মুঠোফোনে খুদে বার্তার খরচ বাড়তে যাচ্ছে!


মুঠোফোন থেকে খুদে বার্তা পাঠানোয় নতুন একটি স্তর যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর ফলে খুদে বার্তা পাঠানোর খরচ বাড়তে যাচ্ছে। বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, মুঠোফোন অপারেটরদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক বা অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্কে খুদে বার্তা বা এসএমএস (শর্ট মেসেজ সার্ভিস) পাঠাতে এত দিন অন্য কোনো পক্ষ ছিল না। ফলে খুদে বার্তা এক অপারেটর থেকে আরেক অপারেটরের গ্রাহকের কাছে সরাসরি চলে যেত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে অন্য অপারেটরে এসএমএস পাঠাতে হলে তা ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) অপারেটরের কাছে যাবে। এরপর তা মুঠোফোন অপারেটরের কাছে যাবে।
বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে (অফ নেট) এখন প্রতিদিন গড়ে দুই কোটি খুদে বার্তা আদান-প্রদান হয়ে থাকে। আর সব মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে চার কোটি খুদে বার্তা দেশের ভেতরে আদান-প্রদান হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন ১০ লাখ খুদে বার্তা পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক এসএমএসের জন্যও আইসিএক্স হয়ে বার্তা পাঠানোর নিয়মটি প্রযোজ্য হবে।
দেশের ভেতরে মুঠোফোন থেকে গ্রাহক পর্যায়ে একটি এসএমএস পাঠানোর খরচ বর্তমানে ৫০ পয়সা। আর আন্তর্জাতিক এসএমএস পাঠানোর খরচ দুই টাকা। এসএমএসের এই খরচ থেকেই অপারেটররা নিজেদের মধ্যে আয় ভাগাভাগি করে নেয়। আইসিএক্স এ ব্যবস্থায় এলে তাদেরও এখান থেকেই আয়ের ভাগ দিতে হবে।
বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আইসিএক্স অপারেটরদের মাধ্যমে ফোনকলের পাশাপাশি এসএমএস যেতে পারার বিষয়টি আইনে বলা আছে। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সেটি এখন কার্যকর করা হচ্ছে।
রবি আজিয়াটার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুখপাত্র ইকরাম কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে ফোনকল ও এসএমএস পাঠাতে আইসিএক্সের মতো মধ্যবর্তী স্তরগুলো যেখানে কমিয়ে আনা হচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশে উল্টো তা বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে গ্রাহকের খরচ যেমন বাড়বে, একই সঙ্গে সরকারের প্রচারণামূলক বার্তা পাঠানোর খরচও বাড়বে। সিদ্ধান্তটি তাই পুনর্বিবেচনার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আমরা অনুরোধ করব।’