স্মার্টফোন মার্কেটে ধারাবাহিক সাফল্যের আরও এক নতুন সংযোজন- স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট৭। এটি বড় আকৃতির স্ক্রীনের স্মার্টফোনের বাজারে স্যামসাং এর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এতে রয়েছে উদ্ভাবনী সব ফিচার। এই স্মার্টফোনটি তৈরি করা হয়েছে নিখুঁত কারিগরি পদ্ধতি, প্রিমিয়াম উপকরণ এবং একটি অনন্য, সিমেট্রিকাল এজ ডিজাইনের সমন্বয়ে। গ্যালাক্সি নোট৭ কাজ এবং বিনোদনের মধ্যে এমন ভারসাম্য নিয়ে আসে যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একটি স্মার্টফোন দিয়ে যেসব কাজ করার কথা চিন্তা করেন তার চেয়েও বেশি করতে সক্ষম হবেন। স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স-এর মোবাইল কমিউনিকেশন বিজনেস-এর প্রেসিডেন্ট ডিজে কোহ্ বলেন, “গ্যালাক্সি নোট৭ কার্যক্ষমতা, বিনোদন এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ফিচারের সমন্বয়ে গঠিত। শক্তিশালী ইকোসিস্টেম দ্বারা পরিচালিত এই ডিভাইসটি অধিক চাহিদাশীলদের তাদের জন্য একটি আদর্শ সমাধান”। তিনি আরও বলেন, “আগের থেকে আমাদের জীবনের গতি আরও দ্রুত হয়েছে তাই আমরা গ্যালাক্সি নোট৭ নিয়ে এসেছি যা সর্বাবস্থায় যে কোনো প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করবে”। গ্যালাক্সি নোট৭-এর এস পেন শুধু একটি লেখার অনুষঙ্গের চেয়ে বেশি কিছু। এটি কোনো কিছু দক্ষ এবং সঠিকভাবে করার শুরু। এর অলওয়েজ অন ডিসপ্লে মোডের মাধ্যমে স্ক্রিন অফ মেমো ব্যবহার করে গ্রাহকরা স্ক্রিনকে আনলক না করেই ভাবনাগুলো লিখে ফেলতে পারবেন। এই এস পেনটি  স্ক্রিন স্পর্শ না করেই গ্রাহকদের আরও দেবে স্মার্ট নির্বাচনের সাথে সহজেই জিআইএফ অ্যানিমেশন তৈরি, শেয়ার এবং নিউ এয়ার কমান্ড ফাংশন, বর্ধিতকরণ এবং অনুবাদ করার সুযোগ যা গ্রাহকদের স্ক্রিনে জুম ইন অথবা ভাষা অনুবাদের সুবিধা দেবে। এস পেন- এর সৃজনশীল দক্ষতার মাধ্যমে স্যামসাং নোট সিরিজ ব্যবহার আরও সহজতর হয়েছে। একটি নতুন সমন্বিত অ্যাপ ব্যবহারকারীদের হাতে লেখা নোট, ড্রয়িং অথবা মেমো একই স্থানে সংরক্ষণ ও এডিট করতে সক্ষম। এই নতুন এস পেন দিয়ে স্পষ্টভাবে ও আরামদায়কভাবে লেখা যায়। এর অতি সুক্ষ্ম ০.৭ মি.মি. টিপ এবং উন্নত প্রেসার সেন্সসিটিভিটি গ্রাহকদের দেয় সত্যিকার কলম ব্যবহারের অনুভূতি। গ্যালাক্সি নোট৭ এস পেন- এ রয়েছে আইপি৬৮ পানি রোধক ফিচার যা গ্রাহকদের দেবে মানসিক প্রশান্তি, এতে ব্যবহারকারীরা ভেজা স্ক্রিনেও নির্বিঘ্নে নিজেদের ভাবনাগুলোকে লিখে ফেলতে পারবেন। স্যামসাং গ্রাহকদের ফোনের বিষয়বস্তুগুলোর নিরাপত্তার গুরুত্ব বোঝে। ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নক্সকে সাথে করে স্যামসাং- এর গ্যালাক্সি নোট৭-এ নিয়ে এসেছে ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার এবং আইরিস স্ক্যানিং প্রযুক্তিসহ অত্যাধুনিক মানের বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন, উন্নতমানের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা। নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত সূচনা করবে আইরিস স্ক্যানার যার মাধ্যমে শুধুমাত্র ফোন ব্যবহারকারীর চোখ স্ক্যান করে ফোন আনলক করা যাবে। গ্যালাক্সি নোট৭ দিচ্ছে একটি ব্যবহারকারীর নতুন মাত্রার আত্মবিশ্বাসী নিরাপদ ফোল্ডার। এই ফোল্ডারটিতে রয়েছে একটি বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখে। গ্যালাক্সি নোট৭ ডিভাইসটি স্যামসাং পাস সহায়ক। এতে অন্যান্য অ্যাপস-এ এবং সার্ভিসে, আইরিশ স্ক্যানিং এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। একজন ব্যবহারকারীর জীবনে ফোন একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ, কারণ এটি তার সাথে সব সময় থাকে। গ্যালাক্সি নোট৭- এ রয়েছে একটি জমকালো ৫.৭ ইঞ্চি কার্ভড সুপার অ্যামোলেড স্ক্রিন যা ব্যবহারকারীকে দেয় চোখধাঁধানো এবং চিত্তাকর্ষক ইমারসিভ ছবি। এটি এইচডিআর ভিডিও চালাতে সক্ষম। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা ভিডিও দেখতে পাবেন উজ্জ্বল রং, গভীর কালো যা একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা দেখাতে চান। এতে আরও রয়েছে গেম প্যাক, যাতে করে গুগল প্লে-এর মাধ্যমে শীর্ষ গেমগুলো সহজেই পাওয়া যায় এবং একজন ব্যবহারকারী এটি সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন এবং নতুন সব সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। উদ্ভাবনী ডিজাইনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে যথার্থ অভিজ্ঞতা দিতে স্যামস্যাং, গ্যালাক্সি নোট৭- এ কারিগরি দক্ষতা অব্যাহত রেখেছে। দীর্ঘস্থায়ী কর্নিং গরিলা গ্ল্যাস ৫ থাকার পরও ফোনটি ব্যবহারকারীকে হাতের মুঠোয় আরামদায়ক অনুভূতি দেয় এবং এক হাতে সহজেই ব্যবহারের জন্য স্যামস্যাং এই ডিভাইসের প্রতিটি এজ,  পৃষ্ঠ এবং ডিটেইল-এ রিফাইন করেছে। যদিও নোট৭ এ একটি বড় স্ক্রিন আছে, এটি সামনে-পেছনে ডুয়েল কার্ভড এজ এর ভারসম্য বজায় রেখেছে এবং এর হালকা ওজন ও মসৃণতা ব্যবহারকারীদের কাছে গ্যালাক্সি সিরিজের জনপ্রিয় ফিচার। কার্ভড স্ক্রিন ফিচারটি গ্যালাক্সি নোট৭ শক্তিশালী এজ প্যানেল রয়েছে যা ব্যবহারকারীদের দেবে এক টাচে অ্যাপ্লিকেশন, নিউজ এবং ফাংশন ব্যবহারের সুযোগ। গ্যালাক্সি এস৭ এজ- এর অত্যাধুনিক ক্যামেরাটি গ্যালাক্সি নোট৭ এ নিয়ে আসা হয়েছে। এর ডুয়েল পিক্সেল সেন্সর প্রযুক্তি, ওয়াইড অ্যাপারচার এবং দ্রুত অটো ফোকাস ফিচার কম আলোতেও দেবে স্পষ্ট এবং চমকপ্রদ ছবি। এতে আরও রয়েছে, ৬৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরি, গ্যালাক্সি নোট৭ দিচ্ছে মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ২৫৬ গিগাবাইট পর্যন্ত মেমোরি ব্যবহারের সুবিধা। এর ব্যাটারি ৩,৫০০ এমএএইচ। এতে রয়েছে স্মার্ট ম্যানেজারের মাধ্যমে সহজ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইউএক্স এবং দ্রুত চার্জের জন্য ইউএসবি-সি পোর্ট। এই গ্যালাক্সি নোট৭-এ আপনি পাবেন ওয়ারলেস চার্জার বিশেষ করে স্যামসাং-এর ফাস্ট চার্জার ওয়ারলেস প্যাডস। গ্যালাক্সি নোট৭-এর প্রি-বুকিং দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশে গোল্ড প্লাটিনাম এবং ব্ল্যাক অনিক্স কালারে পাওয়া যাবে।


