ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৫১ শতাংশ দেশীয় বিনিয়োগের দাবি

বাংলাদেশে পরিচালিত ইন্টারনেটভিত্তিক বাণিজ্য বা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৫১ শতাংশ দেশীয় বিনিয়োগ থাকতে হবে এমন নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) আয়োজিত ই-কমার্স নীতিমালা সম্মেলনে সরকারের প্রতি এই দাবি তুলে ধরেন স্থানীয় বেশ কজন উদ্যোক্তা।

উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান ছাড়াও দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল তিনটি সেমিনার। ‘বাংলাদেশে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ই-কমার্সের নিরাপত্তা বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্রেতারা পণ্য কিনে প্রতারিত না হন।

সকালে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশে ই-কমার্সের উন্নয়নের জন্য খুব শিগগির এ বিষয়ে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা করা দরকার।

একটি সেমিনারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘ই-কমার্সের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে। এখন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। আমি চাই ই-কমার্সের জন্য দেশের ৯ হাজার ৮৮৬টি ডাকঘরকে কাজে লাগাতে। এই ব্যবসায় খাতে সবার জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা হবে। ‘বিজনেস লিডারশিপ ডায়ালগ অন ই-কমার্স’ শীর্ষক এই সেমিনারে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘ভালো ধারণা নিয়ে বাজারে আসুন। মূলধন বেশি না থাকলে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা করুন।’

অনলাইন লেনদেনবিষয়ক সেমিনারে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ভ্যাট-ট্যাক্সের সমস্যার সমাধান হয়েছে। এই খাতে বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যারও সমাধান হবে।

এই সম্মেলনে ই-কমার্স খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ই-ক্যাবের সভাপতি রাজীব আহমেদ বলেন, শুধু ঢাকায় নয়, গ্রামেও ই-কমার্সের চাহিদা বেড়েছে। আগামী ১০ বছরে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এ খাতে।