তুলনামূলক যুদ্ধঃ আইফোন ৬এস বনাম শাওমি এমআই৫

আপনারা নিশ্চয়ই ইতোমধ্যেই জেনে গিয়েছেন যে শিয়াওমিকে চীনের অ্যাপল বলা হয়ে থাকে! অনেকেই অবশ্য নাক সিটকান, বলেন - আইফোনতো আইফোনই, এর সাথে চীনের একটি ব্র্যান্ডের আবার কি তুলনা!! 

মজার ব্যাপার হচ্ছে, তুলনা করলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু শিয়াওমিই এগিয়ে থাকে। বিশ্বাস হচ্ছেনা? চলুন, আজকে দুটি প্রতিষ্ঠানের চমৎকার দুটি ডিভাইসের তুলনামূলক যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়া যাক; দেখা যাক কে যেতে আর কে হারে! আজকের এই তুলনামূলক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে শিয়াওমির নতুন ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস এমআই৫ এবং অ্যাপলের চমৎকার একটি ফ্ল্যাগশিপ আইফোন এস৬! চলুন তাহলে, শুরু করা যাক। 

ডিজাইন

শিয়াওমি অনেক ডিভাইসই আইফোনের আদলে তৈরি করা হয়ে থাকে বলে অনেকেই মনে করা থাকেন। আর সত্যি বলতে পূর্বের কিছু শিয়াওমি স্মার্টফোন অনেকটাই আইফোনের আদলে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু, শিয়াওমি এমআই৫ ডিভাইসটি সম্পূর্ণ অন্য ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে যার সাথে আইফোন ৬এস ডিভাইসটির ডিজাইনের ক্ষেত্রে কোন প্রকার সাদৃশ্যই নেই! বরং বলা চলে, শিয়াওমির নতুন এই ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসটি অনেক ক্ষেত্রেই আইফোন ৬এস এর চাইতে আকর্ষণীয়। 
শিয়াওমি এমআই৫ ডিভাইসটিতে দেয়া হয়েছে স্লিক লুক এবং ডিভাইসটিতে রাখা হয়েছে ওভারঅল ক্লিন ডিজাইন। স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা মেটাল ফীম এবং গ্ল্যাস প্যানেল ডিভাইসটিকে সত্যিই করে তুলেছে চমৎকার লুকের একটি ডিভাইস। 
অন্যদিকে আইফোন ৬এস ডিভাইসটিও কোন দিক থেকে কম আকর্ষণীয় নয় তবে ডিভাইসটি ব্যবহারে আপনি হালকা বাল্কি ফিল পাবেন। তবে এক্ষেত্রে শিয়াওমি এমআই৫-ই এগিয়ে থাকবে। 
ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচাইতে বেশি হালকা ডিভাইস হচ্ছে শিয়াওমির এই এমআই৫ স্মার্টফোনটি, এর ওজন মাত্র ১২৯ গ্রাম যা আইফোন ৬এস ডিভাইসটি থেকে প্রায় ১৪গ্রাম হালকা। 

শিয়াওমি এমআই৫ ডিভাইসটির ক্যামেরা ফ্রেমের ভেতর দিকেই রাখা হয়েছে ফলে কোন সমান্তরাল সার্ফেসে ফোনটি রাখতে সুবিধা হয় এবং ডিভাইসটির ব্যাকসাইড দেখতেও চমৎকার লাগে। অন্যদিকে আইফোন ৬এস ডিভাইসটির ক্যামেরা কিছুটা বাইরের দিকে রাখারা ফলে ব্যাক প্যানেলের লুকেও ৬এস পিছিয়ে পড়ে শিয়াওমি এমআই৫ ডিভাইসটি থেকে। 

