'আজহার' এর ট্রেইলার প্রকাশ (ভিডিও)


ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও অন্যতম কিংবদন্তি ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের জীবনী নিয়ে বলিউডে চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। সাবেক এই ক্রিকেটারকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘আজহার’ দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন অগণিত ক্রিকেটভক্তরা। ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বালাজি মোশন পিকচার্স সম্প্রতি ‘আজহার’ চলচ্চিত্রের অফিসিয়াল ট্রেইলার প্রকাশ করেছেন।
এ উপলক্ষে তারা চলচ্চিত্রটির সব কলা-কুশলীবদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, ইমরান হাশমি, নার্গিস ফখরি, প্রাচী দেসাই, একতা কাপুর এবং ছবির পরিচালক টনি ডি সুজা উপস্থিত ছিলেন।
জীবনীভিত্তিক এই চলচ্চিত্রে আজহারউদ্দিনের ভূমিকায় অভিনয় করছেন অভিনেতা ইমরান হাশমি। অনুষ্ঠানে ইমরান হাশমি বলেন, ‘আজহার চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলা আমার পক্ষে বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল। আজহার চলচ্চিত্রের প্রথম শো দেখার অপেক্ষায় আছি। ক্রিকেটার আজহার উদ্দিনের মূল্যায়ন আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি ছবিটি পছন্দ করেন তাহলে আমাদের সবার পরিশ্রম সার্থক হবে।’
এর আগে চরিত্রটিকে আরও বেশি বাস্তবভিত্তিক করে ফুটিয়ে তুলতে আজহারউদ্দিনের কাছে ব্যাটিং কৌশলও শিখেছেন ইমরান হাশমি। কারণ মুভিতে আজহারউদ্দিনের মতো ব্যাটিং করা হবে ইমরান হাশমির জন্য চ্যালেঞ্জ। তাই পুরো ব্যাপারটি যেন দর্শকদের কাছে আজহারউদ্দিনের মতোই দেখা যায় এজন্য স্বয়ং আজহারউদ্দিনের কাছে ক্রিকেটের কিছু টেকনিক শিখেছেন এই বলিউড অভিনেতা।
ছবি: সংগৃহীত
এ প্রসঙ্গ টেনে হাশমি বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। তিনি খুব স্পষ্টবাদী এবং সংবেদনশীল ব্যক্তি। তিনি আমাকে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, যাতে আমি কাজটা সঠিকভাবে করতে পারি। বাস্তবে আমি ভালো ক্রিকেটার নই, ফলে এটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমার জন্য। হায়দ্রাবাদ এবং লন্ডনে শুটিং করেছি। শুটিং চলাকালীন আমি খুব নার্ভাস ছিলাম।’
ইমরান আরও জানান, ৮০ এবং ৯০ এর দশকে আজহার উদ্দিনের খেলা দেখে বড় হয়েছি। নীল রঙের জার্সি পড়ে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছিল।
ছবি: সংগৃহীত
অন্যদিকে চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা ইমরান সম্পর্কে অনুষ্ঠানের উপস্থিত আজাহারউদ্দিন বলেন, ‘সে খুব ধৈর্যশীল ও অনেক ভাল শিক্ষার্থী। অনেক মানুষই খুব দ্রুত শিখতে পারে না। কিন্তু সে শিখতে চায়।’
যদিও ক্রিকেটে থাকাকালীন আজহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এর জন্য কাউকে দোষারোপ করছি না। এটি আমার ভাগ্যে লেখা ছিল। যখন অভিযোগ থেকে মুক্ত হই তখন আমি, আমার পরিবার, ঘনিষ্ঠজন সবাই অনেক খুশি হয়েছিল।’
ছবির পরিচালক টনি ডি সুজা বলেন, ‘আজহার চলচ্চিত্রে ম্যাচ ফিক্সিং স্ক্যান্ডাল দেখিয়েছি। তবে এই চলচ্চিত্রটির কাহিনিতে এর বাইরেও দেখার মতো অনেক ভালো কিছু রয়েছে। যদিও এটি ‘আত্মজীবনীমূলক’ চলচ্চিত্র, তবুও আমরা চলচ্চিত্রের স্বাধীনতাকে এখানে কাজে লাগিয়েছি। এই স্ক্যান্ডালের চলাকালীন অন্যান্য খেলোয়াড়দের ভূমিকা দেখানোর চেষ্টা করেছি।’
জানিয়ে রাখা ভালো, ‘আজহার’ ছবিটির সব কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী ১৩ মে ছবিটি ভারতসহ বিশ্ববাজারে মুক্তি পাবার কথা রয়েছে।