেটর বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করছে বলেও অভিযোগ পেয়েছেন তারানা হালিম। তাই অপারেটরদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ডেকে এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতেই এই বৈঠক ডেকেছেন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধনে বায়েমেট্টিক পদ্ধতির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কারণেই অনেক অপরাধমূলক কার্যক্রম কমে এসেছে এবং সে কারণে অপরাধীরা তার ওপর ক্ষেপেছেন। আর এখন কোর্টকে দিয়ে এটি থামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মনেকরেন তিনি।
 হাইকোর্টের রুল জারির প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারানা বলেন, তারা অবশ্যই পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরে কোর্টকে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে নানা হুমকি-ধামকি পেলেও এখন অপরাধীচক্র নতুন পথ ধরেছে।
‘তারা দেখেছে ধমকে আমি ভয় পাই না। আর একারণে অপপ্রচার চালিয়ে এবং আইনগতভাবে বিষয়টি আটকানোর চেষ্টা করছে অপরাধীরা।’
তারানা বলেন, নেতিবাচক প্রচারণার বিপরীতে তারা এখন উল্টো জনগনের নিরাপত্তার প্রচারণা চালাব । বড় বড় শহর এমনকি মফস্বলেও এই প্রচারণা ছড়িয়ে দেবো।
তার শুরু হিসেবে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি টিম করে তাদেরকে বায়েমেট্টিক পদ্ধতির সিম নিবন্ধন পদ্ধতি দেখাতে চান। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজের কার্যক্রম দেখানো এবং সিমের কোনো তথ্য এমনকি আঙ্গুলের ছাপও কোথাও সংরক্ষণ করা হচ্ছে না সেটিও দেখাতে চান।
গত ৯ মার্চ এস এম এনামুল হক নামের এক আইনজীবী বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ রুল জারি করে। যেখানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের ডিজি, মোবাইফোন অপারেটরগুলোসহ ১৩ বিবাদীদের এক সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত। আগামী ২৪ মার্চ এ বিষয়ে শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালেরর ১৬ ডিসেম্বর থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। তখন থেকেই অপারেটরগুলো নতুন সিম কিনতে ও পুরাতন সিমের নিবন্ধনে গ্রাহদের আঙুলের ছাপ বাধ্যতামূলক করে।
তবে তার কিছুদিন পর থেকেই গ্রাহক পর্যায় থেকে অভিযোগ করা হতে থাকে যে অপারেটগুলো আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করছে। সেসব বিষয় নিয়ে অপারেটরদের কর্মকর্তাদের সাথে এবার সরাসরি কথা বলতে চান তারানা হালিম।
এর আগে গত ৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলন তারানা বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংরক্ষণ নিয়ে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে । একটি চক্র গুজব ছড়িয়ে নিজেদের স্বার্থে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
সম্মেলনে তারানা জোর দিয়ে বলেন, কোথাও কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। এটা গুজব।