পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে গণমাধ্যমের সামনে আসছেন বাংলালিংক সিইও

বাংলালিংকের সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে আসছেন এরিক আস।
এ জন্য মঙ্গলবার সাড়ে এগারটায় রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে অপারেটরটি।
সম্মেলনে কোম্পানির ব্যবসায় ধরন এবং ভবিষৎত পরিকল্পনা নিয়ে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে। বাংলালিংকের পিআর অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি এক মেইলে এরিক অপারেটরটির কর্মীদের জানিয়েছিলেন, বাংলালিংক বড় পরিবর্তনের দিকে এগুচ্ছে। এসব পরিবর্তন ডিজিটাল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরবর্তী দশকের জন্য কোম্পানিকে প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে। যদিও এটা খুব সহজ নয় তবে এই কঠিন যাত্রায় সবাই একসাথে এক নতুন ও উন্নত বাংলালিংক গড়বে।
erik aas..
এদিকে চাকরিচ্যুতি, জিজ্ঞাসাবাদ, স্বেচ্ছা অবসর অফারসহ বিভিন্ন ঘটনায় অস্থিতিশীল সময় পার করছে অপারেটরটি। এর মধ্যে কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচিতে অবরুদ্ধও থাকেন চিফ টেকনিক্যাল অফিসার (সিটিও) পেরিহান এলহামি।
অবস্থা এমন হয়েছে যে কর্মী অসন্তোষের মুখে বাংলালিংকের প্রধান ও আঞ্চলিক কার্যালয়সহ সব কার্যালয় একদিনের জন্য বন্ধও ঘোষণা করা হয়।
উদ্ভুত পরিস্থিতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে বাংলালিংক কর্মীরা। ওই সংবাদ সম্মেলনে নয় দফা দাবি রাখে বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন(প্রস্তাবিত)।
দাবিগুলো হলো, বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নিবন্ধন নিশ্চিত এবং নিবন্ধনের আগে ইউনিয়নের প্রচার-প্রসারের কাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা, চাকরিচ্যুত কর্মী শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে স্বসম্মানে স্বপদে বহাল, নির্যাতিত কর্মী ও ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশতাক আহমেদের উন্নত চিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং নির্যাতনের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান,সব ধরনের কর্মী ছাঁটাই বন্ধ, কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা বিধান করা। কর্তৃপক্ষের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি বন্ধ করা, শ্রম আইনবিরোধী সকল অভ্যন্তরীন পলিসি বাতিল। আইনে নির্ধারিত সকল সুবিধা নিশ্চিত এবং মালিকে পক্ষে অসৎ শ্রম আচরণের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় শাস্তি দেয়া।
মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে অপারেটরটির সাম্প্রতিক এসব ঘটনাও উপস্থাপিত হতে পারে বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরিক ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর বাংলালিংকে সিইও হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২০০৪ হতে ২০০৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গ্রামীণফোনেও সিইও ছিলেন। গ্রামীণফোনের পর ইন্দোনেশিয়ার এক মোবাইল অপারেটরের শীর্ষ পদে যোগ দিয়েছিলেন।