দুই মুসাফির!


দুই দিন ধরে আরিফিন শুভকে ফোন দিচ্ছেন মারজান জেনিফা। উদ্দেশ্য একসঙ্গে ফটোশুট করবেন। কিন্তু একবারও ফোন রিসিভ করেননি শুভ। এ নিয়ে বেশ মন খারাপ মারজানের। অভিমান করেই বললেন, ‘ছবিটা যেন শুধুই আমার। নায়কের কোনো দায়ভার নেই। তা ছাড়া পরিচালকও আছেন অস্ট্রেলিয়ায়। যোগাযোগ করে তাঁকেও পাওয়া যায় না। মনে হচ্ছে, পাবলিসিটির সব দায়িত্ব কেবল আমারই। পত্রিকা অফিস, টিভি চ্যানেল, এমনকি কাকরাইলেও যেতে হচ্ছে। এভাবে কতক্ষণ পারা যায়! এমনিতেই আমি নতুন। কোথায় নায়ক আমাকে একটু হেল্প করবেন, তা না; তিনি ব্যস্ততা দেখাচ্ছেন।’
সত্যিই কি মারজানের ফোন ধরছেন না শুভ! তিনি এখন কোথায়? খবর নিয়ে জানা গেল, সকাল-বিকাল ডাবিং করছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর শুটিং শেষ করে দেশে ফিরেছেন। এখন এই ছবির ডাবিং করছেন। সামনেই মুক্তি পাবে অনন্য মামুনের ‘অস্তিত্ব’। ছবিটির টুকটাক কাজ বাকি। সেখানেও সময় দিতে হচ্ছে। ফলে ‘মুসাফির’ নিয়ে খুব একটা ঢাকঢোল পেটাতে পারছেন না বেচারা।
অবশ্য পহেলা বৈশাখের পুরো দিনটা ‘মুসাফির’-এর পেছনে ব্যয় করেছেন শুভ। আর সেদিনই নায়ককে সর্বশেষ পাশে পেয়েছেন মারজান। টিপ্পনী কেটে বললেন, ‘শুভ ভাইয়া যা ব্যস্ত! এর মধ্যে একটা দিন আমাকে দিয়েছেন, এটাই বা কম কী? ভাবতেই ভালো লাগছে, বিশেষ দিনে আমি তাঁকে পাশে পেয়েছি।’ সেদিন শুভ-মারজান ছিলেন ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবরে। ‘মুসাফির’-এর ব্যানার হাতে নিয়ে টি-শার্ট পরে প্রচারণা চালিয়েছেন। ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন, ছবির গল্প শুনিয়েছেন এবং অটোগ্রাফ দিয়েছেন। ‘আমি সব সময়ই ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করি। সেদিন অনেকের সঙ্গে মিশেছি। একসঙ্গে সবাই দুপুরের খাবার খেয়েছি। সবার সঙ্গে সেলফিও তুলেছি। এবারের পহেলা বৈশাখটা দারুণ কাটল।’
‘মুসাফির’ নিয়ে মারজান যতটা উত্ফুল্ল, শুভ ঠিক ততটা নন। বরং ভয়ে আছেন। কিন্তু কেন? এর মধ্যে ছবিটির ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে। সেটা দর্শক ও প্রদর্শকরাও লুফে নিয়েছেন। চারদিকে প্রশংসার বাণী। তাহলে! বিষয়টি পরিষ্কার করলেন শুভ, “বেশিদিন হয়নি আমি চলচ্চিত্রে। এই স্বল্প অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যে ছবির ট্রেলার সাড়া ফেলে, সেটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের মন জয় করতে পারে না। এর কারণটা কী ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। এর আগে আমার আর আশিক ভাইয়ের ‘কিস্তিমাত’-এর ট্রেলার দেখে সবাই মুগ্ধ হয়েছিলেন। আমরা আকাশছোঁয়া স্বপ্নও দেখেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়েছে। যতটা আশা করেছিলাম, ততটা ফিডব্যাক পাইনি। এবারও কী হবে? সত্যিই ভয় হচ্ছে, বলতে পারেন সংশয়ে আছি।”
মারজানের হাতে এখন কয়েকটি ছবির প্রস্তাব। অনন্য মামুনও তাঁর পরবর্তী ছবিতে চুক্তিবদ্ধ করে রেখেছেন মারজানকে। কিন্তু এখনই শুটিং শুরু করতে রাজি নন মারজান। আগে ‘মুসাফির’ ছবির ফলাফল দেখেতে চান। ছবিতে মারজান ডাক্তার আর শুভ খুনি। মারজানকে খুন করতে গিয়েই প্রেমে পড়েন। মারজান বলেন, ‘হিট করার মতো অনেক উপকরণ আছে ছবিতে। গল্পে রহস্য আছে, মারপিটেও আছে নতুনত্ব। গানও শ্রুতিমধুর। ডাবিং-এডিটিংয়ের সময় ছবির কালার দেখে প্রশংসা করেছেন অনেকেই। বাকিটা দর্শকদের ওপর।’
শুভর হাতে অনেক ছবি। জাকির হোসেন রাজুর ‘প্রেমী ও প্রেমী’র শুটিং শুরু মের প্রথম সপ্তাহে, জুনে করবেন বদিউল আলম খোকনের ‘জানোয়ার’। সোহানুর রহমান সোহানের ‘জেদি’র শুটিং করবেন জুলাইতে। প্রতিটি ছবিই তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন কিছু যোগ করবে বলে মনে করছেন শুভ।