আমি সব সময় ছেলেদের সানগ্লাস ব্যবহার করি: মেহজাবীন চৌধুরী



বর্তমানে মডেলিং ও অভিনয় জগতের জনপ্রিয় মুখ মেহজাবীন চৌধুরী। খুব ছোট বেলায় এই লাস্যময়ী অভিনেত্রী পরিবারের সঙ্গে দুবাই চলে যান। ইন্ডিয়ান স্কুলে পরা এই অভিনেত্রী পরে দেশে ফিরে আসেন ১৬ বছর বয়সে। মায়ের চেষ্টায় মিডিয়ায় অডিশন দিলে লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার হয়ে মিডিয়ায় পদার্পণ করেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাংলালিংক দেশ এর টিভি কমার্শিয়ালের মাধ্যমে সবার নজড় কাড়তে সক্ষম হন। আজকের মেহজাবীন দেশের মানুষের হৃদয়ে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন। তার জনপ্রিয়তা দেখলেই বুঝা যায় সাধারণ মানুষ তাকে অনেক পছন্দ করেন। সম্প্রতি কথা হয় এই মডেল ও অভিনেত্রীর সঙ্গে। তিনি প্রিয়.কমে তার ফ্যাশন বিষয়ক বিভিন্ন ভাবনা শেয়ার করেন। 


প্রশ্ন : কোথা থেকে শপিং করেন?

মেহজাবীন: সাধারণত দেশের বাইরে গেলে রেডিমেট ড্রেসগুলো কিনে নিয়ে আসি। এছাড়া ওকেশনালি ডেসব ড্রেস পরি সেগুলো নিজেই ডিজাইন করে থাকি। বিয়ে, গেট টুগেদার, শাড়ি, থ্রিপিস, টপস, অভিনয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেসগুলো সবই নিজে ডিজাইন করে পরি।

প্রশ্ন :আপনি তো বরাবরই স্লিম, সেক্ষেত্রে শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখার জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন?

মেহজাবীন: ফিটসেনের জন্য আমার কখনোই কিছু করা হয়না, জেনেটিক্যালি আমি এই ধরনের। অনেকের একটু বেশি খেলেই ফ্যাট হয়ে যায়, আমি সেরকমও নই। 


প্রশ্ন :কি খাবার খেতে পছন্দ করেন? 

মেহজাবীন: দেশিয় সব খাবারই খাই, মাঝেমাঝে খাবারে এমন অনিহা থাকে যে ক্ষুধাই লাগে না, আবার মাঝেমাঝে অনেক বেশিও খাই। এরমাঝে এরাবিয়ান ফুড, ইন্ডিয়ান ফুড আমার পছন্দ। এরাবিয়ান স্যান্ডউইচ, শর্মা ফেভারিট। হায়দ্রাবাদের বিরিয়ানীও আমি পছন্দ করি। 

প্রশ্ন : কি ধরনের পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

মেহজাবীন: সেলোয়ার কামিজ রেগুলার পরা হয়। চরিত্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন কস্টিউম পরা হয়। তবে সেলোয়ার কামিজই প্রিয়। 


প্রশ্ন :কোন ব্র্যান্ডের পারফিউম ব্যবহার করেন?

মেহজাবীন: আমার অনেক ব্র্যান্ডের পারফিউম রয়েছে। তবে স্পেসিফিক কিছু ব্র্যান্ডের পারফিউম আমি বেশি ব্যবহার করি। এখন ব্যবহার করছি টুওয়ানটু। 

প্রশ্ন :আর সানগ্লাস?

মেহজাবীন: সানগ্লাসের ক্ষেত্রে ছেলেদের সানগ্লাস আমি পছন্দ করি। তাই সবসময় ছেলেদের সানগ্লাসই পরা হয় ও কেনা হয়। এখন ব্যবহার করছি এভিয়েটার। 


প্রশ্ন : অলঙ্কার পরতে পছন্দ করেন?

মেহজাবীন: জুয়েলারির মধ্যে শুধু নোজপিন আমার অনেক পছন্দের। নোজপিনের অনেক কালেকশনও আছে আমার। প্রায় চল্লিশ পঞ্চাশটি হবে। 

প্রশ্ন : ঘড়ি কি পরেন? কি ধরনের ঘড়ি পছন্দ?

