ফেলনা আম আঁটির অসাধারণ গুণ

চলে এলো পাকা আমের মওসুম। অনেকের গ্রামের বাড়ি থেকে আসবে বস্তাভর্তি আম। আর যাদের গ্রামের বাড়ি নেই বা গ্রামের বাড়িতে আমগাছ নেই তারা বাজার থেকে আনবেন ব্যাগভর্তি করে। বাসায় এসে যখন আয়েশ করে আম কেটে খাচ্ছেন তখন কিন্তু আঁটিটা কোনোকিছু না ভেবেই ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছেন। কিন্তু এই ফেলনা জিনিসটা ঔষুধি গুণ জানলে ফেলে দেয়ার আগে নিশ্চয়ই মায়া হবে। জেনে নিন সেসব গুণ:

                                                                             

দাঁত: আমের আঁটি শক্ত আবরণ ছাড়িয়ে ভেতরের সাদা নরম অংশটি শুকিয়ে পাউডার বানিয়ে রেখে নিন। টুথপেস্টে বা টুথপাউডারের বদলে এই পাউডার দিয়ে দৈনিক রোজ দাঁত মাজুন, দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
খুশকি: সাদা অংশটি ছেঁচে আম আঁটির মাখন তৈরি করে নিন। বাজারেও পাবেন। সরিষার তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। ঘণ্টাখানেক রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। খুশকির সঙ্গে অ্যালোপেসিয়া, চুল পড়ার মতো সমস্যা থেকেও মুক্তি মিলবে।
ডায়েরিয়া: আঁটিটি শুকিয়ে চূর্ণ করে রেখে দিন। ডায়েরিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে মধুর সঙ্গে ১-২ গ্রাম চূর্ণ মিশিয়ে দিনে তিনবার সেবন করুন। ফল পাবেন।
মুটিয়ে যাওয়া: আম আঁটির নির্যাস ওজন কমাতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়।
হৃদরোগ: দৈনিক নিয়ম মেনে আঁটির নির্যাস খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। উচ্চ রক্তচাপ থেকে মিলবে মুক্তি
চুল: আমের আঁটিতে প্রচুর পরিমাণে অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড, মিনারেল এবং ভিটামিন থাকে যা চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখে। আঁটির শক্ত অংশটি ছাড়িয়ে নারকেল, অলিভ বা সরিষার তেলের মধ্যে ডুবিয়ে কয়েক সপ্তাহের জন্য সূর্যালোকে রেখে দিন। নিয়ম করে দৈনিক চুলে লাগান। চুল ঘন, কালো আর উজ্জ্বল রাখবে।
ত্বক: আম আঁটির তেল খুব ভালো ময়শ্চারাইজারের কাজ করে। ত্বককে টানটান রাখতে সাহায্য করে।
ঠোঁট: আঁটি প্রাকৃতিক লিপ বামের কাজ করে। রাতে শুতে যাওয়ার আগে আম আঁটির ঘি শুষ্ক ঠোঁটে লাগান। মৃত কোষ সারিয়ে তোলে এবং ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখে।
ব্রণ: আঁটি চূর্ণ করে তা টমেটোর সঙ্গে মিশিয়ে নিন। মুখে সমানভাবে মিশ্রণটি লাগিয়ে নিন। ব্রণ থেকে মুক্তি পাবেন। এছাড়াও ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ দূর করে এবং ব্ল্যাকহেডস‌ সারিয়ে তুলতে পারে।
হজম: শুকনো করে রাখা আঁটিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। যা অ্যাসিডিটি দূর করে হজমে সাহায্য করে।
                                                                                                                         -শাম্মী আখতার