হার্ট অ্যাটাক! শরীরের অন্যতম ভাইটাল অরগান হার্টের রক্তনালীতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তনালী সরু হওয়ার কারণে রক্ত চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি হওয়ায় মূলত হার্ট অ্যাটাকের সৃষ্টি হতে পারে। 
 
আর এ ক্ষেত্রে রক্তের কোলেস্টেরল হার্ট অ্যাটাকের জন্য প্রধানত দায়ী। কারণ যার রক্তে যত বেশি পরিমাণ কোলেস্টেরল থাকে তার হার্টের রক্তনালীতে কোলেস্টেরল জমে প্ল্যাক তৈরি হয় তত বেশি। আর এই প্ল্যাক হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘ডিপোজিশন অব কোলেস্টেরল অ্যাট দ্য আর্টারিয়াল ওয়াল’ অর্থাত্ হার্টের করনারী ধমনীর ভিতরের দেয়ালে চর্বি জমে যাওয়া। আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে যার হার্টের রক্তনালীতে চর্বি বেশি জমবে তার আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তত বেশি। 
 
তাই হার্ট অ্যাটাকের হাত থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য অবশ্যই রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়াম সবচেয়ে ভাল পন্থা।

অবৈধ প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে রবি
 
ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক রেলওয়ের। অথচ অবৈধভাবে সেই নেটওয়ার্ক ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন।
 
তাদের সঙ্গে রেলওয়ের চুক্তি অনুযায়ী নিজেরা ব্যবহার করা ছাড়া এই ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক কারো কাছে তারা ভাড়া দিতে পারবে না। অথচ বহু প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি ভাড়া দিচ্ছে গ্রামীণফোন। অন্যদিকে বাংলাফোন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বিটিআরসি বাতিল করেছে বছর দেড়েক আগে। অথচ সেই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক নিয়ে চালাচ্ছে আরেক বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর রবি। বিটিআরসি বার বার চিঠি দিয়ে সতর্ক করলেও তারা এ বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ করছে না।
 
বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, রবির বিষয়টি নিয়ে আমাদের কমিশন বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। গ্রামীণফোনের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
 
২০ বছর আগে রেলওয়ের সঙ্গে একটা চুক্তি করে গ্রামীণফোন। সেই চুক্তির আলোকে রেলওয়ের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তারা ব্যবহার করছে। এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করছে তারা। তাদের এই চুক্তির মেয়াদ ২৬ বছর। গ্রামীণফোন যখন রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তি করে তখন দেশে কোনো এনটিটিএন (ন্যাশনওয়াইড টেলি-কমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) লাইসেন্স ছিল না। কিছুদিন আগে সরকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এনটিটিএন লাইসেন্স দেয়। এগুলো হলো ফাইবার অ্যাট হোম, সামিট কমিউনিকেশন, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ লি.) ও বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলিকমিউনি-কেশন কোম্পানি লি.)।
 
বাংলাদেশ রেলওয়ে এনটিটিএন লাইসেন্স পাওয়ার পর অন্য যে কেউ তাদের কাছ থেকে সেবা নিতে পারবে। কিন্তু রেলওয়ের সঙ্গে গ্রামীণফোনের অসম চুক্তির ফলে রেলওয়ে অন্য কাউকে এই সেবা দিতে পারছে না। বিটিআরসি বলছে, রেলওয়ে যখন লাইসেন্স পেয়েছে তখন গ্রামীণফোনের সঙ্গে তাদের চুক্তি আপনাআপনি বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেটা হয়নি। প্রতি মিটার ফাইবার অপটিকের সরকার অনুমোদিত লিজ রেট যেখানে দুই টাকা, সেখানে গ্রামীণফোন রেলওয়েকে ফাইবার অপটিক লিজ বাবদ দিচ্ছে মাত্র ৬৮ পয়সা। এটাই চলছে বছরের পর বছর।
 
চুক্তি অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া কোনো অপারেটরের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা, ভাড়া ও লিজ দেওয়া কিংবা সংস্কার করা গুরুতর অপরাধ। এই আইন লংঘন করলে ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল ও ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে। অথচ গ্রামীণফোন লাইসেন্স ছাড়াই বহু প্রতিষ্ঠানের কাছে এই নেটওয়ার্ক ভাড়া দিয়েছে।
 
একটি এনটিটিএনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পাঁচটি অপারেটরকে এনটিটিএন লাইসেন্স দিয়েছে। তারা এরই মধ্যে এই খাতে বিপুল অংকের টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছে। তিন কোটি টাকা লাইসেন্স ফিসহ ১০ কোটি টাকা সরকারের ফান্ডে জমা রেখেছে। এই অবস্থায় লাইসেন্স ছাড়াই একটি কোম্পানি কীভাবে তাদের ট্রান্সমিশন অন্যের কাছে ভাড়া দিচ্ছে? এটা তো অপরাধই। বিটিআরসির এ দিকে নজর দেওয়া দরকার।
 
তবে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রেলওয়ের সঙ্গে তাদের সব লেনদেন আইনসঙ্গতভাবেই হচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে গ্রামীণফোনকে প্রাথমিকভাবে ২০ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়। পরে এক সংশোধনীর মাধ্যমে লিজের মেয়াদ আরো ১০ বছর বাড়ানো হয়। লিজ চুক্তির অংশ হিসেবে গ্রামীণফোন এরই মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার ফাইবার নতুনভাবে স্থাপন করেছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।
 
সূত্র জানায়, গ্রামীণফোনের চেয়ে আরো বেশি দামে এয়ারটেলসহ বেশ কয়েকটি টেলিকম অপারেটর রেলওয়ের এ নেটওয়ার্ক ভাড়া নিতে চেয়েছিল। কিন্তু চুক্তির অজুহাতে অন্য কাউকে সে সুযোগ দেয়া হয়নি। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ফাইবার লে আউটের বিধান লংঘন করেছে গ্রামীণফোন। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়াই গ্রামীণফোন রেলওয়ের ছয় কোরের ফাইবার ফেলে দিয়ে ৪৮ কোরের ফাইবার লে আউট করেছে। সেখান থেকে তারা তৃতীয় পক্ষের কাছে ফাইবারের ক্যাপাসিটি বিক্রি করছে। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও চুক্তির বরখেলাপও বটে।
 
অন্যদিকে লাইসেন্স বাতিল হওয়া বাংলাফোনের কাছ থেকে এনটিটিএন সার্ভিস নিচ্ছে রবি। বাংলাফোনের কাছ থেকে সার্ভিস না নিতে বিটিআরসি দফায় দফায় চিঠি দিয়েছে। সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শারমিন সুলতানা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাফোনের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এনটিটিএন সার্ভিস না নিতে সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশের কপি রবিকেও দেওয়া হয়েছে। অথচ এই অবৈধ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সার্ভিস নিচ্ছে রবি। বিটিআরসির নির্দেশের প্রতি কোনো তোয়াক্কাই করছে না প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস কিংবা উইন্ডোজ ফোন হোক, দৈনন্দিন কাজ সহজ করে তুলতে স্মার্টফোনে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহারের বিকল্প নেই। তবে কয়েক লাখ অ্যাপের মধ্যে আপনার জন্য সঠিক এবং কার্যকরী অ্যাপ নির্বাচন করাটা একটা চ্যালেঞ্জ বটে। সহজে দরকারি অ্যাপটি খুঁজে পাওয়ার কিছু পরামর্শ এখানে দেওয়া হলো।

১. অ্যাপ স্টোরের সুপারিশগুগল প্লে স্টোরে যে ধরনের অ্যাপ, আপনার দরকার সে বিভাগ নির্বাচন করলেই সেরা অ্যাপগুলো সুপারিশ হিসেবে দেখাবে। নামানোর পরিমাণ, জনপ্রিয়তা, ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের পছন্দের ওপর ভিত্তি করে প্লেস্টোর সেরা অ্যাপগুলো নামানোর সুপারিশ করে। উইন্ডোজ এবং আইওএসের অ্যাপস্টোরে ‘ফিচার’ এবং ‘অ্যাপস ইউ মাইট লাইক’ অংশে সুপারিশকৃত অ্যাপ পাওয়া যাবে।

২. জনপ্রিয় অ্যাপের তালিকাঅ্যাপলের অ্যাপ স্টোর কিংবা গুগলের প্লেস্টোরে একটি অ্যাপ নির্বাচন করলে নিচের দিকে ‘ইউজার অলসো ইনস্টলড’ অংশে নির্বাচিত অ্যাপের মতোই একই ধরনের অন্যান্য জনপ্রিয় অ্যাপ দেখাবে। এই অংশে এ ধরনের কোন অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীরা বেশি নামাচ্ছেন, তা দেখায়।

৩. পর্যালোচনা মাথায় রাখুন
অ্যাপ স্টোরগুলোতে কোনো অ্যাপের পাতা খুললে সেই অ্যাপ সম্পর্কে অন্য ব্যবহারকারীদের পর্যালোচনা দেখাবে। সেগুলো পড়লেই অ্যাপটি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবেন। এ ছাড়া রেটিং দেখে অ্যাপটির গুণগত মান নিয়ে ধারণা পাবেন।

৪. একই ডেভেলপারের অন্য অ্যাপ
কোনো অ্যাপ ব্যবহার করে ভালো লাগলে সে অ্যাপ নির্মাতার তৈরি অন্য অ্যাপগুলোতেও একবার নজর বোলাতে পারেন। সেখানে হয়তো আপনার প্রয়োজনীয় কোনো অ্যাপ পেয়ে যাবেন। অ্যাপ স্টোরের কোনো অ্যাপের পাতায় গিয়ে ‘মোর বাই ডেভেলপার’ অথবা ‘ডেভেলপার্স অ্যাপস’ অংশে প্রবেশ করলে একই নির্মাতার তৈরি অন্যান্য অ্যাপ পেয়ে যাবেন।

৫. শেষ কবে হালনাগাদ করা হয়েছে?
সর্বশেষ এক মাসের মধ্যে হালনাগাদ করা হলে অ্যাপটি নামাতে পারেন। তবে গত এক বছর বা তার বেশি সময়ে হালনাগাদ না হলে বুঝতে হবে অ্যাপটি পরিত্যক্ত করেছেন এর নির্মাতারা। এ ছাড়া নামানোর আগে দেখে নিন অ্যাপটি আপনার স্মার্টফোনে সমর্থন করবে কি না।

বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে, সব সময়ই কোনো না কোনো ফ্যাশন সপ্তাহ চলছে। সিডনি, ইস্তাম্বুল, দুবাই, সিউল, মস্কো, টরন্টো, কোপেনহেগেন কিংবা লাগোসের মতো শহরগুলোর জন্য ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা যদি হয় সিলিকন ভ্যালিতে, তবে কিছুটা খটকা লাগেই। মজার ব্যাপার হলো, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরটিতে তিন দিনের এই বার্ষিক ফ্যাশন উইক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাও আবার দ্বিতীয়বারের মতো।

‘সিলিকন ভ্যালি ফ্যাশন উইক’-এ ফ্যাশনে প্রযুক্তির সমাবেশ বিশেষত পরিধেয় প্রযুক্তি দেখানো হয়। যেমন অ্যালিসন লুইস নামের এক ফ্যাশন ডিজাইনার তিনটি পণ্য দেখিয়েছেন। যার একটি হলো এলইডি বাতিওয়ালা চামড়ার হ্যান্ডব্যাগ। এই এলইডিগুলোর আলো আবার একটি অ্যাপের মাধ্যমে পুনর্বিন্যাস করা যায়। একই বৈশিষ্ট্যের টি-শার্টও দেখান তিনি। এ ছাড়া একটি পোশাক দেখানো হয়েছে, যা পরিধানকারীর হৃৎস্পন্দনের সঙ্গে বাতি জ্বলে ওঠে। এমনই অনেক পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্য সিলিকন ভ্যালি ফ্যাশন সপ্তাহে দেখানো হয়েছে। শুধু প্রযুক্তিমনারা নয়, যে কেউ ২০ ডলারের বিনিময়ে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। এ বছর প্রায় ৩০টি ব্র্যান্ড অংশ নেয়।

