পুরনো কম্পিউটারের গতি বাড়াবেন যেভাবে


আপনার পিসি বা কম্পিউটারটি বেশ আগের বিধায় এমনিতেই সিস্টেমটি ধীর গতিতে কাজ করে? সমস্যা যাই হোক আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি কিছু উপায় যার মাধ্যমে আপনি আপনার ধীর গতির কম্পিউটারে কিছুটা হলেও গতি সঞ্চার করতে পারবেন। কথা না বাড়িয়ে চলুন, শুরু করা যাক।
১। সম্ভব হলে আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করুনঃ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় টাকার অভাবে বা ল্যাপটপ ব্যবহারের ফলে হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করা সম্ভব হয়না। কিন্তু, আমরা ছোট ছোট কিছু আপগ্রেডের মাধ্যমে আমাদের কম্পিউটারের গতি কিছুটা হলেও বৃদ্ধি করতে পারি। যেমন ধরুন, র‍্যাম। র‍্যাম আপগ্রেড করে বেশ কিছুটা গতি যোগ করা যায় সহজেই। আর আপনি যদি আপনার কম্পিউটারকে যে কোন একটি আপগ্রেডের মাধ্যমে যথাসম্ভব দ্রুত গতির করতে চান তবে হার্ড ডিস্ক বদলে ফেলুন, আপগ্রেড করুন একটি এসএসডি।

২। হার্ড ডিস্ক ব্যবহার করে থাকলেঃ ধরে নিলাম বর্তমানে আপনার এসএসডি আপগ্রেড করার অর্থ হাতে নেই। সমস্যা নেই, হার্ড ডিস্কের কিছু ট্রিকস ব্যবহার করেও আমরা কিছুটা গতি বৃদ্ধি করতে পারি যদিও সেটা এসএসডি’র মত হবেনা। আমরা যে কাজ গুলো করতে পারিঃ
=> সূত্র মোতাবেক আপনার কম্পিউটারটিকে স্মুথলি ব্যবহারের জন্য হার্ড ডিস্কের প্রতিটি ড্রাইভে অন্তত ১৫ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। তাই এখনই ড্রাইভের প্রোপার্টিজে গিয়ে চেক করুন, ১৫ শতাংশ স্পেস খালি আছে কি না।
=> মাঝে মাঝে ড্রাইভের প্রোপার্টিজ টুলস থেকে ‘ডিস্ক ক্লিন আপ’ করুন, এতে করে আপনার সেই ড্রাইভে জমে থাকা টেম্পোরারি ফাইল গুলো মুছে যাবে যার পরিমাণ অনেক সময় ধরে ধরে জমে জমে গিগাবাইট পর্যন্ত হতে পারে।
=> নিয়মিত ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্ট টুল ব্যবহার করুন। এতে করে আপনার হার্ড ড্রাইভ ব্যবহারে সর্বোচ্চ এফিসিয়েন্সি পাবেন।
=> ডিফ্র্যাগমেন্টের মতই নিয়মিত ডিস্ক এরর চেক করুন।
৩। আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার গুলো ওভারক্লক করুনঃ ধরে নিচ্ছি আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার গুলো এ মুহুর্তে আপগ্রেড করা সম্ভব নয় তবে আপনি চাইলে কিছু হার্ডওয়্যার ওভারক্লক করে সেগুলোর কার্যক্ষমতা তথা আপনার কম্পিউটার সিস্টেমের গতি বৃদ্ধি করতে পারেন। যেমন, গ্রাফিক্স কার্ড, প্রসেসর।
৪। প্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন গুলোই শুধু ব্যবহার করুনঃ আপনার প্রয়োজন নেই – এরকম সফটওয়্যার অ্যাভোয়েড করতে চেষ্টা করুন। কেননা, যে কোন সফটওয়্যারই কম্পিউটারে ইন্সটল হবার পর কম্পিউটারে তাদের নিজস্ব অনেক ফাইল জমা করে রাখে, ফলে কম্পিউটার ক্রমান্বয়ে ধীর গতির হয়ে যায়।

৫। কিছু ক্ষেত্রে পুরাতন ভার্সনের অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করুনঃ আপনি এই পয়েন্টটির সাথে একমত নাও হতে পারেন। ভাবছেন, পুরানো সফটোওয়্যারগুলোতে বিভিন্ন রকম বাগ বা কম সুবিধা থাকে বলেইতো আগ্রেড করা হয়। আপনার যুক্তি সত্য কিন্তু সেই সুবিধা যোগ করার ফলে সেই সফটওয়্যার গুলো ব্যবহারের হার্ডওয়্যার রিকোয়ার্মেন্টও বৃদ্ধি পায় যা আপনার ব্যাক-ডেটেড কম্পিউটার সাপোর্ট নাও করতে পারে। যেমন, আপনার কম্পিউটার যদি ফটোশপের CS5 ভার্শনটি সাপোর্ট নাও করে থাকে তবে আপনি CS4 ব্যবহার করে দেখতে পারেন বা এরও নিচের কোন ভার্শন।
৬। হালকা অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করুনঃ আপনার কম্পিউটারের হার্ড ওয়্যার অনুযায়ী অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করুন। এখন আপনার কম্পিউটারটি যদি উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহারের জন্য কনফিগার্ড হয়ে থাকে তবে নিশ্চয়ই উইন্ডোজ ৮.১ তাতে ভালো ভাবে চলবে না। আর চললেও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে আপনাকে। আপনি যদি আপডেটেড থাকতে চান তবে লিনাক্সের যে কোন ডিস্ট্রো ব্যবহার করেও দেখতে পারেন।