বিছানায় মোবাইল ফোন রাখলে যে ঝুঁকি

ঘুমের সময় বিছানায় মোবাইল ফোন রাখলে আগুন ধরা বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে আরও মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, স্মার্টফোন, ট্যাবলেটের মতো কোটি কোটি যন্ত্রের ব্যাটারি থেকে কয়েক ডজন মারাত্মক গ্যাস বের হয়।

‘ন্যানো এনার্জি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধে এ তথ্য জানানো হয়।
চেক রিপাবলিক ও চীনের গবেষকেরা সম্প্রতি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি থেকে বের হওয়া ১০০-র বেশি মারাত্মক গ্যাস শনাক্ত করেছেন। এসব গ্যাসের মধ্যে রয়েছে কার্বন মনোক্সাইডের মতো মারাত্মক গ্যাস। বিছানার পাশে মোবাইল ফোন রাখলে ত্বক, চোখ ও নাকের মধ্যে তীব্র চুলকানিসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। 

ইনস্টিটিউট অব এনবিসি ডিফেন্স ও সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা বলেন, অধিকাংশ ফোন ব্যবহারকারী ফোনের অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া, পুনঃ চার্জযোগ্য ডিভাইসে খারাপ চার্জার ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে জানেন না।
গবেষক জি সান বলেন, আজকাল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। লাখো পরিবারে এ ধরনের ব্যাটারিচালিত যন্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। তাই সাধারণ মানুষের এ ধরনের ব্যাটারির ঝুঁকি সম্পর্কে জানা উচিত।
ব্যাটারি বিস্ফোরণের ঝুঁকির কারণে অনেক প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা লাখ লাখ পণ্য ফেরত নিয়েছে। যেমন ২০০৬ সালে ডেল লাখো ল্যাপটপ ও ২০১৬ সালে নোট ৭ স্মার্টফোন ফেরত নিয়েছে স্যামসাং। 

গবেষক সান বলেন, কোনো ছোট ও বদ্ধ পরিবেশে যদি কার্বন মনোক্সাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান বের হতে থাকে, তবে তা খুব কম সময়ের মধ্যে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে গাড়ি ও বিমানের মতো জায়গায় বেশি ক্ষতি হতে পারে। 

গবেষকেরা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির নিরাপত্তা পদ্ধতি উন্নত করার পরিকল্পনা করছেন। এতে এ ধরনের ব্যাটারি ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক গাড়িতে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।