আশ্চর্য যেসব কারণে হতে পারে অকাল মৃত্যু


সব মানুষকেই কোনো না কোনো পর্যায়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু এটি হতে পারে নানা উপায়ে। অনেকেই জানান, ধূমপান করা ও শারীরিক পরিশ্রম না করার ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে আছে কিছু অবাক করা বিষয়।
বহু নারীই বিভিন্ন কারণে বড় স্তন চান। এর মধ্যে থাকতে পারে আকর্ষণীয় দেখানো। অনেকে স্তনের আকার নিয়ে অসন্তুষ্টিতে ভোগেন। কিন্তু যেসব নারীর স্তনের আকার গড়পড়তা তারাই সবচেয়ে ভাগ্যবান। কারণ স্বাভাবিক স্তনের চেয়ে বড় আকারের স্তনধারীরা বহু শারীরিক সমস্যায় ভোগে। আর এসবের ফলে বহু নারী তাড়াতাড়ি মৃত্যুমুখে পতিত হয় বলে জানা গেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। বড় স্তনধারীরা পিঠ, বাহু ও ঘাড়ের ব্যথায় বেশি ভুগেন। এ ছাড়াও তাদের মাথাব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যা হয়ে থাকে। কাজের সময়েও এটি নানা সমস্যা করে। এসব কারণে বড় স্তনধারী নারীদের গড়ে পাঁচ বছর আগেই মৃত্যু হয়।
২. অতিরিক্ত কফি পান
কফি পান করা একটি চমৎকার অভ্যাস। এর কিছু উপকারিতাও রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে কফি পান করা আপনার বহু স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি করে। আর এসবের ফলে অনেকেই তাড়াতাড়ি মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
মেয়ো ক্লিনিক প্রসেডিংস জার্নালে প্রকাশিত এক লেখায় দেখা যায়, ৫৫ বছর বয়সের নিচের যারা দিনে চার বা তার চেয়ে বেশি কাপ কফি পান করে কিংবা সপ্তাহে ২৮ কাপের বেশি কফি পান করে তাদের বিপদটা অনেক বেশি। পরিসংখ্যানে প্রকাশিত হয়েছে, এ ধরনের ব্যক্তিদের অকালমৃত্যুর হার ৫৬ ভাগ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, কফিতে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এছাড়া এপিনেফরিন উৎপাদন বেড়ে যাওয়া এবং ইনসুলিনের কার্যক্রম থেমে যাওয়ায় এ ধরনের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
৩. দানাদার খাদ্য খাওয়া
অনেকেই দানাদার খাদ্য খাওয়াকে ভালো বলে মনে করেন। কিন্তু খাবারের নানা পুষ্টিকর উপাদান দানাদার খাবার থেকে দেহে প্রবেশ করতে পারে না। খাবারের আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক ও ক্যালসিয়াম এভাবে দেহে প্রবেশ নাও করতে পারে। আর এর ফলে খাবারগুলো দেহে তেমন কোনো কাজে আসবে না।
৪. ঘুমের ওষুধ খাওয়া
বহু মানুষেরই অনিদ্রার মতো সমস্যা হয়। আর এ সমস্যার সমাধানে তারা বেছে নেন ঘুমের ওষুধ। আর ঘুমের ওষুধের সঙ্গে পাওয়া গেছে তাড়াতাড়ি মৃত্যুর একটি সম্পর্ক। দেখা গেছে, যারা ঘুমের ওষুধ সেবন করেন তাদের স্বাভাবিক সময়ের আগে মৃত্যুবরণ করার সম্ভাবনা পাঁচ গুণ বেশি। আর এ ওষুধের ডোজ যদি অতি সামান্যও হয়, তার পরেও মৃত্যুর সম্ভাবনা বাদ যায় না। এর হার হতে পারে বছরে ৪ থেকে ৪৮টি পিল তাহলেও ঝুঁকি কমে না। আর এ ঝুঁকি তাদের ৩.৬ গুণ বেশি।
৫. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া
আপনার যদি ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া অভ্যাস থাকে তাহলে দ্রুত তা বন্ধ করুন। এগুলোর ভেতরে ফ্যাট ছাড়াও থাকে অতিরিক্ত সোডিয়াম। টেক্সাস মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন সতর্ক করে দিয়েছে যে, অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খেলে আপনার মৃত্যু হতে পারে।