অনেকে বলেন, আইফোন সব সময় অনুকরণীয়। স্যামসাংও পিছিয়ে নেই। তবে শিয়াওমির ‘মি মিক্স’ নামের একটি স্মার্টফোনের ধারণা প্রকাশ করার পর থেকে অনেকেরই সে ধারণা বদলাতে শুরু হয়েছে। কারণ এই ফোনটির নকশায় ‘ভবিষ্যৎ’-এর আভাস আছে বলে উল্লেখ করছে শিয়াওমি।


বিখ্যাত ফরাসি নকশাবিদ ফিলিপ স্টার্কের নকশা করা স্মার্টফোনটি শুধু ধারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাজারে আসছে আগামী মাসেই। আইফোন ও স্যামসাংকে অনুকরণের বাইরে এই প্রথম শিয়াওমি তাদের নিজ প্রচেষ্টার বাস্তব রূপ দিচ্ছে মি মিক্সের মাধ্যমে। ফোনটির দাম প্রায় ৫৪০ ডলার হবে বলে জানা গেছে।

মি মিক্সের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এতে ৬.৪ ইঞ্চির এজ-টু-এজ পর্দা থাকবে। অর্থাৎ বেজেল বা পর্দা বাইরে ফাঁকা অংশ তিনদিকে থাকছে না। পর্দার তিন দিকে বাঁকানো থাকবে। এ ছাড়া পর্দাটা থাকবে ফোনের ৯১.৩ শতাংশজুড়ে।

শিয়াওমি জানিয়েছে, ফোনটিতে ২০৪৮ x ১০৮০ রেজল্যুশন এবং ১৭:৯ অনুপাতের পর্দা ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটির কাঠামো তৈরিতে সিরামিক ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে ফোনটিতে সহজে দাগ পড়বে না।

আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো ৫ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা পর্দার ওপরে না রেখে নিচের দিকে যুক্ত করা হয়েছে। আর পেছনে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

এ ছাড়া ৪ এবং ৬ গিগাবাইট র‍্যামের আলাদা দুটি সংস্করণ আনছে শিয়াওমি। তথ্যধারণের ক্ষেত্রেও কৃপণতা করেনি শিয়াওমি। ১২৮ গিগাবাইট ও ২৫৬ গিগাবাইট অভ্যন্তরীণ মেমোরির মডেল পাওয়া যাবে। ৪৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে এই স্মার্টফোনে। আগামী নভেম্বরে ফোনটি ছাড়া হবে।

বাংলাদেশে পরিচালিত ইন্টারনেটভিত্তিক বাণিজ্য বা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৫১ শতাংশ দেশীয় বিনিয়োগ থাকতে হবে এমন নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) আয়োজিত ই-কমার্স নীতিমালা সম্মেলনে সরকারের প্রতি এই দাবি তুলে ধরেন স্থানীয় বেশ কজন উদ্যোক্তা।

উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান ছাড়াও দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল তিনটি সেমিনার। ‘বাংলাদেশে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ই-কমার্সের নিরাপত্তা বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্রেতারা পণ্য কিনে প্রতারিত না হন।

সকালে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশে ই-কমার্সের উন্নয়নের জন্য খুব শিগগির এ বিষয়ে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা করা দরকার।

একটি সেমিনারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘ই-কমার্সের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে। এখন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। আমি চাই ই-কমার্সের জন্য দেশের ৯ হাজার ৮৮৬টি ডাকঘরকে কাজে লাগাতে। এই ব্যবসায় খাতে সবার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা হবে। ‘বিজনেস লিডারশিপ ডায়ালগ অন ই-কমার্স’ শীর্ষক এই সেমিনারে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘ভালো ধারণা নিয়ে বাজারে আসুন। মূলধন বেশি না থাকলে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা করুন।’

অনলাইন লেনদেনবিষয়ক সেমিনারে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ভ্যাট-ট্যাক্সের সমস্যার সমাধান হয়েছে। এই খাতে বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যারও সমাধান হবে।

এই সম্মেলনে ই-কমার্স খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ই-ক্যাবের সভাপতি রাজীব আহমেদ বলেন, শুধু ঢাকায় নয়, গ্রামেও ই-কমার্সের চাহিদা বেড়েছে। আগামী ১০ বছরে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এ খাতে।


একজন ব্লগারের যে তিন সুপারপাওয়ার থাকতে হবে

একজন ভাল ব্লগার হতে হলে আপনার অবশ্যই গল্প বলার ক্ষমতা থাকতে হবে। ভালো গল্প বলার কৌশল আপনাকে ভালো ব্লগার হতে সাহায্য করবে।
প্রথমত, আপনাকে গল্প বলার কাঠামোর উপর মনোযোগী হতে হবে। কিভাবে একটা ভালো কাঠামোর মাধ্যমে গল্পটাকে এগিয়ে নেয়া যায় এবং আপনি তা দিয়ে একটা আকর্ষনীয় ব্লগ পোষ্ট তৈরি করতে পারেন।
যে তিনটি সুপারপাওয়ার একজন ব্লগারের থাকা দরকার ও আপনি তা কিভাবে আয়ত্ত করতে পারেন তা নিয়ে এ টিউটোরিয়াল।
সুপারসনিক হিয়ারিংলেখকদের একটা অবিশ্বাস্য বিষয় আছে যা সত্যি অবাক করার মতো। আপনাকে অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। আড়িপাতার গুণ থাকলে সেটিও মাঝে মধ্যে কাজে লাগাতে হবে।
আপনি বিষয়টা নিয়ে জনপ্রিয় লেখকের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন। আমার মনে হয় তারা তা অকপটে স্বীকার করবে। যারা সত্যি ভালো লেখক তারা সব জায়গাতেই, যেমন-  বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে ও ক্যাফেতে মানুষের আলোচনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
এর কারণ সেখান থেকে গল্প ও ব্লগ লিখতে দারুণ সব আইডিয়া সংগ্রহ করেন তারা। লেখকদের অন্যের কথা বেশি বেশি শোনার ক্ষমতা থাকতে হবে। এতে নতুন আইডিয়া আসবে। চারিদিকে কি ঘটছে তারা তা জানতে পারবেন। অন্যেরক মনোজগতে কি চলছে তা বুঝতে পারবেন।
এটি আপনার জন্য কিভাবে কার্যকরি হবেআপনাকে মনোযোগী শ্রোতা হতে হবে। দেখতে হবে যে আপনার আশেপাশের মানুষ কি বিষয় নিয়ে কথা বলে, তাদের কি ধরণের সমস্যা আছে। তারা সেটা নিয়ে কিভাবে ভাবছেন। তা থেকে আপনি আপনার কাঙ্খিত লেখার টপিক খুঁজে নিতে পারেন।
তাছাড়া আরও একটা বিষয় আপনাকে সাহায্য করতে পারে তা হলো আপনার আইডিয়াগুলো পিসিতে লিখে রাখতে পারেন। প্রতিদিন সেটা নিয়ে কাজ করতে পারেন এবং নতুন কিছু যোগ করতে পারেন।
ব্যাটম্যান ভয়েস
আমাদের সকলেরই একটা ব্যাটম্যান ভয়েস আছে। আপনারও আছে। আজকে থেকে চেষ্টা করুন সেটাকে টেনে বের করে নিয়ে আসার।
একটা বিষয়ে বিশ্বে মিলিয়ন ব্লগ পোষ্ট আছে। তবে আপনি যখন সে বিষয় নিয়ে লিখবেন তখন সেটা আপনার নিজস্ব স্টাইলে লিখবেন। নতুন কিছু যোগ করবেন, আপনার মতামত তুলে ধরবেন যাতে সেটা কারো কপি না হয়ে যায়।
আপনি লিখবেন শুধু আপনার মতো করে, যা নিজস্ব স্টাইল তৈরি করতে সাহায্য করবে। এ গুণ আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।
এটি আপনার জন্য যেভাবে কার্যকরি হবে
নিজের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে লেখা। আপনাকে লেখার জন্য অনেক আন্তরিক হতে হবে। ভাবতে হবে এটার সঙ্গে অনেক বেশি সংযুক্ত হতে হবে। আপনি একটা ডায়েরি রাখতে পারেন যাতে প্রতিদিনের চিন্তাগুলো লিখে রাখতে পারেন।
চারপাশে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা লিখে রাখা বা মনে রাখার দরকার নেই, তবে এর মধ্য থেকে দু’একটি ঘটনা নিয়ে লিখতে থাকুন। এভাবেই চর্চা চালিয়ে যান। এটা আপনার মধ্যে ভয়ংকর সুপারপাওয়ার তৈরি করবে।
সাহসিকতা
‘যে কোনো কিছু করা সম্ভব যদি আপনার পর্যাপ্ত নার্ভ থাকে’- জনপ্রিয় লেখক জে কে রাউলিংয়ের এ কথা একবারে বাস্তব। প্রত্যেক সফল ব্লগার ও লেখকের প্রচন্ড সাহসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। হেরে যাবার ভয় থাকলে চলবে না।
আপনার সাহসিকতাই সাহায্য করবে ভালো কিছু লিখতে ও তা ব্লগ পোষ্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে।
ভালো ব্লগার হতে নিজের মধ্যেকার গুণতে নিজেই বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। আপনার মধ্য থেকে আপনাকেই বের করে নিয়ে আসতে  হবে। প্রথমত, সবাই আপনার সাথে একমত নাও হতে পারে, কেউ কেউ এটাকে অপছন্দই করতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করুন এর মধ্য দিয়েও আপনি কিছু শিখতে পারবেন প্রতিমূহর্তে।
এটি আপনার জন্য যেভাবে কার্যকরি হবে
এখানে একমাত্র উপায় হচ্ছে সবকিছুর ভেতর দিয়ে লেখাটকে চালিয়ে যাওয়া। আপনি যদি সমালোচনার ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকেন তাহলে কখনও এগুতে পারবেন না। ধৈর্য নিয়ে লিখতে হবে। এর ফলস্বরূপ ভালো কিছু আপনি পাবেনই।
আরও ভালো হতে পারে আপনি যদি কমিনিউটিতে যেসব ভালো লেখক আছেন তাদের সঙ্গে গেটটুগেদার করেন ও আইডিয়া নেন।
একই সঙ্গে নিয়মিত হ্যাশট্যাগ চেক করুন। এ থেকে জানতে পারবেন চারিদিকে কি ঘটছে। ট্রেন্ডিং বিষয়গুলো কী। এগুলো থেকে আইডিয়া নেওয়ার চেষ্টা করুন।


 ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের ব্যাকআপ ডাউনলোড

ওয়েবসাইট বা ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস এখন বেশ জনপ্রিয় একটি সিএমএস। সহজেই ওয়ার্ডপ্রেসের নানা থিম ও প্লাগইন ব্যবহার করে সুন্দরভাবে বানিয়ে ফেলা যায় যে কোনো ওয়েবসাইট। তবে কখনও কোনো দুর্ঘটনায় হারিয়ে যেতে পারে সাইটের পোষ্টগুলো। এগুলো যাতে হারিয়ে না যায় সে জন্য ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের ব্যাকআপ নিতে রাখতে হয়।
কিভাবে সাইটের পোস্টের ব্যাকআপ নিতে হবে তা এ টিউটোরিয়ালে তুলে ধরা হলো।
প্রথমে সাইটের এডমিন প্যানেলে ঢুকে ড্যাশবোর্ডের বাম পাশে থাকা অপশনগুলো থেকে ‘tools’-এ ক্লিক করতে হবে।
wordpress-techshohor
এরপর যেখানে থেকে ‘export’-এ ক্লিক করতে হবে। নতুন একটি পেইজ চালু হবে।
সেখান থেকে ওয়ার্ডপ্রেসের কোন ধরনের পোস্টগুলো ব্যাকআপ নিতে চান সেগুলো নিবার্চন করতে হবে। এতে পোস্ট, পেইজ ও মিডিয়া- এ তিন অপশন রয়েছে।
এ ছাড়া সম্পূর্ণ বা সবগুলো পোস্ট ব্যাকআপ নিতে রয়েছে ‘All content’ অপশন।
যে অংশটুকু ব্যাকআপ নিতে হবে সেটি নির্বাচন করে ‘download export file’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
তাহলে সাইটের ব্যাকআপ ফাইলটি ডাউনলোড শুরু হবে।