মেহজাবীন: ঘড়ি রেগুলার পরা হয় না, ঘড়ির মধ্যে বেল্টের ঘড়িই পছন্দ। ক্যালভিন ক্লেইন, টমি হিলফিগার, টাইটান বেশি পছন্দ। ফাস্ট ট্র্যাকও ভালো লাগে। 


প্রশ্ন :স্টাইলের জন্য কোন ফ্যাশন আইকনকে কি ফলো করেন?

মেহজাবীন: স্পেসিফিক কাউকে তেমন কাউকে ফলো করি না। তবে অনেকের অনেক কিছু ভালো লাগে। কারো ড্রেস সেন্স, কারোবা হেয়ার স্টাইল, আবার কারো মেকআপ স্টাইল ভালো লাগে। 

প্রশ্ন :কোন ব্র্যান্ড বা স্টাইলের জুতা আপনার পছন্দ?

মেহজাবীন: আমি সব সময় স্নিকার্স পছন্দ করি। কনভার্সও ভালো লাগে। এগুলো অনেক কালেকশন করি। কোন জুতা ভালো লাগলেই কিনে ফেলি। জুতার মধ্যে ফ্লাট পছন্দ তবে হিলও কালেকশন করি। 


প্রশ্ন :ঘুরতে পছন্দ করেন? কোথায় যেতে ভাল লাগে?

মেহজাবীন: সবচেয়ে ফেভারিট হলো থাইল্যান্ড, দুবাই, ইউরোপ। আমি সীবিচ খুব বেশি ইনজয় করি না, শহরে থাকতেই পছন্দ করি। মানুষ, পরিবেশ ভালো লাগে। 

প্রশ্ন : অবসর সময়ে কি করেন? 

মেহজাবীন: বলতে গেলে আমি অবসর একদম পাই না। অবসরে বাসায় থাকতেই পছন্দ করি। এছাড়া কাপড় ডিজাইন করতে ভালো লাগে। এখন পর্যন্ত অনেক পোশাক ডিজাইন করেছি, যা দেখে অনেকেই প্রশংসা করেছে। 


প্রশ্ন : শখ কি? 

মেহজাবীন: পোশাক ডিজাইন করা-ই শখ বলতে পারেন। 

প্রশ্ন : ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

মেহজাবীন: আমি কখনো ফিউচার নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারিনা। যদি সেসব পরিকল্পনা মতো না হয় সেক্ষেত্রে খারাপ লাগবে। হুটহাট করেই যেকোন কিছু করতে পছন্দ করি। যা ভালো লাগে তাই করি। 


প্রশ্ন : প্রিয় মানুষ কে?

মেহজাবীন: মা-বাবা, ভাই বোন। সবাই আমার প্রিয়। 

প্রশ্ন : কোন রং এর প্রতি কি দূর্বলতা আছে? 

মেহজাবিন: না স্পেসিফিক রঙ এর প্রতি কোন দূর্বলতা নেই। সব ধরনের রঙই পছন্দ। 


প্রশ্ন : কোন ব্র্যান্ডের গাড়ি ব্যবহার করছেন? কোন গাড়িটা কেনার ইচ্ছা?

মেহজাবীন: সত্যি বলতে গাড়ি সম্পর্কে আমার ধারণা খুবই কম (হেসে)। এখন টয়োটা চালাচ্ছি। 

প্রশ্ন :ফ্যাশন বিষয়ে কিছু বলুন। 

মেহজাবীন: ফ্যাশন বলতে বুঝি, নিজের পারসোনালিটি অনুযায়ী যার যার ফ্যাশন আলাদা আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। ফ্যাশন নিয়ে কোন রুলস রেগুলেশন থাকা উচিত নয়। যার যেটা ভালো লাগে, যে যেটা কনফিডেন্টসিয়ালী পরতে পারে ও ভালো লাগে তাই ফ্যাশন।

সাক্ষাৎকারটি প্রিয় ডট কমে প্রকাশিত ।