এক নজরে টি২০ বিশ্বকাপের পাঁচ ফাইনাল


গত ৮ মার্চ ধর্মশালায় প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠেছিল ষষ্ঠ টি২০ বিশ্বকাপ আসরের। আগামী ৩ এপ্রিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড ম্যাচের মধ্যে দিয়ে শেষ হতে চলেছে প্রায় এক মাসের মারকাটারি টুর্নামেন্ট। ইংল্যান্ড না ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে পড়বে শিরোপা মুকুট? কোটি টাকার এই প্রশ্নের উত্তর রোববারই পাওয়া যাবে। তার আগে বাংলামেইলের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো আগের পাঁচ বিশ্বকাপের ফাইনাল।
ভারত-পাকিস্তান, ২০০৭, দক্ষিণ আফ্রিকা
প্রথম টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল উপমহাদেশের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত-পাকিস্তান। ভারতের ১৫৭ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানকে প্রায় জিতিয়েই দিচ্ছিলেন ইনফর্ম মিসবাহ-উল-হক। টি২০ ক্রিকেটে শেষ চার বলে ৬ রান নেওয়া কঠিন কিছু নয়। কিন্তু যোগিন্দর শর্মার বলে স্কুপ মারতে গিয়ে তিনি ধরা খেলেন ফাইন লেগে শান্তকুমারান শ্রীশান্তের হাতে। মিসবাহ বিশ্বকাপটাই হাত থেকে ফেলে দিলেন। ট্রফি উঠে গেলো ঝাঁকড়া চুলের মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে।
ফাইনালের স্কোরকার্ড:
ভারত: ১৫৭/৫ (২০ ওভার) (গৌতম গম্ভীর ৭৫, রোহিত শর্মা ৩০*, ইউসুফ পাঠান ১৫, যুবরাজ সিং ১৪। উমর গুল ২৮/৩, মোহাম্মদ আসিফ ২৫/১, সোহেল তানভির ২৯/১।)
পাকিস্তান: ১৫২/১০ (১৯.৩ ওভার) (মিসবাহ-উল-হক ৪৩, ইমরান নাজির ৩৩, ইউনিস খান ২৪, ইয়াসির আরাফাত ১৫, সোহেল তানভির ১২। ইরফান পাঠান ১৬/৩, আর পি সিং ২৬/৩, যোগেন্দর শর্মা ২০/২, শ্রীশান্ত ৪৪/১।
ফল: ভারত ৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ইরফান পাঠান (ভারত)। ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট: শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)।
পাকিস্তান-শ্রীলংকা, ২০০৯, ইংল্যান্ড
প্রথম বিশ্বকাপের আক্ষেপ পাকিস্তানকে খুব বেশি দিন বয়ে বেড়াতে হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের দুই বছরের মাথায় ইংল্যান্ডে বসলো দ্বিতীয় টি২০ বিশ্বকাপের আসর। এবার ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ উপমহাদেশেরই আরেক দল শ্রীলংকা। শ্রীলংকার ১৩৮ রান টপকানো কঠিন মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু সঠিক সময়ে নিজেকে আবার প্রমাণ করে আফ্রিদি খেললেন অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস। ৮ বল বাকি থাকতেই শিরোপা উঠে গেল ইউনিস খানের হাতে।
ফাইনালের স্কোরকার্ডঃ
শ্রীলংকা: ১৩৮/৬ (২০ ওভার) (কুমার সাঙ্গাকারা ৬৪*, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস৩৫* সনাথ জয়াসুরিয়া ১৭, চামারা সিলভা ১৪। আব্দুল রাজ্জাক ২০/৩, শহীদ আফ্রিদি ২০/১, উমর  গুল ২৯/১, মোহাম্মদ আমির ৩০/১।)
পাকিস্তান: ১৩৯/২ (১৮.৪ ওভার) (শহীদ আফ্রিদি ৫৪*, কামরান আকমল ৩৭, শোয়েব মালিক ২৪, শাহজাইব হাসান ১৯। সনাৎ জয়াসুরিয়া ৮/১, মুত্তিয়া মুরালিধরন ২০/১।
ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শহীদ আফ্রিদি। ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট: তিলকরত্নে দিলশান।
অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড, ২০১০, ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টি২০ এর সাফল্য দেখেই কি না আট মাস পেরোতে না পেরোতেই আরেকটি টি২০ বিশ্বকাপের আয়োজন করে ফেললো আইসিসি! ফাইনালে মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড। সাধারণের মত ছিল, চ্যাম্পিয়ন হওয়া যাদের নেশা সেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে স্রেফ উড়ে যাবে ইংলিশরা! কিন্তু হলো উল্টো। অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ইংল্যান্ড টি২০ বিশ্বকাপই শুধু জিতলো না একটি ঐতিহাসিক অপবাদের দায়মুক্তিও ঘটালো। আইসিসির বৈশ্বিক কোন টুর্নামেন্টে ওটাই যে ছিল ইংলিশদের প্রথম কোন শিরোপা।
