বিশেষজ্ঞের চোখে এখনো সেরা অ্যাপলের ১২ ইঞ্চি ম্যাকবুক


এক বছর হয়েছে অ্যাপলের ১২ ইঞ্চি পর্দার ম্যাকবুক নিয়ে রিভিউ করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড্যান অ্যাকারম্যান। এরই পরেরটি ম্যাকবুক প্রোহালকা-পাতলা ল্যাপটপটির ডিজাইন হয় ২০১২ সালে। এটা নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও হঠাৎ করেই এখন বিশেষজ্ঞের কাছ এটা সবচেয়ে প্রিয় ল্যাপটপ হয়ে গেছে। এ নিয়ে মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তিনি।
এই ম্যাকবুকটি অনেক দিক থেকেই মনঃপুত হয় না। এর পর্দা খুবই ছোট। কিবোর্ড খুবই সরু। পোর্ট নেই খুব বেশি। ম্যাকসেফ পাওয়ার কানেকশনও নেই। এমনকি ম্যাকবুক এয়ারের সঙ্গে তুলনা করলে এটি ম্যাকবুকের গতানুগতিক বৈশিষ্ট্যও অর্জন করতে পারে না।
২০১৫ সালের মার্চে ১২ ইঞ্চি ম্যাকবুকের ঘোষণা দেয় অ্যাপল। ১২৯৯ ডলারের স্লিপ ম্যাকবুকের চেহারা দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। তবে সবাই এটি দিয়ে সারাদিন কাজ করতে পারবেন না। একমাত্র ইউএসবি-সি পোর্টটি যথেষ্ট মনে হবে না। কিন্তু অন্যান্য ল্যাপটপ নির্মাতারা তাদের পণ্য ডিজাইনে এই ম্যাকবুককে যে অনুসরণ করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এক বছর ম্যাকবুকটিকে ঠিকই অনুসরণ করেছে অন্যান্য পণ্য। কোর এম প্রসেসর এবং ইউএসবি-সি পোর্টসহ অন্যান্য সুবিধা একটু বেশি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আসুস ট্রান্সফরমার বুক টি৩০০ চি থেকে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ট্যাব প্রো এস সবই অ্যাপলকেই অনুসরণ করেছে। তবে ম্যাকবুকটি তার ওএস এক্স অপারেটিং সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। খুঁটিনাকি দারুণ কিছু সুবিধাও রয়েছে। স্লিপ মোড থেকে চালু করে প্রয়োজনীয় অ্যাপে চলে যেতে মাল্টি ফিঙ্গার গেসচার রয়েছে।
এমন নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এই ক্যাটাগরির ল্যাপটপের মধ্যে অ্যাপলের ম্যাকবুকটিই সেরা বলে মনে হয়েছে ড্যানের কাছে। আইপ্যাডের মতোই গুণ রয়েছে ম্যাকবুকটির।
প্রতিসপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা কাজ করতে এর জুড়ি নেই। আবার বড় ধরনের ডকুমেন্ট নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা করা যাব না। আবার ওয়েব ব্রাউজারে কয়েকটি ট্যাব খুলে নিয়ে কাজ করার সময় একটু ঝিমিয়ে পড়েছে বলেই মনে হবে। একমাত্র ইউএসবি-সি পোর্টটি ডেটা, ভিডিও এবং অ্যাকসেরসরিজের জন্যে নগন্য মনে হবে।
অনেকক্ষণ ধরে টাইপিংয়ের জন্যে সরু কিবোর্ড মোটেও সুবিধা দেবে না। টাচপ্যাডটি মনের মতো।
অফলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং ছাড়া ব্যাটারি ১১ ঘণ্টা চলবে বলে ঘোষণা দেয় অ্যাপল। আর অনলাইনের জন্যে ৫ ঘণ্টা। অভ্যন্তরীন ২৫৬ জিবি এসএসডি স্টোরেজ একেবারে খারাপ নয়।
তবে কেউ যদি জিজ্ঞাসা করেন, কোন ম্যাকবুকটি কেনা যায়? সে ক্ষেত্রে ১৩ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রো এগিয়ে রয়েছ। একই দামের ল্যাপটপ হওয়াতেই প্রো-টাই এগিয়ে রয়েছে। ম্যাকবুক এয়ার আরেকটু কম বাজেটের মধ্যেও মন্দ নয়। তবে এয়ার সিরিজ ছাড়া সব ম্যাকবুকে রেটিনা হাই-রেজ্যুলেশন পর্দা মনটাই ভালো করে দেবে।
তবে স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব প্রো এস-এর চেয়ে দাম অনেকটা বেশি ১২ ইঞ্চি ম্যাকবুকের। এদের মধ্যে কমপক্ষে ৪০০ ডলারের পার্থক্য।
যদি এই ম্যাকবুকটিতে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা যায়, তবে অতুলনীয় একটি প্রযুক্তিপণ্যে পরিণত হবে। কোর এম চিপটিকে নতুন প্রজন্মে উন্নীতকরণ আর একটি বাড়তি ইউএসবি-সি পোর্ট দিলেই সবার মনের মতো হয়ে যাবে। এগুলো ছাড়াও ১২ ইঞ্চি ম্যাকবুকটি শেষ অবধি খুব ভালো একটি পণ্য।