হালের স্মার্টফোনসমূহের অন্যতম আকর্ষণীয় ফিচার হলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর সুবিধাযুক্ত স্মার্টফোন কিনতে গেলে ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ গুণতে হতো! আর তাইতো ক্রেতাদের কষ্ট লাঘবে ওয়ালটনের নতুন সংযোজন Walton Primo H6; মাত্র ৯,৪৯০ টাকা দামের এই ফোনে আরও আছে অ্যান্ড্রয়েড মার্শম্যালো অপারেটিং সিস্টেম, BSI সেন্সরযুক্ত ১৩ মেগাপিক্সেলের অটোফোকাস রেয়ার ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা, ২ গিগাবাইট র‍্যাম, ফোরজি সুবিধা ও আকর্ষণীয় নানা ফিচার। ওয়ালটনের নতুন ফোন Primo H6 এর বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন, ইউজার ইন্টারফেস, ব্যাটারি ব্যাকআপ, গেমিং পারফরম্যান্স, বেঞ্চমার্ক স্কোর, ক্যামেরা পারফরম্যান্স প্রভৃতির বিশ্লেষণধর্মী তথ্য নিয়ে প্রিয়টেকের এবারের আয়োজন Walton Primo H6 এর Exclusive Hands-on Review
Primo H6 hands-on
চলুন তাহলে রিভিউয়ে শুরুতে একনজরে Primo H6 এর উল্লেখযোগ্য ফিচারসমূহ দেখে নেওয়া যাক-
  • অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শম্যালো অপারেটিং সিস্টেম
  • গরিলা গ্লাস ৩ সমৃদ্ধ ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে
  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ১.০ গিগাহার্টজ গতির কোয়াডকোর প্রসেসর
  • ২ গিগাবাইট র‍্যাম
  • মালি-টি৭২০ জিপিউ
  • ১৩ মেগাপিক্সেলের রেয়ার ক্যামেরা
  • ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ফোরজি সাপোর্ট
  • ২৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি
Primo H6 hands-on
বিস্তারিত রিভিউ শুরু করবো Primo H6 এর Unboxing দিয়ে-
আনবক্সিং: Primo H6 কেনার পর আপনি এর সাথে যা যা পাবেন-
  • চার্জার অ্যাডাপ্টার
  • ডাটা ক্যাবল
  • ইয়ারফোন
  • ইউজার ম্যানুয়াল
  • ওয়ারেন্টি কার্ড
অপারেটিং সিস্টেম: অপারেটিং সিস্টেমের দিক দিয়ে এন্ট্রি লেভেলের প্রায় সব ফোন থেকেই এগিয়ে রয়েছে Primo H6, কেননা এতে অ্যান্ড্রয়েডের আপডেটেড সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শম্যালো অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। 
Primo H6 os
বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইনঃ বেশ নজরকাড়া ডিজাইনের প্রিমো H6 অনায়াসেই আপনার নজর কাড়বে। ফোনটির ৩.৫ মিলিমিটার অডিও পোর্টটি রয়েছে উপরের দিকে আর ইউএসবি পোর্ট রয়েছে নিচের দিকে। এর ভলিউম কী ও পাওয়ার কী উভয়ই একপার্শ্বে দেওয়া হয়েছে। 
Primo H6 hands-on
এই ফোনের সামনের দিকে উপরের অংশে আছে ফ্ল্যাশলাইট, ফ্রন্ট ক্যামেরা, প্রক্সিমিটি সেন্সর আর নোটিফিকেশন লাইট। এর স্পিকার, রেয়রা ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ রয়েছে পেছনের অংশে। এই ফোনের হোম/মেনু, অপশন ও ব্যাক – এই তিনটি বাটনই অনস্ক্রিন। এর হোম বাটনে দেওয়া হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। 
Primo H6 front
১৪৩.২ মিলিমিটার উচ্চতার এই ফোনটি প্রস্থে ৭১.২ মিলিমিটার আর এর পুরুত্ব মাত্র ৮.৪ মিলিমিটার। ব্যাটারিসহ এই ফোনের ওজন ১৪১ গ্রাম। 
Primo H6 front
ডিসপ্লে: এই ফোনে ৫ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ডিসপ্লের রেজ্যুলেশন হলো ১২৮০x৭২০ পিক্সেল আর পিক্সেল ডেনসিটি ২৯৪ পিপিআই। ফোনটির ডিসপ্লের নিরাপত্তায় গরিলা গ্লাস ৩ ব্যবহৃত হয়েছে। 
Primo H6 display
ইউজার ইন্টারফেস: ডিজাইন ও ডিসপ্লে নিয়ে তো কথা হলো, এবার চলুন এই ফোনটির ইউজার ইন্টারফেস দেখে নেওয়া যাক। ও হ্যাঁ, এতে কিন্তু আলাদা কোন অ্যাপ ড্রয়ার নেই। 
Primo H6 User Interface
সিপিউ ও চিপসেট:
১.০ গিগাহার্টজ গতির কোয়াডকোর প্রসেসরের Walton Primo H6 এ মিডিয়াটেকের MT6735 চিপসেট ও মালি-টি৭২০ জিপিউ ব্যবহৃত হয়েছে। 
Primo H6 cpu chipset
স্টোরেজ ও র‍্যাম:
Primo H6 এ ১৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরীর পাশাপাশি আছে ৬৪ গিগাবাইট পর্যন্ত এক্সটারনাল মাইক্রো-এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা। অন্যদিকে এই ফোনে থাকা ২ গিগাবাইট র‍্যামের মধ্যে বুট আপের পর অর্ধেকেরও বেশি ফাঁকা থাকে। 
Primo H6 hands-on memory
ক্যামেরা:
Primo H6 এ আছে এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত ১৩ মেগাপিক্সেল রেয়ার ক্যামেরা। এতে BSI সেন্সর থাকায় আপনি অনায়াসেই বেশ ভালো ছবি তুলতে পারবেন। আর সেইসাথে অটোফোকাস, টাচ ফোকাস, প্যানোরোমা, ফেস বিউটি প্রভৃতি ফিচার তো থাকছেই। 
Primo H6 এর ক্যামেরা ইন্টারফেস ও সেটিংস– 
Primo H6 camera settings
Primo H6 এর ক্যামেরায় তোলা ছবিঃ 
Primo H6 camera sample
Primo H6 camera sample 2
Primo H6 camera sample 3
Primo H6 camera sample 4
আপনি যদি সেলফি তুলতে ভালোবাসেন কিংবা ভিডিও কলিং করতে চান, সেক্ষেত্রে এই ফোনে পাচ্ছেন ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। আর এর ফ্রন্ট ক্যামেরাতেও এলইডি ফ্ল্যাশ থাকায় স্বল্প আলো কিংবা অন্ধকারেও ভাল সেলফি তুলতে পারবেন। 
Primo H6 front camera sample
মাল্টিমিডিয়া:
৩.৫ মিলিমিটারের অডিও জ্যাকসম্পন্ন এই ফোনের সাথে যে হেডফোনটি দেওয়া হয় তার সাউন্ড কোয়ালিটি মোটামুটি। 
Primo H6 video review
অডিও এর কথা তো গেলে, এবার আসা যাক ভিডিওর কথায়। কোয়াডকোর প্রসেসরের এই ফোনে ১০৮০ পি ফুল এইচডি ভিডিও কোন ধরণের ল্যাগ ছাড়াই দেখা গেছে।
গেমিং পারফরম্যান্স:
এন্ট্রি লেভেলের Primo H6 এর গেমিং পারফরম্যান্স মন্দ নয়। কোয়াডকোর প্রসেসর ও ২ গিগাবাইট র‍্যামবিশিষ্ট এই ফোনে বিভিন্ন ধরণের এইচডি গেম বেশ স্মুথলি খেলা যায়। এই ফোনে ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যানস, ফিফা ১৬, পোকেমন গো, হিরোস অব ৭১, কিংডম রাশ প্রভৃতি জনপ্রিয় গেম কোন ধরণের ল্যাগিং ছাড়াই খেলা গেছে। 
Primo H6 hands-on gaming performance
Primo H6 gaming review
সেন্সর:
ওয়ালটনের এই ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, অ্যাক্সিলেরোমিটার, লাইট, প্রক্সিমিটি প্রভৃতি সেন্সর বিদ্যমান। 
Primo H6 Color
সিম: 
ডুয়েল সিম সুবিধার Primo H6 এর উভয় স্লটেই থ্রিজি ও ফোরজি সুবিধা উপভোগ করা যায়। 
রং: 
স্পেস গ্রে ও গোল্ডেন - এই ২ রংয়ে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে Primo H6 
Primo H6 Color
কানেক্টিভিটি:
এই ফোনে ফোরজি, ব্লুটুথ ৪.০, ওয়াইফাই, ওয়্যারলেস হটস্পট প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে। আরও আছে জিপিএস, এ-জিপিএস প্রভৃতি সুবিধা। 
ব্যাটারি:
৫ ইঞ্চি ডিসপ্লের Primo H6 এ ২৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়েছে। ফুল চার্জ দিয়ে টানা ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট ইন্টারনেট ব্রাউজ ও এইচডি ভিডিও উপভোগ করার পর এর চার্জ ৫৭% এ নেমে এসেছিলো। তবে স্বাভাবিক ব্যবহারে অনায়াসেই একদিন চালিয়ে নেওয়া যায়। 
Primo H6 Battery
এতে থাকা পাওয়ার সেভার ফিচার ব্যবহার করে ব্যাটারি ব্যাকআপকে বাড়িয়েও নিতে পারবেন। 
Primo H6 Battery
বেঞ্চমার্ক: 
Primo H6 এর বেঞ্চমার্ক স্কোর যাচাইয়ের জন্য বেঞ্চমার্ক যাচাইয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ AnTuTu বেছে নেওয়া হয়েছিলো, যেখানে এর স্কোর এসেছে ২৩৬৩৬; অন্যদিকে GeekBench এ এর স্কোর এসেছে ৩৯৬ (সিঙ্গেল-কোর) ও ১১৪৪ (মাল্টি-কোর) 
Primo H6 antutu benchmark
স্পেশাল ফিচার:
এই ফোনেবিভিন্ন স্পেশাল ফিচারের মধ্যে ফোন অ্যাসিস্ট, স্মার্ট অ্যাকশন, স্মার্ট জেশ্চার প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। Primo H6 special feature USB Type-C
OTA আপডেট সুবিধা: 
এই ফোনে OTA বা Over The Air আপডেট সুবিধা রয়েছে, যার ফলে পিসির সাথে সংযুক্ত করা ছাড়াই এর সফটওয়্যার আপডেট করা যাবে। 
Primo H6 hands-on ota
মূল্য:
ক্রেতাদের সাধ্যের কথা বিবেচনা করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, ২ গিগাবাইট র‍্যাম, ১৩ মেগাপিক্সেলের রেয়ার ক্যামেরা ও আকর্ষণীয় নানা ফিচারের Walton Primo H6 এর দাম ৯৪৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।
Primo H6 এর ভালো লাগার দিকসমূহ-
  • মার্শম্যালো অপারেটিং সিস্টেম
  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • BSI সেন্সরযুক্ত অটোফোকাস রেয়ার ক্যামেরা
  • এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ফোরজি সুবিধা
Primo H6 এর সীমাবদ্ধতা:
এন্ট্রি লেভেলের Primo H6 এ উল্লেখযোগ্য কোন সীমাবদ্ধতা নেই, তবে এর ক্লকস্পিড কমপক্ষে ১.৩ গিগাহার্টজ হলে আরও ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যেতো। 
Primo H6 review
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:
১০ হাজার টাকার মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ও ভালো ক্যামেরা পারফরম্যান্সযুক্ত ফোন কিনতে চাইলে Primo H6 সহজেই অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবে। বিশেষ করে এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরার কথা আলাদাভাবে না বললেই নয়।