  পরবর্তী হ্যান্ডেসেট নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা ওয়ানপ্লাস। ডিভাইসটি নিয়ে গোপনে কাজ করলেও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে মুখে কুলূপ এটে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
 
 
তবে ওয়ানপ্লাস কর্তৃপক্ষের এতো রাখঢাককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন ফোনটির তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে অনলাইনে। ডিভাইসটির ডিজাইনারদের একজনই তথ্য ফাঁস করেছেন।
 
চীনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবো-তে ফাঁস হওয়া তথ্যমতে, ওয়ানপ্লাসের নতুন স্মার্টফোনটির নাম 'ওয়ানপ্লাস ৩টি'। এতে অক্সিজেন অপারেটিং সিস্টেমের অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ নাগোট-ভিত্তিক সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটিতে প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২১। কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ এর উন্নত সংস্করণ হলো কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২১, যা বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রসেসর।
 
তথ্য ফাঁসকারীর দাবি, নতুন ডিভাইসটি ওয়ানপ্লাসের ফ্ল্যাগশিপ হবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলার প্রমাণ নেই। তবে এটি নিশ্চিতভাবে 'ওয়ানপ্লাস ৩' এর উন্নত সংস্করণ হবে।
 
ফাঁস হওয়া তথ্যে আরও জানা গেছে, 'ওয়ানপ্লাস ৩টি'-তে অ্যামোলিড ডিসপ্লে থাকবে, থাকবে মেটাল ইউনিবডি ডিজাইন। এছাড়াও এতে ব্যবহার করা হবে দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি 'ডাশ চার্জ'।

 
২৫ অক্টোবর নিজেদের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন 'এমআই নোট ২' বাজারে আনতে যাচ্ছে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি। ইতোমধ্যে ফোনটির নানা তথ্য ফাঁস হয়েছে অনলাইনে। অনুমান, এই হ্যান্ডসেটের ডিসপ্লে হতে পারে কার্ভড বা ডুয়াল এজের। 
 
এই গুঞ্জনকে উস্কে দিয়েছে মূলত শাওমি-র একটি টুইট। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কার্ভড টু ইমপ্রেস’। এর আগে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৬ এজ ও গ্যালাক্সি এস৭ এজ হ্যান্ডসেটে 'টু সাইডেড ডুয়াল কার্ভ ডিসপ্লে'-র দেখা মিলেছে।
 
শুরুতেই বলেছি, উন্মোচনের আগেই অনলাইনে ফোনটির একাধিক ফিচার ফাঁস হয়ে গেছে। ফাঁস হওয়া তথ্য সত্যি হলে, এমআই নোট ২ হ্যান্ডসেটের দুটি সংস্করণ চীনের বাজারে আসছে। এর মধ্যে একটি হলো ৪ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজের, অপরটি হলো ৬ জিবি র‍্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজের।
 
এবার আসা যাক হ্যান্ডসেটটির বিস্তারিত স্পেসিফিকেশনের প্রসঙ্গে। ৫.৭ ইঞ্চির সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে-র নতুন হ্যান্ডসেটটির রেজ্যুলেশন ১৪৪০x২৫৬০ পিক্সেল। স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের সঙ্গে থাকবে প্রেসার সেনসিটিভ টেকনোলজি। এই বিশেষ প্রযুক্তিটির দেখা অবশ্য আগেই শাওমি এমআই ৫এস -এ দেখা গেছে।
 
 
শাওমির এই নতুন স্মার্টফোনের ক্যামেরা বেশ শক্তিশালী। সনি-র ২৩ ও ১২ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা, ফ্রন্ট ক্যামেরাও সনির, ৮ মেগাপিক্সেলের। 
 
৪১০০ এমএএইচ ব্যাটারির সঙ্গে মিলবে কুইক চার্জ টেকনোলজি। ফোরজি সাপোর্টেড, ডুয়াল ন্যানো সিম কার্ড স্লট ছাড়াও রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড মার্শম্যালো আপডেট। 
 
শুরুতে চীনের বাজারের জন্য উন্মোচন করা হবে এই ফোন। তবে অন্যান্য দেশের বাজারে মডেলটি কবে, সে বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

 
সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম টুইটার ইনকর্পোরেটেড তাদের আট শতাংশ বা প্রায় ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। সোমবার ব্লুমবার্গের এক রিপোর্টে এ কথা জানানো হয়।
 
মঙ্গলবার টুইটারের তৃতীয় কোয়ার্টারে কোম্পানির আয়ের বিবরণী প্রকাশ অনুষ্ঠানের আগে কর্মী ছাঁটাই করার এই ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
 
উল্লেখ্য, টুইটার গতবছর তার ৩ শত ৩৬ বা প্রায় ৮ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানায়। বিশ্বব্যাপী টুইটারে বর্তমানে ৩ হাজার ৮৬০ জন কর্মী কর্মরত আছেন।

মন্ত্রণালয় আর বিটিআরসিতেই ঘুরপাক খাচ্ছে ব্যবস্থাপনার নীতিমালা বা নির্দেশিকা

রাজধানীর নামকরা হাসপাতাল বারডেম। এই হাসপাতালের উপর চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার। কোনো ঝুঁকি বিবেচনা না করেই মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোকে টাওয়ার স্থাপনের অনুমতি দিচ্ছেন ভবন মালিকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব টাওয়ারের রেডিয়েশন স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ব্রেন টিউমার ও ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে এসব টাওয়ার বসানোর জন্য নেওয়া হচ্ছে না কোনো ধরনের অনুমতি। শুধু ভবন মালিকের সঙ্গে চুক্তি করেই টাওয়ারগুলো বসানো হচ্ছে। টাওয়ারের কারণে সংশ্লিষ্ট ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
 
রেডিওলজিস্ট ও ক্যান্সার হাসপাতালের ক্যান্সার এপিডিমিয়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন ইত্তেফাককে বলেন, যে কোনো ধরনের রেডিয়েশনই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এটি দৃশ্যমান নয়। আজকে যে রেডিয়েশনের শিকার হচ্ছে, কয়েক বছর পর এর প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রেডিয়েশনের কারণে ব্রেন টিউমার হচ্ছে। যেটা অবশ্যই আশঙ্কার। বাংলাদেশে বিভিন্ন ভবনের ছাদে ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটরের এ ধরনের ৪০ হাজার ৭০০টি টাওয়ার রয়েছে। এসব টাওয়ার থেকে কি পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা ছড়াচ্ছে তার কোনো হিসাব নেই। এসব টাওয়ারের মধ্যে গ্রামীণফোনের ১২ হাজার, বাংলালিংকের ৯ হাজার, রবির সাড়ে ৮ হাজার, এয়ারটেলের ৬ হাজার, টেলিটকের ৩ হাজার ৭০০ এবং সিটিসেলের দেড় হাজার। টাওয়ারগুলোর অধিকাংশই বিভিন্ন ভবনের ছাদে বসানো।
 
জানা গেছে, টাওয়ার ব্যবস্থাপনার একটি নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। এই নীতিমালা বিটিআরসি থেকে মন্ত্রণালয়, আর মন্ত্রণালয় থেকে বিটিআরসির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। অথচ তা আলোর মুখ দেখছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাইডলাইনটা চূড়ান্ত হয়ে গেলে টাওয়ার ব্যবস্থাপনা তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে দেওয়া যেত। তখন অনেক অযাচিত টাওয়ার খুলে ফেলাও সম্ভব হতো। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দেশের সব গ্রাহককে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য বর্তমানে যত সংখ্যক টাওয়ার আছে এর এক তৃতীয়াংশ টাওয়ার হলেই যথেষ্ট।
 
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কার্বন ফাইবার টাওয়ার স্থাপন করেছে একটি টাওয়ার কোম্পানি। সেটি পরিবেশ বান্ধব ও স্বাস্থ্যের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা দাবি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উন্নত বিশ্বে আবাসিক এলাকা থেকে যথাসম্ভব দূরে মোবাইল ফোনের টাওয়ার স্থাপন করা হয়। এ ধরনের টাওয়ার নবজাতক ও প্রসূতির জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। শিশুর প্রতি অবহেলা কার্যত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের নির্দেশক। বাংলাদেশে শিশুর প্রতি সহিংসতার বাইরেও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের বৈশ্বিক পুষ্টি প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২২ শতাংশ নবজাতক কম ওজন নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। দেশের পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি পাঁচ শিশুর দু’টি খর্বাকৃতি। মোবাইল ফোন টাওয়ারের রেডিয়েশনের কারণেই এমনটি হচ্ছে কি-না তা গবেষণার কথা বলেছেন বিশ্লেষকরা।
 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন ভবনের ছাদে মোবাইল ফোন কোম্পানির যে টাওয়ার বসানো আছে, তার জন্য আমাদের কাছ থেকে তারা কোনো অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা নতুন করে ভাবছি।’ 
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ইত্তেফাককে বলেন, ‘ভবনের ছাদে বসানো টাওয়ারে কর দেওয়ার একটা নীতিমালা আছে। অথচ মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার বসাতে আমাদের কাছ থেকে কেউ অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি; কিছু একটা করা যায় কি-না।’ 
 
শুধু বারডেম হাসপাতাল নয়, সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের ছাদেও বসানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি মোবাইল টাওয়ার। অথচ এ সব টাওয়ার থেকে উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন হয়। যা নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। টাওয়ার পর্যবেক্ষণ ও সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ছাদে যেসব ভারী যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে, তাতে যে কোনো সময় ছাদের ওই অংশ ভেঙে পড়তে পারে। রাজধানীর আজিমপুরে একটি নামকরা স্কুলের ছাদে বসানো ৫টি টাওয়ার খুলে ফেলার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে বারবার অনুরোধ করছে। কিন্তু এ দিকে তারা ভ্রুক্ষেপই করছে না। সবাই মাসিক চার্জ বাড়িয়ে দিতে চায়, কিন্তু খুলে ফেলতে কেউ রাজি নন। ওই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তারা খুলে না নিলে আমরাই টাওয়ারগুলো খুলে ফেলব।’
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইলের রেডিয়েশনের ফলে দেশের অগণিত শিশু নানা মানসিক প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত হচ্ছে। সমস্যার আর একটি দিক হলো, আমরা যখন ফোনে কথা বলি না, তখনও ওই বিকিরণ আমাদের ক্ষতি করে চলে। মোবাইল অন থাকলেই তাতে তড়িত্চুম্বকীয় তরঙ্গ আসতে থাকে টাওয়ার থেকে। কানে ফোন নিয়ে কথা বলার সময় সেটি মস্তিষ্কের একেবারে কাছে চলে আসে। বিকিরণ প্রবাহিত হতে থাকে শরীরের মধ্যদিয়ে। 
 
আন্তর্জাতিক ক্যান্সার রিসার্চ সংস্থার মতে, অতিমাত্রায় রেডিয়েশনের কারণে ব্রেইন ক্যান্সার হতে পারে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এর মতে, অতিমাত্রায় মোবাইল ব্যবহারে শরীরের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘক্ষণ কথা বলার কারণে কানের সমস্যা, কানে ঝিমঝিম করা, কানের ভিতরে ব্যথা, ব্রেইনের নিউরনের ক্ষতি, ব্রেনের কোষ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশনের কারণে মানুষের টিউমার, আলঝেইমার, ব্রেইন টিউমার, ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্ব, নিদ্রাহীনতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও গর্ভপাতসহ বিভিন্ন রোগ অতিত্রায় বেড়ে গেছে।
 
