রান্নাও করেন মার্ক!

প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ চমৎকার হলেও মার্ক রান্নাবান্নায় কেমন? ভালো এবং খারাপ, দুই ধরনের উত্তরই এসেছে। উত্তর দিয়েছেন তাঁর কাছের দুজন মানুষ শেরিল স্যান্ডবার্গ এবং প্রিসিলা চ্যান। একজন তাঁর সহকর্মী। আর অন্যজন? তিনিও সহকর্মী! কীভাবে? সে কথায় পরে আসছি। মার্ক জাকারবার্গের রন্ধনগুণের চুলচেরা যে বিশ্লেষণ তাঁরা করেছেন, আগে তা জেনে নেওয়া যাক।
 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ফরচুনসাময়িকীর আয়োজনে ১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দ্য মোস্ট পাওয়ারফুল উইমেন’ সম্মেলন। সেখানে ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গের সঙ্গে এক সেমিনারে অংশ নেন প্রিসিলা। গুরুগম্ভীর সে আলোচনার এক ফাঁকে শেরিল জিজ্ঞেস করে বসেন, মার্ক কি রাঁধেন?

হ্যাঁ, রাঁধেন। তবে অতিথি দুজন হোক কিংবা ১০ জন, মার্কের রান্নার উপাদান এক, প্রণালি এক, এমনকি পরিমাণও এক। গ্রিলে দুই প্রস্থ বেবি ব্যাক রিব চাপিয়ে স্টেক তৈরি করেন। এই হলো মার্ক বিশেষ পদ। কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরেই জবাব দেন প্রিসিলা। এই রন্ধনশৈলী নিয়ে মজা করতে ছাড়েননি শেরিলও। স্মৃতিচারণা শুরু করেন।

ফেসবুকে তখন শেরিল নতুন। কোনো একদিন হাতে কাজ ছিল না। মার্ক তখন শেরিলসহ কয়েকজনকে রাতের খাবারে নিমন্ত্রণ করেন। সবাই গিয়ে হাজির। শেরিল বলেন, ‘গিয়ে দেখি গ্রিলে বিশাল এক টুকরা মাংস চাপিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে স্টেক বানাচ্ছেন মার্ক। শুধুই স্টেক, সঙ্গে আর কিছু নেই। শুধু মাংস যে রাতের খাবার হতে পারে, তা সেদিনই প্রথম জেনেছি।’

তবে মার্কের তৈরি সে স্টেক চমৎকার হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন শেরিল। এরপর আরও অনেকবার তিনি ‘স্টেক-অনলি ডিনার’ সেরেছেন। এখন ভালোই লাগে। প্রিসিলা কি রাঁধেন? জিজ্ঞেস করেন শেরিল। হ্যাঁ রাঁধেন, প্রিসিলার উত্তর। তবে শুধু তখনই যখন মার্কের সেই মাংস খেতে খেতে একঘেয়েমি চলে আসে।

প্রিসিলা চ্যান আর মার্ক জাকারবার্গের সম্পর্কের শুরুটা সেই ২০০৩ সালে। ২০১২ সালে বিয়ে করেন। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হয়েছেন সহকর্মী। সে সময় তাঁরা দুজনে মিলে দ্য চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ নামের দাতব্য সংস্থা চালু করেন।

সহকর্মী মার্ক কেমন? প্রিসিলা বলেন, ‘আমরা পরিপূরক। কর্মক্ষেত্রে যে প্রশ্নগুলোর সম্মুখীন হই, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে আমরা একে অপরের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিই। একে অপরের কাছে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।’