ডিসপ্লে 

শিয়াওমি এমআই৫ ডিভাইসটিতে আছে ৫.১৫ ইঞ্চি আকারের ১০৮০পিক্সেল (৪২৭ পিপিআই) সমৃদ্ধ একটি ক্রিস্প এবং উজ্জ্বল এলসিডি প্যানেল। এই ডিসপ্লে প্যানেলটি ডিভাইসটির প্রায় ৭৩ শতাংশ স্থান দখল করেছে। ডিভাইসটিতে রয়েছে একটি সানলাইট ডিসপ্লে নামক ফিচার যা উজ্জ্বল আউটডোর কনডিশনে ডিসপ্লে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই অপটিমাইজ করতে সাহায্য করে। 
অন্যদিকে যদি আমরা আইফোন ৬এস ডিভাইসটির ডিসপ্লে নিয়ে কথা বলতে চাই তাহলে বলতে হবে শিয়াওমি থেকে অনেক পিছিয়ে আছে আইফোন ৬এস। ডিভাইসটিতে রয়েছে ৭৫০x১,৩৩৭ পিক্সেল রেজ্যুলেশন বিশিষ্ট (৩২৬ পিপিআই) ডিসপ্লে প্যানেল। ডিসপ্লে প্যানেলটির আকার ৪.৭ ইঞ্চি এবং এর ডিসপ্লে প্যনেলটি সমগ্র বডির প্রায় ৬৬ শতাংশ স্থান দখল করে।  


ক্যামেরা 

শিয়াওমি এমআই ৫ ডিভাইসটির প্রাইমারী ক্যামেরা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে সনি-ডিজাইনড ১৬ মেগাপিক্সেল আইএমএক্স ২৯৮ ক্যামেরা। অন্যদিকে আইফোন ৬এস ডিভাইসটিতে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের একটি রিয়ার ক্যামেরা। শিয়াওমি এমআই ৫ ডিভাইসটির ক্যামেরা প্রযুক্তিতে যুক্ত করা হয়েছে ৪-এক্সি ক্যামেরা সিস্টেম যার ফলে ছবি তোলার ক্ষেত্রে আইফোন ৬এস থেকে দ্রুত এবং চমৎকার ফোকাস করতে সক্ষম ডিভাইসটি। 

সফটওয়্যার 

শিয়াওমি এমআই৫ ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শম্যালো যা বর্তমানে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সর্বাধুনিক ভার্সন। 
অন্যদিকে আইফোন ৬এস ডিভাইসে ব্যবহার করা হয়েছে আইওস ৯। যাই হোক, অ্যান্ড্রয়েড আর আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় সব সময়ই অ্যান্ড্রয়েড এগিয়ে থেকেছে। তাই এক্ষেত্রে কোন ডিভাইসটি এগিয়ে থাকছে সেটা না হয় নাই বা লিখলাম! 

পারফর্মেন্স 

শিয়াওমি এমআই৫ ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ২.১ গিগাহার্জ ক্লক স্পিড বিশিষ্ট স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর। পাশাপাশি মাল্টিটাস্কিং সুবিধার জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম। ডিভাইসটি পাওয়া যায় ৩২ এবং ৫৪ গিগাবাইট - এই দুটি ভ্যারিয়েন্টে। এক কথায়, ডিভাইসটিতে এ পর্যন্ত ছোটখাটো কিছু বাগ থাকলেও চমৎকার পারফর্মেন্সের জন্য আপনাকে সহজেই এই ডিভাইসটি মুগ্ধ করবে। 

অপরদিকে আইফোন ৬এস ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১.৮৪ গিগাহার্জ ক্লক স্পিড বিশিষ্ট অ্যাপল এ৯ প্রসেসর এবং ২ গিগাবাইট র‍্যাম। সহজেই বোঝা যাচ্ছে যে ডিভাইসটিতে এমআই৫ এর তুলনায় প্রায় ১ গিগাবাইট র‍্যাম স্টোরেজ কম রয়েছে এবং এর গতিও কিছুটা কম। তাই পারফর্মেন্সেও যে শ��য়াওমি এমআই৫ এগিয়ে থাকছে তা সহজেই বোঝা যায়! 

ব্যাটারি 

শিয়াওমি এমআই ৫ ডিভাইসটিতে যুক্ত করা হয়েছে আইফোন ৬এস ডিভাইসটি থেকে প্রায় দ্বিগুণ ক্ষমতার ব্যাটারি! ডিভাইসটিতে রয়েছে একটি নন রিমোভ্যাল ৩০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি যেখানে আইফোন ৬এস ডিভাইসটিতে রয়েছে একটি ১,৭১৫ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ইউনিট।