মৃত্যুর আগে যে ৮টি কাজ প্রত্যেকের অবশ্যই করে যাওয়া উচিৎ


মৃত্যু নিয়ে চিন্তা করেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রত্যেকের মনেই কখনো না কখনো অন্তত একটি বার নিজের মৃত্যু নিয়ে চিন্তা এসেছেই। পার্থক্য শুধু এই যে কেউ কেউ গুরুত্ব দিয়ে ভেবে থাকেন এবং কেউ কেউ গুরুত্ব নিয়ে ভেবে থাকেন না মৃত্যু বিষয়টাকে নিয়ে।
কিন্তু যাই হোক না কেন, আমাদের মৃত্যু অবধারিত। তাই প্রত্যেকেরই উচিৎ মৃত্যুর পূর্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলা, যে কাজগুলো আপনাকে এনে দেবে প্রশান্তি। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে মনে হবে না এই কাজগুলো করে যেতে পারলে ভালো হতো। জানতে চান কী সেই কাজগুলো? চলুন তবে দেখে নেয়া যাক।
নিজের একটি পরিবার গড়ে তোলা
মারা যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই নিজের একটি পরিবার গড়ে তোলা উচিৎ সকলেরই। নিজের সাথে রক্তের সম্পর্কের একটি বন্ধন করা উচিৎ। নিজের একটি পরিবার থাকলে মৃত্যুর সময় তাদের পাশে পাবেন, তখন আপনাআপনিই মন থেকে শান্তি আসবে। কোনো আফসোস রয়ে যাবে না।
নিজের প্রতি পুরোপুরিভাবে সৎ থাকা
জীবনে অন্তত একবার হলেও নিজের প্রতি পুরোপুরি সৎ থাকা উচিৎ সকলের। অনেক সময়েই বাধ্য হয়ে কিংবা ইচ্ছে করেই অনেকে অনেক ধরণের অন্যায়ের পথে পা বাড়ান। মৃত্যুর পূর্বে সেই কালিমা একবার হলেও মুছে যাওয়া উচিৎ। অন্তত নিজের মনের কাছে একটিবার সৎ হওয়া উচিৎ।
বিনা শর্তে কারো জন্য কিছু করা
মুখে না বললেও এবং প্রত্যক্ষভাবে নজরে না এলেও অনেকেই নিজের স্বার্থের কথা ভেবেই অন্যকে সাহায্য করে থাকেন। অনেক সময়েই নিজের স্বার্থ না থাকার কারণে অনেককে সাহায্য করা থেকে পিছিয়ে আসতে দেখা যায়। মৃত্যুর পূর্বে অন্তত একটিবার বিনা শর্তে বিনা স্বার্থে কারো জন্য কিছু করে যাওয়া প্রত্যেকের উচিৎ।
নিজের ঈর্ষা ও রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা
কারো মনে কষ্ট দেয়া, খারাপ কোনো কাজ করা, কারো ক্ষতি করা ইত্যাদির জন্ম মূলত ঈর্ষা ও রাগ থেকেই হয়ে থাকে। তাই বাকি খারাপ কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে চাইলে মৃত্যুর পূর্বেই নিজের ঈর্ষা ও রাগকে নিয়ন্ত্রণে আনা শেখা উচিৎ।
নিজের আয়ের কিছু অংশ গরীবদুঃখীদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়া
নিজের অন্তত ১ মাসের বেতনের থেকে কিছুটা অংশ গরীবদুঃখীদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়া উচিৎ সবার। এতে মানসিক যে শান্তি আপনি পাবেন তা আর কোনো ভাবেই পাওয়া সম্ভব নয়।
পছন্দের প্রত্যেকটি মানুষের সাথে দেখা করা
মৃত্যুর ঠিক আগে মানুষের মনে অনেক সময় আফসোস রয়ে যায় নিজের কিছু পছন্দের মানুষকে না দেখতে পাওয়ার জন্য। এই আফসোসে পড়তে না চাইলে আগে থেকেই পছন্দের মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ করে প্রত্যেকের সাথে দেখা করুন।
স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো কিছু করা
মানুষের জন্য এমন কিছু করা উচিৎ যা স্মরণীয় করে রাখবে আপনাকে চিরকাল। মৃত্যুর সময়ে যেন এই সুখে মরতে পারেন, আপনাকে আপনার মৃত্যুর পরও মানুষ মনে রাখবে আপনার কাজের মাধ্যমে।
একবারের জন্য হলেও সত্যিকারের ভালোবাসা
ভালোবাসার অভিনয়তো কতোজনেই করে থাকে। মাঝে মাঝে বাধ্য হয়ে অভিনয় করে যেতে হয় পুরো জীবন। কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে অন্তত একটিবার কাউকে সত্যিকারের ভালো না বাসতে পারলে আফসোস রয়েই যাবে।