২০১৬ সালের সেরা ৮ মোবাইল ফোন !

 
আমরা যখন বাজারে একটি স্মার্টফোন কিনতে যাই তখন কয়েক ডজন বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ডসেট আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। এ যেন হ্যান্ডসেটগুলোর এক ধরনের প্রতিযোগিতা। এত কিছুর ভিড়ে, নতুন কোনো স্মার্টফোন বাজারে আসলে আমরা সেটিই পছন্দ করি। বাজারে চাহিদার দিক থেকে সেরা কয়েকটি হ্যান্ডসেট এখানে দেওয়া হলো।
১. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এজ
স্ক্রিন: ৫.৫ ইঞ্চি। ক্যামেরা: ১২ মেগা পিক্সেল। ব্যাটারি (টক টাইম): ২৭ ঘণ্টা।
পূর্বের হ্যান্ডসেট গ্যালাক্সি এস৬ বিক্রির দিক থেকে স্যামসাংকে কিছুটা হতাশ করলেও স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭-সহ এস৭ এজ এর কার্ভড ডিজাইন স্ক্রিনের মাধ্যমে স্যামসাং ফিরে এসেছে। এসডি কার্ড এবং ব্যাটারি লাইফ উন্নত করার মাধ্যমে স্যামাসাং সুন্দরতম একটি স্মার্টফোন তৈরি করেছে। স্যামাসং এস৭ এজ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার এনেছে, যদিও এটি বেশ দামী; এগুলোর একটি হচ্ছে অসাধারণ কার্ভড ডিজাইন এবং চমৎকার ক্যামেরা। অন্যদিকে এটি অন্য স্যামসাং-এর তুলনায় দামী এবং এতে বেশি কিছু অনাকাঙ্খিত বাড়তি সফ্টওয়্যার রয়েছে।
সুবিধা: চমৎকার ডিজাইন, পানি প্রতিরোধি। অসুবিধা: অপ্রয়োজনীয় স্যামসাং অ্যাপ লোড হয়। মূল্য: ৭৪,৯০০ টাকা।
২. আইফোন ৭ প্লাস
স্ক্রিন: ৫.৫ ইঞ্চি। ক্যামেরা: ১২ মেগা পিক্সেল। ব্যাটারি (টক টাইম): ২১ ঘণ্টা।
বিগত দুই বছরে, অ্যাপলের আইফোনের ‘প্লাস’ মডেলে শুধু ৪.৭ ইঞ্চির স্ক্রিনের হ্যান্ডসেট থেকে একটু বড় করে ৫.৫ ইঞ্চি স্ক্রিনে উন্নত করা হয়েছে। আইফোন ৭ প্লাসে কিছু পাথর্ক রয়েছে সেগুলো হচ্ছে- অধিক র‌্যাম, নতুন ডুয়াল লেন্স ক্যামেরা।
এর ক্যামেরাটি নতুন পোট্রেট মোডসহ ফটো ব্যাপকভাবে জুম এবং সাবজেক্টকে ফোকাস করার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডকে ব্লার করতে পারে। যদিও এর ইফেক্ট নিয়ে ফটোগ্রাফির জায়গা থেকে বিতর্ক রয়েছে। এর বড় ব্যাটারিসহ ডুয়াল ক্যামেরা আইফোন ৭ থেকে উন্নত।
সুবিধা: অসাধারণ ক্যামেরা, আইফোন ৭ থেকে ভালো ব্যাটারি। অসুবিধা: অনেকের জন্য এটি অনেক বড়, হেডফোন জ্যাক নেই। মূল্য: ৮৯,৬৫০-১০১,৬৫০ টাকা।
৩. আইফোন ৭
স্ক্রিন: ৪.৭ ইঞ্চি। ক্যামেরা: ১২ মেগা পিক্সেল। ব্যাটারি (টক টাইম): ১৪ ঘণ্টা।
অনেক মানুষ আধুনিক স্মার্টফোনের নির্মাতা হিসেবে অ্যাপলকে কৃতিত্ব দেয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সেরা কিছু হ্যান্ডসেট তৈরি অব্যাহত রেখেছে। এতে রয়েছে চমৎকার ডিজাইন এবং আইওএস সফটওয়্যারের এক সমন্বয় এবং এই স্মার্টফোনটির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ম্যাক, আইপ্যাড এবং অ্যাপল ঘড়ি আইফোনকে সেরা ক্রয়ের স্মার্টফোন হতে সহায়তা করে।
২০১৬ সালের আইফোন ৭ কোনো ব্যাতিক্রম নয়। পানি প্রতিরোধী, একটি উন্নতমানের ক্যামেরা এবং স্টেরিও স্পিকার বিগত বছরের ৬এস এর তুলনায় উন্নত। তবুও এটি বিশ্বব্যাপি তেমন জনপ্রিয় হয়নি। এর হেডফোন জ্যাক নেই এবং ব্যবহারকারীরা এর ব্যাটারির কার্যক্ষমতা নিয়ে অভিযোগ করেছেন।
সুবিধা: পানি প্রতিরোধি, উন্নত ক্যামেরা, জেট ব্ল্যাক ডিজাইন। অসুবিধা: হেড ফোন জ্যাক নেই, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ভালো নয়। মূল্য: ৭৬,০০০-৯২,২৫০ টাকা।
৪. মোটো জি৪
স্ক্রিন: ৫.৫ ইঞ্চি। ক্যামেরা: ১৩ মেগাপিক্সেল। ব্যাটারি (টক টাইম): প্রযোজ্য নয়।
আপনি অর্থ ব্যয় করে প্রচুর ফোন কিনতে পারবেন, কিন্তু মোটো জি৪ বাজারে পাবেন আপনার বাজেটের মধ্যেই। এর স্ক্রিন, ক্যামেরা এবং এর প্রসেসর ২২,০০০ টাকা মূল্যের স্মার্টফোনের মধ্যে বেশ ভালো এবং এটি অবশ্যই অনেক মানুষের সাধ্যের মধ্যে।
অবশ্যই, মূল্য অনুযায়ী এতে বেশ কিছু আপোস আছে। সবাই এর ডিজাইনকে ভালো বলছে না এবং ফোনটি দেখতে তুলনামূলক দামী হ্যান্ডসেটের চেয়ে সেকেলে তবে, এর দাম সত্যিই হাতের নাগালে।
সুবিধা: সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন।অসুবিধা: ডিজাইন সবার পছন্দ হবে না। মূল্য: ২২, ০০০ টাকা।
৫. গুগল পিক্সেল ফোন
স্ক্রিন: ৫ এবং ৫.৫ ইঞ্চি। ক্যামেরা: ১২ মেগা পিক্সেল। ব্যাটারি (টক টাইম): ২৬ ঘণ্টা।
গুগলের প্রথম নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন। এতে অ্যান্ড্রয়েড বাজারে পিক্সেল যুক্ত হয়েছে। বলা হচ্ছে, ‘বাজারে আসা সব চেয়ে সেরা স্মার্টফোন ক্যামেরা’। এতে রয়েছে সীমাহীন স্টোরেজ সুবিধাসহ পিক্সেল ও পিক্সেল এক্সএল, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, গুগলের ইন্টেলিজেন্স অ্যাসিস্টেন্ট এবং একটি হেডফোন জ্যাক।
এটি গুগলের অ্যান্ড্রয়েডের ক্লিন ভার্সনে চলে, যার ফলে ফোনের সফ্টওয়্যার ব্যবহারে সেরা অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় এবং এর অপারেটিং সিস্টেম দ্রুত আপডেট হয়।
পিক্সেল ফোন হিসেবে এটির পরিপূর্ণ পর্যালোচনা করার সুযোগ আমাদের ছিলো না, তবে আমাদের প্রথামিক অভিজ্ঞতায় এটি একটি ভালো মানের ফোন এবং অ্যান্ড্রয়েডের মধ্যে আপনি আইফোনের কাছাকাছি প্রতিযোগি হিসেবে এটিকে বিবেচেনা করতে পারেন।