সম্প্রতি ভারতে মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর দিক বর্ণনা করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে বিচ্ছুরিত তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণের জন্য চড়ুই, মৌমাছি, ব্যাঙ, বাদুড় চামচিকা, শালিক, টুনটুনি, ময়না, টিয়া প্রভৃতি অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বিজ্ঞানিরা দাবি করেছেন। বিকিরণের জন্য বদলে যাচ্ছে পশু-পাখি-পতঙ্গকুলের আচরণ। সাথে সাথে তাদের প্রজননেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
 
গেল বছর পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গবেষকরা মোবাইল ফোন সৃষ্ট রেডিয়েশনের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়— তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ লিউকোমিয়া, ব্রেইন ক্যান্সার, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও অন্যান্য মারাত্মক রোগের জন্য বহুলাংশে দায়ী। যারা পেশার তাগিদে শক্তিশালী তড়িত্ চৌম্বকীয় বিকিরণের মধ্যে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তারা বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

শৈশবে ভাইবোনদের ভেতর মা-বাবার আদর নিয়ে চলে কাড়াকাড়ি। কাকে মা-বাবা বেশি ভালোবাসেন তা-ই নিয়ে খুনসুটি। আর পরিণত বয়সে মা-বাবা যখন বার্ধ্যকের ঘরে, তখন দৃশ্যপট যায় পাল্টে। নিজের গড়ে ওঠা পরিবারে মা-বাবাকে বাদ দিয়েই চলে সব হিসাব-নিকাশ। ‘ঝামেলা’ এড়ানোর জন্য ভাইবোনেরা এ-ওর ঘাড়ে তাঁদের দায়িত্ব চাপাতে থাকেন, আর এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে চলে মন-কষাকষি। তাঁদের সান্নিধ্য তখন যেন আর কাম্য নয়। কখনো বা তাঁদের গুরুত্ব শুধু নাতি-নাতনির দেখভালের জন্যই।

ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, কিন্তু এখনকার আত্মকেন্দ্রিক সমাজে যখন পারিবারিক বন্ধন ক্রমেই শিথিল হয়ে আসছে, তখন বৃদ্ধ মা-বাবা আর সন্তানের সম্পর্কের চেহারা মোটা দাগে এমনই। উল্লেখ করা যেতে পারে, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বিল সংসদে পাস হয়েছে ২০১৩ সালে। সন্তান পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না দিলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে এতে। নিঃস্বার্থ, নিঃশর্ত ভালোবাসার সম্পর্কে আনতে হয়েছে আইনি বাধ্যবাদকতা।

কেন এই ভাগাভাগি
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। এই দীর্ঘ বার্ধক্যে প্রবীণেরা আবার যেন শৈশবে ফিরে যান। শিশুর মতোই অসহায়, অভিমানী, সংবেদনশীল হয়ে পড়েন; সন্তানকে অবলম্বন করে বাঁচতে চান। একজন সন্তানের একার পক্ষে বয়স্ক মা-বাবার পুরো দায়িত্ব নেওয়াটাও বাস্তবে কঠিন। তাঁদের যত্ন-আত্তি, চিকিৎসা, ভরণ-পোষণের ভার সব ভাইবোন মিলে ভাগাভাগি করে নিতে চাইলেও অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। অনেকে পেশাগত ব্যস্ততার কারণে, অনেকে আবার জীবনসঙ্গীর বাধায় এ দায়িত্ব এড়াতে চান। অনেকে পিছপা হন অর্থনৈতিক অসচ্ছলতায়, কেউ কেউ স্রেফ আত্মকেন্দ্রিকতায় কিংবা স্বার্থপরতায়। ভাইবোনদের কেউ হয়তো ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ব নিতে অভ্যস্ত। বাকি ভাইবোনেরা তাঁর ঘাড়েই মা-বাবাকে ফেলতে চান। কেউ আবার ছেলেবেলার ‘আদুরে’ কিংবা ‘আনাড়ি’ ভাবমূর্তি বজায় রেখে দায়িত্বের মতো গুরুভার নিতে নারাজ।

সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন এ প্রসঙ্গে বললেন, ‘আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজে মা-বাবা ছেলের কাছে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। অনেক সময় পুত্রবধূরা বাধা হয়ে দাঁড়ান। আবার মেয়ে যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হন, তাহলে মা-বাবাকে নিজের সংসারে রাখাটা কঠিন হয়ে পড়ে। বৃদ্ধবয়সে মা-বাবারা শারীরিকভাবে তো বটেই, মানসিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েন। মেয়েরা এ ক্ষেত্রে যতটা ইমোশনাল সাপোর্ট দিতে পারেন, ছেলেরা তা পারেন না। এখনকার ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাজে ছেলেমেয়েরা যাঁর যাঁর জীবন নিয়ে এতটা মগ্ন থাকেন যে, মা-বাবার জন্য সময় বের করাটা তাঁদের কাছে অসম্ভব মনে হয়। একাধিক ভাইবোন থাকলে দায়িত্ব নিয়ে চলে ঠেলাঠেলি। দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা শহরাঞ্চলে বেশি।’

এডুকেশনাল সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক মেহজাবীন হক এই পরিস্থিতির মনস্তাত্ত্বিক দিক এবং এ থেকে উত্তরণ নিয়ে বললেন। তাঁর কথা হলো, ‘বিশ্বায়ন ও আধুনিকায়নের প্রভাবে পাশ্চাত্যের মতো আমাদের দেশেও গড়ে উঠছে একক পরিবার বা নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি। এই অণু পরিবারগুলোর সন্তানেরা যখন দেখছেন মা-বাবা, দাদা-দাদি বা নানা-নানির দেখাশোনা করছেন না, তখন তাঁদের অবচেতন মনে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা গেঁথে যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছেন।’ মা-বাবা নিজেরা তাঁদের মা-বাবার প্রতি যত্নশীল হয়ে উদাহরণ স্থাপন করলে পরবর্তী প্রজন্ম এ থেকে শিখবে। এর পাশাপাশি সন্তানদের ভেতর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের বীজ বুনে দেওয়াটাও জরুরি। ভাইবোনদের মধ্যে আন্তরিকতা, বোঝাপড়া থাকলে বৃদ্ধ মা-বাবার দায়িত্ব নিয়ে রেষারেষি হবে না।

দায়িত্বে সবার অংশগ্রহণ
মা-বাবার দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে ভাইবোনেরা একসঙ্গে বসতে পারেন। কেউ অতীতে মা-বাবার প্রতি দায়িত্বে গাফিলতি দেখিয়ে থাকলে তাঁকে সেটা মনে করিয়ে দোষারোপ না করাই ভালো। তাতে পরিবেশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। শান্তভাবে পুরো বিষয়টা পরিচালনা করা উচিত। মা-বাবার শারীরিক অবস্থা, মানসিক চাহিদা ইত্যাদি নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করণীয় বিষয়গুলো ঠিক করে ফেলা যায়। মা-বাবা কী চান, কোথায় থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তা-ও মাথায় রাখতে হবে। দায়িত্ব ভাগাভাগির বিষয়টি সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট এবং বাস্তবসম্মত হওয়া চাই, যাতে পরে ভুল-বোঝাবুঝির অবকাশ না থাকে। ভাইবোনদের মধ্যে পুরোনো কোনো দ্বন্দ্ব থাকলে নিরপেক্ষ স্বভাবের কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রাখা যেতে পারে। প্রত্যেকের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় এনে ঐকমত্যে পৌঁছানো উচিত। একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাঁর ওপর মা-বাবার দৈনন্দিন দায়িত্ব বর্তাবে, তাঁর পাশাপাশি অন্যদেরও ঠিক করে নেওয়া উচিত যে সেই সময়টায় তাঁদের ভূমিকা কী হবে। মা-বাবার অসুস্থতায় কার কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা কাম্য তা-ও খোলাখুলি আলোচনা করে নেওয়া ভালো। যিনি অর্থনৈতিক দিক থেকে অপেক্ষাকৃত সচ্ছল, তিনি মা-বাবার আর্থিক প্রয়োজনীয়তার দিকটায় বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। যিনি পেশাগত জীবনে অপেক্ষাকৃত কম ব্যস্ত, তিনি মা-বাবাকে বেশি সঙ্গ দিতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই যখন কর্মজীবী, তখন মা-বাবার যথাযথ সেবা-শুশ্রূষার জন্য নার্স বা আয়ার সাহায্য নেওয়া যেতেই পারে, কিন্তু তাঁদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করলে সেটা স্রেফ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া। কোনো সন্তান শুধু টাকাপয়সা দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন, তা মোটেও কাম্য নয়।

শুধু দায়িত্ববোধ নয়, চাই ভালোবাসা
পরিণত বয়সে মা-বাবার প্রয়োজন ফুরিয়েছে বলে তাঁদের জীবন থেকে বাতিল করে দেন অনেকেই। অজুহাতের বিশাল তালিকা বানিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। অথচ এ দায়দায়িত্ব সব ভাইবোন মিলে পালাক্রমে পালন করলে কারও একার ওপর বিরাট চাপ পড়ে না। আবার মা-বাবা অনেক সময়ই সন্তানের প্রতি আকাশচুম্বী অবাস্তব প্রত্যাশা করে কষ্ট পান। এসব ক্ষেত্রে তাঁদের পরিস্থিতি ও বাস্তবতা সম্পর্কে বুঝিয়ে বললে ভুল-বোঝাবুঝি কমে যায়। তবে পুরো ব্যাপারটাকে শুধু দায়িত্ববোধের দিক থেকে দেখাটা হয়তো ঠিক হবে না। মা-বাবার অপরিসীম ভালোবাসার ন্যূনতম প্রতিদানও যদি কেউ দিতে চান, তাঁকে ভালোবাসাই দিতে হবে।


একসঙ্গে পাঁচটি এক ঘণ্টার নাটকে অভিনয় করতে যাচ্ছেন মোশাররফ করিম। পাঁচটির মধ্যে চারটিতেই তাঁর নায়িকা হচ্ছেন পিয়া বিপাশা। নাটক চারটি হলো প্রেমিকার এপিটাফে, রোদের গাড়ি, চলতে চলতে হঠাৎ ও দুলাল বিরিয়ানি। সবগুলো নাটকই পরিচালনা করবেন মাইদুল রাকিব। আর একটি নাটকে মোশাররফের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে থাকছেন তাঁর স্ত্রী জুঁই। তবে সেই নাটকের চিত্রনাট্যের কাজ শেষ হলেও নাটকটির নাম এখনো ঠিক হয়নি।

২৮ অক্টোবর থেকে মালেশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন স্থানে টানা শুটিং হবে নাটকগুলোর।
একসঙ্গে এতগুলো নাটকের টানা কাজ প্রসঙ্গে রাকিব বলেন, ‘মোশাররফ ভাইয়ের টানা শিডিউল পাওয়া মুশকিল। সন্তানকে ডাক্তার দেখানোর জন্য এখন মোশাররফ করিম ও জুঁই দুজনই মালেশিয়ায় আছেন। এ কারণেই ওখানে টানা কাজগুলো করার সুযোগ পাচ্ছি।’ চারটি নাটকের মধ্যে দুটিতে জুঁইও মোশাররফ ও পিয়ার সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করবেন।

এদিকে এবারই মোশাররফ করিমের বিপরীতে প্রথম কাজ করবেন পিয়া বিপাশা। তাও একসঙ্গে চার নাটকে। রোমাঞ্চিত পিয়া বলেন, ‘মোশাররফ ভাইয়ের অভিনয়ের ভক্ত আমি। এত দিন ধরে মিডিয়ায় কাজ করছি, কিন্তু তাঁর সঙ্গে অভিনয় করার সুযোগ হয়নি। তাঁর বিপরীতে কাজের শুরুতেই এতগুলো কাজ একসঙ্গে করতে পারছি। আমি খুশি।’
আজ রাতেই নাটকগুলোর শুটিং দল মালেশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে বলে জানান পরিচালক।


‘আইটেল ইট ৩৩৫’ নামের একটি স্মার্টফোন উন্মুক্ত করেছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক।

