শেভ করলে চুল বাড়ে ?



ব্যাপারটি মিটমাট হয়ে গেছে সেই ১৯২০-এর দশকে। তবু মানুষের ধন্দ ঘোচেনি। এখনো মানুষ বিশ্বাস করে বারবার শেভ করলে চুল বাড়ে। একটি নয়, কয়েকটি গবেষণায় গবেষকরা একই ফল পেয়েছেন যে চুল বৃদ্ধিতে শেভিং কোনো ভূমিকা রাখে না। চুলের বৃদ্ধি নির্ভর করে হেয়ার ফলিকলের ওপর, যা থাকে চামড়ার নিচে আর শেভিং সেখানে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। ফলিকল নির্ধারণ করে চুলের পুরুত্ব, রং ও বৃদ্ধির হার। শেভ করা বা না করায় এর কোনো ব্যত্যয় ঘটে না। কত দিন ধরে ভুল ধারণাটি মানুষের মধ্যে চালু আছে তার পরিষ্কার হিসাব পাওয়া যায় না। এর পেছনে কোনো একক মানুষের ভূমিকার খবরও মেলে না। একটা কারণ আন্দাজ করা হয়, সম্ভবত মাতা-পিতা ছেলেমেয়েদের কোনো কারণে বলে থাকবেন, দেখো চুল কামালে আরো ঘন হয়ে চুল উঠবে। অথচ ব্যাপারটি সত্যি হলে মানুষ যেসব স্থানে ব্লেড চালায় তার সর্বত্র চুল উঠে জঙ্গল হয়ে যেত। ভুল ধারণাটি তৈরির পেছনে এটাও কারণ হতে পারে, শেভ করার পর গজিয়ে ওঠা ছোট চুল শক্ত লাগে। যেমন একটি গাছের লম্বা ডাল ভাঙতে সহজ হয়, কিন্তু যত ছোট করবেন তত তা ভাঙা কঠিন হবে। অনেকে আবার বিশ্বাস করে, বারবার শেভ করলে চুল ঘন কালো হয়। এটিও ভুল ধারণা। সত্যি হলে সাদা বা বাদামি রঙের চুলওয়ালা মানুষ দিনে দিনেহারিয়ে যেত।

তবে শেভিংয়ে একটি ফল মেলে, তা হলো মরা চুলের শেষটাও নিঃশেষ হয়। ভুল ধারণা তৈরিতে এটিও সাহায্য করে থাকতে পারে। অনেকে মনে করে, এর ফলে স্থানটি পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় নতুন চুল গজাবে।

এ ছাড়া আরেকটি ব্যাপার মানুষ খেয়াল করে, প্রথম দিককার তুলনায় বড় বেলার শেভিংয়ের পর চুল অধিক ঘন হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, ব্যাপারটিতে শেভিংয়ের ভূমিকা নেই বরং বয়স কারণ।