বর্তমানে মডেলিং ও অভিনয় জগতের জনপ্রিয় মুখ মেহজাবীন চৌধুরী। খুব ছোট বেলায় এই লাস্যময়ী অভিনেত্রী পরিবারের সঙ্গে দুবাই চলে যান। ইন্ডিয়ান স্কুলে পরা এই অভিনেত্রী পরে দেশে ফিরে আসেন ১৬ বছর বয়সে। মায়ের চেষ্টায় মিডিয়ায় অডিশন দিলে লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার হয়ে মিডিয়ায় পদার্পণ করেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাংলালিংক দেশ এর টিভি কমার্শিয়ালের মাধ্যমে সবার নজড় কাড়তে সক্ষম হন। আজকের মেহজাবীন দেশের মানুষের হৃদয়ে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন। তার জনপ্রিয়তা দেখলেই বুঝা যায় সাধারণ মানুষ তাকে অনেক পছন্দ করেন। সম্প্রতি কথা হয় এই মডেল ও অভিনেত্রীর সঙ্গে। তিনি প্রিয়.কমে তার ফ্যাশন বিষয়ক বিভিন্ন ভাবনা শেয়ার করেন। 


প্রশ্ন : কোথা থেকে শপিং করেন?

মেহজাবীন: সাধারণত দেশের বাইরে গেলে রেডিমেট ড্রেসগুলো কিনে নিয়ে আসি। এছাড়া ওকেশনালি ডেসব ড্রেস পরি সেগুলো নিজেই ডিজাইন করে থাকি। বিয়ে, গেট টুগেদার, শাড়ি, থ্রিপিস, টপস, অভিনয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেসগুলো সবই নিজে ডিজাইন করে পরি।

প্রশ্ন :আপনি তো বরাবরই স্লিম, সেক্ষেত্রে শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখার জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন?

মেহজাবীন: ফিটসেনের জন্য আমার কখনোই কিছু করা হয়না, জেনেটিক্যালি আমি এই ধরনের। অনেকের একটু বেশি খেলেই ফ্যাট হয়ে যায়, আমি সেরকমও নই। 


প্রশ্ন :কি খাবার খেতে পছন্দ করেন? 

মেহজাবীন: দেশিয় সব খাবারই খাই, মাঝেমাঝে খাবারে এমন অনিহা থাকে যে ক্ষুধাই লাগে না, আবার মাঝেমাঝে অনেক বেশিও খাই। এরমাঝে এরাবিয়ান ফুড, ইন্ডিয়ান ফুড আমার পছন্দ। এরাবিয়ান স্যান্ডউইচ, শর্মা ফেভারিট। হায়দ্রাবাদের বিরিয়ানীও আমি পছন্দ করি। 

প্রশ্ন : কি ধরনের পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

মেহজাবীন: সেলোয়ার কামিজ রেগুলার পরা হয়। চরিত্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন কস্টিউম পরা হয়। তবে সেলোয়ার কামিজই প্রিয়। 


প্রশ্ন :কোন ব্র্যান্ডের পারফিউম ব্যবহার করেন?

মেহজাবীন: আমার অনেক ব্র্যান্ডের পারফিউম রয়েছে। তবে স্পেসিফিক কিছু ব্র্যান্ডের পারফিউম আমি বেশি ব্যবহার করি। এখন ব্যবহার করছি টুওয়ানটু। 

প্রশ্ন :আর সানগ্লাস?

মেহজাবীন: সানগ্লাসের ক্ষেত্রে ছেলেদের সানগ্লাস আমি পছন্দ করি। তাই সবসময় ছেলেদের সানগ্লাসই পরা হয় ও কেনা হয়। এখন ব্যবহার করছি এভিয়েটার। 


প্রশ্ন : অলঙ্কার পরতে পছন্দ করেন?

মেহজাবীন: জুয়েলারির মধ্যে শুধু নোজপিন আমার অনেক পছন্দের। নোজপিনের অনেক কালেকশনও আছে আমার। প্রায় চল্লিশ পঞ্চাশটি হবে। 

প্রশ্ন : ঘড়ি কি পরেন? কি ধরনের ঘড়ি পছন্দ?

মেহজাবীন: ঘড়ি রেগুলার পরা হয় না, ঘড়ির মধ্যে বেল্টের ঘড়িই পছন্দ। ক্যালভিন ক্লেইন, টমি হিলফিগার, টাইটান বেশি পছন্দ। ফাস্ট ট্র্যাকও ভালো লাগে। 


প্রশ্ন :স্টাইলের জন্য কোন ফ্যাশন আইকনকে কি ফলো করেন?

মেহজাবীন: স্পেসিফিক কাউকে তেমন কাউকে ফলো করি না। তবে অনেকের অনেক কিছু ভালো লাগে। কারো ড্রেস সেন্স, কারোবা হেয়ার স্টাইল, আবার কারো মেকআপ স্টাইল ভালো লাগে। 

প্রশ্ন :কোন ব্র্যান্ড বা স্টাইলের জুতা আপনার পছন্দ?

মেহজাবীন: আমি সব সময় স্নিকার্স পছন্দ করি। কনভার্সও ভালো লাগে। এগুলো অনেক কালেকশন করি। কোন জুতা ভালো লাগলেই কিনে ফেলি। জুতার মধ্যে ফ্লাট পছন্দ তবে হিলও কালেকশন করি। 


প্রশ্ন :ঘুরতে পছন্দ করেন? কোথায় যেতে ভাল লাগে?

মেহজাবীন: সবচেয়ে ফেভারিট হলো থাইল্যান্ড, দুবাই, ইউরোপ। আমি সীবিচ খুব বেশি ইনজয় করি না, শহরে থাকতেই পছন্দ করি। মানুষ, পরিবেশ ভালো লাগে। 

প্রশ্ন : অবসর সময়ে কি করেন? 

মেহজাবীন: বলতে গেলে আমি অবসর একদম পাই না। অবসরে বাসায় থাকতেই পছন্দ করি। এছাড়া কাপড় ডিজাইন করতে ভালো লাগে। এখন পর্যন্ত অনেক পোশাক ডিজাইন করেছি, যা দেখে অনেকেই প্রশংসা করেছে। 


প্রশ্ন : শখ কি? 

মেহজাবীন: পোশাক ডিজাইন করা-ই শখ বলতে পারেন। 

প্রশ্ন : ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

মেহজাবীন: আমি কখনো ফিউচার নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারিনা। যদি সেসব পরিকল্পনা মতো না হয় সেক্ষেত্রে খারাপ লাগবে। হুটহাট করেই যেকোন কিছু করতে পছন্দ করি। যা ভালো লাগে তাই করি। 


প্রশ্ন : প্রিয় মানুষ কে?

মেহজাবীন: মা-বাবা, ভাই বোন। সবাই আমার প্রিয়। 

প্রশ্ন : কোন রং এর প্রতি কি দূর্বলতা আছে? 

মেহজাবিন: না স্পেসিফিক রঙ এর প্রতি কোন দূর্বলতা নেই। সব ধরনের রঙই পছন্দ। 


প্রশ্ন : কোন ব্র্যান্ডের গাড়ি ব্যবহার করছেন? কোন গাড়িটা কেনার ইচ্ছা?

মেহজাবীন: সত্যি বলতে গাড়ি সম্পর্কে আমার ধারণা খুবই কম (হেসে)। এখন টয়োটা চালাচ্ছি। 

প্রশ্ন :ফ্যাশন বিষয়ে কিছু বলুন। 

মেহজাবীন: ফ্যাশন বলতে বুঝি, নিজের পারসোনালিটি অনুযায়ী যার যার ফ্যাশন আলাদা আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। ফ্যাশন নিয়ে কোন রুলস রেগুলেশন থাকা উচিত নয়। যার যেটা ভালো লাগে, যে যেটা কনফিডেন্টসিয়ালী পরতে পারে ও ভালো লাগে তাই ফ্যাশন।

সাক্ষাৎকারটি প্রিয় ডট কমে প্রকাশিত । 



ঈদ সামনে রেখে নতুন সাজে সেজেছে ‘কে ক্র্যাফ্ট’। নিত্য নতুন ডিজাইনের শাড়ি, পাঞ্জাবি ,ফতুয়া, টপ্স, সালোয়ার কামিজ, লংকুর্তা,টিশার্ট, শার্ট,র্স্কাট-টপ্স, সিঙ্গেল কামিজ, স্লিমফিট, সেমিফিট পাঞ্জাবি, বাচ্চাদের পোশাকসহ নানা উপহার সামগ্রী দিয়ে সাজিয়েছে কে ক্র্যাফ্ট। এছাড়া নানা রং,বিন্যাস,অলংকরণসহ ঈদ পোশাকের কালেকশনতো রয়েছেই। 

ইতোমধ্যে-ডিজাইন, কাটিং, প্যাটার্ন, ফিনিশিংয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে -কে ক্র্যাফ্ট। মেয়েদের পোশাকের মধ্যে শাড়ি সালোয়ার কামিজ, স্কার্ট-টপস, লংকুর্তার সঙ্গে গহনা, স্যান্ডেল ও ব্যাগ। ছেলেদের পোশাকে থাকছে পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়াসহ নানা পণ্য।

