বেশি ভুয়া খবর ছড়িয়েছে

মার্কিন নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এমনিতেই বেশ বিপাকে। এদিকে আগুনে ঘি ঢালার মতো গত বুধবার নতুন এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাজফিড নিউজ। সেখানে বলা হয়, মার্কিন নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রচারণার সঠিক খবরের তুলনায় ফেসবুকে ভুয়া খবর ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশি ছড়িয়ে পড়ে।


মার্কিন নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ৮ নভেম্বর থেকে আগের তিন মাসের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এমন ২০টি ভুয়া সংবাদ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে বাজফিড। এসব সংবাদ ফেসবুকে ৮৭ লাখ বার শেয়ার (ভাগাভাগি) করা হয়েছে। অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও হাফিংটন পোস্ট-এর মতো প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের জনপ্রিয় ২০টি নির্বাচনী সংবাদ নিয়েও বিশ্লেষণ করে বাজফিড। এই খবরগুলো শেয়ার হয়েছে ৭৪ লাখ বার। এ ছাড়া প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যও আমলে নেওয়া হয়।

বাজফিডের প্রতিবেদনে এটা পরিষ্কার যে নির্বাচনের আগের সেই তিন মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে সঠিক খবরের চেয়ে ভুয়া খবরগুলো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ভুয়া সংবাদগুলো ব্যবহারকারীদের নির্বাচনী সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। আর তাতে ট্রাম্প নির্বাচনে এগিয়ে যান বলে ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক এক সম্মেলনে জাকারবার্গ এই অভিযোগকে পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, খুব কম ভুয়া খবরই ফেসবুকে ছড়ায়।

সবকিছু মিলিয়ে ফেসবুক যে বেশ বিব্রত, তা স্পষ্ট। গুগল এবং ফেসবুক গত মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভুয়া সংবাদ ছড়ায় এমন ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনী আয় কেটে নেওয়া হবে। প্রথম সারির এই দুই তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এখন থেকে ভুয়া সংবাদের বিরুদ্ধে কাজ করবে।