অতিরিক্ত লবণের কারণে কিডনির পাথর ও হাইপারটেনশন হতে পারে। আর হাইপারটেনশনের কারণে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
যারা হাইপারটেনশনে ভোগেন তাদের প্রতিদিন ১,৫০০ মিলিগ্রামের চেয়ে কম লবণ গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু ফার্স্ট ফুড খেলে আপনার এ মাত্রা কোনোভাবেই বজায় রাখা সম্ভব হবে না। কারণ ম্যাকডোনাল্ডসের একটি বার্গারেই অনেক সময় ১১০০ মিলিগ্রাম লবণ থাকে। ফলে অন্যান্য খাবারের লবণ গ্রহণ করার পর এ মাত্রা অনেকখানি বেড়ে যায়।
৬. একাকি মানুষ
যেসব মানুষ একাকি বাস করেন, তারা অন্যদের তুলনায় তাড়াতাড়ি মৃত্যুমুখে পতিত হন। তবে এ বিষয়টি ৫২ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য।
ব্রিটিশ একটি গবেষণায় সাড়ে ছয় হাজার ব্যক্তির ওপর সমীক্ষা করে এ ফলাফল পাওয়া যায়। বয়স্ক একাকি ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় বেশি মানসিক সমস্যা ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
৭. অতিরিক্ত বসে থাকা
আপনার যদি অতিরিক্ত চেয়ারে বসে থাকা অভ্যাস থাকে তাহলে তা অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অফ লেইসেস্টারের গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে থাকলে বহু শারীরিক সমস্যা হতে পারে। এটি ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়।
অস্ট্রেলিয়ান এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে ১১ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় চেয়ারে বসে কাটায়, তাদের অকালে মৃত্যুর গড় হার ৪০ ভাগ বেড়ে যায়।
৮. নিঃশ্বাসের বায়ু
শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে আমরা যে বায়ু গ্রহণ করছি, তা যদি বিশুদ্ধ না হয় তাহলে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে আপনি যদি ঢাকার মতো বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরগুলোর একটিতে বাস করেন তাহলে বায়ু দূষণের কারণে হওয়া নানা শারীরিক সমস্যায় মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
গবেষণায় জানা গেছে, বায়ু দূষণের কারণে আপনার মৃত্যুর সময় স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ বছর এগিয়ে আসতে পারে।
৯. মানসিক চাপ ও অসন্তুষ্টিপূর্ণ চাকরি
কর্মক্ষেত্রে যদি অতিরিক্ত চাপ থাকে তাহলে তা মৃত্যুর কারণ হয়।
লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অীতরিক্ত চাপযুক্ত চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের স্বাভাবিকের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২৩ ভাগ বেড়ে যায়। এছাড়া যারা দিনে ১১ ঘণ্টার বেশি কাজ করে তাদের বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আর এভাবেই বেড়ে যায় মৃত্যুর সম্ভাবনা।
১০. যৌন শীথিলতা
উপযুক্ত যৌনতা না করার কারণেও মৃত্যুর হার বেড়ে যায়। অন্যদিকে যারা নিয়মিত যৌনতা করে, তাদের জীবনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত যৌনতা মানুষের রক্ত চলাচল বেড়ে যায়, রক্তচাপ কমায় ও কোলেস্টেরল মাত্রা ঠিক রাখে। এ ছাড়াও যৌনতা মানুষের ওজন কম রাখতে সহায়তা করে।
ডিউক ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী নিয়মিত যৌনতা করে, তাদের জীবনে গড়ে আট বছর যোগ হয়। আর যারা নিয়মিত যৌনতা করে না, তাদের অকালমৃত্যুর হার ৫০ ভাগ বেড়ে যায়।