রং হিসাবে প্রাধান্য পেয়েছে পেষ্ট, সবুজ, পার্পল, বেগুনী, নেভীব্লু কমলা, ফিরোজা, সাদা, অ্যাশ, অফ হোয়াইট সহ নানা শেডের রং।কাপড় হিসাবে, বেক্সি কর্টন, টুটোন, স্টাইপ, মসলিন, হাফসিল্ক, সিল্ক, নরসিংদী কটন ও নানা রকম সুতি কাপড়।

মাধ্যম হিসাবে -টাই-ডাই, স্ক্রীনপ্রিন্ট, ব্লকপ্রিন্ট, হাতেরকাজ, কারচুপি, এপলিক, এমব্রয়ডারী, ইয়োকওয়ার্ক। বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে জোড়া পোশাক, ফ্যামিলি পোশাক।ক্রেতাদেও কথা ভেবে মূল্য সীমা নির্ধারন , ট্রাডিশনাল হাতের কাজে নতুনত্বের ছোঁয়া, নিখূঁত উপস্থাপনা, মোটিফের নতুনত্ব ব্যবহার, সময় ও পরিবেশ উপোযোগী কাপড়ের ধরন ও অলংকরনে পরিমিতবোধ বজায় রাখা হয়েছে।


দেশের তাঁতশিল্পের উন্নয়নে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ অবদান। আমাদের দেশের তাঁতজাত বস্ত্রেও ট্রাডিশনাল সূচিকর্মকে আধুনিকভাবে উপস্থাপনের জন্য ‘কে ক্র্যাফ্ট’ ডিজাইন ষ্টুডিও কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

দেশের প্রধান প্রত্যেকটি তাঁত অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি কারু শিল্প এলাকায় ‘কে ক্র্যাফ্ট’ কর্মীবাহিনীর অক্লান্ত পরিশ্রম, ডিজাইন ষ্টুডিওর মেধা-মনন এবং ক্রেতাদের ভালবাসা ও সমর্থন নিয়ে কে ক্র্যাফ্ট ২৩ বছরের বেশী সময় ধরে এগিয়ে চলেছে।



ঈদের খুশিতে প্রতিটি মানুষই চায় প্রতিমুহূর্তে আনন্দে থাকতে। তাই উৎসবের বিভিন্ন মুহূর্তের সাথে মানিয়ে গ্রামীণ ইউনিক্লো নিয়ে এসেছে ঈদ কালেকশন। হোক সে ঈদের দিনে বেড়ানো বা প্রিয়জনের সাথে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়ার, দূর দূরান্তে ঘুরে বেড়ানো বা প্রকৃতিকে উপভোগ করার সব মুহূর্তেই চাই আরামদায়ক ও পরিবেশ উপযোগি পোশাক। ঈদে গ্রামীণ ইউনিক্লো নিয়ে এলো এমনই আরামদায়ক ও যে কোন পরিবেশ উপযোগি পোশাকের সমারহ।

ঈদে অন্যান্য পোশাকের সাথে লিনেন শার্ট পাচ্ছেন ১৪৯০ টাকায়, পোলো শার্ট পাচ্ছেন ৯৯০ টাকায়, বিভিন্ন ফাংশনাল জিনস পাচ্ছেন ১৫৯০ টাকায়, চিনো প্যান্ট পাচ্ছেন ১৬৯০ টাকায়, গ্রাফিক টি-শার্ট পাচ্ছেন ৪৯০ টাকায়। এছাড়া মেয়েদের কামিজ পাবেন ১৬৯০ ও ২৪৯০ টাকায়। কামিজের সাথে মানানসই লেগিংস পাবেন ৩৫০ টাকায় ও পালাজ্জো ৭৯০ টাকায়। এছাড়াও ট্রেন্ডি পেন্সিল প্যান্ট পাচ্ছেন ৯৯০ টাকায়। ঈদ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সফট এন্ড কালেকশনে একের অধিক কিনলেই পাবেন ছাড়।

গ্রামীণ ইউনিক্লো এর বর্তমানে ৯টি আউটলেট আছে। গ্রামীণ ইউনিক্লো আউলেট লোকেশন: বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচারপার্ক, ধানমন্ডি সাইন্সল্যাব মোড়, কাঁটাবন মোড়(এলিফ্যান্ট রোড), খিলগাঁও তালতলা, নয়াপল্টন, মিরপুর-০১, মোহাম্মদপুর রোড এবং গুলশান বাড্ডা লিংক রোডে।


আগামী এক মাস বেসরকারি মোবাইল কোম্পানি সিটিসেলের কার্যক্রমে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না মর্মে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। একই সাথে সিটিসেলের কাছে পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা বিটিআরসিকে পরিশোধ করতেও কোম্পানিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
সোমবার (২৯ আগস্ট) সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
আদালতে সিটিসেলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।


ব্রেড কাটিং নাইফ বা ‘স’ নাইফ

বিভিন্ন ধরনের রুটি কাটার জন্য ব্রেড কাটিং নাইফ ব্যবহার করা হয়। রুটি কাটার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই ছুরিগুলো দেখতে লম্বা ও সরু ধরনের হয়ে থাকে। আবার সামনে থেকে করাতের মতো খাঁজ কাটা থাকে বলে একে ‘স’ নাইফও বলা হয়। এই ছুরি দিয়ে খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের ও আকারের রুটি স্লাইস বা টুকরো করা যায়।
শেফ নাইফ
শেফ নাইফ একধরনের ছুরি, যার তিনটি আকার রয়েছে। বড়, মাঝারি ও ছোট আকারের। এই ছুরির বিশেষত্ব হলো, এটা দিয়ে সব ধরনের খাবার কাটা যায়। মাছ, মাংস কাটার পাশাপাশি এই ছুরি দিয়ে ঠান্ডা খাবার যেমন সবজি ও ফল কাটা যায়। বড় আকারের শেফ নাইফ দিয়ে মাছ ও মাংস স্লাইস করা হয়, আর মাঝারি আকারের শেফ নাইফ দিয়ে বিভিন্ন ফুল-পাতার নকশা করে সালাদ করা যায়।
চপার বা চপিং নাইফ
মুরগি, গরু, ভেড়া ইত্যাদি মাংসের হাড় কাটা যায় চপার দিয়ে। মাংসকে মিহি মিহি করে কাটা বা চপ করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি হয় চপার। এটি দেখতে চাপাতির মতো, মাংসকে একেবারে মিহি করে কাটতে সাহায্য করে।
ভেজিটেবল পিলার
সবজি ছিলার এই বিশেষ ছুরির নাম ভেজিটেবল পিলার। এটি দিয়ে সহজেই সবজির ওপরের খোসা ছিলা যায়।
ভেজিটেবল কার্ভিং নাইফ
এই ছুরি দেখতে কিছুটা সরু ও ছোট। শুধু বিভিন্ন সূক্ষ্ম নকশার সবজি ও ফল কাটার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয় এই ছুরি।
সারভিং স্টিল
এটা দিয়ে ছুরি ধার দেওয়া হয়। দেখতে লম্বা ও একেবারেই সরু। বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।
মিট বা বোন কার্ভিং নাইফ
মাংসকে হাড় থেকে ভিন্ন করতে এ ধরনের ছুরি ব্যবহার করা হয়। গরু, খাসি, ভেড়া, মুরগি—যেকোনো ধরনের মাংসের হাড় ছাড়াতে ব্যবহার করা যায়।
বুচার নাইফ
মাছ-মাংসের স্লাইস করা, চামড়া থাকা, আলাদা করা ও মাছের ফিলে করা বা মাছের কাঁটা থেকে মাংস আলাদা করতে বুচার নাইফ ব্যবহার করা হয়।



জিপিতে আবারো নিয়ে নিন ফ্রি ২০ এমবি ইন্টারনেট। সবাই পাবেন।

কথা না বারিয়ে ঝটপট দেখে নেই কিভাবে ২০
এমবি পাবেনঃ
আপনার জিপি সিম থেকে ডায়াল করুনঃ
→ *5000*168#
→ ২০ এমবি ফ্রি পেয়ে যাবেন।
চেক করতে ডায়াল করুনঃ
→ *121*1*2# মেয়াদঃ ২ দিন।

দেশে চীনের অ্যাপল খ্যাত স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমির হ্যান্ডসেট অফিসিয়াল ওয়ারিন্টসহ পাওয়া যাবে বসুন্ধরা সিটিতে।
শুক্রবার রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটির লেভেল ৬, ব্লক ডি এর ২৫-২৬ নম্বর দোকানে ব্র্যান্ডশপটি উদ্বোধন করে দেশে শাওমির পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সোলার ইলেক্ট্রো বাংলাদেশ লিমেটেড(এসইবিএল)।
শাওমি বাংলাদেশে তাদের পরিবেশক হিসেবে সম্প্রতি এসইবিএল কে নিয়োগ দিয়েছে। তারা এখন থেকে বাংলাদেশে বৈধভাবে আমদানি ও বিপণন করবে।
প্রাথমিক অবস্থায় ব্র্যান্ডশপটিতে তিনটি হ্যান্ডসেট শাওমি ম্যাক্স, শাওমি ৫ এবং রেডমি থ্রি প্রো কিনতে পারবেন ক্রেতারা।
ব্র্যান্ডশপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসইবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি এম মজিবর রহমান। তিনি বলেন, দেশে তারাই একমাত্র পরিবেশক যারা এক বছরের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিসহ শাওমরি হ্যান্ডসেট বিক্রি করবেন। এছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এই ওয়ারেন্টি দিতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এসইবিএল এর মোবাইল বিভাগের প্রধান সাজ্জাদুর রহমান কাননসহ প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এই ব্র্যান্ডশপে স্মার্টফোন ছাড়াও শাওমির বিভিন্ন গ্যাজেট অফিসিয়াল ওয়ারেন্টিতে দেশের ক্রেতারা কিনতে পারবেন।
দেশে শাওমির পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানায়।


শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সঙ্গে বিশ্বখ্যাত মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড শাওমি তার জাতীয় ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশের বাজারে তিনটি স্মার্টফোন এনেছে।
সম্প্রতি গ্রামীণফোনের কর্পোরেট অফিসে গ্রামীণফোনের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান এবং বাংলাদেশে শাওমির একক পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সোলার ইলেক্ট্রো বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি এম মজিবর রহমানের উপস্থিতিতে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শাওমি রেডমি থ্রি, এমআই ম্যাক্স ও এমআই ফাইভ স্মার্টফোন তিনটি গ্রামীণফোনের মাধ্যমে বাজারজাত শুরু করল প্রতিষ্ঠানটি। স্মার্টফোন তিনটিতে আছে অত্যাধুনিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি, উন্নত ক্যামেরা, সুবিশাল মেমোরি ধারণ ক্ষমতা, অসাধারণ ডিসপ্লে এবং নজরকাড়া ডিজাইন যেগুলো সহজেই তরুণদের আকর্ষণ করবে। ১৬,৯০০ টাকা, ২৬,৪৯০ টাকা এবং ৩৭,৯০০ টাকায় ক্রয় করা যাবে যথাক্রমে শাওমি রেডমি থ্রি, এমআই ম্যাক্স ও এমআই ফাইভ। আন্তর্জাকিত সংস্করণের উক্ত স্মার্টফোন তিনটিতে পাওয়া যাবে এক বছরের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি।
হাই-এ্যান্ড স্মার্টফোনের বাজারে শাওমি’র এমআই ফাইভ চমৎকার একটি ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার বিচারে ডিভাইসটি বলা হচ্ছে ‘আলোর মত গতিময়’। অভিজাত ডিজাইনের এমআই ফাইভে আছে ৩০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, শক্তিশালী চিপসেট, মেটাল ইউনিবডি, উন্নত ক্যামেরা এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় ফিচার। ডিভাইসটির ব্যাটারিতে ব্যবহার করা হয়েছে পাওয়ার ইফিসিয়েন্ট প্রযুক্তি যার দ্বারা স্মার্টফোনটিকে মাত্র ৩০ মিনিটে ৮৩ শতাংশ চার্জ করা যায়। যাত্রা শুরু উপলক্ষ্যে গ্রামীণফোনের লিঃ-এর সঙ্গে মিলে শাওমি ক্যাম্পেইন অফার দিয়েছে যেখানে ক্রেতারা এমআই ফাইভের ক্রয় করলে ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের একটি শাওমি পাওয়ার ব্যাংক উপহার হিসেবে পাবেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের সঙ্গে মিলে দেশের বাজারে শাওমির উক্ত তিনটি হ্যান্ডসেট বাজারজাত শুরু করেছে যেগুলো ক্রয় করা যাবে ১২ মাসের ইমএমআই বা কিস্তি সুবিধার মাধ্যমে। সঙ্গে থাকছে গ্রামীণফোনের আকর্ষণীয় ইন্টারনেট ডাটা প্যাকেজ। ১১ আগস্ট থেকে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে গ্রামীণফোনের ওয়েবসাইটে গিয়ে আগ্রহী ক্রেতারা চাইলে অগ্রিম বুকিং দিতে পারবেন। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট পরিশোধ করে বুকিং নিশ্চিৎ করতে হবে। আগামী ১৮ আগস্ট গ্রামীণফোনের নির্দিষ্ট সেন্টারে গিয়ে নিজেদের বুকিং দেয়া শাওমি ডিভাইস গ্রহণ করতে পারবেন ক্রেতারা। এছাড়া ঘরে বসে ডিভাইস পেতে হলে গ্রামীণফোনের অনলাইন শপ ‘জিপিশপ’ থেকে অর্ডার করা যাবে। তবে সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মডেলের শাওমি ডিভাইসের পুরো দাম পরিশোধ করে বুকিং দিতে হবে।  বুকিং দিতে ক্রেতাদের নিম্নে উল্লেখিত সাইটে যেতে হবে।


দেশের প্রথম মুঠোফোন অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম (সিটিসেল) বন্ধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। এ কারণে গ্রাহকদের বিকল্প সেবা নেয়ার জন্য বেধে দেয়া সময় আরো সাত দিন বাড়ানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সিটিসেলের গ্রাহকদের বিকল্প সেবা নেওয়ার জন্য আজ পর্যন্ত সময় ছিল। এ সময় আরো সাত দিন বাড়ানো হলো।
প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

আজ থেকে ৪৫ বছর আগে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণটি দিয়েছিলেন। ১০ লক্ষাধিক লোকের সামনে পাকিস্তানি দস্যুদের কামান-বন্দুক-মেশিনগানের হুমকির মুখে বঙ্গশার্দুল শেখ মুজিব ওই দিন বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং আঘাত হানা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প ছিল না


