কলকাতার যত বিখ্যাত মিষ্টি

কলকাতার রসগোল্লা সম্পর্কে কে না জানে! তবে শুধু রসগোল্লাতেই আটকে গেলে হবেনা। কলকাতায় মিষ্টির ক্ষেত্রে রয়েছে প্রচুর অপশন। কলকাতা ভ্রমণে গেলে এ মিষ্টিগুলো চেখে দেখতে ভুলবেন না।

লবঙ্গ লতিকা
যেকোনো অনুষ্ঠান জমিয়ে দিতে পারে এই মিষ্টি। ময়দা, খোয়া, নারকেল, ঘি, কিশমিশ, কাজু, এলাচ, লবঙ্গ টপিং-এ এই মিষ্টি একেবারে লাজবাব। সুন্দর করে পেস্ট্রির মতো করে মুড়ে এলাচ দিয়ে সিল করে চিনির রসে ডোবানো হয় একে। খেতে একেবারে ইয়াম!
ভাপা দই
এই বিশেষ রকম দইটি ইয়োগার্ট এবং কনডেন্স মিল্ক দিয়ে বানানো হয়। ভাপা দই খেতে আরও ভালো লাগে কারন এতে প্রচুর পেস্তা এবং আমন্ড দেওয়া থাকে। রেফ্রিজারেটরে একদম চিলড করে খেলে সবথেকে বেস্ট স্বাদ পাবেন।
মোহনভোগ
ট্র্যাডিশনাল মিষ্টি লাভারদের জন্য আদর্শ এটি। যেকোনো অকেশনে মুখে পুরতে পারেন মোহনভোগ। বিভিন্ন দোকানে বিভিন্ন আকারে মেলে এই মিষ্টি। খেতে জাস্ট ফাটাফাটি।
মালাই চমচম
অনেকটা স্যান্ডউইচের মতো দেখতে। বাদামি ক্ষীর চমচমের মধ্যের অংশে মালাইয়ের ফিলিং অসাধারণ টেস্ট আনে। এই মিষ্টি ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা খেতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। কোনো অনুষ্ঠানই এই মিষ্টি ছাড়া সম্পূর্ণ নয়।
নলেন গুড়ের পায়েস
বাঙালির পায়েসের প্রতি প্রেম চিরকালের। মায়ের হাতের হোক বা বউয়ের হাতের। ভোজনরসিকরা সবই খুব তরিজুত করে খান। তবে শীতকালে নলেন গুড়ের ফ্লেভার পড়লে যেন রোজকার পায়েস অন্য মাত্রা পায়। পাতে পিপড়া চলিয়া যেতে যে বেশী সময় লাগেনা তা বলা বাহুল্য।
পান্তুয়া
বাদামি রঙা এই মিষ্টি বাঙালীর ঐতিহ্য বহন করে। বিশেষ বাদামি রংটির জন্য একে ডিপ ফ্রাই করা হয়। শিরায় ডুবানো পান্তুয়া গরম গরম খেতে দারুণ লাগে।
পাটিসাপটা
পিঠে-পুলির পার্বণ তো ভীষণ ফেমাস কলকাতায়। ময়দা বা চালের গুঁড়োয় মোড়া নারকেল বা ক্ষিরের পুর খেলে বার বার খেতে ইচ্ছা হবে। ঠাণ্ডা হোক বা গরম গরম খেলে হ্যাপি ফিলিং আসতে বাধ্য।
রাজভোগ
রসগোল্লার মামাতো ভাই! জাম্বো সাইজের হলুদ রঙা এই মিষ্টি খেলে জিভে জল আসবেই। ওপরে কেসরের টপিং থাকায় দেখতেও দারুণ লাগে।
দরবেশ
বুন্দি লাড্ডুরই বাংলা ভারসান হল দরবেশ। অনেক বাঙালি বাড়ির হেঁসেলেই বানানো হয় এই মিষ্টি। দরবেশ খুবই লোভনীয়।
সরভাজা
সরকে ডিপ ফ্রাই করে এই মিষ্টি বানানো হয়। কারিগররা ভীষণ খেটে এই মিষ্টি বানান। আর কথাতেই আছে কষ্ট করলেই কেষ্ট। ফুডিরা এই মিষ্টি একদম মিস করবেন না।
রসগোল্লা
কলকাতার রসগোল্লা দিয়েই যখন কথা শুরু করেছিলাম তখন শেষপাতেও রসগোল্লা না রাখলে ভীষণ অন্যায় হবে। মোস্ট ওয়ান্টেড এই মিষ্টি এখনও না খেলে আজই টেস্ট করুন।
কোন দোকানে কি
এসপ্ল্যানেড মোড়ের কেসি দাসের রসগোল্লা ট্রাই করতে পারেন। সেন্ট্রাল এভিনিউয়ের নবীন চন্দ্র দাসের রসগোল্লাও দারুন।
অমৃতর দই এককথায় ফাটাফাটি। দোকানটি একদম ফড়িয়াপুকুর মোড়ে। গড়িয়াহাটের যুগলের দইও জমজমাট।
বড়বাজারের দেশবন্ধুর সীতাভোগ আর মিহিদানা অসাধারণ। ট্রাই করতে পারেন বাঞ্ছারামের আবার খাবো সন্দেশ। এ ছাড়া ভীম নাগের কড়াপাকের সন্দেশ তো ভীষণ জনপ্রিয়।