ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করলে মিলবে অর্থ!

 


গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান-আমেরিকান লেবার’ (এসাল) এর নবম বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে দুই বাংলাদেশি প্রকৌশলীকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তাঁদের একজন আবু বকর হানিপ ‘পিপল এন টেক ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী। তাঁর প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে আসা শিক্ষিত প্রবাসীদের ট্যাক্সি ড্রাইভিং, রেস্টুরেন্ট কর্মচারি, নির্মাণ শ্রমিক অথবা দোকানের সেলসম্যান হিসেবে চাকরির পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে চাকরির উপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।


প্রতিষ্ঠানটি গত ১২ বছরে প্রায় ৫ হাজার প্রবাসীকে সেবা দিয়েছে। তারা বাংলাদেশেও তাদের নানান সেবা নিয়ে কাজ করছে। এসব বিষয় দেশি- অফার এর সাথে বিস্তারিত কথা বলেছেন আবু হানিপ।

দেশি- অফার: এখন আপনার ব্যস্ততা কী নিয়ে?

আবু হানিপ: অনেক কিছু নিয়েই কাজ করছি। সর্বশেষ গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি নিউইয়র্ক ও ভার্জিনিয়া ক্যাম্পাসে 'সাইবার সিকিউরিটি সুরক্ষা' নিয়ে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেছি। বিশ্বব্যাপী সাইবার ক্রাইম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে প্রবাসী বাংলাদেশি আইটি প্রোফেশনালদের এই ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পিপল এন টেক সাইবার সুরক্ষা বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করেছে। 'নো এন্ড লার্ন সাইবার সিকিউরিটি' প্রতিপাদ্যে ওই সেমিনারে চাকরি, নতুনত্ব, সাফল্য এবং পেশায় সন্তুষ্টি-এই চারটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয়।
দেশি- অফার: পিপল এন টেকে শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ নিয়ে কী করছেন?

আবু হানিপ: আমরা গত ২১ আগস্ট বৃহত্তর মেট্রো ওয়াশিংটন ডিসির সকল বাংলাদেশি সংগঠনের কর্তা ব্যক্তিদের নিয়ে ভার্জিনিয়া ক্যাম্পাসে করেছিলাম টাউন হল মিটিং। সেখানে পিপল এন টেকের পক্ষ থেকে বার্ষিক ২ মিলিয়ন ডলার অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করেছি। প্রতি বছরই বিভিন্ন ভিসা স্ট্যাটাস নিয়ে বাংলাদেশিরা স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাচ্ছে কিন্তু কর্মক্ষেত্রের কঠিন বাস্তবতা তাদের হতাশ করছে, স্বপ্ন ভঙ্গের নতুন আবাসন গড়ছে সেই স্বপ্নীল জীবনে। অথচ বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও বাস্তবায়নকল্পে যোগ্য আইটি পারসনালিটি এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রচুর।
দেশি- অফার: পিপল এন টেক কতদিন ধরে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে?

আবু হানিপ: পিপল এন টেক ১৯৯৪ সাল থেকে অদ্যাবধি প্রায় ৪ হাজার জনকে আইটি জগতের সম্মানজনক জীবিকা নির্বাহের পথ দেখিয়েছে। এটি এন ওয়াইসিডি এ অনুমোদিত একটি প্রতিষ্ঠান যা বাংলাদেশিদের সম্মানজনক চাকরি ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত গড়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে। এ জন্য আমরা ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে পিপল এন টেকের পক্ষ থেকে ২ মিলিয়ন ডলার স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করেছি। যা প্রতি বছর ৫০০ জন বাংলাদেশিকে প্রদান করা হবে।

দেশি- অফার: আপনি যুক্তরাষ্ট্রে কীভাবে গিয়েছিলেন?

আবু হানিপ: চট্টগ্রাম প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে আমি আমেরিকায় আসি ডিভি লটারি পেয়ে। স্বপ্নের আমেরিকায় শুরুর দিনগুলো মোটেই স্বপ্নময় ছিলো না। কাজ নিলাম একটা গিফট শপে। টানা ১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করতে হতো। কিন্তু এই কাজ আমার মোটেই ভালো লাগতো না। কাজের ফাঁকে আর অবসরে ভাবতাম কী করা যায়। একটি বিষয় সহজেই বুঝলাম, এদেশে লেখাপড়া না করলে সামনে এগোনো যাবে না। ভর্তি হয়ে গেলাম নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজিতে। দুই বছরের কোর্স। কাজের ফাঁকে লেখাপড়া করতে হয়।