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ১.২ গিগাহার্টজ কোয়াড কোর প্রসেসর, সাড়ে তিন ইঞ্চি মাপের ডব্লিউভিজিএ স্ক্রিন, ৫১২ মেগাবাইট র‍্যাম, ৪ গিগাবাইট রম, ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়তি মেমরি ব্যবহারের সুবিধা। এর ব্যাটারি ১ হাজার ৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার।

স্মার্টফোনটির সঙ্গে বান্ডিল প্ল্যান ঘোষণা করেছে বাংলালিংক। বান্ডিল অফার হিসেবে রয়েছে বিনা মূল্যে ৬ গিগাবাইট ডেটা, ৯০০ মিনিট টক টাইম। ফোনের দাম ২ হাজার ৫৯৯ টাকা।

আই৫০ মডেলের স্মার্টফোন বাজারে এনেছে সিম্ফনি। অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শমেলো অপারেটিং সিস্টেমচালিত স্মার্টফোনটিতে ৫ ইঞ্চি পর্দা, ৮ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা, ১.৩ গিগাহার্টজ কোয়াড কোর প্রসেসর, ১ গিগাবাইট র‍্যাম, ৮ গিগাবাইট অভ্যন্তরীণ মেমোরি এবং আড়াই হাজার মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি আছে। আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণের প্রযুক্তি থাকছে এতে। স্মার্টফোনটি পাওয়া যাবে সাদা, কালো এবং সোনালি রঙে। দাম ৭,৫৯০ টাকা।


সফটওয়্যার এবং সেবার গবেষণা ও উন্নয়নে বেশি বিনিয়োগ করছে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে যন্ত্রের উন্নয়নে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমছে। পিডব্লিউসি নামের এক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ এক হাজার প্রতিষ্ঠানে জরিপ চালিয়ে এই চিত্র উঠে এসেছে। এদিকে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান মনে করে, এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে উন্নতি করতে পারবে তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকেরা। এমনকি দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিষ্ঠানগুলো সফটওয়্যার ও সেবা খাতে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখছে।
১১ বছর ধরে নিয়মিত এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে পিডব্লিউসি। এবারই প্রথম প্রতিবেদনে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। পিডব্লিউসির উদ্ভাবন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ বেরি জারুযজেলস্কি বলেন, যন্ত্র প্রকৌশলীর তুলনায় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বেশি হারে সফটওয়্যার প্রকৌশলী নিয়োগ দিচ্ছে।

অথচ আগে যন্ত্রের গবেষণা ও উন্নয়নে বেশি বরাদ্দ রাখা হতো। ২০২০ সাল নাগাদ সফটওয়্যার ও ইন্টারনেট খাতে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য ১২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হবে। অন্যদিকে মোটরগাড়ির গবেষণা ও উন্নয়নের বরাদ্দ দেওয়া হবে ১০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। মূলত গাড়িনির্মাতা-প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পকারখানায় নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে।

প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ চমৎকার হলেও মার্ক রান্নাবান্নায় কেমন? ভালো এবং খারাপ, দুই ধরনের উত্তরই এসেছে। উত্তর দিয়েছেন তাঁর কাছের দুজন মানুষ শেরিল স্যান্ডবার্গ এবং প্রিসিলা চ্যান। একজন তাঁর সহকর্মী। আর অন্যজন? তিনিও সহকর্মী! কীভাবে? সে কথায় পরে আসছি। মার্ক জাকারবার্গের রন্ধনগুণের চুলচেরা যে বিশ্লেষণ তাঁরা করেছেন, আগে তা জেনে নেওয়া যাক।
 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ফরচুনসাময়িকীর আয়োজনে ১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দ্য মোস্ট পাওয়ারফুল উইমেন’ সম্মেলন। সেখানে ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গের সঙ্গে এক সেমিনারে অংশ নেন প্রিসিলা। গুরুগম্ভীর সে আলোচনার এক ফাঁকে শেরিল জিজ্ঞেস করে বসেন, মার্ক কি রাঁধেন?

হ্যাঁ, রাঁধেন। তবে অতিথি দুজন হোক কিংবা ১০ জন, মার্কের রান্নার উপাদান এক, প্রণালি এক, এমনকি পরিমাণও এক। গ্রিলে দুই প্রস্থ বেবি ব্যাক রিব চাপিয়ে স্টেক তৈরি করেন। এই হলো মার্ক বিশেষ পদ। কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরেই জবাব দেন প্রিসিলা। এই রন্ধনশৈলী নিয়ে মজা করতে ছাড়েননি শেরিলও। স্মৃতিচারণা শুরু করেন।

ফেসবুকে তখন শেরিল নতুন। কোনো একদিন হাতে কাজ ছিল না। মার্ক তখন শেরিলসহ কয়েকজনকে রাতের খাবারে নিমন্ত্রণ করেন। সবাই গিয়ে হাজির। শেরিল বলেন, ‘গিয়ে দেখি গ্রিলে বিশাল এক টুকরা মাংস চাপিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে স্টেক বানাচ্ছেন মার্ক। শুধুই স্টেক, সঙ্গে আর কিছু নেই। শুধু মাংস যে রাতের খাবার হতে পারে, তা সেদিনই প্রথম জেনেছি।’

তবে মার্কের তৈরি সে স্টেক চমৎকার হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন শেরিল। এরপর আরও অনেকবার তিনি ‘স্টেক-অনলি ডিনার’ সেরেছেন। এখন ভালোই লাগে। প্রিসিলা কি রাঁধেন? জিজ্ঞেস করেন শেরিল। হ্যাঁ রাঁধেন, প্রিসিলার উত্তর। তবে শুধু তখনই যখন মার্কের সেই মাংস খেতে খেতে একঘেয়েমি চলে আসে।

প্রিসিলা চ্যান আর মার্ক জাকারবার্গের সম্পর্কের শুরুটা সেই ২০০৩ সালে। ২০১২ সালে বিয়ে করেন। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হয়েছেন সহকর্মী। সে সময় তাঁরা দুজনে মিলে দ্য চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ নামের দাতব্য সংস্থা চালু করেন।

সহকর্মী মার্ক কেমন? প্রিসিলা বলেন, ‘আমরা পরিপূরক। কর্মক্ষেত্রে যে প্রশ্নগুলোর সম্মুখীন হই, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে আমরা একে অপরের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিই। একে অপরের কাছে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।’


শাকিব খান ও শুভশ্রী অভিনীত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবির নাম ঠিক হলো; ঠিক হলো শুটিংয়ের তারিখ ও মুক্তির সম্ভাব্য দিনটিও। গতকাল সোমবার দুপুরে ছবিটির বাংলাদেশ অংশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়, ভ্যালেন্টাইনস ডে হবে নতুন এই ছবির নাম। সবকিছু ঠিকমতো এগোলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভালোবাসা দিবস সামনে রেখে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে।

এদিকে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে ভারতের কলকাতায় নতুন এই ছবির শুটিং শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ছবির নায়ক শাকিব খানের কারণে তা পিছিয়ে যায়। আগামী ১৫ নভেম্বর শুরু হবে ভ্যালেন্টাইনস ডে-এর শুটিং। এ ব্যাপারে শাকিব খান বলেন, ‘শিকারি ছবিতে আমাকে যেভাবে দেখা গেছে, সেভাবেই এই ছবিতে পর্দায় আসতে চাই। নিয়মিত জিমে যাচ্ছি। শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতেই শুটিংয়ের আগে বাড়তি কয়েক দিন সময় চেয়ে নিয়েছি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।’

এই ছবির আরেক পরিচালক কলকাতার জয়দেব মুখার্জি। যৌথ প্রযোজনার শিকারি ছবিটিও পরিচালনা করেছেন তিনি। জয়দেব মুখার্জি বলেন, ১৫ নভেম্বর থেকে একটানা ৪৫ দিন শুটিং হবে। কলকাতার পর বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডেও শুটিং হবে ছবিটির।

আয়নাবাজি ছবির দর্শক–আগ্রহের পারদ যখন ঊর্ধ্বমুখী, ঠিক তখনই এল একটি দুঃসংবাদ। ২০ অক্টোবর রাতে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি টেলিভিশন-এ আপলোড করা হয় পুরো ছবিটি। এরপর সেখান থেকে অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায় ছবিটি। এমনকি ফেসবুক লাইভেও চলে আসে আয়নাবাজি। বিষয়টি টের পেয়ে পরদিনই ছবিটি সরিয়ে নেয় যথাযথ কর্তৃপক্ষ।


দেশের প্রেক্ষাগৃহে দর্শকেরা যখন টিকিটের জন্য হাহাকার করছেন, তখন ছবিটি এমন সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় ফেসবুকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় আয়নাবাজি চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষও। তাদের মতে, যেভাবে সবাই দলে দলে ছবিটি দেখতে হলে ছুটছিলেন, তাতে দীর্ঘদিনের দর্শক–খরা কাটিয়ে উঠছিল বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো। কিন্তু অন্য মাধ্যমে সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক আকতার হোসেন বলেন, ‘আয়নাবাজি ছবিটির মাধ্যমে আমরা আশার আলো দেখছিলাম। মুক্তির পর থেকে আয়নাবাজি ছবির প্রতিদিনের আয় থাকত ১ লাখ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। আর গত দুই দিন ১ লাখও অতিক্রম করেনি।’

মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটার ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের প্রধান ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘সিনেমা হলের পাশাপাশি আমরা ছবিটির ডিজিটাল মুক্তির কথা চিন্তা করেছি। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই মোবাইল টিভিতে ছবিটি মুক্তি দিই। কিন্তু গ্রাহকেরা এক মোবাইল থেকে আরেক মোবাইল দিয়ে ভিডিও করেছে এবং ফেসবুকে “লাইভ” দিয়ে দিয়েছে। আমরা আইনি পদক্ষেপও নিয়েছি।’

আয়নাবাজি ছবিটি এভাবে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই ক্ষুব্ধ। অনেকে ফেসবুকে মন্তব্য দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ছবির পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলেন, ‘শুধু রবি টিভিতে ছাড়া আর কোথাও দেখা যাবে না, সে কারণেই সেখানে ছবিটি আপলোড করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের সাইবার অপরাধীরা অনেক মেধাবী। আমাদেরও ভুল সিদ্ধান্ত অবশ্যই ছিল, এ কারণে কেউ কষ্ট পেলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। যে যত গুজব ছড়াক, আমি বলছি আয়নাবাজির একমাত্র পাওয়া আপনাদের (দর্শকের) ভালোবাসা।’ এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, পাইরেসির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা।

ছবির প্রযোজক জিয়াউদ্দিন আদিল যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে মুঠোফোনে বলেন, পাইরেসি চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য কখনোই শুভ কিছু বয়ে আনে না। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি আদিল একটি আনন্দের সংবাদও দেন। তিনি জানান, আয়নাবাজি ছবিটি সিয়াটল দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট ন্যারেটিভ ফিল্ম’ পুরস্কার জিতে নিয়েছে।
আয়নাবাজি মুক্তি পায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর।

প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সত্য নাদেলা ঘোষণা দিয়েছিলেন, মাইক্রোসফট হবে ‘মোবাইল ফার্স্ট, ক্লাউড ফার্স্ট’। মুঠোফোন খুব একটা কাজে না দিলেও ক্লাউড কম্পিউটারের সেবা প্রতিষ্ঠানটির জন্য সোনা হয়ে ফলেছে। চলতি বছরের গত প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল মাইক্রোসফট প্রকাশ করেছে সম্প্রতি। তাতে ক্লাউড কম্পিউটারে বিনিয়োগের ফলে মুনাফা হয়েছে আশাতীত। মাইক্রোসফটের ইতিহাসে শেয়ারমূল্য সর্বকালের শীর্ষে পৌঁছে।


জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাইক্রোসফটের আয় ৪৭০ কোটি ডলার। আর্থিক বিবরণী প্রকাশের পরেই প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছেছিল। বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার বিক্রি কমে যাওয়ায় সত্য নাদেলা ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে মনোযোগ দেন।

