চোখ ধাঁধানো মিলনমেলা গুগলের

মূল অনুষ্ঠান তখনো শুরু হয়নি৷ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ের শোরলাইন অ্যাম্ফিথিয়েটারে তখন হাজার সাতেক মানুষ মেতে উঠেছে অন্যরকম এক খেলায়৷ হাতের মোবাইল ফোনটিকে সবাই যেন কাগজের উড়োজাহাজের মতো উড়িয়ে দিচ্ছে৷ আর তখনই হরেক রঙে রঙিন উড়োজাহাজ দেখা যাচ্ছে বিরাট পর্দায়৷ পুরো প্রাঙ্গণ দেখল আমাদের উড়োজাহাজ ঢাকা থেকে ছেড়ে থেমেছে লন্ডনে৷ এ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা৷ সাত হাজার মানুষ একসঙ্গে খেলছে রঙিন আকাশে৷ কখনোবা সবাই মিলে আঁকছে কোনো ছবি৷ চোখ ছানাবড়া করার এমন সব আয়োজনই অনুষ্ঠানের প্রতিটি অংশে। গুগল আইও এমনই৷ গুগলের এই বার্ষিক সম্মেলন প্রযুক্তি বিশ্বের চিন্তার সীমানা বাড়িয়ে দেয়৷

 চোখ ধাঁধানো মিলনমেলা গুগলের

এবার আইওর আয়োজন ছিল দশমবারের মতো৷ ২০০৬ সালে গুগল আইও শুরু হয়েছিল অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশে, গুগলের নিজ বাড়ি গুগলপ্লেক্সের আঙিনায়৷ এরপর প্রতিবছর আইওর পরিসর বেড়েছে অনেক৷ এ বছর আইও ফিরে এসেছে নিজ বাড়িতে, গুগলপ্লেক্স-সংলগ্ন মাউন্টেন ভিউয়ের শোরলাইন অ্যাম্ফিথিয়েটারে। ১৮ থেকে ২০ মে আয়োজন হয়েছে সবচেয়ে বড় আইওর৷ শতাধিক দেশের সাত হাজার মানুষ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন আইওতে৷ বাংলাদেশ থেকে এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা চারজন৷ আমি গিয়েছিলাম গুগল ডেভেলপার গ্রুপ (জিডিজি) বাংলার প্রতিনিধি হয়ে৷ বাকিরা হলেন জিডিজি ঢাকার মাহবুব হাসান, জিডিজি সোনারগাঁয়ের ইশতিয়াক রেজা ও উইমেন টেকমেকার্সের রাখশান্দা রুখহাম৷
গুগলের সেরা নতুন ৭
গুগল আইওর মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই থাকে সব বড় ঘোষণা৷ এ বছর দুই ঘণ্টার এই রোমাঞ্চকর পর্বটি পরিচালনা করেন গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই৷ ছোট-বড় অনেকগুলো প্রযুক্তি আর চমকের ঘোষণা এসেছে৷ এর মধ্যে সাতটি তুলে ধরা হলো।
১. গুগল অ্যাসিসটেন্ট: সুন্দর পিচাই সবচেেয় আশাবাদী এই সেবা নিয়ে৷ কণ্ঠনির্ভর তথ্য খোঁজার বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসছে ‘গুগল অ্যাসিসটেন্ট’ নামে। গুগলের কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা আর অভিনব তথ্যবিন্যাসে সাজানো এই সেরা মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে দেবে বলে বিশ্বাস সুন্দর পিচাইয়ের৷ এর সাহায্যে মুখের কথায় আরও সহজে কাজ করবে অ্যান্ড্রয়েড-চালিত যেকোনো যন্ত্র। তিনি একটি উদাহরণ দেন৷ ধরেন, আপনি কোনো একটি বিখ্যাত স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে কোনো নাম না নিয়ে শুধু বললেন, ‘এটি কে তৈরি করেছে?’ গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট তখন ঠিক উত্তরসহ প্রাসঙ্গিক সব তথ্য দেবে আপনাকে।
২. গুগল হোম: গান শোনা, টিভি কিংবা ভিডিও দেখা থেকে শুরু করে গৃহস্থালির নানান কাজ আরও সহজ করে দিতে আসছে গুগল হোম৷ গুগল নেস্টের অভিজ্ঞতা পুরোটাই বদলে দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট-চালিত এই গ্যাজেট৷ গুগল হোম বাজারে আসবে এ বছরের শেষ প্রান্তিকে৷
৩. অ্যালো: গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিতে নতুন ধরনের এক বার্তা আদান-প্রদানের অভিজ্ঞতা করিয়ে দিতে আসছে ‘অ্যালো’ নামের এক মেসেঞ্জার। সাধারণ বার্তা আদান-প্রদান সেবার বাইরে এটি নিজ থেকেই অনেক বার্তা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য তৈরি করে দেবে৷
৪. ডুয়ো: এটি গুগলের নতুন ভিডিও বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ্লিকেশন৷ এখানে কল রিসিভ করার আগেই যিনি কল করছেন, তাঁর ছবি ও অভিব্যক্তি দেখা যাবে৷
৫. অ্যান্ড্রয়েড এন: অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের নতুন সংস্করণ৷ কোনো অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল না করেও ওয়েব থেকে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে এতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বেশ কিছু সুবিধা যুক্ত হচ্ছে এতে৷ নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এটিতে৷
৬. ডেড্রিম: গুগল এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটির উন্নয়নে। অ্যান্ড্রয়েডে ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটিকে নতুন করে তুলে ধরবে ‘ডেড্রিম’ সিরিজের নানান সেবা। সে জন্য তারা ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি দেখার নিজস্ব যন্ত্রও নিয়ে আসছে।
৭. অ্যান্ড্রয়েড ওয়্যার ২.০: স্মার্ট ঘড়ির প্রযুক্তিতে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসছে এই নতুন সংস্করণ৷ অন্য আরেকটি মোবাইল ফোনের সঙ্গে যুক্ত না থেকেই এটি নিজের মতো করে চলতে পারবে৷

