ফ্যাশনে ধুতি বা পাটিয়ালা সালোয়ার

 

কুঁচির পর কুঁচি, ভাঁজের পর ভাঁজ-এ যেন নকশার খেলা। কুঁচি সালোয়ারের আসল সৌন্দর্য এটাই।


এ সালোয়ারে নকশা নিয়ে খেলা করা যায় অনেকভাবে; কাটছাঁটে আনা যায় পরিবর্তন। নানা রকম নামে সালোয়ারটি চলছে। বলা যায়, কুঁচির রকমফেরেই তৈরি হয় আলাদা স্টাইল। এখন অনেকে ঘের দেওয়া সালোয়ার পরছেন। কারও কাছে এটি পাটিয়ালা সালোয়ার, কেউবা চেনে কুঁচি দেওয়া সালোয়ার নামে। আবার এর মাঝে একটি ডিজাইনকে ‘হারমেস’ ও বলে। যে নামেই পরিচিতি হোক না কেনো, ফ্যাশন আটকে আছে সালোয়ারের কুঁচির ভাঁজে ভাঁজে।
কামিজের কাটছাঁটে পরিবর্তন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে এসেছে বহুদিন ধরে। ইদানীং সালোয়ারেও দেখা যাচ্ছে নানান ঢং বা নকশা। কখনো ধুতির আদলে গোড়ালির কাছে কাটা, আবার কখনও প্রচুর কুঁচি দেওয়া ঢিলেঢালা সালোয়ার। কামিজ যেকোনো নকশারই হোক না কেন এ সালোয়ারের কাপড় এক রঙা হওয়াই ভালো। এতে কুঁচি ও ভাঁজের সৌন্দর্য ফুটে উঠে ভালোভাবে।

যে রকম কাপড়ই নেওয়া হোক না কেনো, তা হতে হবে নরম। সিল্ক, ধুপিয়ান, সুতি, উন্নত খাদি দিয়ে বানালে কুঁচি সালোয়ার ভালো হয়। তবে কাপড় শক্ত ও মোটা হলে পরার পর পায়ের গড়ন ভারী হয়ে যায়। এ সালোয়ারের অনেক রকম ডিজাইন হয়ে থাকে নিচে কিছু ডিজাইনের কথা বলা হল।


১. সালোয়ারের পেছনে কোনো কুঁচি হবে না, যা হবে সব সামনে। সামনের দুই পাশে দু-একটা বড় কুঁচি, বাকি ছোট কুঁচির সংখ্যা হবে ৩-৪টি। বড় কুঁচিগুলোর মাপ হবে সাধারণত আড়াই ইঞ্চি। ছোট কুঁচিগুলো হয় আধা ইঞ্চি করে।

২. এ সালোয়ারের কুঁচিগুলো হয় অনেক বেশি এবং ঘন। তবে অনেকে কম কুঁচি পছন্দ করেন। তাই সামনে ও পেছনে চারদিকে ঘুরিয়ে সমানসংখ্যক কুঁচি দেওয়া হয়।

৩. কোমরের দুইদিকে ৪ থেকে ৫ ইঞ্চির মতো জায়গায় কুঁচি হবে না, বাকি জায়গায় মনমতো বসান হয় কুঁচি। এক থেকে সোয়া এক ইঞ্চির মতো বড় হবে কুঁচিগুলো।

৪. কম কুঁচি দিয়ে এবং অনেক ফুলিয়ে করা হয় এ স্টাইলটি। গোড়ালির দিকে এসে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাবে মুহুরি। স্টাইলও ফুটে উঠে কম মুহুরির মধ্য দিয়ে। মুহুরির জায়গায় করাতে পারেন কারুকাজ। এটা আর কিছুই নয়, নিচের দিকে ২ থেকে সাড়ে ৩ ইঞ্চির মতো জায়গা শক্ত করে বেঁধে দেয়। দেখতে ভালোই লাগে। এ ছাড়া দিতে পারেন পাইপিং, হুক, চেইন ইত্যাদি। চাইলে লেসও লাগাতে পারেন।



৫. লম্বায় ছোট বা বড় টি-শার্ট, ফতুয়া দিয়ে এ সালোয়ার পরলে বেশ মানায়। কামিজ পরলে লম্বায় ছোট কামিজই এ সালোয়ারের সঙ্গে ভালো যায়। না হলে কুঁচি ও ভাঁজের বাহার বৃথা যাবে। ভালো লাগবে ফতুয়া, টিউনিক ধাঁচের খাটো টপ এবং ছোট বেবি ফ্রক। সব বয়সেই এটি পরা যায়। তবে সাবলীলভাবে পরার বিষয়টা নির্ভর করবে যার যার ব্যক্তিত্বের ওপর।

যেখানে পাবেন
বিবিয়ানা, অঞ্জনস, বিবি প্রোডাকশনস, কে ক্রাফট, যাত্রাসহ বেশিরভাগ ফ্যাশন হাউজেই কিনতে পাওয়া যায় এ সালোয়ার। এ ছাড়া নিজের মনের মতো করে বানিয়ে নিতে বিভিন্ন দর্জিবাড়ি তো আছেই।

কুঁচির পর কুঁচি, ভাঁজের পর ভাঁজ-এ যেন নকশার খেলা। কুঁচি সালোয়ারের আসল সৌন্দর্য এটাই।