২০১৪ সালে সত্য নাদেলা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় শেয়ারের মূল্য ছিল ৩৭ ডলারেরও কম। আর তখন থেকেই নাদেলা মাইক্রোসফটের প্রধান দুটি পণ্য উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এবং অফিস সফটওয়্যারের বিকল্প খুঁজছিলেন। সে সূত্র ধরেই মাইক্রোসফট মুঠোফোন ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে মনোযোগ দেয়।

ক্লাউডভিত্তিক সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্ভার, ডেটাবেইস, সফটওয়্যার ও ডেটা স্টোরেজ। ক্লাউডে বিনিয়োগে সাফল্যের একটা বড় অংশ এসেছে ‘অফিস ৩৬৫’ থেকে। গত প্রান্তিকে মোট মুনাফার ৮ শতাংশ এসেছে অফিস ৩৬৫ থেকে। এ ছাড়া বড় ভূমিকা রেখেছে সারফেস ট্যাবলেট। আর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে অনলাইনভিত্তিক গেম খেলার যন্ত্র এক্সবক্স।

অ্যাপল কম্পিউটারের নতুন চমকের জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। আইফোন ৭-এর জন্য যেমন তাকিয়ে ছিল গোটা বিশ্ব। তবে মুঠোফোন তো হলো, যে কম্পিউটারের জন্য ছোট্ট সে গ্যারেজে অ্যাপলের জন্ম হয়েছিল, সেই ম্যাকের নতুন সদস্য কই? এক বছরের বেশি সময় পরে ২৭ অক্টোবর অ্যাপলের পক্ষ থেকে নতুন ঘোষণা আসছে।

যদিও অ্যাপলের পক্ষ থেকে নতুন ম্যাকের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের বুঝতে বাকি নেই যে ২৭ অক্টোবরেই আসছে নতুন ম্যাকের ঘোষণা। এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমগুলোতে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে অ্যাপল। তাতে লেখা কুপার্টিনোর অ্যাপল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠেয় বিশেষ একটি অনুষ্ঠানে আপনি আমন্ত্রিত। অনুষ্ঠান শুরু হবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে। সে অনুষ্ঠান নিশ্চয় গুরুত্বপূর্ণ, নইলে অ্যাপল কেন তা তাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করবে?

আরেকটা ব্যাপার হলো, সে আমন্ত্রণপত্রে লেখা ‘হ্যালো অ্যাগেইন’। প্রথম মেকিনটোশ কম্পিউটার ছাড়ার সময় পর্দায় প্যাঁচানো অক্ষরে ‘হ্যালো’ শব্দটি দেখিয়েই সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন স্টিভ জবস। ১৯৯৮ সালে আইম্যাকের ভূমিকায় জবস সেই হ্যালো শব্দটি জুড়ে দিয়েছিলেন। সে ধারাবাহিকতায় ‘হ্যালো অ্যাগেইন’। আর তাই ২৭ অক্টোবরের অনুষ্ঠানটি যে নতুন ম্যাক কম্পিউটার ঘিরেই সাজানো হয়েছে, তা সহজেই বোঝা যায়।

নতুন ম্যাকে নতুন কী কী থাকবে তা নিয়ে নানাজন নানা কথা বললেও ২৭ অক্টোবরের আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব না।

ঘুমের সময় বিছানায় মোবাইল ফোন রাখলে আগুন ধরা বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে আরও মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, স্মার্টফোন, ট্যাবলেটের মতো কোটি কোটি যন্ত্রের ব্যাটারি থেকে কয়েক ডজন মারাত্মক গ্যাস বের হয়।

‘ন্যানো এনার্জি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধে এ তথ্য জানানো হয়।
চেক রিপাবলিক ও চীনের গবেষকেরা সম্প্রতি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি থেকে বের হওয়া ১০০-র বেশি মারাত্মক গ্যাস শনাক্ত করেছেন। এসব গ্যাসের মধ্যে রয়েছে কার্বন মনোক্সাইডের মতো মারাত্মক গ্যাস। বিছানার পাশে মোবাইল ফোন রাখলে ত্বক, চোখ ও নাকের মধ্যে তীব্র চুলকানিসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। 

ইনস্টিটিউট অব এনবিসি ডিফেন্স ও সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা বলেন, অধিকাংশ ফোন ব্যবহারকারী ফোনের অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া, পুনঃ চার্জযোগ্য ডিভাইসে খারাপ চার্জার ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে জানেন না।
গবেষক জি সান বলেন, আজকাল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। লাখো পরিবারে এ ধরনের ব্যাটারিচালিত যন্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। তাই সাধারণ মানুষের এ ধরনের ব্যাটারির ঝুঁকি সম্পর্কে জানা উচিত।
ব্যাটারি বিস্ফোরণের ঝুঁকির কারণে অনেক প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা লাখ লাখ পণ্য ফেরত নিয়েছে। যেমন ২০০৬ সালে ডেল লাখো ল্যাপটপ ও ২০১৬ সালে নোট ৭ স্মার্টফোন ফেরত নিয়েছে স্যামসাং। 

গবেষক সান বলেন, কোনো ছোট ও বদ্ধ পরিবেশে যদি কার্বন মনোক্সাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান বের হতে থাকে, তবে তা খুব কম সময়ের মধ্যে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে গাড়ি ও বিমানের মতো জায়গায় বেশি ক্ষতি হতে পারে। 

গবেষকেরা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির নিরাপত্তা পদ্ধতি উন্নত করার পরিকল্পনা করছেন। এতে এ ধরনের ব্যাটারি ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক গাড়িতে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

নোট ৭ ক্রেতাদের জন্য ‘হালনাগাদ কর্মসূচি’ বা ‘আপগ্রেড প্রোগ্রাম’ ঘোষণা করেছে স্যামসাং। এ কর্মসূচির আওতায় যাঁরা নোট ৭ ফেরত দিয়ে গ্যালাক্সি এস ৭ ফোন নেবেন, তাঁরা পরবর্তী সময়ে গ্যালাক্সি এস ৮ কিংবা নোট ৮ স্মার্টফোন কম খরচে কিনতে পারবেন।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মার্টফোনের ক্রেতা ধরে রাখতে আজ সোমবার নতুন আপগ্রেড প্রোগ্রামের ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানটি। আপাতত দক্ষিণ কোরিয়ায় এ প্রোগ্রাম চালু হচ্ছে। স্যামসাংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নোট ৭–এর বদলে যাঁরা এস ৭ বা এস ৭ এজ স্মার্টফোন নেবেন, তাঁরা আগামী বছর গ্যালাক্সি এস ৮ বা নোট ৮ নিতে পারবেন এস ৭–এর অর্ধেক দামেই।

নোট ৭ স্মার্টফোনে আগুন লাগার বেশ কিছু ঘটনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নোট ৭ স্মার্টফোন উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতা স্যামসাং। নোট ৮–এর ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে নোট সিরিজ চালু রাখার ঘোষণা বহাল রাখল প্রতিষ্ঠানটি। গুঞ্জন উঠেছিল, ব্র্যান্ড সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার নোট ব্র্যান্ডটিকে বাদ দিতে পারে স্যামসাং।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, নোট ৭ ফেরত নেওয়ায় স্যামসাংয়ের যে ক্ষতি হয়েছে, তা গ্যালাক্সি এস স্মার্টফোনের বিপণন ও প্রচার কৌশলের মাধ্যমে পুষিয়ে নিতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

সর্বোচ্চ গতির ইন্টারনেটের শহর হবে চীনের অর্থনৈতিক মেগাসিটি সাংহাই। ২০১৮ সালের মধ্যে পুরো শহরে গিগাবিট ব্রডব্যান্ড (১ গিগাবিট=১০২৪ মেগাবিট) ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হবে বলে শনিবার সাংহাইভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ইস্ট ডে জানিয়েছে।
 

চীনের শীর্ষ তিন টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের একটি চায়না টেলিকম। প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গসংগঠন দ্য সাংহাই কোম্পানি ব্রডব্যান্ড সংযোগ স্থাপন এবং উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে।
এ বছর শেষ নাগাদ সাংহাইয়ের ২৭০টি আবাসিক এলাকায় গিগাবিট গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে চায়না টেলিকম সাংহাই। এতে সাংহাইবাসী গড়ে প্রতি সেকেন্ডে ১০০ মেগাবিট গতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন, যা বর্তমানের ১৩ মেগাবিটের চেয়ে অনেক বেশি।
গিগাবিট ব্রডব্যান্ডের সর্বোচ্চ গতি সেকেন্ডে ১০২৪ মেগাবিট পর্যন্ত উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি তা-ই হয়, তবে ১৬ সেকেন্ডে অনায়াসেই ২ গিগাবাইটের একটি চলচ্চিত্র নামানো সম্ভব হবে। এতে সহজেই সাংহাইবাসীর কাছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে টেলিভিশন অনুষ্ঠান পৌঁছে দেওয়া যাবে। প্রযুক্তির ভাষায় যাকে বলে ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন বা সংক্ষেপে আইপিটিভি।
এখন পর্যন্ত সাংহাইয়ের ১৬টি আবাসিক এলাকায় দুর্দান্ত গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিয়েছে চায়না টেলিকম। বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ব্যবহারকারী এই সুবিধা পাচ্ছেন। আগামী ৩ বছরে পুরো শহর সর্বোচ্চ গতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।


অনেক দিন ধরেই মধ্যম আয়ের মানুষদের জন্য স্মার্টফোন বাজারে ছেড়ে এসেছে স্যামসাং। তবে মানুষের আয়ের যেমন উন্নয়ন হয়েছে, একই সঙ্গে নিজেদের স্মার্টফোন উন্নত করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। এবারই তারা প্রথমবারের মতো ৬ গিগাবাইট র্যামের ‘গ্যালাক্সি সি৯ প্রো’ স্মার্টফোন আনছে তারা। ১১ নভেম্বর থেকে চীনের বাজারে স্মার্টফোনটি পাওয়া যাবে।

ধাতব কাঠামোর এই ফোন দেখতে কিছুটা অপ্পোর আর৯ এবং আর৯ প্লাসের মতো। পেছনে অ্যানটেনার জন্য সরু তিন সারি দাগ আছে এতে। ৬ ইঞ্চির বড় পর্দা, সামনে ও পেছনে ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, চার হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, ৬৪ গিগাবাইট অভ্যন্তরীণ মেমোরি, সঙ্গে অতিরিক্ত মেমোরি কার্ড যোগ করার সুযোগও থাকছে গ্যালাক্সি সি৯ প্রোতে। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে শুরুতে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০.১ মার্শমেলো থাকলেও শিগগিরই অ্যান্ড্রয়েড ৭ ন্যুগাটে উন্নয়নের সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়।

স্মার্টফোনটির প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে ৪৭০ ডলার। তবে চীনের বাইরে অন্য কোথায় এটি ছাড়া হবে, আদৌ ছাড়া হবে কি না, সে ব্যাপারে কিছু জানায়নি স্যামসাং।

মামলার রায় কী হবে, সেটা আগে থেকেই বলে দেওয়া সম্ভব? তা-ও আবার একটা যন্ত্রের পক্ষে? যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক বলছেন, হ্যাঁ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্র বা রোবট ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের শতাধিক মামলার পরিণতি সম্পর্কে আগেই বলে দিতে পেরেছে।


ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল), শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকেরা বলছেন, যন্ত্রটি বিভিন্ন মামলার রায় আগাম বলে দেওয়ার ব্যাপারে ৭৯ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্ভুল ছিল।

সাংবাদিকতা, আইন ও হিসাব বিজ্ঞানের জগতে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। সমালোচকেরা বলেন, আইনের সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচ নাকি এ রকম যন্ত্র কখনোই ঠিকমতো বুঝতে পারবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা দলের প্রধান নিকোলাওস অ্যালেট্রাস বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা চালু আছে। শিগগিরই এমন দিন আসবে, যখন এ রকম যন্ত্রই বিচারক বা আইনজীবীর জায়গা নিয়ে নেবে। গবেষণায় তাঁরা দেখেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন-ব্যবস্থা খুব দ্রুত বিভিন্ন মামলার ধরন আঁচ করতে পারে। আর সেটার ভিত্তিতেই সম্ভাব্য রায় বা পরিণতি বলে দিতে পারে।