সংখ্যায় গুগল
গুগল আইওতে সুন্দর পিচাই কিছু তথ্য তুলে ধরেন৷ সংখ্যায় সংখ্যায় সেগুলো তুলে ধরা হলো৷
৩০ কোটি থেকে ৩০০ কোটি
১৭ বছর আগে গুগল প্রতিষ্ঠার সময় সারা পৃথিবীতে ৩০ কোটি মানুষ ইন্টারনেটে যুক্ত ছিল৷ এখন ৩০০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে৷
৯২%
এখন পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শীর্ষ ১২৫টি মোবাইল অ্যাপের ৯২ শতাংশ তৈরি হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও ব্যবহার করে৷
৫০%
এখন গুগলে ৫০ শতাংশ তথ্য খোঁজা হয় মোবাইল ফোন থেকে।
২০%
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গুগলে যত তথ্য খোঁজা হয়েছে, তার ২০ শতাংশ ছিল ভয়েসনির্ভর সার্চ৷
১৪০ বিলিয়ন
গুগল ট্রান্সলেট প্রতিদিন ১০০টি ভাষায় গড়ে ১৪০ বিলিয়ন শব্দ অনুবাদ করে৷
আড়াই কোটি
এখন পর্যন্ত আড়াই কোটি ক্রোমকাস্ট বিক্রি হয়েছে৷
২৪ বিলিয়ন সেলফি
গত বছর গুগল ফটোসে ২৪ বিলিয়ন সেলফি জমা হয়েছে

মূল অনুষ্ঠান তখনো শুরু হয়নি৷ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ের শোরলাইন অ্যাম্ফিথিয়েটারে তখন হাজার সাতেক মানুষ মেতে উঠেছে অন্যরকম এক খেলায়৷ হাতের মোবাইল ফোনটিকে সবাই যেন কাগজের উড়োজাহাজের মতো উড়িয়ে দিচ্ছে৷ আর তখনই হরেক রঙে রঙিন উড়োজাহাজ দেখা যাচ্ছে বিরাট পর্দায়৷ পুরো প্রাঙ্গণ দেখল আমাদের উড়োজাহাজ ঢাকা থেকে ছেড়ে থেমেছে লন্ডনে৷ এ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা৷ সাত হাজার মানুষ একসঙ্গে খেলছে রঙিন আকাশে৷ কখনোবা সবাই মিলে আঁকছে কোনো ছবি৷ চোখ ছানাবড়া করার এমন সব আয়োজনই অনুষ্ঠানের প্রতিটি অংশে। গুগল আইও এমনই৷ গুগলের এই বার্ষিক সম্মেলন প্রযুক্তি বিশ্বের চিন্তার সীমানা বাড়িয়ে দেয়৷