ফাইনালের স্কোরকার্ড:
অস্ট্রেলিয়া: ১৪৭/৭ (২০ ওভার) ( ডেভিড হাসি ৫৯, ক্যামেরন হোয়াইট ৩০, মাইকেল ক্লার্ক ২৭, মাইকেল হাসি ১৭*। রায়ান সাইডবটম ২৬/২, লুক রাইট ৫/১, গ্রায়েম সোয়ান ১৭/১)।
ইংল্যান্ড:  ১৪৮/৩ (১৭ ওভার) ( ক্রেইগ কিসওয়েটার ৬৩, কেভিন পিটারসেন ৪৭,  ইয়ন মরগ্যান ১৫, পল কলিংউড ১২।  স্টিভেন স্মিথ ২১/১, মিচেল জনসন ২৭/১, শন টেইট ২৮/১।
ফল: ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ক্রেইগ কিসওয়েটার। ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট: কেভিন পিটারসেন।
শ্রীলংকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১২, শ্রীলংকা
বহুদিন পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের স্বর্ণযুগের কথা মনে করিয়ে দিল। ওয়ানডে বিশ্বকাপে পরপর দুটি বিশ্বকাপ ট্রফি জয় করা ক্যারিবিয়রা নিজেদের হারিয়ে খুঁজছিল। ঠিক এই সময়ই তারা শ্রীলংকার মাটি থেকে টি২০ বিশ্বকাপ জিতে নিল। লংকানদের ৩৬ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে মারলন স্যামুয়েলসের ৭৮ রানের ইনিংস মনে রাখার মতো। আর দু’দুবার টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা হাতছাড়া করতে হলো শ্রীলংকাকে।
ফাইনালের স্কোরকার্ড:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৩৭/৬ (২০ ওভার) ( মারলন স্যামুয়েলস ৭৮, ড্যারেন স্যামি ২৬, ড্যারেন ব্রাভো ১৯। অজন্তা মেন্ডিস ১২/৪, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ ১১/১,  ধনঞ্জয়া ১৬/১।
শ্রীলংকা: ১০১/১০ (১৮.৪ ওভার) ( মাহেলা জয়াবর্ধনে ৩৩, নুয়ান কুলাসেকারা ২৬, কুমার সাঙ্গাকারা ২২। সুনীল নারিন ৬/৩, ড্যারেন স্যামি ৬/২, মারলন স্যামুয়েলস ১৫/১, স্যামুয়েল বদ্রি ২৪/১, রবি রামপাল  ৩১/১।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৬ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মারলন স্যামুয়েলস। ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট: শেন ওয়াটসন।
ভারত-শ্রীলংকা, ২০১৪, বাংলাদেশ
বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপেরও ফাইনালে উঠলো শ্রীলংকা। প্রতিপক্ষ ভারত। এবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করলো না লংকানরা। ফাইনালে ১৩ বল হাতে রেখে খুব সহজেই ভারতকে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নিলো লাসিথ মালিঙ্গার দল। একই সঙ্গে ফাইনাল না জেতার অতৃপ্তি ঘুচলো মাহেলা জয়াবর্ধনে এবং কুমার সাঙ্গাকারার। মজার ব্যাপার, শ্রীলংকা টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল দিনেশ চান্ডিমালের নেতৃত্বে। কিন্তু ফর্মহীনতায় দলে নিজের জায়গাই হারিয়ে ফেলেন তিনি। টুর্নামেন্টের মাঝপথে লংকানদের দায়িত্ব নেন লাসিথ মালিঙ্গা এবং তার হাতেই উঠে পঞ্চম টি২০ বিশ্বকাপের শিরোপা।
ফাইনালের স্কোরকার্ড:
ভারত: ১৩০/৪ (২০ ওভার) ( বিরাট কোহলি ৭৭, রোহিত শর্মা ২৯, যুবরাজ সিং ১১। রঙ্গনা হেরাথ ২৩/১, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ ২৫/১, নুয়ান কুলাসেকারা ২৯/১।
শ্রীলংকা: ১৩৪/৪ (১৭.৫ ওভার) ( কুমার সাঙ্গাকারা ৫২*, মাহেলা জয়াবর্ধনে ২৪, থিসারা পেরেরা ২৩*, তিলকরত্নে দিলশান ১৮। মোহিত শর্মা ১৮/১, সুরেশ রায়না ২৪/১, রবিচন্দ্র অশ্বিন ২৯/১, অমিত মিশ্র ৩২/১।
ফল: শ্রীলংকা ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কুমার সাঙ্গাকারা। ম্যান অব দ্য টুর্ণামেন্ট: বিরাট কোহলি।