কী পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু সেই ইতিহাস বিখ্যাত ভাষণ দিয়েছিলেন। ১৯৭০-এর ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ১৩টি মহিলা আসনসহ জাতীয় পরিষদে আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩টি (৩০০+১৩=৩১৩)। এর মধ্যে অবিভক্ত পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল- পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিল ১৬৯টি (১৬২+৭=১৬৯)। ৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ আসনের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পায় ১৬৭টি আসন। ওই নির্বাচনে বহু রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। সামরিক আইনের অধীনে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন পাওয়ার পর বাকি ২টি আসন পায় পিডিপি। ৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর তৎকালীন সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ’৭১-এর ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের পিপিপি নেতা জেড এ ভুট্টো এবং পাকিস্তান সামরিক চক্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ষড়যন্ত্রকারীদের হাতের পুতুলে পরিণত হলেন সামরিক প্রেসিডেন্ট জে. ইয়াহিয়া খান। ’৭১-এর পহেলা মার্চ ১টা ৫ মিনিটে আকস্মিক এক বেতার ঘোষণায় ৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়। জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গর্জে ওঠে বাংলাদেশ (পূর্ব পাকিস্তান)।
৩ মার্চ পল্টনে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের সভায় প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি থাকি আর না থাকি, বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন যেন থেমে না থাকে। বাঙালির রক্ত যেন বৃথা না যায়। আমি না থাকলে- আমার সহকর্মীরা নেতৃত্ব দিবেন। তাদেরও যদি হত্যা করা হয়, যিনি জীবিত থাকবেন, তিনিই নেতৃত্ব দিবেন। যে কোনো মূল্যে আন্দোলন চালাইয়া যেতে হবে- অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” বঙ্গবন্ধু আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ৭ মার্চ রোববার রেসকোর্স ময়দানে তিনি পরবর্তী কর্মপন্থা ঘোষণা করবেন। ৪ মার্চ থেকে ৬ মার্চ সকাল ৬টা থেকে ২টা পর্যন্ত সারা দেশে হরতাল পালনের আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে আন্দোলন এগিয়ে চলল। সারা দেশে তখন একজন মাত্র নেতা। তিনি হচ্ছেন দেশের শতকরা ৯৮ জন মানুষের ভোটে নির্বাচিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশের সামরিক শাসন চালু থাকলেও সামরিক সরকারের কথা তখন কেউ শুনছে না। শেখ মুজিবের কথাই তখন আইন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সমগ্র বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে।
সেই আন্দোলনমুখর পরিস্থিতিতে ঘনিয়ে এল ৭ মার্চ। সবার দৃষ্টি ৭ মার্চের দিকে। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে কী বলবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাবিয়ে তুলল পাকিস্তান সামরিক চক্রকেও। কারণ তারা বুঝে গেছে, বাংলাদেশের মানুষের ওপর তাদের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। দেশ পরিচালিত হচ্ছে বিরোধী দলের নেতা শেখ মুজিবের কথায়। এই অবস্থায় ৭ মার্চ শেখ মুজিব যদি রেসকোর্সের জনসভায় স্বাধীনতা ঘোষণা করে বসেন। চিন্তিত পাকিস্তান সামরিক চক্র কৌশলের আশ্রয় নিল। ৭ মার্চের একদিন আগে অর্থাৎ ৬ মার্চ জে. ইয়াহিয়া খান টেলিফোনে কথা বলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা, আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। পূর্ব পাকিস্তান সামরিক সরকারের তৎকালীন তথ্য কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিকের ‘ডরঃহবংং ঃড় ঝঁৎৎবহফবৎ’ গ্রন্থে এসব তথ্য রয়েছে। ৬ মার্চ জে. ইয়াহিয়া তার দীর্ঘ টেলিফোন আলাপে আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বলার চেষ্টা করেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) যেন এমন কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করেন, যেখান থেকে ফিরে আসার উপায় আর না থাকে।’
৭ মার্চের পূর্ব রাতে জে. ইয়াহিয়া টেলিপ্রিন্টারে শেখ মুজিবের কাছে একটি বার্তাও প্রেরণ করেন। সালিকের গ্রন্থে রয়েছে- একজন ব্রিগেডিয়ার জে. ইয়াহিয়ার সেই বার্তা ৭ মার্চের আগের রাতে শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসেন। মেজর সালিক ওই বার্তাটি সংক্ষিপ্ত আকারে তার ডায়েরিতে লিখে রেখেছিলেন। বার্তায় জে. ইয়াহিয়া শেখ মুজিবকে অনুরোধ করেন, “অনুগ্রহ করে কোনো দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমি সহসাই ঢাকা আসছি এবং আপনার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করব। আমি আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি আপনার আকাক্সক্ষা এবং জনগণের প্রতি দেয়া আপনার প্রতিশ্রুতির পুরোপুরি মর্যাদা দেব। আমার কাছে একটি পরিকল্পনা আছে- যা আপনাকে আপনার ছয়দফা থেকেও বেশি খুশি করবে। আমি সনির্বন্ধ অনুরোধ করছি, কোনো দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন না।” (সূত্র : ডরঃহবংং ঃড় ঝঁৎৎবহফবৎ) ৬ মার্চ টেলিফোনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা, টেলিপ্রিন্টারে বঙ্গবন্ধুর কাছে বার্তা প্রেরণ করেও পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছিলেন না জে. ইয়াহিয়া। ৬ মার্চ এও ঘোষণা করা হলো যে, ২৫ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
৭ মার্চ রেসকোর্সে জনসভার বক্তব্য কী হবে- এ নিয়ে ৬ মার্চ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির দীর্ঘ বৈঠক হয়। জনসভায় বঙ্গবন্ধু কী বলবেন- এ নিয়ে বিভিন্নজন বক্তব্য রাখেন। একপক্ষের মত, বঙ্গবন্ধু যেন জনসভায় সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। অন্যপক্ষ স্বাধীনতার সরাসরি ঘোষণা পরিহার করে আলোচনার পথ খোলা রাখার পক্ষে মত প্রদান করেন। সভা ৭ মার্চ সকাল পর্যন্ত মুলতবি রইলো। ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের চরমপন্থীরা বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধুকে ৭ মার্চের জনসভায় স্বাধীনতা ঘোষণা করার জন্য। যদ্দুর জানা যায়, ৭ মার্চ ভাষণ দেয়ার আগে চিন্তিত বঙ্গবন্ধুকে বেগম মুজিব বলেছিলেন, ‘আল্লার নাম নিয়ে তোমার মন-দিল-অন্তর থেকে যা আসে- তাই বলে দিও।’
পরিস্থিতির চাপে ভীতসন্ত্রস্ত পূর্ব পাকিস্তান সামরিক সদর দপ্তর থেকে বিভিন্নভাবে শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগকে এই মেসেজ দেয়া হয় যে, ৭ মার্চ যেন কোনোভাবেই স্বাধীনতা ঘোষণা না করা হয়। ৭ মার্চ জনসভাকে কেন্দ্র করে কামান বসানো হয়। এমনকি আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়। মেজর সিদ্দিক সালিক তার গ্রন্থে লিখেছেন, পূর্ব পাকিস্তানের জিওসি ৭ মার্চের জনসভার প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ নেতাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “পাকিস্তানের সংহতির বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা হলে তা শক্তভাবে মোকাবেলা করা হবে। বিশ্বাসঘাতকদের (বাঙালি) হত্যার জন্য ট্যাংক, কামান, মেশিনগান সবই প্রস্তুত রাখা হবে। প্রয়োজন হলে ঢাকাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হবে। শাসন করার জন্য কেউ থাকবে না কিংবা শাসিত হওয়ার জন্যও কিছু থাকবে না।”
এমন এক কঠিন সংকটময় পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৭ মার্চ রেসকোর্সে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষকে চারটি শর্ত দিয়ে ভাষণের শেষাংশে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।” বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কিছু অংশ ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়, তিনি সেদিন যুদ্ধের ঘোষণা যেমন পরোক্ষভাবে প্রদান করেন- আবার যুদ্ধে কিভাবে জয়ী হতে হবে সে ব্যাপারেও বক্তব্য রাখেন। স্বাধীন রাষ্ট্রের বৈধ সরকারপ্রধানের মতো এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, “২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এরপর যদি বেতন দেয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের ওপর আমার অনুরোধ রইলো প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে।”
প্রকৃতপক্ষে ’৭১-এর পহেলা মার্চ থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে মুজিবের শাসন কায়েম হয়। যে জন্য তিনি বলতে পেরেছেন, ২৮ তারিখ কর্মচারীরা বেতন নিয়ে আসবেন। তিনি পাকিস্তানি শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান। অনেকেরই আশঙ্কা ছিল বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলা হতে পারে। যে জন্য তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা রাস্তাঘাট সবকিছু বন্ধ করে দেবে।’ অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলেও শত্রু পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যেন যুদ্ধ অব্যাহত থাকে- ৭ মার্চের ভাষণে তাই তিনি বলেছেন। তা ছাড়া ভাতে মারবো, পানিতে মারবো- এ কথার মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পর্যুদস্ত করার কথাই বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সে সময় এমন ছিল যে, কোনো কোনো বিদেশি পত্রিকাও তখন জানিয়েছিল- ৭ মার্চ শেখ মুজিব হয়তো পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন। ’৭১-এর ৫ মার্চ লন্ডনের গার্ডিয়ান, সানডে টাইমস, দি অবজারভার এবং ৬ মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ৭ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার পূর্বাভাস দেয়া হয়। ৬ মার্চ ’৭১ লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ছাপা হয়“শেখ মুজিবুর রহমান আগামীকাল (৭ মার্চ) পূর্ব পাকিস্তানের একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারেন।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ’৭১-এর ৭ মার্চ সরাসরি কেন স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি, তার ব্যাখ্যা পরবর্তীকালে তিনি নিজেই দিয়েছেন। ১৯৭২ এর ১৮ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে এনডব্লিউ টিভির জন্য দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭ মার্চের ওই ঘটনা বর্ণনা করেন। ফ্রস্ট শেখ মুজিবের কাছে জানতে চান, ‘আপনার কি ইচ্ছা ছিল যে, তখন ৭ মার্চ রেসকোর্সে আপনি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ঘোষণা দেবেন?’ জবাবে শেখ মুজিব বলেন, ‘আমি জানতাম এর পরিণতি কী হবে এবং সভায় আমি ঘোষণা করি যে এবারের সংগ্রাম মুক্তির, শৃঙ্খল মোচন এবং স্বাধীনতার।’ ফ্রস্ট প্রশ্ন করেন, ‘আপনি যদি বলতেন, আজ আমি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ঘোষণা করছি, তো কী ঘটত?’ শেখ মুজিব উত্তর দেন, ‘বিশেষ করে ওই দিনটিতে আমি এটা করতে চাইনি। কেননা বিশ্বকে তাদের আমি এটা বলার সুযোগ দিতে চাইনি যে, মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং আঘাত হানা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প ছিল না। আমি চাইছিলাম তারাই আগে আঘাত হানুক এবং জনগণ তা প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত ছিল।’
ইতিহাস প্রমাণ করে- ৭ মার্চ সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা না করে বঙ্গবন্ধু শতভাগ সঠিক কাজটিই করেছেন। ২০০৬ সালের ৩১ মার্চ আইয়ুব খান নামের একজন কলাম লেখক দৈনিক ভোরের কাগজে যথার্থই লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের একটি শব্দ বা দাড়ি-কমাতেও বাহুল্য ছিল না। প্রতিটি শব্দ বা বাক্য বাস্তবতার গভীর থেকে উৎসারিত। এ যেন কোনো দেবদূত, সমবেত জনতাকে তাদের সংকটকালে অমোঘ নিয়তির দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।’
উল্লেখ্য, ওই ভাষণের ১৮ দিন পর ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা শহরে গণহত্যার মাধ্যমে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন পাকি প্রেসিডেন্ট জে. ইয়াহিয়া খান। মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত বাঙালি জাতি ৯ মাসের যুদ্ধে বিজয় এনেছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা এ দিনে বাঙলির অবিসংবাধিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রদত্ত ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসের সেরা ১০ ভাষণের মধ্যে অন্যতম ভাষণ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন রেসকোর্স ময়দানের বিশাল সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে চিরবঞ্চিত বাঙালিকে পাকিস্তানী শাসক-শোকদের বিরুদ্ধে মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার যে ডাক দিয়েছিলেন সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে সামিল হয়েছিল মুক্তিরসংগ্রামে। সাড়ে সাত কোটি মানুষকে জাতীয় চেতনায় উদ্বেলিত ও ঐক্যবদ্ধ করে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের তিনি নিয়ে এসেছিলেন মুক্তিরবারতা। সে দিনের সে ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমেই বর্বর সামরিক শক্তির মুখোমুখি হয়ে নতুন বাংলাদেশকে আগামীর পথে অগ্রসর হওয়ার শক্তি যুগিয়েছিলেন। তাই এ ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।


বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইতিহাসের ম্যাগনাকাটার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন; সেই ভাষণটি পৃথিবীর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম ভাষণ হিসাবে বিশ্বের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। সংগত কারণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম ও ইতিহাসের ছাত্রদের জন্য আরো বিশ্লেষেণের প্রয়োজন মনে করেই এ নিয়ে আজকের দিনে আমার এ আলোচনার সূত্রপাত। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে অনেক লেখক-সাহিত্যিক-সাংবাদিক ও গবেষক অনেক আলোচনা ও বিশ্লেষণ করেছেন। তারপরও এ ভাষণটি আরো বেশি বিশ্লেষণের দাবি রাখে। আমি বঙ্গবন্ধুকে যতটুকু পড়েছি এবং পড়ার মাধ্যমে জেনেছি, সে হিসেবে এ ঐতিহাসিক ভাষণটি নিয়ে আরও বিশ্লেষণের দরকার; তাহলেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব বিশেষত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও অধিক জানতে পারবে মানুষ। এখানে একটি কথা বলে রাখি, আমার মতো একজন নগন্য মানুষের পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মহীরূহের এমন একটি ঐতিহাসিক ভাষণের বিশ্লেষণ করতে যাওয়া শুধু সাহস নয় দুঃসাহসের কাজ। যদিও আমি “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতি ও জীবনধারা” নামক প্রায় সাত শত পৃষ্ঠার একটি গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেছি এবং সে বইটি ২০১৩ সালে অমর একুশের গ্রন্থমেলায় ‘জনতা পাবলিকেশনস’ থেকে প্রকাশিত এবং বিক্রির তালিকায় মোটামুটি ভাল অবস্থানে; তবু সবার প্রতি বিনয় মিনতি জানিয়ে বলছি এ আলোচনায় যাবতীয় ভূলত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করি। যাক ভূমিকা না বাড়িয়ে আলোচনার গভীরে যাওয়া যাক-