গবেষকেরা ইংরেজি ভাষায় লেখা ৫৮৪টি মামলার কাগজপত্র ঘেঁটে দেখেছেন। সেগুলো মানবাধিকার সনদের তিনটি ধারার সঙ্গে মেলে। গাণিতিক একটি পদ্ধতির সাহায্যে তাঁরা দেখেছেন, কোথায় সনদের ‘লঙ্ঘন’ হচ্ছে আর কোথায় হচ্ছে না। পক্ষপাত বা ভুল ব্যাখ্যা ঠেকাতে তাঁরা একই সংখ্যক লঙ্ঘন এবং অলঙ্ঘনের নমুনা সংগ্রহ করেন।

গবেষণা প্রতিবেদনের আরেক লেখক ভ্যাসিলিওস ল্যাম্পোস বলেন, আদালতের রায়ের পরিবর্তে উত্থাপিত আবেদনগুলো ব্যবহার করে তাঁরা সেই গাণিতিক পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করেন। এ ক্ষেত্রে আদালত থেকে প্রকাশিত সারসংক্ষেপের ওপর নির্ভর করেননি। পরবর্তী ধাপে গবেষকেরা আরও বেশি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে ওই পদ্ধতি পরখ করেন। অ্যালেট্রাস বলেন, এবার যন্ত্রটির সাহায্যে বিভিন্ন মামলার সাক্ষ্য বা আইনজীবীদের নেওয়া বিবৃতিও যাচাই করে দেখতে হবে।

আইনি অনেক প্রতিষ্ঠানও আজকাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অনেক আইনি তথ্য ঘেঁটে দেখার কাজ শুরু করেছে। তবে কোনো তথ্যের নেপথ্যের অভিজ্ঞতা বা বিস্তারিত প্রেক্ষাপট সরাসরি বুঝে নেওয়ার সুযোগ কম। আর এখানেই যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা।



জানালেন, কেন মানুষ অসুখী হয়। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের অধীনে ১২ বছরব্যাপী ধ্যান ও মায়া বিষয়ক এক গবেষণায় অংশ নেন ৭০ বছর বয়সী ভিক্ষু ম্যাথিউ। জন্মগতভাবে ফ্রান্সের নাগরিক হলেও তিনি বাস করেন নেপালের এক আশ্রমে। বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ হিসেবে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তিব্বতের আত্ম্যাধিক প্রধান দালাই লামাকে ম্যাথিউ রিচার্ড বলেছিলেন, তাঁর ইচ্ছে করছে অদৃশ্য হয়ে যেতে। জবাবে দালাই লামা বলেন, এই পৃথিবীর তাঁর (ম্যাথিউ রিচার্ড) দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘যদি তাঁরা চায় যে তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হবে, তবে তাই হও।’ ম্যাথিউ রিচার্ড যে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ সে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে স্নায়ুবিজ্ঞানী রিচার্ড ডেভিসন ওই ভিক্ষুর শরীরে ২৫৬টি সেন্সর লাগান। এ সময় মায়া বা সমবেদনার ধ্যান করছিলেন ম্যাথিউ। ডেভিসন দেখতে পান যে, ধ্যান চলাকালে ম্যাথিউয়ের মস্তিষ্ক গামা তরঙ্গের একটি স্তর উৎপাদন করে। যার সাথে চেতনা, মনোযোগ, শেখা এবং স্মৃতির সম্পর্ক আছে। যা আগে কখনোই কোনো বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। সেই সময় ডেভিনসর লেখেন, স্ক্যানে দেখা যায় ম্যাথিউয়ের মস্তিষ্কের বাম দিকের বহিরাবরণ বেশি কার্যকর। যার কারণে নেতিবাচকতার প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে বেশি বেশি সুখী থাকতে পারেন তিনি।’ নিজের জীবন দর্শন সম্পর্কে আলটারিজম, অন দ্য পাথ টু এনলাইটেনমেন্ট অ্যান্ড হ্যাপিনেস নামে একটি বইও লিখেছেন ম্যাথিউ রিচার্ড। অন্যরাও কীভাবে সুখী হতে পারে জানতে চাইলে বিজনেস ইনসাইডারকে ম্যাথিউ বলেন, দয়াশীলতা আর নিঃস্বার্থ হওয়াই সুখী হওয়ার চাবিকাঠি। প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট মনকে ভালো ভালো কথা ভাবতে শেখানোর চর্চা এ ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। এই সুখী ভিক্ষুর কথা প্রমাণ করেছে বিজ্ঞানও। স্নায়ুবিজ্ঞানী ডেভিসন এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, প্রতিদিন ২০ মিনিটের ধ্যান মানুষকে সুখী করে। তবে শুধু সুখী হওয়ার নয়, অসুখী হওয়ার কারণও জানিয়েছেন ম্যাথিউ রিচার্ড। আর সেটি হলো অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা। অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করার মাধ্যমে সুখকে হত্যা করা হয় বলেও মনে করেন তিনি।


জীবন গতিশীল। সুখ, দুঃখ, আনন্দ, হাসি, কান্না নিয়েই আমাদের জীবন। হঠাৎ যখন প্রচণ্ড আনন্দ হতাশা যখন ধেয়ে আসে, তখন দৈনন্দিন জীবনের গতি থমকে যায়। তবে সারাদিনের এই ক্লান্তি, হতাশা, মলিনতাকে পিছনে ফেলে পৌঁছে যেতে পারেন সুস্থ-শান্ত পরিবেশে। শুধুমাত্র সঠিক ডায়েট ও পর্যাপ্ত ঘুমই যথেষ্ট নয়। যদি নিয়ম করে রোজ সকালে বা সন্ধ্যায় সামান্য সময় দিতে পারেন, নিজের মনের সঠিক বিশ্রামের জন্য, তবে সাফল্য-সুখ-শান্তি ও সুস্বাস্থ্য থাকবে সমপরিমানে।


মেডিটেশনের পূর্বে :

*সুতির আরামদায়ক যে কোন পোষাকই মেডিটেশনের জন্য উপযোগী।
*পরিষ্কার পাজামা-পাঞ্জাবি পরে করতে পারেন মেডিটেশন।
*ট্রাউজার বা ট্রাক স্যুটও চলবে।
*যেকোনো ঢিলেঢালা পোশাক পরতে পারেন।
*শরীরে যেকোন অলংকার না রাখাই ভালো।

মেডিটেশন করার পদ্ধতি :

মেডিটেশন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তবে সহজ হল ব্রিদিং মেডিটেশন। দিনে যদি আপনি দুই থেকে তিন বার ১০-১৫ মিনিট সময় বার করতে পারেন তা হলেই ব্রিদিং মেডিটেশন করা সম্ভব। সাধারণত মেডিটেশন করতে হয় পদ্মাসন, সুখাসন, অর্ধপদ্মাসন, স্বস্তিকা আসনে বসে।

দুই হাত থাকবে দু’ধারে, ধ্যান মুদ্রায়। কোমর, কাঁধ, মাথা একটি সরল রেখায় থাকবে। শিথিল করে রাখতে হবে কাঁধ। এই ভঙ্গিতে বসে কিছুক্ষণ অন্য সব চিন্তা দূরে সরিয়ে মনকে কেন্দ্রীভূত করুন। দুর্বল, অসুস্থ শরীর মেডিটেশনের জন্য উপযোগী নয়। তাই সুস্থ হতে হবে আগে। বাদ দিতে হবে অতিরিক্ত ভোজন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুম পরিহার করতে হবে। একটি শান্ত জায়গা খুঁজে নিন যেখানে আপনি আরামে বসতে পারেবেন। দুই পা একটির উপর আরেকটি তুলে ক্রুশ করে বসুন। তবে পিঠ ও শিরদাঁড়া সোজা রেখে আপনি যেকোনো পজিশনে বসতে পারেন। পিঠ সোজা করে না বসলে ঘুম পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। দুচোখ আধা বন্ধ করে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোনিবেশ করুন। স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নিন। নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন না। বোঝার চেষ্টা করুন কীভাবে হাওয়া নাকের ভিতর দিয়ে ঢুকে ফুসফুসে যাচ্ছে। কীভাবে ফুসফুসে হাওয়া ভরছে আর আপনার বুক ওঠা-নামা করছে। একইভাবে যখন শ্বাস ছাড়ছেন সেই ব্যাপারটাও অনুভব করার চেষ্টা করুন। কীভাবে হাওয়া আপনার নাকের ভেতর দিয়ে আবার আপনার শরীরের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে, এটা বোঝাও মেডিটেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শ্বাস-প্রশ্বাসের এই প্রক্রিয়া ছাড়া আর কোন কিছুর উপরই মনোযোগ দেবেন না। আপনার চারপাশের পরিবেশে কী হচ্ছে তা বিন্দু মাত্র ভাবার চেষ্টা করবেন না।

মনে রাখুন :
সারাদিনের কাজের চাপের কারনে আপনার মনে হতেই পারে যে মেডিটেশন আপনাকে আরও ব্যস্ত করে তুলেছে। তবে বাস্তব চিত্রটা একটু অন্যরকম। মেডিটেশন আসলে ভাবনার প্রতি আমাদের সচেতনতা বাড়ায়। মেডিটেশন করার সময় যতবার আপনার মন অন্যদিকে যাবে ততবার শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোনিবেশ করবেন। যত দিন যাবে দেখবেন যে আপনার মন সংযোগ বাড়বে এবং আপনি আরও বেশি মানসিক প্রশান্তি অনুভব করবেন।

জার্মানির মানহায়েম-হাইডেব্যার্গ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনীর আমন্ত্রণ পেয়েছে আয়নাবাজি। উৎসব পরিচালক মিশেল কোয়েৎজ চিঠিতে লিখেছেন, আয়নাবাজি দেখে অভিভূত উৎসবের ছবি নির্বাচক কমিটি। এ উৎসবে আয়নাবাজি ছবিটি দেখাবেন তাঁরা। এরপরই ছবিটি অংশ নেবে ভারতের গোয়া রাজ্যে অনুষ্ঠেয় ৪৭তম ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ইন্ডিয়া, গোয়া’য়। 

আসছে ১০ নভেম্বর জার্মানিতে শুরু হচ্ছে ৬৫তম মানহায়েম-হাইডেব্যার্গ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আট শতাধিক ছবি থেকে বাছাই করে প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচন করা হয়েছে আয়নাবাজি। উৎসবের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডিসকভারি’ বিভাগে দেখানো হবে এটি। এত বড় উৎসবে নিজের প্রথম ছবি প্রদর্শনীর সুযোগ পেয়ে ভীষণ আনন্দিত পরিচালক অমিতাভ রেজা। তিনি বলেছেন, ‘সারা পৃথিবীই নতুন নির্মাতাদের অনেক গুরুত্ব দেয়। আমার জন্য আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে, এ উৎসবে বিশ্বের নানা দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারব।’ উৎসব উপলক্ষে নভেম্বরের ১২ থেকে ১৫ তারিখ আয়নাবাজির মোট চারটি প্রদর্শনী হবে।
এর আগে ১৯৯৪ সালে জার্মানির এই উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল মোরশেদুল ইসলামের ছবি চাকা, গত বছর দেখানো হয়েছে আবু শাহেদ ইমন পরিচালিত ছবি জালালের গল্প। অমিতাভ রেজা জানান, জার্মানির উৎসব শেষ করে তিনি যোগ দেবেন ভারতের গোয়ার ৪৭তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। এর আগেও এ উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন ছবি বিভিন্ন সময় প্রদর্শিত হয়েছে।

চলতি মাসেই ম্যাক লাইনআপের নতুন সংস্করণের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল অ্যাপলের; এখনো সে ধরনের কোনো ঘোষণা আসেনি। 


