বিশ্বকাপের ফ্লপ একাদশে মুশফিক


সদ্য সমাপ্ত টি-২০ বিশ্বকাপের আসরে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন বিখ্যাত ক্রিকেটারেরা। তাদের অনেকেই জায়গা পেয়েছেন আইসিসি ঘোষিত সেরা একাদশে। আবার অনেকেই দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পেরে হয়েছেন চরম ব্যর্থ। এবারের টুর্নামেন্টে পুরোপুরি ফ্লপ এমন কিছু ক্রিকেটারকে নিয়েই স্পোর্টস ওয়েবসাইট স্পোর্টসজউইকি বানিয়েছে ফ্লপ একাদশ। যে একাদশে আছেন ভারতের ৩ জন। বাংলাদেশ থেকে এ একাদশে আছেন মুশফিকুর রহিম।
দেখা যাক ফ্লপ একাদশের ক্রিকেটারদের।
১। শিখর ধাওয়ান(ভারত): ফ্লপ একাদশের ওপেনার হিসেবে সবার আগে যে নামটি আসবে, তিনি হলেন ভারতের শিখর ধাওয়ান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তেমন ভালো করতে না পারার ধাওয়ান বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে ফর্ম পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন। ৪ ইনিংসে ৪৩ রান করা ধাওয়ান সর্বোচ্চ করেছেন মাত্র ২৩। সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ হয়নি তার।
২। আলেক্স হেলস(ইংল্যান্ড) : একাদশের দ্বিতীয় নামটি ইংল্যান্ডের হেলসের। সাম্প্রতিক সময়ে অসাধারণ ফর্মে থাকা হেলস ছিলেন এবার ইংল্যান্ডের অন্যতম বাজির ঘোড়া। কিন্তু গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল এমনকি ফাইনালের খুবই প্রয়োজনীয় মুহূর্তেও নিস্প্রভ থেকে দলকে একটা ভালো শুরু এনে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ৪ ইনিংসে মাত্র ১৩ গড়ে ৬৬ রান করেছেন এই হার্ডহিটার।
৩। ডেভিড ওয়ার্নার(অস্ট্রেলিয়া): অস্ট্রেলিয়ার এই মারকুটে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ৪ ইনিংসে ৯.৫ গড়ে মাত্র ৩৮ রান তোলা ওয়ার্নার এই বিশ্বকাপকে ভুলেই যেতে চাইবেন।
৪। ইয়ন মর্গান(ইংল্যান্ড): ইংল্যান্ড ফাইনালে খেললেও ৬ ইনিংসে মাত্র ৬৬ রান তোলা মর্গানের ব্যর্থতা ইংল্যান্ডকে ভুগিয়েছে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই। শুধু দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসাই না, জন্মসূত্রে আইরিশ এই ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। অধিনায়ক ব্যর্থ হলে তার প্রভাব তো পুরো দলেই পড়ে!
৫। সুরেশ রায়না(ভারত) : তালিকায় পাঁচ নম্বর নামটি ভারতের মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা সুরেশ রায়নার। মাঝের ওভারগুলোতে নেমে দ্রুত রান তোলার জন্য বিখ্যাত রায়না এবারের বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচে তুলেছেন মাত্র ৪১ রান। যার ৩০ রানই পাকিস্তানের বিপক্ষে। মাত্র ১০ গড় কোনভাবেই তার ক্যালিবারের সাথে যায় না।
৬। মুশফিকুর রহিম : তামিম ইকবালের মতে বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকরী টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম এবারের বিশ্বকাপে একেবারেই জ্বলে উঠতে পারেননি। মাত্র ১১ গড়ে পাঁচ ইনিংসে ৪৪ রান তোলা মুশফিকের ফর্মহীনতা বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে বিশ্বকাপের পুরোটা সময়।
৭। রবীন্দ্র জাদেজা : লোয়ার মিডল অর্ডারে ভারতের অন্যতম ভরসা রবীন্দ্র জাদেজা বল হাতেও দলকে কার্যকর সমর্থন যোগান। এবারের বিশ্বকাপে তার কোনটাই পায়নি ভারত। ওভার প্রতি গড়ে সাত রান এবং ম্যাচ প্রতি গড়ে ২৮.৫০ দিয়েও গুরুত্বপুর্ন সময়ে উইকেট পেতে ব্যর্থ এই অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে দুবার নামার সুযোগ পেয়ে করেছেন মাত্র ১২ রান।
৮। রবীচন্দন অশ্বিন(ভারত): বল হাতে তাকে ভারতের প্রধান স্ট্রাইক বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে স্পিনারদের বিপুল বিক্রমের মাঝে ৫ ম্যাচে ১৫ ওভার বল করে ১১৫ রান দিয়ে মাত্র ৪ উইকেট পাওয়া অশ্বিনের বাজে পারফরম্যান্স দলকে পিছিয়ে দিয়েছে অনেক ক্ষেত্রেই। এই ফ্লপ একাদশে তিনি চতুর্থ ভারতীয়
ক্রিকেটার।
৯। মোহাম্মদ সামী(পাকিস্তান): পাকিস্তান বোলিং আক্রমণে তিনি ছিলেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ। অথচ গ্রুপ পর্বের ৪ ম্যাচে ১০ ওভার বল করে ৯৪ রান দিয়ে দলকে ডোবাতে তিনিই রেখেছেন অগ্রনী ভূমিকা। ৪ উইকেট পেয়েছেন বটে, তবে সেটা বিশ্বকাপে পাকিস্তানের জঘন্য পরিনতি ঠেকাতে পারেনি।
১০। কাগিসো রাবাদা(দক্ষিণ আফ্রিকা): ওয়ানডে অভিষেকে বিশ্ব কাঁপিয়ে দিলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা দুঃস্বপ্নের মতই কাটলো দক্ষিন আফ্রিকান নতুন সেনসেশন কাগিসো রাবাদার। ১১.৪ ওভার করেছেন তিনি এই বিশ্বকাপে, গোটাকয়েক উইকেট পেলেও দলের জন্য ক্রুশিয়াল মুহূর্তগুলোয় ব্রেকথ্রু দিতে ব্যর্থ এই পেসার রানও ঠেকাতে পারেনি। ওভার প্রতি গড়ে দিয়েছেন ১০.৭১!
১১। ডেইল স্টেইন: তিনি ছিলেন দলের প্রধানতম বোলার। দ্যা গ্রেইট ডেইল স্টেইন! গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়া দক্ষিন আফ্রিকার জন্য স্টেইন হয়ে রইলেন এ বিশ্বকাপের প্রধানতম হতাশাও। ছয় ওভার বল করে ৬৮ রান গুনেছেন তিনি। একটা উইকেট পেয়েছেন বটে, কিন্তু আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদের নির্দয় পিটুনি তার এক উইকেটের আনন্দ ভুলিয়ে দিয়েছে নিশ্চয়ই!