মুভি রিভিউ: রেইস




অভিনেতা: শাহরুখ খান, মাহিরা খান, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, মহম্মদ জিশান আয়ুব
পরিচালক: রাহুল ঢোলাকিয়া
ছবির ধরন: Action
সময়সীমা: 2 hrs. 35 Min.

বনিয়ে কা দিমাগ অউর মিঞাভাই কি ডেয়ারিং'৷ অঙ্কের হিসেবের মতো সিনেমার রইস মিঞার বদলে স্বয়ং শাহরুখ খান ধরলে, এ যেন তাঁরই জীবনের সংলাপ৷ স্টার হতে যেকোনও কিছু করতে বদ্ধপরিকর তিনি৷ শুরু করেছিলেন অ্যান্টি-হিরো দিয়ে৷ সেখান থেকে রোম্যান্টিক হিরো৷ আবার তিনিই 'চক দে ইন্ডিয়া'র কবীর খান৷ ২০১৭-য় আবার গ্যাংস্টার৷ অন্যদিকে অভিনেতা থেকে প্রযোজক৷ অভিনেতা হিসেবে 'শিখরে' থাকার চেষ্টার পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবে ছবির প্রমোশনে নিত্য নতুন চমক৷ বছর দেড়েক আগে টিজার থেকে টেনে এনে গত ডিসেম্বরে 'ট্রেলার' দিয়ে শুরু করেছিলেন৷ প্রমোশনে ট্রেনে করে মুম্বই থেকে দিল্লি যাওয়া৷ 'বনিয়ে কা দিমাগ' যে দারুন কাজ করেছে, তা ছবির প্রথমদিনের সিনেমা হলে উপচে পরা ভিড়ই বুঝিয়ে দেয়৷
এবার আসা যাক ছবির গল্পে৷ ৯০-এর দশকে 'শুকনো' গুজরাটে পানীয়ের জোগান দিয়ে প্রচারে আসেন আব্দুল লতিফ৷ তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই নাকি এই ছবি৷ শুরু হয় বিতর্ক৷ পরবর্তীকালে কোনও জীবিত বা মৃত ব্যক্তির সঙ্গে ছবির কোনও যোগাযোগ নেই বলা হলেও, সিনেমা দেখতে দেখতে এটা বুঝতে অসুবিধে হয় না গল্পের ভিত্তিটা কী? গ্যাংস্টার কি এত সহজে হওয়া যায়? ছোটবেলায় রইসের মা বলেছিল 'কোনও কাজই ছোট নয়, যতক্ষণ না তা কারও ক্ষতি করছে৷' তাই ছোট থেকেই মদের ব্যবসায় ঢুকে যায় রইস৷ বইয়ের ব্যাগে মদের বোতল পাচার দিয়ে শুরু৷ বড় হতে হতে এবার আর অন্যের জন্য কাজ নয়৷ এবার নিজের ব্যবসা করতে হবে৷ কারও 'ক্ষতি' না করে মদের ব্যবসা শুরু হল৷ ব্যবসা দাঁড়িয়েছে৷ এবার রাজনীতি৷ সেখানেও বিনা বাধায় সফল৷ এবার তিনি এলাকার মসিহা৷ উফ! কত সহজ সব কিছু৷ কোনও উত্তেজনা নেই৷ ছবি এগিয়ে গিয়েছে নিজের মতো করে৷
ছবির শুরুতে মহরমে মিছিলে শরীরের রক্ত ঝরাচ্ছেন, আর শেষের দিকে চাঁরই সংলাপ, যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় 'ব্যবসা করি, কিন্ত্ত ধর্মের নয়'৷ ঠিক কী বলতে চাইছেন শাহরুখ? তাঁর আগের দুটো ছবি 'দিলওয়ালে' আর 'ফ্যান' বক্স অফিসে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি৷ তাই তিনি কি একটু বেশি সাবধানী?

ছবির নায়িকা মাহিরা খান৷ পাকিস্তানি নায়িকা৷ শাহরুখের অভিনয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা রোম্যান্স৷ কিন্ত্ত ছবিতে সেটার বড়ই অভাব৷ নায়িকার যেখানে কোনও ভূমিকাই নেই, তার জন্য শুধু শুধু পাকিস্তান থেকে নায়িকা উড়িয়ে আনতে হল কেন? এখানেও কি ব্যবসাই কারণ? ছবির সবথেকে বড় পাওনা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি৷ যতক্ষণ পর্দায়, হাততালির ধুম৷ যদিও পুলিশ-গ্যাংস্টারের ডুয়েল দেখার আশাতেও ছেদ পড়েছে৷ আবার এক গ্যাংস্টার একজন মুখ্যমন্ত্রীর দন্তরে বিনা বাধায় ঢুকে পড়ছে! রাজনীতির লোকজনের সঙ্গে অন্ধকার জগতের যোগাযোগ রয়েছে, এটা বলা হলেও সরাসরি তারা তাদের ঘরে ঢুকে যাচ্ছে, এটা দেখানো কি যায়?

এত খামতি, তাহলে হঠাত্ তিন স্টার কেন? উত্তর, শাহরুখ-নওয়াজউদ্দিন-সানি লিওনি৷ ছবিতে পুলিশ-গ্যাংগস্টারের ডুয়েল থাকুক বা না থাকুক, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শাহরুখ আর নওয়াজ ফাটিয়ে অভিনয়টা করে গিয়েছেন৷ কেউ-ই জমি ছাড়েননি৷ আর সিনেমা হল থেকে বেরোনোর পর যেটা মাথায় ঘুরতে থাকে, তা 'লায়লা মঁ্যায় লায়লা'-র সুরে সানি লিওনির লাস্য৷ পুরো ছবিতে মাহিরা যা করতে পারলেন না, একটা গানে সানি সেটাই করে দেখালেন৷ দর্শকের নজরটা চুম্বকের মতো আটকে দিলেন৷
--- মহুয়া দত্তমিত্র