ওজন কমানোর ১৬ খাবার

মানুষ ওজন কমাতে কত কিছুই না করে! কিন্তু ব্যায়াম, দৌড়ঝাপ, ডায়েট এসব সত্ত্বেও ওজন যেন কিছুতেই কমছে না। ফলে ওজন কমানোর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেকে।  ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তা কমাতে সহায়ক কয়েকটি খাবার নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো :


দারুচিনি: ওজন কমাতে দারুচিনি সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। এটি শরীরের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়মিত দারুচিনি খেলে খিদে কমে যায় এবং মেদ গলতে শুরু করে। পেটের রোগ, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টাইফয়েড, যক্ষ্ণা এবং ক্যান্সারেও দারুচিনি উপকারি। ১ থেকে ৪ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো বিপাকে দ্রুত ভূমিকা রাখে, যা শরীরে সামগ্রিকভাবে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়।


 আদা: ওজন কমাতে আদার জুড়ি মেলা ভার। গবেষণায় জানা গেছে, ডায়বেটিসের সমস্যাতে আদা খুব কাজে লাগে। পেট পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও এটি উপকারি। আদা পাচনতন্ত্রে জমে থাকা খাবার পরিষ্কার করে দেয়। ফলে চর্বি কম জমায় ওজন বাড়ে না।


লাল মরিচ: লাল লঙ্কায় ক্যাপসিক্যাম নামে যৌগ থাকে , যা ওজন কম করার পাশাপাশি খিদেও নিয়ন্ত্রণ করে। গবেষণায় জানা গেছে, লাল লঙ্কা মেটাবলিজম বাড়ায়, যার ফলে বেশি ক্যালরি বার্ন হয়।


জিরা: বদহজম, পেট ফোলা এবং খাবারে অরুচি হলে জিরা খান। পাইলস হলে মিছরির মধ্যে জিরা মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জিরা আমাদের শরীরে অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি করে। তাই এটি নিয়মিত খেলে ওজন কমে।


নারকেল তেল: গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মহিলা ১২ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন দুই টেবিল চামচ করে নারকেল তেল খান তাদের তলপেটের চর্বি কমে। মেটাবলিজম বাড়ায়। যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।


সামুদ্রিক মাছ: খাবারের তালিকায় সামুদ্রিক মাছ বিশেষ করে স্যামন বা টুনা মাছ মেদ কমানোর জন্য খুবই উপযোগী। এসব সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। এ এসিড মেদ বৃদ্ধিতে দায়ী চর্বিকে পোড়াতে এবং শরীরে ভালো চর্বির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সামুদ্রিক মাছ থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায়, তার নাম ‘পলিআনস্যাচুরেটেডফ্যাট’। তাই বাদাম ও জলপাই তেলের মতো সামুদ্রিক মাছের ফ্যাটও ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে।


সবুজ চা: সবুজ চা ওজন কমানোর জন্য খুব সহায়ক। এর প্রতিটি দানায় রয়েছে মানুষের শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক পলিফেনল ও কোরোজেনিক এসিড। এটি হজম ক্ষমতা বাড়ায় যা শরীরের ওজন কমানোর প্রধান শর্ত।


কুসুমহীন ডিম: সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাশতায় ডিম খেলে তা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ভিটামিন বি ১২, যা দ্রুত চর্বি কমাতে সহায়তা করে। যারা নিয়মিত ডায়েট করেন, তারা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটি করে ডিম রাখতে পারেন। তবে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলা ভালো।


অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল হচ্ছে ৮৫ শতাংশ অয়েলিক এসিড, যা পরিপাক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ অলিভ অয়েল খাওয়ার অভ্যাস করলে তা শরীরে মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।


 লেবু: লেবু শরীরের মেদ কমাতে সাহায্য করে। গরম পানিতে লেবুর রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াটা ওজন কমানোর একটি কার্যকর উপায় হিসেবে স্বীকৃত।


 যব: যবে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, যা দ্রুত ওজন কমায়। যারা খুব বেশি ওজন নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন, তারা প্রতিদিনের নাস্তায় যব রাখতে পারেন।


আপেল: আপেলে ৪-৫ গ্রাম ফাইবার আছে যা চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এটি ক্ষুধা কমাতেও সাহায্য করে।


আখরোট: আখরোটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাট আলফা-লিনোলেনিক এসিড যা দেহের মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।


ইসবগুল: ইসবগুলে রয়েছে মিউসিলেজ ও হলোসাইড প্ল্যানটিওসসহ বিভিন্ন ধরনের এমাইনো এসিড। এসব এসিড আমাশয় দূর করে। রোজ রাতে শোয়ার আগে ইসবগুল খেলে ওজন অনেকটাই কমে যায়।


এলাচ: এতে রয়েছে টর্পিন, টর্পিনিনোল, সিনিওল, টর্পিনিল এসিটেট নামক রাসায়নিক যা শরীরের ওজন কমাতে কাজ করে।


মৌরি : মৌরি খেলে পাচনতন্ত্র আরও ভালো হয় এবং খিদেও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া মৌরি লিভার পরিষ্কার রাখে।