 সবমিলিয়ে একটু বেশি সময় লেগে গেলো। ১৯৯৯ সালে বের হলাম এই দেশের সার্টিফিকেট হাতে। কিন্তু চাইলেই চাকরি হয়ে যায় না। আর একটি ভালো চাকরি, মনের মতো চাকরি পেতে আরও কাঠখড় পোড়াতে হয়। একটা বিষয় বুঝেছিলাম এটা তথ্য প্রযুক্তির যুগ, এই খাতে ভালো করতে পারলে তার মূল্য পাওয়া যাবে। একের পর এক কোর্সে ভর্তি হতে থাকলাম। এই কোর্স শেষ হয় তো অন্য কোর্স করি। সঙ্গে সঙ্গে এই চাকরি, সেই চাকরির জন্য অ্যাপ্লাই করতে থাকি। একদিন হাতে পেয়ে যাই কাঙ্ক্ষিত সেই অফার লেটার। বছরে এক লাখ ডলার আয়। স্বপ্নের দেশে স্বপ্নপূরণ হলো সেদিনই।

দেশি- অফার: পিপল এন টেকের পেছনের গল্প কী?

আবু হানিপ: ২০০৪ সালে আমি যখন ভালো একটা চাকরি পেলাম তখন মনে হলো ভালো চাকরি পাওয়া খুবই সহজ। কিন্তু বাঙালিরা জানে না কীভাবে এটা পেতে হয়। তাদের গাইডলাইনের অভাব। তখন বাঙালি বন্ধু-বান্ধবদের আমন্ত্রণ জানালাম। অনেকেই পাত্তা দিলো না। এক বন্ধু আমার কথা বিশ্বাস করলো। যে বাংলাদেশ থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক পাস করে ওই দেশে গিয়ে ট্যাক্সি চালাতো। তার একটি গ্যারেজও ছিল। সে আমার কাছে প্রশিক্ষণ নিলো। মাত্র দেড় মাসের মাথায় আইবিএম-এ তার চাকরি হলো। আমি বেতন পেতাম ৭৫ হাজার ডলার। তাকে চাকরি দিলাম ১০০ হাজার ডলারে। আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেলো। আস্তে আস্তে লোক বাড়তে থাকলো। কয়েক মাসের মাথায় ৩ তলা একটি বাড়ি কিনে ফেললাম। সেই বাড়ির নিচতলায় শুক্রবার রাতে এসে তারা থাকতো। শনি ও রোববার তাদেরকে পড়াতাম। প্রথম দিকে কোনো ফি নিতাম না। অনেকে খুশি হয়ে ৫০০-১০০০ ডলার দিত। এভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রায় ৩০০ লোককে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করলাম। বর্তমানে নিউইয়র্কেই রয়েছে এর পাঁচটি শাখা। এছাড়া বাংলাদেশ, কানাডা এবং ভারতেও শাখা খোলা হয়েছে।

দেশি- অফার: পিপল এন টেকে বাংলাদেশের মানুষ যোগাযোগ করবে কীভাবে?

আবু হানিপ: আমরা সব সময় আমাদের দেশের মানুষদের সেবা দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি। যে কোনো প্রয়োজনে যে কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। পিপল এন টেক বিষয়ে আরও জানতে যোগাযোগ করতে পারেন www.piit.us ঠিকানায়। মেইল করতে পারেন jobs@piit.us এই ঠিকানায়। বাংলাদেশে মোবাইলে যোগাযোগ করা যাবে ০১৬১১-৪৪৬৬৯৯ নম্বরে এবং যুক্তরাষ্ট্রে যোগাযোগ করা যাবে ১৮৫৫৫৬২৭৪৪৮ নম্বরে। আমরা সব সময় আগ্রহীদের ব্যাপারে টেক কেয়ার করতে চাই। যত্ন করে তাদের শীর্ষস্থানে নিয়ে যেতে চাই।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান-আমেরিকান লেবার’ (এসাল) এর নবম বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে দুই বাংলাদেশি প্রকৌশলীকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। তাঁদের একজন আবু বকর হানিপ ‘পিপল এন টেক ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী। তাঁর প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে আসা শিক্ষিত প্রবাসীদের ট্যাক্সি ড্রাইভিং, রেস্টুরেন্ট কর্মচারি, নির্মাণ শ্রমিক অথবা দোকানের সেলসম্যান হিসেবে চাকরির পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে চাকরির উপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।