বায়োমেট্রিক বিষয়ে তারানার সংবাদ সম্মেলন বিকালে, বিটিআরসির বাতিল

বায়েমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এ কারণে এ বিষয়ে আগে থেকে নির্ধারিত টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে।
নতুন পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের বিষয়ে মোবাইল অপারেটরগুলোর কার্যক্রমের অবস্থা জানাতে কমিশন সোমবার সকালে বিটিআরসির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল। গত বুধবার বিটিআরসি এ সিদ্ধান্ত নেয়। তবে প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের খবর জানার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি পূর্ব নির্ধারিত এ সংবাদ সম্মেলন বাতিল করেছে বলে জানা গেছে।
বিটিআরসির সংবাদ সম্মেলনের খবর প্রকাশ হওয়ার পর টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে রোববার বিকালে একই বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী কথা বলবেন বলে সাংবাদিকদের নিমন্ত্রণ করা হয়।
biometric-verification-techshohor
তারনা হালিমের এ ব্রিফিংয়ের কথা শুনে রোববার দুপুরের পর সংবাদ সম্মেলন বাতিল করার কথা জানিয়েছে বিটিআরসি।
বিটিআরসির সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) জাকির হোসেন খান টেকশহরডটকমকে জানান, অনিবার্য কারণবশত সোমবারের সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও তথ্য নিয়ে পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবে কমিশন।
বায়েমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙ্গুলের ছাপ দেওয়ার মাধ্যমে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধনের পর আঙ্গুলের ছাপ মোবাইল ফোন অপারেটররা সংরক্ষণ করছে বলে সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়াতে যে খবর বেরিয়েছে তার প্রেক্ষিতেই বিষয়টি সকলের নজরে আসে।
অনেকে এ বিষয়ে প্রশ্নও তোলেন। এক আইনজীবী এ পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন বাতিল চেয়ে আদালতে রিটও করেছেন।
রোববার সংবাদ সম্মেলনের আগে প্রতিমন্ত্রী সিম নিবন্ধনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এতে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে অ্যামটব, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের থাকার কথা রয়েছে।
টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ের বিদেশ সফর শেষে রোববার দুপুরেই ঢাকায় পৌঁছান।
বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম থেকে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বিষয়ে তাদের কাছে লিখিত বা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দিতে ও বিস্তারিত জানাতে তারা সংবাদ সম্মেলন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তবে একই বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করায় তারা আলাদা করে আবার সংবাদ সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বিটিআরসির মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য নতুন নয়। এর আগেও প্রতিমন্ত্রী নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশ্যে নানা সমালোচনা করেছেন।