অফিস সিনড্রোমের লক্ষণগুলো আপনার মাঝেও নেই তো?

অফিসে লক্ষ্যমাত্রা, কর্তব্য, সময়সীমা – এই চিন্তাগুলোই ঘুরতে থাকে আপনার মাথার  মধ্যে। এজন্যই অফিসে আপনি কঠোর পরিশ্রম করেন এবং কোন বিশ্রাম নেন না। ক্রমান্বয়ে এ ধরণের কাজের ফলেই তৈরি হয় অফিস সিনড্রোম। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলেই তৈরি হয় এ ধরণের সমস্যা। 


এছাড়াও বসে থাকার ধরণ, কাঁধ, কবজি, আঙ্গুল, কোমর, হাঁটু, পিঠ এবং চোখের উপর যে চাপ পড়ে তাতেই তৈরি হয় অফিস সিনড্রোম। এই বিষয়ে সচেতন না হলে প্যারালাইসিস হতে পারে বলেও কেউ কেউ দাবী করেন। অফিস সিনড্রোম এর লক্ষণগুলোর বিষয়ে জেনে নিই চলুন।
১। পিঠ এবং ঘাড়ে ব্যথা
অফিস সিনড্রোমের উপসর্গগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে পিঠ এবং ঘাড়ে ব্যথা হওয়া। আপনার বসার ধরণ, আপনার চেয়ার, টেবিল এবং কীবোর্ড এগুলো দীর্ঘমেয়াদে আপনার অঙ্গবিন্যাসের উপর এবং পুরো শরীরের উপরই প্রভাব ফেলে। মাথাব্যথা ও সৃষ্টি হয় অফিস সিনড্রোমের কারণে।
২। চর্বি জমা
যদি নতুন চাকরিতে যোগদান করার পরই আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ শরীরে চর্বি  জমে তাহলে আপনি অফিস সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছেন বলা যায়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে স্থূলতার সমস্যা তৈরি হয়।
৩। অর্শরোগ
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে নির্দিষ্ট অঙ্গে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, এমনকি হেমোরয়েডস বা অর্শরোগ ও সৃষ্টি হতে পারে।
৪। ড্রাই আই সিনড্রোম
দীর্ঘক্ষণ বসে কম্পিউটারে কাজ করা এবং মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়, ফলে ড্রাই আই সিনড্রোম দেখা দিতে পারে।
৫। সংক্রমণ
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বেশীক্ষণ বসে কাজ করলে সংক্রমণজনিত রোগ যেমন- ঠান্ডা একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়াতে পারে। কেউ কেউ অফিস সিনড্রোমের কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যায়ও ভুগে থাকেন।
৬। পুনরাবৃত্তিমূলক স্ট্রেস ইনজুরি
কীবোর্ডে লেখার সময় বারবার আঙ্গুলগুলো ব্যবহৃত হয়, এর ফলে পুনরাবৃত্তিমূলক স্ট্রেস ইনজুরি হতে পারে। এটি কবজি, কনুই এবং কাঁধেও হতে পারে।
৭। হৃদপিণ্ডের সমস্যা
অনেক বেশি সময় বসে থাকা হৃদপিন্ডের জন্য ক্ষতিকর। তাই কাজ বিরতি দিয়ে উঠে পড়ুন এবং  স্ট্রেচিং করুন বা হাঁটুন। নিজেকে ফিট রাখুন যাতে অফিস সিনড্রোম আপনাকে আক্রান্ত করতে না পারে।