জাতির জনক বঙ্গবন্থু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ট্রানিং পয়েন্ট। এই দিন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রেসকোর্স ময়দানে পূর্ব নির্ধারিত জনসভায় যোগদানের জন্য দেশের বিভিন্নস্থান থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ জলোচ্ছ্বাসের গর্জনে বাস, লঞ্চ, ষ্টিমার, নৌকা ও পায়ে হেটে বিপুল বিক্রমে রাজধানী ঢাকার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। বাঁধভাঙা মানুষের স্রোতে দুপুর হ’তে না হ’তেই ভরে ওঠে রেসকোর্সের ময়দান। বাতাসে ওড়ছে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল সূর্যের পতাকা। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন আর সাথে সাথে দুলে উঠছে বাঙালিদের সংগ্রামের প্রতীক লক্ষ লক্ষ বাঁশের লাঠি। মঞ্চ থেকে মাঝে মাঝেই শ্লোগান তুলছেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ‘জয় বাংলা’। ‘আপোষ না সংগ্রাম-সংগ্রাম সংগ্রাম।’ ‘আমার দেশ তোমার দেশ-বাংলাদেশ বাংলাদেশ।’ পরিষদ না রাজপথ-রাজপথ রাজপথ।’ ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর-বাংলদেশ স্বাধীন কর।’ ‘ঘরে ঘরে দুর্ঘ গড়-বাংলাদেশ স্বাধীন কর।’

জনসভার কাজ শুরু হ’তে তখনো অনেক সময় বাকি। কিন্তু রেসকোর্স বৃহত্তর পরিসর ময়দান পেরিয়ে জনস্রোত ক্রমেই বিস্তৃত হতে থাকে কয়েক বর্গমাইল এলাকা জুড়ে। এদিকে বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্সের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করার প্রতিবাদে বেতারে কর্মরত বাঙালি কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক ধর্মঘট শুরু করায় বিকেল থেকে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেতার কতৃপক্ষ রেসকোর্স থেকে সরাসরি সম্প্রচারের পূর্ব ঘোষণা দিয়ে পরে তা বাতিল করে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্প্রচার করা হবে’এ ঘোষণার পর সারা বাংলার শ্রোতারা অধীর আগ্রহে রেডিও সেট নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেলা ২টা ১০ মিনিট থেকে ৩টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা বেতারের দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমার ভালোবাসি’ পরিবেশনের পর বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্প্রচার মুহুর্তে আকস্মিকভাবেই ঢাকা বেতারে তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্প্রচার না করার প্রতিবাদে ঢাকা বেতারের কর্মীরা কাজ করতে অস্বীকার করলে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

মুহূর্মুহূ গর্জনে ফেটে পড়েছে জনসমুদ্রের উত্তাল কন্ঠ। স্লোগানের ঢেউ একের পর এক আছড়ে পড়ছে। লক্ষ কন্ঠে এক আওয়াজ। বাঁধ না মানা দামাল হাওয়ায় সওয়ার লক্ষ কন্ঠের বজ্র শপথ। হাওয়ায় পত পত করে উড়ছে বাংলার মানচিত্র অঙ্কিত সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের পতাকা। লক্ষ হস্তে শপথের বজ্রমুষ্ঠি উত্থিত হচ্ছে আকাশে। জাগ্রত বীর বাঙালির সার্বিক সংগ্রামের প্রত্যয়ের প্রতীক সাত কোটি মানুষের সংগ্রামী হাতিয়ারের প্রতীক বাঁশের লাঠি মুহর্মুহূ শ্লোাগানের সাথে সাথে উত্থিত হচ্ছে আকশের দিকে। এই হলো রমনা রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সভার দৃশ্য। বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আরোহণ করেন ৩টা ২০ মিনিটে। কিন্তু ফাল্গুনের সূর্য ঠিক মাথার উপর ওঠার আগে থেকেই এই শ্লোগান চলছে। মঞ্চে মাইকে শ্লে¬াগান দিচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব নূরে আলম সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ ও আবদুল কুদ্দুস মাখন। স্লোগান দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান আবদুর রাজ্জাক। লক্ষ কন্ঠে ফিরে আসছে স্লোগানের জওয়াব বজ্র হুঙ্কারে। স্লোগানের ফাঁকে ফাঁকে নেতৃবৃন্দ দিচ্ছেন টুকরো টুকরো বক্তৃতা। আর আকাশ-বাস কাঁপিয়ে ধ্বণিত হতে থাকে আগুনঝরা স্লোগান: বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর-বাংলাদেশ স্বাধীন কর, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়-বাংলাদেশ স্বাধীন কর, তোমার দেশ আমর দেশ-বাংলাদেশ বাংলাদেশ। শেখ মুজিবের পথ ধর- বাংলাদেশ স্বাধীন কর। এরপরই স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা রাজনীতির কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাইকের সামনে এসে দাঁড়ান। লক্ষ জনতার শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত তখন ঢাকার আকাশ-বাতাস। সে গগনবিদারী শ্লোগান চলা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ শুরু করেন।

সে সময়ের আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সংগ্রাম কোন্ রূপ গ্রহণ করবে, তা কি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত হবে, নাকি বাঙালির মুক্তি আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, সে বিষয়টা নির্ভর করেছিল বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দিক-নির্দেশনার ওপর। তাই এ ভাষণ নিয়ে বাঙালি তথা আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে কৌতুহল ও ভাবনার শেষ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তাঁর ভাষণের প্রতিটি বাক্য কবিতার পঙক্তিতে ভারসাম্যের ওজনে সর্বস্তরের মানুষের ওপর বিপুল প্রভাব বিস্তার করেছিল। সেই ভাষণের পর পরই ঢাকাস্থ মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার বস্নাডের লিখেছেন, “রোববার ৭ মার্চ প্রদত্ত মুজিবের ভাষণে তিনি যা বলেছিলেন তার চেয়ে লক্ষণীয় হলো তিনি কি বলেন নি। কেউ কেউ আশঙ্কা করছিলেন, আবার কেউ কেউ আশা করেছিলেন যে, তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করবেন। এর বদলে বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার লক্ষে শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান তিনি জানালেন।” আর্চার বস্নাড ঢাকায় অবস্থান করে পরিস্থিতির গুরুত্ব ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মর্মার্থ ও তাৎপর্য গভীরভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ গিবেষক মফিদুল হক বলেছেন,‘৭ মার্চের ভাষণে প্রতিরোধ আন্দোলনের এই লোকায়ত রূপ মেলে ধরবার পাশাপাশি প্রত্যাঘাতের ডাক এমন এক লোকভাষায় ব্যক্ত করলেন বঙ্গবন্ধু যে তিনি উন্নীত হলেন অনন্য লোকনায়কের ভূমিকায়, যার তুলনীয় নেতৃত্ব জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের কাফেলায় বিশেষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলার লোকঐতিহ্য ও জীবনধারার গভীর থেকে উঠে আসা ব্যক্তি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নেতৃভূমিকায়। জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে তিনি যে কতটা সার্থক হয়ে উঠেছিলেন তার পরিস্ফূটন ঘটেছিল সঙ্কটময় মার্চ মাসে তাঁর অবস্থান ও ভূমিকা এবং ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে। তিনি বক্তব্যে যেমন গভীরভাবে জাতীয়তাবাদী, তেমনি আন্দোলনের স্বাদেশিক রীতির নব-রূপায়ন ও প্রসার ঘটালেন সার্বিক ও সক্রিয় অসহযোগের ডাক দিয়ে, যে অসহযোগে সামিল ছিল ব্যাপক জনতা এবং সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অসহযোগ আন্দোলন ও ৭ মার্চের ভাষণের আবেদন উপচে পড়েছিল পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামোতে সামরিক-আধাসামরিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল বাঙালি সদস্যের ওপর এবং এর প্রতিফল জাতি লাভ করলো মুক্তিযুদ্ধের সূচনা থেকেই। বক্তৃতার রূপ হিসেবেও প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষণের কাঠামো সম্পূর্ণভাবে পরিহার করে বঙ্গবন্ধু এমন এক সৃজনশীলতার পরিচয় দিলেন যা দেশের মাটির গভীরে শেকড় জারিত করা ও গণ-সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া অনন্য নেতার পক্ষেই সম্ভব হয়েছিল। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর উন্নীত হয়েছিল ওরাকলের পর্যায়ে, তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভবিষ্যৎদ্রষ্টা এবং এই অমোঘ বাণী দেশবাসীর অন্তরে যে অনুরণন তৈরি করেছিল সেই শক্তিতে অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পরিণত হয়েছিলেন তৃতীয় বিশ্বের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের কাতারে সামিল আরেক অনন্য নেতায়।’

৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু জাতীয় মুক্তির গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে চির বঞ্চিত বাঙালির সংগ্রামের গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে আখ্যায়ীত করে বলেছিলেন,‘ “আমি শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে তাঁকে অনুরোধ করলাম ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না।” তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা।’ “আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ, আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি তখনই তারা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।” গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ সংগ্রামের প্রত্যয় ব্যক্ত করেই বঙ্গবন্ধু ডাক দিয়েছিলেন সম্ভাব্য সশস্ত্র আঘাত মোকাবিলায় উপযুক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার। অসাধারণ প্রজ্ঞার পরিচয় মেলে এ ভাষণে। যার ফলে বাংলাদেশের মুক্তি-সংগ্রাম স্নায়ুযুদ্ধ-পীড়িত বিশ্বে কোনো এক পক্ষের সংগ্রাম না হয়ে অর্জন করে সার্বজননীন সমর্থন পায়। ফলে সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষ বাংলাদেশের পক্ষে ছিল সোচ্চার, আর এর প্রভাব পড়েছিল অনেক দেশের সরকারের ওপর।