বিভিন্ন দেশে আইফোন ৭ ও ৭ প্লাস স্মার্টফোন বিক্রি নিয়েই অ্যাপল বেশি ব্যস্ত। তবে প্রযুক্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাকোতাকারার তথ্য অনুযায়ী, শিগগিরই ম্যাকবুকের নতুন সংস্করণের ঘোষণা দিতে পারে অ্যাপল। নতুন সংস্করণে বেশ কিছু প্রযুক্তি যুক্ত করতে পারে অ্যাপল। নতুন ম্যাকবুকের পাশাপাশি ম্যাকবুক এয়ারের ১৩ ইঞ্চি মডেলটিও নতুন করে আনবে অ্যাপল।

নতুন ম্যাকবুক প্রোতে থাকবে ইউএসবি টাইপ-সি ও থান্ডারবোল্ট ৩ পোর্ট। তবে বাদ পড়বে ম্যাগসেফ কানেকটর, ইউএসবি ও থান্ডারবোল্ট ২ পোর্ট। এ ছাড়া ম্যাকবুক প্রোতে কি-বোর্ডের ফাংশন কি-এর পরিবর্তে ওএলইডি প্যানেল যুক্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে টাচ আইডি। এতে ল্যাপটপটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সুরক্ষিত রাখা যাবে। অ্যাপল অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ম্যাকবুক সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

১০ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির স্মার্টফোন বাজারে আনছে চীনের মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অকিটেল। গত বছরেই ‘কে ১০০০০’ মডেলের এই ফোনটি বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এবারে এই মডেলের ফোনের নতুন সংস্করণের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশাল ব্যাটারির কারণে এই ফোনটি পাওয়ার ব্যাংক হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।

সাধারণত বড় ব্যাটারির কারণে ফোনটি অনেক বেশি মোটা দেখানোর কথা। কিন্তু অকিটেল ফোনটিকে হালকা-পাতলা ও দ্রুতগতির করতে বিশেষ নকশা ও দ্রুতগতির প্রসেসর যুক্ত করছে। সম্প্রতি অকিটেল নতুন ফোনটির টিজার প্রকাশ করেছে, যাতে ফোনটির নকশায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অবশ্য কবে নাগাদ এই ফোনটি বাজারে আসবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি চীনা প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে একই মডেলের যে ফোনটি বাজারে ছেড়েছিল, তার দাম ২৩৯ দশমিক ৯৯ মার্কিন ডলার। নতুন সংস্করণের কে১০০০০ মডেলের ফোনের দাম আগের দামের কাছাকাছি থাকতে পারে।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড আয়োজনের স্লোগানেই বলা হয়েছে ‘নন স্টপ বাংলাদেশ’। অবিরত বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ থেমে যাওয়ার নয়। তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ায় এই প্রদর্শনী দেখতেই এসেছেন নাজমুল হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বললেন, ‘মেলায় এসে বুঝতে পারলাম বাংলাদেশ সত্যি এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী তাদের বানানো প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শন করছে।’ আরেক শিক্ষার্থী নাবিলা নিভু বলেন, ‘এ আয়োজনে এসে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছি।’ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের এই চতুর্থ আসর।

সকালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর দুপুরে মেলা খুলে দেওয়া হয় সাধারণ দর্শকদের জন্য। মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায় সারি করে দাঁড়ানো ছয়টি নতুন বাস। এই বাসগুলো আসলে নারীদের জন্য ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্র। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বাসগুলোর উদ্বোধন করেন। এই বাসগুলোতেই শেখানো হবে কম্পিউটার। সারা দেশে ঘুরে বেড়াবে বিশেষ বাসগুলো। ‘টেকসই নারী উন্নয়নে আইসিটি’ স্লোগানের এই বাসগুলো ছাড়া হলো সরকারের আইসিটি বিভাগ, রবি ও হুয়াওয়ের উদ্যোগে।
মেলার শুরুতেই রয়েছে গুগল ডেভেলপার গ্রুপ (জিডিজি) বাংলার ব্যবস্থাপনায় ‘ইনোভেশন জোন’। এখানে তরুণদের উদ্ভাবনী প্রকল্প দেখানো হচ্ছে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি পেশা-বিষয়ক সম্মেলনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো উন্নয়ন-সহযোগীদের নিয়ে থাকছে ডেভেলপার সম্মেলন। এ ছাড়া আছে সফটওয়্যার শোকেসিং জোন, ই-গভর্ন্যান্স এক্সপোজিশন জোন, মোবাইল ইনোভেশন জোন, ই-কমার্স এক্সপো জোন, স্টার্টআপ জোন ও গেমিং জোন।
তিন দিনের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে মাইক্রোসফট, ফেসবুক, একসেন্সার, বিশ্বব্যাংক, জেডটিই, হুয়াওয়েসহ তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। বিদেশিসহ দুই শতাধিক বক্তা ১৮টি অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। এই মেলা চলবে আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত।

বাঁকানো ডিসপ্লের মোবাইল ফোন তৈরিতে সফল হয়েছে চীনের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শিয়াওমি। সম্প্রতি শিয়াওমির নতুন এই নমনীয় ডিসপ্লেযুক্ত স্মার্টফোন নিয়ে ভিডিও ফাঁস হয়েছে। 

ফাঁস হওয়া ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, শিয়াওমির ফোনটিতে ব্যবহৃত হয়েছে এমআইইউআই স্ক্রিন, যাতে বিভিন্ন কাজ খুব সহজেই সম্পাদন করা যায়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলেন, নমনীয় ডিসপ্লে প্রযুক্তি বেশ কিছুদিন ধরেই প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনায় রয়েছে। ২০০৮ সালে ‘নকিয়া মরফ’ নামের কনসেপ্ট ফোন দিয়ে নমনীয় ফোনপ্রযুক্তি আলোচনায় আসে। এরপর থেকে সনি ও স্যামসাং এ ধরনের ডিসপ্লে তৈরি করে বিভিন্ন প্রযুক্তি মেলার প্রদর্শন করে। স্যামসাং কিছুটা বাঁকানো ডিসপ্লেযুক্ত স্মার্টফোন বাজারে আনলেও নমনীয় ডিসপ্লের ফোন এখনো বাজারে ছাড়েনি। সম্প্রতি এলজি স্মার্টফোনের জন্য নমনীয় ডিসপ্লে তৈরিতে বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী বছর নাগাদ নমনীয় ডিসপ্লেযুক্ত ফোন বাজারে আনার জন্য চেষ্টা করছে স্যামসাং। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। স্যামসাংয়ের মতো মুখে তালা মেরে রেখেছে শিয়াওমি।


আজ থেকে শুরু হচ্ছে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৬। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আয়োজনের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক (আইসিটি) উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সভাপতিত্ব করবেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ। ‘নন স্টপ বাংলাদেশ’ স্লোগানের মেলাটি চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত।
ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের মূল উদ্দেশ্য আইসিটি খাতে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরা। সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আইসিটি উদ্যোক্তা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ধারণা ভাগাভাগির জন্য সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন থাকছে। মেলার আয়োজক সরকারের আইসিটি বিভাগ। সহ–আয়োজক অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল।
ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে সফটওয়্যার পণ্য তুলে ধরতে ‘সফটওয়্যার শো কেসিং’, মুঠোফোনে নতুন উদ্ভাবন এবং গেমপ্রেমীদের জন্য ‘মোবাইল ইনোভেশন ও গেমিং এক্সপো’, আইসিটিতে সরকারের উদ্যোগ জানাতে ‘ই-গভর্ন্যান্স এক্সপো’ এবং ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলো সমন্বয়ে থাকবে ই-কমার্স এক্সপো।
সরকারের ৪০টি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে মেলায়। নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপের জন্য ৩৮টি স্টলসহ সর্বমোট ২৬৩টি স্টল থাকবে এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে। মেলায় প্রতিদিনই সেমিনার ও কর্মশালা থাকছে। 
মেলায় বিনা মূল্যে প্রবেশ করা যাবে। তবে অনলাইনে (www.digitalworld.org.bd/registration) কিংবা মেলা প্রাঙ্গণে নিবন্ধন করতে হবে।

 
বাংলাদেশের বাজারে এই প্রথম স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিঃ নিয়ে এসেছে কোরশেয়ার ব্রান্ডের ডমিনেটর প্ল্যাটিনাম সিরিজ এর ডিডিআরফোর গেমিং র‌্যাম।
 
 
এক্সট্রিম ওভারক্লকিং এবং হার্ডকোর গেমিংয়ের  জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত এই র‌্যামটি ইন্টেলের ১০০ সিরিজ সমর্থিত। র‌্যামটির গতি ৩২০০ মেগাহার্জ। ১৬ গিগাবাইটের এই র‌্যামে রয়েছে প্রোডাক্ট লাইফ টাইম ওয়ারেন্টি। মূল্য ১২,৫০০ টাকা।

বাজারের শীর্ষস্থানীয় ফোন কোম্পানির তালিকায় নিজের জায়গাটা করে নিয়েছে হুয়াওয়ে। অন্যান্য স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামের ডিভাইসে প্রিমিয়াম লেভেলের কনফিগারেশন দেওয়ার জন্যই মূলত এটা সম্ভব হয়েছে।
বিপুল গ্রাহক চাহিদার কারণে কিছু দিন পর পর নতুন নতুন স্মার্টফোন এনে বাজার মাতিয়ে রেখেছে চীনের এই প্রতিষ্ঠান। এরই ধারাবাহিকতায় এবার 'অনার ৮ স্মার্ট' নামের একটি ফোন বিকাশমান বাজারের জন্য উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আপাতত ই-কমার্স সাইট আমাজন ইন্ডিয়ায় মিলবে ফোনটি। কালো, সাদা ও সোনালি রঙে পাওয়া যাবে এই ফোন।
ক্যামেরা, প্রসেসর, মেমোরি ও স্টোরেজের নিরিখে অনার ৮ হ্যান্ডসেটের থেকে বেশ খানিকটা আলাদা অনার ৮ স্মার্ট মডেলটি। এই স্মার্টফোনে রয়েছে ৫.২ ইঞ্চির ফুল এইচডি ডিসপ্লে। ৬৪ বিট ২.০ গিগাহার্টজ অক্টা-কোর কিরিন ৬৫০ এসওসি-র সঙ্গে পেয়ার্ড ২ জিবি র্যা০ম। ইনবিল্ট স্টোরেজ ১৬ জিবি। হ্যান্ডসেটটির ক্যামেরাও বেশ উন্নত মানের। রিয়ার ক্যামেরা ১৩ মেগাপিক্সেলের, সেলফি ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেলের।
স্মার্টফোনের ব্যাটারি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য মস্ত বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাল্টি-টাস্কিং এ যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে কথা মাথায় রেখে এই ফোনের ব্যাটারিকে আরও শক্তিশালী করেছে হুয়াওয়ে। ৩০০০ এমএএইচ-এর ব্যাটারিতে প্রায় দেড় দিনের স্ট্যান্ডবাই পাওয়া যাবে বলে দাবি নির্মাতাদের।
এবার আসা যাক স্মার্টফোনটির খামতির প্রসঙ্গে। একাধিক টেকনোলজি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের দাবি, এই ফোনে মাত্র একটি ন্যানো সিম স্লট রয়েছে। এখনকার দিনে ডুয়াল সিম অপশন ছাড়া দামি স্মার্টফোন ক্রেতাদের মোটেও পছন্দ নয়। তার উপর এই ফোনে নেই এফএম রেডিও অপশনও। 
তবে হুয়াওয়ে সূত্রে খবর, ব্যবহারকারীদের ‘পিওর অ্যান্ড্রয়েড এক্সপেরিয়েন্স’ দিতে নতুন হ্যান্ডসেটে রয়েছে সর্বাধুনিক মার্শম্যালো আপডেট। ফোর-জি এলটিই সমর্থিত অনার ৮ স্মার্ট হ্যান্ডসেটে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। এই মডেলটির দাম শুরু হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.