আজ বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু আছে সেই চেয়ার

পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যাওয়ার কথা ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের; যাওয়া হয়নি, বসা হয়নি আচার্যের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে।

আজ বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু আছে সেই চেয়ার


৪১ বছর পর সোমবার স্মৃতির সেই স্মারক চেয়ারটি উন্মোচন করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে।  

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট টিএসসি মিলনায়তনে হতে যাওয়া সমাবর্তনে বঙ্গবন্ধুর বসার জন্য চেয়ারটি তৈরি করা হয়েছিল। এটা এতদিন টিএসসির সংরক্ষণাগারে ছিল। সোমবার সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছি।” টিএসসিতে দর্শনার্থীদের জন্য চেয়ারটি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চেয়ারটির পরবর্তী গন্তব্যের বিষয়ে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, “আরও কয়েকদিন প্রদর্শনের পর আমার সিদ্ধান্ত নেব এটা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে, নাকি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে দেওয়া হবে।”

আজকের এই দিনে পঁচাত্তরে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকালে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, “বঙ্গবন্ধু কখনো ভয়ভীতি পেতেন না, তিনি সবসময় তার সাহসী ভূমিকার মাধ্যমে এই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন।”

বঙ্গবন্ধু ত্যাগ, সাহস, আর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমস্ত ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সামনে এগোনোর জন্য সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পবিরারের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং ঘনিষ্ঠ। তিনি  নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে ১৯৪৯ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন প্রশাসন তাকে বহিষ্কার করেছিল।

“তবে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা নিয়ে একটি মুচলেকা দিতে বলেছিল, কিন্তু তিনি মুচলেকা দেননি। তিনি তখন জাতীয় রাজনীতিতে জড়িত হন।” পঁচাত্তরের পনের অগাস্টের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আজকের দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে সমাবর্তন আসার কথা থাকলে আসতে পারেনি। এই দিন বঙ্গবন্ধু ও তার সহপরিবারকে হত্যা করা হয়। আসতে পারেননি, কিন্তু তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের একটি বিশেষ মর্যাদা স্বরূপ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন।”

“সেটির প্রমাণ পাওয়া যায় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরীর বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে লেখা মানপত্রে। এই টিএসসিতে আজকে যে চেয়ারটি উন্মোচন করা হয়েছে সে চেয়ারটিতে বসার কথা ছিল তার।”
‘বঙ্গবন্ধু না থাকলে বাংলাদেশ কল্পনা করা যেত না’ জানিয়ে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, “শুধুমাত্র ১৫ আগস্ট শ্রদ্ধাভরে স্মরণ না করে বঙ্গবন্ধুকে বছরের ৩৬৫ দিনের প্রতিটি দিনই সম্মান ও স্মরণ করতে হবে।”

পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যাওয়ার কথা ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের; যাওয়া হয়নি, বসা হয়নি আচার্যের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে।