বাংলালিংকের কর্মী ছাঁটার স্কিমে স্থিতাদেশ, সিইওসহ ৬ জনকে নোটিশ

 কর্মী ছাঁটাইয়ের ভলেন্টারি সেপারেশন স্কিমে (ভিএসএস) স্থিতাদেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলালিংকের সিইওসহ ৬ শীর্ষ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শাতে বলেছেন আদালত।
যেখানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভিএসএস কেনো বাতিল করা হবে না এবং বাংলালিংক ইউনিয়ন কর্মকর্তা ও সদস্যদের ছাঁটাই, বদলি , সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত এবং বেতন বন্ধ রাখার বিষয়ে কেনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে আদালত।
বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জ্বল পাল এবং সাধারণ সম্পাদক মো.বখতিয়ার হোসেনের করা মামলায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান তাবাসসুম ইসলাম ১০ দিনের মধ্যে শীর্ষ ওই ৬ কর্মকর্তাকে এই জবাব দিতে বলেছেন।
এদের মধ্যে রয়েছেন বাংলালিংক সিইও, সিটিও, সিসিও, সিনিয়র ডিরেক্টর (এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন), সিনিয়র ডিরেক্টর (লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কোম্পানি সেক্রেটারি) এবং গভর্মেন্ট রিলেশন অ্যান্ড রেগুলারিটি অ্যাফেয়ার্স।
banglalink_techshohor
সম্প্রতি চাকরিচ্যুতি, জিজ্ঞাসাবাদ, স্বেচ্ছা অবসর অফারসহ বিভিন্ন ঘটনায় অস্থিতিশীল সময় পার করছে অপারেটরটি।
এর মধ্যে কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচিতে অবরুদ্ধও থাকেন চিফ টেকনিক্যাল অফিসার (সিটিও) পেরিহান এলহামি। অবস্থা এমন হয়েছে যে কর্মী অসন্তোষের মুখে বাংলালিংকের প্রধান ও আঞ্চলিক কার্যালয়সহ সব কার্যালয় একদিনের জন্য বন্ধও ঘোষণা করা হয়।
উদ্ভুত পরিস্থিতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে বাংলালিংক কর্মীরা। ওই সংবাদ সম্মেলনে নয় দফা দাবি রাখে বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন(প্রস্তাবিত)।
এর পর বাংলালিংকের সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে আসেন এরিক আস।
ওই সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানির ভবিষৎত ব্যবসার ধরন এবং পরিকল্পনা তুলে ধরে অপারেটরটির এই ডিজিটাল রূপান্তরের ঘোষণা দেন বাংলালিংক সিইও।
যে ঘোষণায় তিনি জানান,‘কোম্পানির নতুন যাত্রায় অনেক কর্মীই খাপ খাওয়াতে পারবেন না। এ কারনেই স্বেচ্ছা অবসর অফার দেয়া হয়েছে। যারা নতুন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পারবেন না, তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে যাবেন।’
কর্মীদের এই চাকরি ছাড়ার বিষয়ে হতাশারও কিছু দেখছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা দেখছি না। কোম্পানি ডিজিটাল হতে যাচ্ছে। পুরানো মোবাইল কোম্পানির ধারণা আর নেই। এখন পরিবর্তনের সময়। গ্রাহক সেবার জন্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যারা কোম্পানির নতুন পথ চলায় অবদান রাখতে পারবে তাদের জন্য সুযোগ তো থাকছেই।’
সম্মেলনে এরিক বলেছিলেন, স্বেচ্ছা অবসরে ভিএসএস নিতে ২৯ ফেব্রয়ারিই শেষ সময়।
এর পর ওই সময় আর বাড়ানো হয়নি।