সুবিধা: গুগলের আনস্কিন্ড অ্যান্ড্রয়েড, সেরা ক্যামেরা, সীমাহীন ফটো স্টরেজ। অসুবিধা: ব্যয়বহুল আইফোনের চেয়ে এটি তুলনামূলক সস্তা। মূল্য: ৭৬,৪১০ টাকা।
৬. আইফোন এসই
স্ক্রিন: ৪ ইঞ্চি। ক্যামেরা: ১২ মেগা পিক্সেল। ব্যাটারি (টক টাইম): ১৪ ঘণ্টা।
অ্যাপেল-এর তুলনামূলক এই ছোট ফোনটি মার্চে উন্মোচন হয়। এতে ৭ অথবা ৬এস-এর থ্রিডি টাচ-এর মতো নতুন অনেক ফিচারই নেই এবং পানি প্রতিরোধি ফিচারও এতে অনুপস্থিত (যদিও এতে হেডফোন জ্যাক রয়েছে)। আপনার পছন্দ করার মতো দুটো কারণ এতে রয়েছে যেমন- ৪ ইঞ্চি যেটি ছোট হাতে ব্যবহার করতে সুবিধাজনক হতে পারে এবং এর মূল্য ৫৭,৮৩০ টাকা, যেটি তুলনামূলক সস্তা।
সুবিধা: বাজারে সেরা মানের আইফোন, সেরা মানের ছোট স্ক্রিন আপনি পেতে পারেন। অসুবিধা: সাম্প্রতিক কিছু আইফোন ফিচারের ঘাটতি রয়েছে। মূল্য: ৫৭,৮৩০ টাকা।
৭. এইচটিসি ১০
স্ক্রিন: ৫.২ ইঞ্চি, ক্যামেরা: ১২ মেগা পিক্সেল, ব্যাটারি (টক টাইম): ৭২ ঘণ্টা।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দাবি, এইচটিসি ১০ স্পোর্টস-এর ক্যামেরা অন্যতম সেরা স্মার্টফোন ক্যামেরাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এতে রয়েছে ৫ মেগা পিক্সেল ফ্রন্ট-ফেসিং লেন্স এবং ১২ মেগা পিক্সেল রিয়ার-ফেসিং লেন্স। এর দুটোতেই রয়েছে অপশনাল ইমেজ স্ট্যাবলাইজেশন। সম্ভবত দুই দিন ব্যাটারির কার্যক্ষমতা বিজ্ঞাপনের কারণে এটি বেশি সেলিং পয়েন্ট পেয়েছে, যদিও পরীক্ষায় দেখা গেছে সব সময় তা ঘটে না।
এছাড়াও, এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর স্লিক মেটাল ডিজাইন, ব্যবহারযোগ্য অ্যান্ড্রয়েড এবং সেরা অডিও, বিশেষ করে যখন এটির স্পিকারে কোনো কিছু বাজানো হয়। এটির প্রায় সব দিকই ঠিক আছে, তবুও স্যামসাং-এর উপরে একে সুপারিশ করা বেশ কঠিন।
সুবিধা: দীর্ঘ ব্যাটারি, অসাধারণ অডিও। অসুবিধা: ক্যামেরা সেরা মান পর্যন্ত মিলছে না। মূল্য: ৬৪,০০০ টাকা।
৮. ওয়ান প্লাস ৩
স্ক্রিন: ৫.৫ ইঞ্চি, ক্যামেরা: ১৬ মেগা পিক্সেল, ব্যাটারি (টক টাইম): প্রযোজ্য নয়।
ওয়ান প্লাস-এর আগের মডেলের সাশ্রয়ী ফোনগুলো উচ্চ মানসম্পন্ন স্মার্টফোনগুলোর সমতুল্য না হওয়ার কারণে তাদের সর্বশেষ মোবাইল ফোনটিকে তারা খুব একটা সাশ্রয়ী করেনি। তবে, সম্প্রতি বছরগুলোতে এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনা হয়েছে। এর ডিজাইন ও মান চমৎকার এবং এতে এনএফসি ও দ্রুত চার্জিং এর মতো কিছু উপকারি ফিচার যোগ করা হয়েছে। সুবিধা: ব্রিলিয়ান্ট ভ্যাল্যু, প্রিমিয়াম ডিজাইন, অসুবিধা: কম কার্যক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি। মূল্য: ৩৮,৯০০ টাকা।