তিনি বক্তৃতা শুরু করেছিলেন বাঙালিদের একান্ত ও নিজস্ব উচ্চারণ ‘ভাইয়েরা আমার’ বলে। একেবারে আড়ম্বড়হীন, ও বাহুল্যতা ছাড়া লাখো জনতার সামনে এমন অন্তরঙ্গ, প্রায় ব্যক্তিগত সম্বোধন বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই সম্ভব ছিলো। ভাষণের শুরুতেই তিনি বাঙালি আবেগকে উসকে দিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন, “আজ দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।” …“আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।”…তিনি যেন বুকভরা ভালোবাসা ও বেদনা নিয়ে তিনি বলেছেন, “৭ জুনে আমাদের ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।” “আমার পয়সা দিয়ে যে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে আমার দেশের গরিব, দুঃখী, আর্ত মানুষের মধ্যে, তার বুকের উপর হচ্ছে গুলি।” “কার সাথে বসব, যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে তাদের সঙ্গে বসব?” “গরীরেব যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে।” “আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়,” । মানুষকে হত্যার প্রসঙ্গ এবং সেই কথা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসব ঘটনাকে চিহ্নিত করছেন আমার লোক, আমার মানুষকে হত্যা হিসেবে,এভাবে বারংবার তিনি উচ্চারণ করেছেন আমার মানুষ, আমার দেশের গরিব-দুঃখি, আমার লোক বলে যা মানুষের মনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের ভালোবাসা ও আগেবে উদ্দীপ্ত হয়েছিল। তিনি তাঁর সেই ঔতিহাসিক ভাষণে পাকিস্তানের তেইশ বছরের নিপীড়নমূলক শাসন এবং তার বিরুদ্ধে জনসংগ্রামের ইতিহাসের নির্যাস একটি বাক্যে তুলে ধরতে ও ভূলে যাননি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।”

এ প্রসংগে লেখক আহমদ ছফা বঙ্গবন্ধুকে বলতেন বাংলার ভীম, মধ্যযুগের বাংলার লোকায়ত যে নেতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বাধীন রাজ্যপাট, নির্মাণ করেছিলেন মাটির দুর্গ, ভিতরগড়ে যে দুর্গ প্রাচীর এখনও দেখতে পাওয়া যায়, মাটির হলেও পাথরের মতো শক্ত। বাংলার ইতিহাসের এমন অনন্য নির্মাণ-কীর্তির তুলনীয় আর কিছু যদি আমাদের খুঁজতে হয়, তবে বলতে হবে ৭ মার্চের ভাষণের কথা। যেমন ছিল মধ্যযুগের বাংলার রাজা ভীমের গড়া পাথরের মতো শক্ত মাটির দুর্গ, তেমনি রয়েছে বিশ শতকের বাংলার লোকনেতা মুজিবের ভাষণ, যেন-বা মাটি দিয়ে গড়া, তবে পাথরের মতো শক্ত ’।
তিনি তাঁর ভাষণে বাঙালিকে একান্ত আপন তুমি সন্মোধণ করে বললেন, ‘মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।’ তাঁর এ উচ্চারণে প্রতিটি বাঙালির শিরায় শিরায় আবেগ ও উত্তেজনার ঢেউ খেলে যায়। আর বক্তৃতা শেষ করলেন বাঙালির সংগ্রামের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,_এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ প্রাজ্ঞ ও কৌশলী ভাষণ তাই পৃথিবীর অনেক রাষ্টবিজ্ঞানী আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গে প্রদত্ত ভাষণের চেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে তুলনা করে বলেছেন, আব্রাহাম লিংকনের প্রদত্ত ভাষণটি ছিল পূর্বপরিকল্পি ও লিখিত ভাষণ, প্রকৃতপক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণটি ছিল তাৎক্ষণিক এবং অলিখিত। সে হিসাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণটি আব্রাহাম লিংকনের ভাষণটিকেও ছাপিয়ে গেছে। তাই এই ভাষণটি যুগোত্তীর্ণ। যুগে যুগে এ ভাষণ নিপীড়ত, লাঞ্ছিত স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রেরণা ও উদ্দীপনা হিসাবে কাজ করবে। এই কারণেই বঙ্গবন্ধুর এ ঐতিহাসিক ভাষণটি সারা বিশ্বের সমসাময়িক রাজনৈতিক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব রাজনীতির ছাত্র ও রাজনৈতিক গবেষকদের দ্বারা প্রশংসিত।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ক্ষমতাবান সরকারসমূহ ও বিশ্ব-সমপ্রদায় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল। সকল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধিরা ঢাকায় উপস্থিত থেকে ভাষণের বিবরণ প্রদান করেছেন। ‘নিউজউইক’ সাময়িকীর বিখ্যাত রিপোর্ট, যেখানে বঙ্গবন্ধুকে উল্লেখ করা হয়েছিল ‘পোয়েট অব পলিটিকস্’ হিসেবে, সে-কথা আমরা জানি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুধুমাত্র বাংলাদেশের মানুষের কাছেই নয়; বিশ্ব নেত্রীবৃন্দ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যমেও এ ভাষণকে একটি যুগান্তকারী দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ হিসাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই ধরণের কিছু বক্তব্য ও বিশ্লেষণ এখানে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে মনে করছি। প্রথমেই উদ্ধৃত করছি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মতামত ও বিশ্লেষণ। ১৯৭৪ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী শন ভ্যাকব্রাইড বলেছেন,‘শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন, কেবল ভৌগলিক স্বাধীনতাই যথেষ্ঠ নয়, প্রয়োজন মানুষের মুক্তি। বেঁচে থাকার স্বাধীনতা। সাম্য ও সম্পদের বৈষম্য দূর করাই স্বাধীনতার সমার্থ। আর এ সত্যের প্রকাশ ঘটে ৭ মার্চের ভাষণে।’ অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন বলেছেন,‘তিনি ছিলেন মানব জাতির পদ প্রদর্শক।…তাঁর সাবলীল চিন্তাধারার সঠিক মূল্য শুধু বাংলাদেশ নয় সমস্ত পৃথিবীও স্বীকার করবে।’ পশ্চিম বঙ্গের প্রয়াত সিপিএম নেতা ও সাবেক মূখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বলেছেন,‘৭ মার্চের ভাষণ একটি অনন্য দলিল। এতে একদিকে আছে মুক্তির প্রেরণা। অন্যদিকে আছে স্বাধীনতার পরবর্তী কর্ম পরিকল্পনা।’ কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছেন,‘৭ মার্চের শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুধুমাত্র ভাষণ নয়, এটি একটি অনন্য রণকৌশলের দলিল।’ মার্শাল টিটো বলেছেন,‘৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এই ভাষণের মাধ্যমে শেখ মুজিব প্রমাণ করেছেন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানীদের কোন রকম বৈধতা নেই। পূর্ব পাকিস্তান আসলে বাংলাদেশ।’ দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছেন,‘৭ মার্চের ভাষণ আসলে স্বাধীনতার মূল দলিল।’ গ্রেট ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথ বলেছেন,‘পৃথিবীর ইতিহাসে যতদিন পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম থাকবে, ততদিন শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণটি মুক্তিকামী মানুষের মনে চির জাগরুক থাকবে। এ ভাষণ শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য নয়, সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণা।’

একই সাথে বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চেও ভাষণের অনেক বিশ্লেষণ হয়েছে। নিউজ উইক,‘পত্রিকার নিবন্ধ দ্যা পয়েট অব পলিটিক্সে বলা হয়েছে,‘৭ মার্চের ভাষণ কেবল একটি ভাষণ নয় একটি অনন্য কবিতা। এই কবিতার মাধ্যমে তিনি ‘রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি পান।’ ১৯৯৭ সালে টাইম ম্যাগাজিনে বলা হয়েছে,‘শেখ মুজিব ৭ মার্চের ভাষরেণর মাধ্যমেই আসলে বাংলাদেশর স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। ঐ ভাষণে গেরিলা যুদ্ধের কৌশলও ছিল।’ বিবিসি-১৯৭১ ‘পৃথিবীর ইতিহাসে জন আব্রাহাম লিংকনের গেটিস বার্গ ভাষণের সঙ্গে তুলনীয় এই ভাষণটি। যেখানে তিনি একাধারে বিপ্ল¬বী ও রাষ্ট্রনায়ক।’ থমসন রয়টার্স ১৯৭১-বিশ্বের ইতিহাসে এ রকম আর একটি পরিকল্পিত এবং বিন্যস্ত ভাষণ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে একই সংগে বিপ্ল¬বের রূপরেখা দেয়া হয়েছে এবং সাথে সাথে দেশ পরিচালনার দিকনির্দেশনা ও দেয়া হয়েছে।’ একই সালে এএফপি বলেছে,‘ ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যদিয়ে শেখ মুজিব আসলে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি বাঙালিদের যুদ্ধের নির্দেশনাও দিয়ে যান। ঐ দিনই আসলে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।’ ১৯৭১ সালে দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টের এক ভাষ্যে বলা হয়,‘শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণই হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার মৌলিক ঘোষণা। পরবর্তীতে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে ঐ ভাষণেরই আলোকে।’ ‘১৯৭২ সালে আনন্দবাজার পত্রিকার এক নিবন্ধে বলা হয়,‘উত্তাল জনস্রোতের মাঝে, এ রকম একটি ভারসাম্যপূর্ণ, দিকনির্দেশনামূলক ভাষণই শেখ মুজিবকে অনন্য এক ভাবমূর্তি দিয়েছে। দিয়েছে অনন্য মহান নেতার মর্যাদা।’ আর বাংলাদেশের জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণ তার কবিতায় বলেছেন,‘কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠবাণী? গণসূর্যে মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর- কবিতাখানী।’

আজকালের পাঠকরা সংক্ষিপ্ত পড়তে চায়। সেই কারণে লেখার পরিধি আর না বাড়িয়ে এই বলেই শেষ করবো আগামী দিনের ঐতিহাসিকরা যখন ইতিহাস লিখবেন সেই ইতিহাসে আপন গৌরব ও মহিমায় মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার অনন্য ভাষণ। পৃথিবীর ইতিহাসে যতদিন পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম থাকবে, ততদিন শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণটি মুক্তিকামী মানুষের মনে চির জাগরুক থাকবে।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.